গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার চর্চা করে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনছে অনেকে: এবি পার্টির অভিযোগ

ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিজেদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শুক্রবার (১ আগস্ট) এবি পার্টির যুব সংগঠন এবি যুব পার্টির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব হাদিউজ্জামান খোকন।

মঞ্জু বলেন, “রক্তের স্রোতের মধ্যে দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি, সেই বাংলাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি আর ফিরে আসবে না – এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু রাজনৈতিক দল খুব দ্রুতই সেই ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আসে তারাই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। আর এতে তাদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত হ্রাস পায়। এটি গণতন্ত্র ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি সংকেত।”

আলোচনায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা আগে ভয় ও নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু এখন এক নতুন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে। এই পরিবর্তনের জন্য ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, অথচ কোনো রাজনৈতিক নেতার সন্তান জীবন দেয়নি। আবু সাঈদের মৃত্যু জাতিকে নাড়া দিয়েছিল—এটি ছিল বিবেকের বিপ্লব।”

মঞ্জুর দাবি, “ইতিহাস বলে গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিবাদীরা আর ফিরে আসতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অনেকেই আওয়ামী চরিত্রে ফিরে যাচ্ছে, মজলুম থেকে পরিণত হচ্ছে জালিমে।”

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজ ধর্মভিত্তিক দলগুলো যেভাবে অহংকারে ভুগছে, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। ক্ষমতার চক্র একটি ‘চাঁদাবাজি পদ্ধতি’ গড়ে তুলেছে। এই ব্যবস্থাকে ভাঙতেই আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছি।”

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অতীতে যারা জনপ্রিয়তার চূড়ায় ছিলেন তারাও ইতিহাসে হারিয়ে গেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় উদাহরণ।”




ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ ছিল জীবিত থেকেও মৃতপ্রায় : জোনায়েদ সাকি

বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের অবস্থা ছিল ‘বেঁচে থেকেও মৃতপ্রায়’—এ মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষ খেয়ে পরে বাঁচলেও মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছিল। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন আবু সাঈদ, জীবন দিয়ে জানান দিয়েছেন তার অবস্থান। জনগণের ঐক্য প্রমাণ করেছে, ঐক্য থাকলে ফ্যাসিবাদ যেমন পালিয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকেও কবর দেওয়া সম্ভব।”

সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে’ শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা আয়েশা বেগম।

সাকি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের শহীদদের ঋণ আমরা এখনো শোধ করতে পারিনি। ৭১ থেকে ২৪ সালের শহীদদের আদর্শ ধারণ করতে না পারলে আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন হবে না। নতুন রাষ্ট্র চাইলে পুরনো লুটপাটের ব্যবস্থাকে ভাঙতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, এখনো শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি সরকার। তাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো পুরনো ক্ষমতা-কেন্দ্রিক ও লুটপাটভিত্তিক ধাঁচে চলে। এটি বন্ধ না হলে জনগণের মুক্তি আসবে না।”

সাকি বলেন, “মানুষকে বিভক্ত করা হচ্ছে নারী, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করলেই শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানানো হবে।” তিনি জানান, গণসংহতি আন্দোলন রাজপথ ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, “২০১৭ সালেই আমরা বলেছিলাম—নতুন রাজনৈতিক চুক্তি ছাড়া রাষ্ট্রে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করি, যা জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে পরিচালিত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে অধিকার আদায়ে আর জীবন দিতে হবে না। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করতে না চাইলে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য।”

সমাবেশে আরও দাবি জানানো হয়—আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং জনগণের ম্যান্ডেটে একটি নতুন রাজনৈতিক চুক্তি গঠন করতে হবে, যেটিকে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে অভিহিত করেন নেতারা।


সংক্ষিপ্ত মূল বক্তব্য:

  • ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের মর্যাদাহীন জীবন ছিল: সাকি
  • ৭১ ও ২৪ সালের শহীদদের রক্তের দায় শোধে ঐক্য জরুরি
  • লুটপাটের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভাঙতে নতুন চুক্তির ডাক
  • হিন্দু-মুসলিম বিভাজন নয়, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি
  • ‘জুলাই সনদ’ নামে নতুন সংবিধানিক চুক্তির প্রস্তাব



ইসরায়েলি অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত গাজাবাসীর পাশে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানুষ যেন আর অভুক্ত না থাকে—এই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। শুক্রবার (১ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা গাজার মানুষকে সহায়তা করতে চাই। তারা যেন স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারে, খেতে পারে—এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।”

তিনি জানান, গাজাবাসীর মানবিক সংকটের জন্য দায়ী ইসরায়েলের অবরোধ। সেইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গাজায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ত্রাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্কিন এক সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

