‘জুলাই ঘোষণাপত্রে সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি চাই’ — এবি পার্টি

গণঅভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে সাবেক সেনাসদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা গণজাগরণকে সহজ করেছে এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান দলের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান এবং সামরিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।
বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “যখন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একত্র হয়, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থানের পথ উন্মোচিত হয়। সেই ইতিহাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বিবেকের তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যা গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করে।”
তিনি বলেন, “ডিওএইচএস এলাকার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য—যেখানে সেনা পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—সেটিই সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।”
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান বলেন, “সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। জগদ্দল পাথর কিছুটা সরানো গেলেও তা এখনো চাপিয়ে আছে।”
লে. কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান বলেন, “দু’একজনের অপকর্মে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। মিডিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি।”
মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা।”
সভায় বক্তারা ‘জুলাই সনদ’-এ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর দায়মুক্ত ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।








