বাউফলে এক রাতেই ১১ দোকানে চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা চৌমোহনী বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। একটি বসতঘরসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সংঘবদ্ধ চুরির কবলে পড়ে। ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল তালুকদার জানান, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল পরিকল্পিতভাবে তার রাইস মিল এবং সার-ওষুধের দোকানসহ একাধিক দোকানে হানা দেয়। চুরির শিকার দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সালাউদ্দিন মৃধা, গণেশ দাস, মালেক মৃধার মুদি ও মনোহারি দোকান, ফোরকান তালুকদারের দোকান, জাকিরের ফার্মেসি, আবদুর রহমানের হার্ডওয়্যার, আবদুর রহিমের সিমেন্টের দোকান ও দক্ষিণ পাশের হালিম হাওলাদারের বসতঘর। একই এলাকার খেয়াঘাট এলাকায় ফিরোজের কসমেটিকসের দোকান এবং একটি টি-স্টলেও চুরির ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীরা জানান, চোরেরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে ও নানান কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ অর্থ ছাড়াও মালামাল নিয়ে যায়, যার মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে দোকান খুলতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা চুরির ঘটনা টের পান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, একই রাতে এতগুলো দোকানে চুরি সংগঠিত হওয়ায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ধারণা করছেন, সম্প্রতি এলাকায় বেড়ে যাওয়া মাদকের ছড়াছড়ি এসব অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। মাদকাসক্ত চক্রগুলোই এমন পরিকল্পিত চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনাস্থলে এসআই শহীদুলের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। চোরেরা বারবার ধরা না পড়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং রাতের বেলা বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে টহল জোরদারের দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় গভীর রাতে ভয়াবহ ডাকাতি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম রজপাড়া গ্রামের বিশকানি এলাকার আবদুস সোবাহানের বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গভীর রাতে বাড়ির প্লাস্টিকের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং প্রায় এক লক্ষ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।

ভুক্তভোগী আবদুস সোবাহান ও তার স্ত্রী খুকি বেগম জানান, ডাকাতরা ছিল সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত। তারা ঘরে ঢুকেই সবাইকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পুরো পরিবার। পুরো ঘটনা ঘটার সময় তারা কিছু বলতে বা চিৎকার করতেও পারেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে এটি একমাত্র ঘটনা নয়। মাত্র কিছুদিন আগেই, ১৩ জুলাই একই ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও ডাকাত দল একটি বাড়িতে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে এবং বাড়ির একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ করে। ওই ঘটনায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা লুট হয়।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারির ঘাটতি থাকায় এসব ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, পুলিশের টহল ফোরলেন এলাকায় ছিল। এটি সত্যিকারের ডাকাতি, নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অপরাধ বাড়তে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অনেকেই এখন বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে চাইলেও, ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাদেরকে আরও শঙ্কিত করে তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, গৃহবধূর মর্মান্তিক আত্মহত্যা!

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে (নেছারাবাদ) পরকীয়ার অভিযোগ এবং একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে ফাহিমা আক্তার আইমিন (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে নিজ বাড়িতে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ। পরদিন লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে একই গ্রামের আব্দুল মন্নান মাঝির ছেলে রাজু মাঝির সঙ্গে ফাহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী রাজুর দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী আইমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়। পরবর্তীতে তারা ঢাকার কালিগঞ্জের বড়ইতলায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও আইমিনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠে।

রাজুর ভাষ্য মতে, একপর্যায়ে একটি বখাটে চক্র তার স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। কয়েকদিন আগে আইমিনকে এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এরপর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে রাজু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি মেয়েকে শাসন করেন এবং চড়-থাপ্পড় মারেন বলে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পরই ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আইমিন আত্মহত্যা করেন।

নিহত নারীর মা আক্তারুননাহার জানান, মেয়ের সংসার দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত ছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আইমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, এমনকি তাদের একবার বিবাহ বিচ্ছেদও হয়, পরে আবার একত্রে বসবাস শুরু করে।’

নেছারাবাদ থানার ওসি বনি আমিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাবুগঞ্জে শহীদ জিয়াকে রাজাকার বলা নিয়ে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন কলেজ প্রভাষক

বাবুগঞ্জ উপজেলার সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানার একটি ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে “রাজাকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন,
“আমি বিষয়টি ভুল করেছি। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য আর করব না।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান আল আমিন বলেন,
“একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এ বিষয়ে বলেন,
“এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত মন্তব্য। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষাক্ষেত্রে বিষ ছড়াতে পারে। আমরা এ ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।”

বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন,
“এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য কোনো সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে আশা করা যায় না। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানাই।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা কলেজ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এখন পিরোজপুরের কচুরিপানা

এক সময় অযত্ন আর অবহেলার প্রতীক ছিল কচুরিপানা, এখন তা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষের জন্য রীতিমতো স্বপ্নের সোপান। উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এই জলজ উদ্ভিদ এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ঝুড়ি, রঙিন পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরনের কুটির শিল্প পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা কেটে ৩-৪ দিন রোদে শুকানো হয়। শুকনো কচুরিপানা প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামীণ সড়কের পাশে কর্মচঞ্চল শ্রমিকরা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মৌসুম মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও, সারা বছরই এ কাজ চলে।

মাদরাসা ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, “অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।” উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, “নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি অসাধারণ। কচুরিপানা প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল বানিয়ে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এর পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা উদ্যোগ নেব।”