এদিন ট্রাম্প আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনার জন্য তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ রাফা এলাকায় একটি বিতর্কিত ত্রাণকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছেন। যদিও উইটকোফ এখনো কোনো প্রতিবেদন দেননি বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।

এদিকে, গাজায় পূর্ণ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়েও সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা খুব শিগগিরই ফলাফল দেখতে পাবেন।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আংশিক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করছেন।


সংক্ষিপ্ত সার

  • গাজার মানুষকে খাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ ট্রাম্পের
  • ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় মানবিক সংকট স্বীকার
  • হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ, তবে প্রমাণ নেই
  • প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত গাজায় পরিদর্শনে
  • পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্য



পটুয়াখালীতে একদিনে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার: ট্রলারডুবি, হত্যা, আত্মহত্যা ও ডুবেই প্রাণহানি

পটুয়াখালী জেলায় মাত্র একদিনেই (১ আগস্ট, শুক্রবার) ঘটেছে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা, যার মধ্যে রয়েছে ট্রলার ডুবি, রহস্যজনক মৃত্যু, স্ত্রী হত্যা এবং শিশু ডুবে যাওয়া। জেলার কুয়াকাটা, দুমকি ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।


কুয়াকাটায় ট্রলারডুবিতে ২ মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মৎস্য ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নজরুল ইসলাম (৬০)-এর মরদেহ সকাল সাড়ে ৯টায় মিরা পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই সময়ে গঙ্গামতি পয়েন্টে ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহও পাওয়া যায়।

👉 নৌ-পুলিশ ইনচার্জ বিকাশ মণ্ডল বলেন,

“স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটির পরিচয় মিলেছে, অপরটি এখনও অজ্ঞাত। উভয় মরদেহ মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”


⚠️ দুমকিতে রহস্যজনকভাবে গৃহবধূর মৃত্যু

দুমকি উপজেলার চরবয়েড়া গ্রামে মুক্তা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

🔸 ভাইয়ের অভিযোগ:

“যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।”

🔸 শ্বশুরবাড়ির দাবি:

“স্ট্রোক করে মারা গেছেন মুক্তা।”

👉 ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন,

“মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্টের পর জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।”


🔪 বাউফলে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

বাউফলের নুরাইনপুরে সরোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী সালমা আক্তার (৩২)-কে গলা কেটে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

🔸 নিহত সালমা ছিলেন নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।
🔸 সরোয়ার সকালে চার বছরের সন্তানকে নিয়ে থানায় গিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেন।

👉 ওসি আকতারুজ্জামান সরকার জানান,

“হত্যার দায় স্বীকার করেছেন স্বামী। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।”


🧒 বাউফলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাফসান (৭) নামের এক শিশু পুকুরে ডুবে মারা যায়। শিশুটি ঢাকায় কর্মরত বাবা-মায়ের সন্তান এবং নানা বাড়িতে থাকত।

🔸 খেলতে খেলতে অগোচরে নিখোঁজ হয় রাফসান
🔸 পরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

👉 ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার বলেন,

“রাফসান খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল, তার মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”


সংক্ষেপে একদিনে পটুয়াখালীতে ৫ মৃত্যু ঘটনাবলি:

  • 🌊 ট্রলার ডুবিতে ২ জেলের মরদেহ
  • ⚰️ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
  • 🔪 পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী খুন
  • 💧 পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

🔍 পুলিশের তরফ থেকে সব ঘটনাতেই তদন্ত চলছে, কয়েকটি ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অপেক্ষমাণ।


আল-আমিন

 




ভোলা সদরে জামায়াতের কেন্দ্রভিত্তিক প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির প্রতিনিধি সমাবেশ ২০২৫ সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রায় ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রের গঠিত ১০১ ও ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কামাল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোলা-১ আসনের দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাস্টার মো. জাকির হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, মিডিয়া সম্পাদক অধ্যাপক আমির হোসাইন, অর্থ সম্পাদক মাস্টার বেলায়েত হোসাইন ও ভোলা পৌর আমির মাওলানা মো. জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভোলা-১ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে তৃণমূল প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা, অন্যায় ও জুলুম প্রতিরোধ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংগঠনের কেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কোনও রক্তচক্ষু বা ভয়ভীতির কাছে নত না হয়ে ইসলামের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা, কেন্দ্রভিত্তিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী মেডিক্যাল ক্যাম্প। শুক্রবার (১ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীর ঝাউতলা এলাকায় অবস্থিত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করে রোটারি ক্লাব অব বরিশাল মিডটাউন।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন নিউরোলজিস্ট ডা. রাহাতুন নাঈম ম্যাগলিন। তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, রোটারিয়ানদের পক্ষ থেকে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সহায়তার জন্য চেয়ার ও টেবিল উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

