বাউফলে এক রাতেই ১১ দোকানে চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা চৌমোহনী বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। একটি বসতঘরসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সংঘবদ্ধ চুরির কবলে পড়ে। ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল তালুকদার জানান, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল পরিকল্পিতভাবে তার রাইস মিল এবং সার-ওষুধের দোকানসহ একাধিক দোকানে হানা দেয়। চুরির শিকার দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সালাউদ্দিন মৃধা, গণেশ দাস, মালেক মৃধার মুদি ও মনোহারি দোকান, ফোরকান তালুকদারের দোকান, জাকিরের ফার্মেসি, আবদুর রহমানের হার্ডওয়্যার, আবদুর রহিমের সিমেন্টের দোকান ও দক্ষিণ পাশের হালিম হাওলাদারের বসতঘর। একই এলাকার খেয়াঘাট এলাকায় ফিরোজের কসমেটিকসের দোকান এবং একটি টি-স্টলেও চুরির ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চোরেরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে ও নানান কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ অর্থ ছাড়াও মালামাল নিয়ে যায়, যার মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে দোকান খুলতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা চুরির ঘটনা টের পান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, একই রাতে এতগুলো দোকানে চুরি সংগঠিত হওয়ায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ধারণা করছেন, সম্প্রতি এলাকায় বেড়ে যাওয়া মাদকের ছড়াছড়ি এসব অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। মাদকাসক্ত চক্রগুলোই এমন পরিকল্পিত চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনাস্থলে এসআই শহীদুলের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। চোরেরা বারবার ধরা না পড়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং রাতের বেলা বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে টহল জোরদারের দাবি উঠেছে।