অবহেলিত কচুরিপানার এমন রূপান্তর শুধু নাজিরপুর নয়, গোটা দেশের কুটির শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

 সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৩ আগস্ট) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় পদোন্নতির প্রক্রিয়া, যার আওতায় নৌবাহিনীতে লে. কমান্ডার থেকে কমান্ডার, কমান্ডার থেকে ক্যাপ্টেন এবং ক্যাপ্টেন থেকে কমোডোর; আর বিমানবাহিনীতে স্কোয়াড্রন লিডার থেকে উইং কমান্ডার, উইং কমান্ডার থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন থেকে এয়ার কমডোর পদবিতে কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়া দেওয়া এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটে জনমানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সুনীল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবদান অপরিসীম। গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে বাহিনী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষা, সেবা ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বাহিনী দুটির অংশগ্রহণ দেশের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং দেশপ্রেমিক, মেধাবী, মানবিক ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচনী পর্ষদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন যেন শুধু পদোন্নতি নয়—মানবিক, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হয়।”

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান এবং তার উপস্থিতিকে বাহিনীর সদস্যদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা নৌবাহিনী সদর দপ্তর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য শুভ কামনা জানান।




‘ছাত্রদল চাইলে সারা দেশ অবরুদ্ধ করতে পারে’—শাহবাগে শক্তিমত্তার বার্তা রাকিবুলের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে সারাদেশে অবরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা ছাত্রদলের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উপস্থিতি ও আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরেন।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে তাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে অবরোধ করে দিতে পারবে।”

সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

সমাবেশের শুরুতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিগত ১৫ বছরে সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর হাতে।”

সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বাঁধা ছিল, কারও হাতে ছিল ছাত্রদল ও বিএনপির পতাকা, আবার অনেকে সংগঠনের নাম ও লোগোযুক্ত ব্যান্ড পরে হাজির হন। পুরো সমাবেশে ছাত্রদলের সংগঠনিক ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের বার্তা ছিল স্পষ্ট।




“রক্ত নয়, জ্ঞান-মেধায় গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ” — শারমীন মুরশিদের আহ্বান

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর কাঠামোকে ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের সময় এসেছে। তবে সেই সংগ্রাম রক্ত দিয়ে নয়, হতে হবে জ্ঞান ও মেধার শক্তিতে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ আয়োজিত ‘স্যালুট টু জুলাই ওয়ারিয়র্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সরাসরি অংশগ্রহণকারী শারমীন সেই সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, “১৮ জুলাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হচ্ছিল, পুলিশও গুলি ছুঁড়ছিল। এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হলে আমি তার দিকে ছুটে যাই। সেদিন আমিও গুলির শিকার হতে পারতাম, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই।”

তিনি বলেন, “আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এখন সময় জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে দেশ গড়ার। শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরাই পারে এই ভঙ্গুর সমাজ কাঠামো বদলে দিতে।”

১৬ বছরের অপশাসনের প্রভাব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যে কাঠামো পেয়েছি তা পাহাড়সম কঠিন। এই কাঠামো ভাঙতে এক বছর যথেষ্ট নয়। তবু আমাদের থেমে গেলে চলবে না।”

ছাত্র সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমরা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে আন্দোলন করেছো। এই দেশকে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক করতে হলে এখন তোমাদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে মেধা, মানবিকতা ও ন্যায়ের জয় হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও জুলাই আন্দোলনের চেতনা সামনে রেখে ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।




শৃঙ্খলা ও সততার জন্য জামায়াতের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সততা অনুকরণীয়। এই গুণাবলি দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুসরণযোগ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে জামায়াত আমির শায়খুল হাদিস ড. শফিকুর রহমানকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে জামায়াত আমিরের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সংকটময় সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেস সচিব।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “হার্ট সার্জারির পর বিশেষ করে শফিকুর রহমান ভাইকে নিয়ে ভাবছি এবং সালাত ও দোয়ায় তার জন্য প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “এই গভীর অনিশ্চয়তার সময়ে তার শান্ত নেতৃত্ব এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার সদিচ্ছা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার নেতৃত্বে জামায়াত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সততার যে সুনাম বজায় রেখেছে, তা দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুকরণীয় হওয়া উচিত।”

জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রেস সচিব বলেন, “তিনি যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন—এই প্রার্থনাই করছি। তার জন্য শান্তি ও মানসিক শক্তি কামনা করছি। ইনশাআল্লাহ।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জামায়াতের নেতৃত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত ও সমর্থনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।




পিআর পদ্ধতিতে  নির্বাচনী ব্যবস্থায় শঙ্কা মেজর হাফিজের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতি চালু হলে জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, “এই পিআর পদ্ধতিতে দেখা যাবে, ভোলার একজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন এমন ব্যক্তি, যিনি আদতেই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। এলাকাভিত্তিক পরিচিতি, সমস্যা বোঝা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক—এসব বিষয়ই তখন হারিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন না। তারা চেয়েছিলেন দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো জনগণের ভোটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে পড়ে গণতন্ত্রের সহজ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ও শহীদদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, যারা সত্যিকার অর্থে বিপ্লবে জীবন দেন, তাদের আর কেউ মনে রাখে না। বরং আন্দোলন সফল হলে কেউ কেউ এসে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে।”

মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয় এবং নেতৃবৃন্দ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।