এই মানবিক আয়োজন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান ও মেডিক্যাল ক্যাম্পের প্রকল্প পরিচালক জুয়েল শাহ কবির শাহিন, রোটারিয়ান পিপি মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ক্লাব সেক্রেটারি রোটারিয়ান মেহেদী হাসান হুমায়ূন এবং স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ।

উপস্থিতরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি দায়িত্ববান মানুষের কর্তব্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫e




জাতীয় সমাবেশ শেষে অসুস্থ, এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে ৪টি ব্লক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক ধরা পড়ায় আগামী শনিবার (২ আগস্ট) সকালে তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হবে। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সকাল ৭টায় এই অস্ত্রোপচার পরিচালনা করবেন দেশের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, আমিরে জামায়াতের দ্রুত সুস্থতার জন্য নফল নামাজ, রোজা ও দান-সাদাকার মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া করার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের প্রিয় রাহবারকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং পূর্ণ শক্তি নিয়ে দ্বীনের ময়দানে ফিরে আসার তাওফিক দেন—আমরা সেই দোয়াই করছি।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিরে জামায়াত। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো জটিলতা ধরা না পড়লেও, পরে ৩০ জুলাই ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে জানা যায়, তার হৃদযন্ত্রে চারটি ব্লক রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন দোয়ার মাধ্যমে এই সংকটে আমিরে জামায়াতের পাশে থাকেন।




এই মূহুর্তে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই; যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ডিএমপি

রাজধানীতে আগস্ট মাস ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একইসঙ্গে বসুন্ধরায় ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বৈঠকের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কে বি কনভেনশন হলে একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। হলটি ভাড়া নেন শামীমা নাসরিন শম্পা নামে এক নারী, যিনি বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেন। সেখানে ‘ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যে’ লোকজন জড়ো হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছেন। এই বৈঠকে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হকের উপস্থিতির অভিযোগ উঠলে তাকে হেফাজতে নেয় সেনাবাহিনী।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। এর পেছনে আরও কোনো চক্রান্ত আছে কি না এবং প্রকৃত দায়ী কারা—তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮ আগস্টকে কেন্দ্র করে নানা হুমকির আলোচনার বিষয়ে ডিএমপি’র এই কর্মকর্তা বলেন, “গত এক বছরে আমরা লক্ষ্য করেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার পরিকল্পনা কেউ কেউ করেছে। তবে আগস্ট কেন্দ্রিক আমরা কোনো নিরাপত্তা হুমকি দেখছি না। পুলিশ পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, “কেউ পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে হয়রানিমূলকভাবে বা ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। ডিএমপি কোনো গণগ্রেপ্তার করছে না।”

গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়েন্দা নজরদারির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তালেবুর রহমান।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকায় ৪৮৯টি টহল টিম এবং ৬৬টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে ২৫৪ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি মোবাইল ফোন, ৬টি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার ও বিভিন্ন ধরনের মাদক।




দুমকিতে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি যৌতুকের জন্য নির্যাতন

পটুয়াখালীর দুমকিতে মুক্তা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়েড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্বশুরবাড়ির দাবি, মুক্তা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মুক্তার পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। নিহতের ভাই মাসুম হোসেনের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই মুক্তার ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালানো হতো। তার দাবি, এসব নির্যাতনের ফলেই মুক্তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। যদিও নিহতের ভাই থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও, পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নিহত মুক্তা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি এখন পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 




পরকীয়ার সন্দেহ, প্রভাষক স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী সরোয়ার হোসেন (৪০)। নিজের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাউফল থানায় হাজির হন এবং পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় খুনের দায় স্বীকার করেন।

নিহত সালমা আক্তার (৩২) পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রুস্তুম আলীর মেয়ে। তিনি বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী সরোয়ার হোসেন একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে।

সূত্র জানায়, চাকরির সুবাদে সালমা আক্তার বাউফলের চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন স্বামী ও সন্তানসহ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সংসারে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই দাম্পত্য দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছায়। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেই দ্বন্দ্বেরই করুণ পরিণতি ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে সরোয়ার হোসেন ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কুপ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সালমা আক্তার।

হত্যার পর দ্রুত বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান সরোয়ার। দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজেই থানায় এসে উপস্থিত হন। সঙ্গে থাকা সন্তান সারফারাজকে পুলিশের জিম্মায় দেন এবং নিজেই খুনের ঘটনা খুলে বলেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা লাশ উদ্ধার করি এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করি। শিশুটিকেও আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন—এই সন্দেহেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনা স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষ, সহকর্মী ও স্থানীয়রা গভীর শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরকীয়ার সন্দেহ কিংবা দাম্পত্য কলহ কি এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে?

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম