গোপন তৎপরতা তদন্তাধীন, জড়িত কেউ রেহাই পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই তারা কোনো অপকর্মে জড়ালে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যেহেতু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেহেতু তারা কোনো অপকর্ম করতে চাইলে কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। কে কোন বাহিনীর, সেটা বিবেচ্য নয়—আইনের আওতায় সবাই আসবে।”

আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা ও এক সেনা কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “তদন্ত করলে সব জানা যাবে। যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ চাইলে কোনো শঙ্কা নেই। আপনারা যেভাবে সহায়তা করছেন, তাতে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মিডিয়া সত্য প্রচার করছে বলেই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সত্য ঘটনাগুলো প্রচার করলে জনগণ উপকৃত হয়, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সত্য প্রকাশ করছেন বলেই বিদেশি মিডিয়াগুলোর তীব্রতা কমে আসছে। তারা আগের মতো সরব হতে পারছে না, কারণ বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এ বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তৎপরতা এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যে কঠোর, তা এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




সব পক্ষের অংশগ্রহণে ৫ আগস্ট প্রকাশ হবে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র

আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত সব পক্ষের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। ঘোষণা অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—সহ গণআন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানায় প্রেস উইং।

এ ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ধরা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো দিন, তবে সর্বোচ্চ ৫ আগস্টের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করবেন।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ক্ষমতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসে, যার অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সংস্কার ও জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ।

সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রের খসড়ায় মোট ২৬টি দফা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খসড়ার প্রারম্ভে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জুলাই মাসে এই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। খসড়ার শুরুর ভাষ্যটি আগে “নেতৃত্বে” শব্দটি দিয়ে লেখা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে “ডাকে” করা হয়েছে—বিতর্ক এড়ানোর লক্ষ্যে।

ঘোষণাপত্রে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফা ক্ষমতা গ্রহণের পর টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিএনপির অনুরোধে ৭৫-এর ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে আনা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর উল্লেখ রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘোষণাপত্র নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।




জামায়াত আমিরের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফল, আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হার্টের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

দলের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ডা. খালিদুজ্জামান জানান, শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ৮টায় অপারেশন শুরু হয় এবং দুপুর ১২টার মধ্যে সার্জারি সম্পন্ন হয়।

অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন দেশের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার টিম। সার্জারি শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলীয়ভাবে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আমিরে জামায়াতের বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল। দেশবাসীর কাছে আমরা তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বাইপাস সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




আন্তর্জাতিক মানের নয় মিরপুরের পিচ, স্বীকার করলেন বিসিবি পরিচালক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজের মাধ্যমে ১৪ মাস পর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরলেও, পুরনো সমস্যা থেকেই গেছে উইকেট নিয়ে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে ব্যাটারদের দুর্দশা এবং লো স্কোরিং পরিস্থিতি, যা নিয়ে এবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম প্রকাশ করেছেন স্পষ্ট অসন্তোষ।

চট্টগ্রামে শুক্রবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফাহিম বলেন, “বোর্ড থেকে লো ও স্লো ট্র্যাক তৈরির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। বরং আমরা চাই ভালো, স্পোর্টিং এবং বাউন্সি উইকেট হোক। যারা উইকেট প্রস্তুত করে, দায়টা তাদের। এবার চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি।”

উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে উভয় দলের ব্যাটাররা রান করতে হিমশিম খেয়েছে। পাকিস্তান দলের কোচ মাইক হেসন পিচের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, মিরপুরের উইকেট আন্তর্জাতিক মানের নয়। এবার একই সুরে কথা বলেছেন বিসিবি পরিচালকও।

ফাহিম আরও বলেন, “মিরপুরের উইকেট মোটেই সন্তোষজনক নয়। হয়তো ভবিষ্যতে পুরো মাটিই পরিবর্তন করতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলে হয়তো ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব হবে।”

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী কালো মাটির উইকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেটে ঘাস কম থাকলে বলের গায়ে কালচে দাগ পড়ে, বল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি অবশ্যই চিন্তার বিষয়। আমাদের বোর্ড সভাপতি সঠিকভাবে বলেছেন—এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায় না, ব্যাটও ভেঙে যায়।”

এর আগেও বিসিবি সভাপতি মিরপুরের উইকেটকে ‘আদর্শ নয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য ভালো উইকেট অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে মিরপুরের উইকেট সে মানে পৌঁছাতে পারেনি, যা দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

ফাহিমের এ বক্তব্যে স্পষ্ট—হোম অব ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে বিসিবি। সামনে বড় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিতও মিলছে।




জুলাই বিপ্লব তরুণদের নতুন রাজনীতির সূচনা: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ দেশের তরুণ সমাজের চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে এবং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইতিহাসের সত্য ঘটনা প্রকাশ করাও যেন অপরাধ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বইমেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসে অনেক গৌরবময় ও মহিমান্বিত ঘটনা রয়েছে, যেগুলো যথাসময়ে প্রকাশিত হয় না। আজ সত্য কথা বলা, ইতিহাসভিত্তিক বই লেখা ও তা পাঠ করাও যেন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের বাস্তবতায় যারা সত্যের ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের সার্থক মানুষ।”

জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা নির্যাতন, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার পটভূমিতেই এ দেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের সূচনা করেছে। দেশের মানুষ চায় না একজন ব্যক্তির ইচ্ছায় দেশ পরিচালিত হোক; তারা চায় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশ চলুক।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণরা কোনো মিথ্যা বয়ানে বিশ্বাস করেনি। তারা পারিবারিক গণ্ডি, শিক্ষাঙ্গণ অতিক্রম করে রাজপথে বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে। এক জন গুলিবিদ্ধ হলে অন্যজন পানি নিয়ে এগিয়ে গেছে। অথচ সেই সময়েও গুলি থামেনি।”

সরকারি প্রচারণা যন্ত্রের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দিনরাত প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের মন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু তরুণরা সত্য বুঝে নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস বিদ্রোহ আর প্রতিরোধে সমৃদ্ধ—পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭), সিপাহি বিদ্রোহ (১৮৫৭), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের লড়াই, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—এই জাতিকে মিথ্যার বয়ানে চিরতরে দমন করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সঞ্জয় দে রিপন, মনিরুজ্জামান মনির, জিকরুল হাসান প্রমুখ।




সুন্দরবন স্কয়ারে ভয়াবহ আগুন, ১১টি ইউনিট কাজ করছে নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের পঞ্চম তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে, তবে এখনও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১১টি ইউনিট পৌঁছেছে। আগুন পঞ্চম তলায় লাগলেও, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় বহু দোকানদার ও কর্মচারী আটকে রয়েছেন। তাদের দ্রুত নিচে নামতে বারবার মাইকিং করা হলেও তারা নির্দেশ উপেক্ষা করছেন, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

দোলন বলেন, “আমরা বারবার মাইকিং করছি, তাদের নিচে নামার অনুরোধ করছি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও একইভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না। ধারণা করছি, এসব কর্মচারীরা ভবনের ভেতরে থাকা দোকানগুলোর স্টাফ, যারা হয়তো সেখানেই থাকেন বা কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, “সকাল ১০টায় আমাদের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর একে একে ১১টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এখনো আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ভবনের ওপরের তলাগুলোতে উপস্থিত মানুষের অব্যাহত অবাধ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার আপডেট জানার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




পটুয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এবি পার্টির চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা। শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ড. আতহার উদ্দীন মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এস এম ইকবাল হোসাইন। আলোচনায় অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর আব্দুল ওহাব মিনার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের ছবি ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে সচেতন করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে একটি ন্যায়ের রাষ্ট্র গঠনে এই চেতনা পথ দেখাবে।

আলোচনা শেষে উপস্থিত সকলে জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ইতিহাসের নানা মুহূর্তে ফিরে যান ছবির মাধ্যমে। ছবি ও প্রামাণ্য দলিল সমৃদ্ধ এই প্রদর্শনী আগতদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “জুলাই ২৪ যেন ৭১-এর মতো চেতনা ব্যবসায় পরিণত না হয়। এই দিনের শিক্ষা থেকে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। তবে যারা নিজেদের পরিবর্তন করে নতুন বাংলাদেশে কাজ করবেন, তারা জনসমর্থন পাবেন।”

এ ধরনের আয়োজন আগামীর নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন দলটির নেতৃবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাঝিবাড়ি পয়েন্টে  শুক্রবার দুপুরে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে বোটলনোজ প্রজাতির একটি মৃত ডলফিন। স্থানীয় জেলেরা জানান, সমুদ্র ছিল কিছুটা উত্তাল, আর সেই জোয়ারেই ডলফিনটি ভেসে এসে আটকে পড়ে সৈকতে।

প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, কিছু অংশ পচে গেছে, আর লেজ ও পিঠে দেখা গেছে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন। স্থানীয়দের ধারণা, ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে তিন থেকে চার দিন আগে।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, কুয়াকাটা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহায়তায় মৃত ডলফিনটি সৈকত থেকে সরিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশের ‘ইকোফিশ-২’ প্রকল্পের স্থানীয় গবেষক মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “আমরা ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। আমাদের ধারণা, গভীর সমুদ্রে ট্রলিং নৌকার অসাবধানতা, জাল আটকে যাওয়া কিংবা সমুদ্রের দূষণ—বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি—এর পেছনে দায়ী।”

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দলনেতা রুমান ইমতিয়াজ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডলফিন রক্ষায় সচেতনতামূলক কাজ করছি। কিছুদিন ডলফিন মৃত্যুর হার কমলেও সম্প্রতি নিয়মিতভাবে মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে আসছে। আমরা চাই, সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই মৃত্যুর কারণ গভীরভাবে অনুসন্ধান করুক এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিক।”

প্রতিনিয়ত দূষণের শিকার হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের প্রাণবৈচিত্র্য। সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এমন দুঃসংবাদ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মুলাদীতে কীটনাশক পান করে স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় কীটনাশক পান করে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মরিয়ম (১৪)। সে সাহেবেরচর গ্রামের আরিফ ব্যাপারীর মেয়ে এবং চরআলিমাবাদ এস বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরিয়ম গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। বৃহস্পতিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তার মুখে কীটনাশকের গন্ধ পাওয়ায় আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছাত্রীর বাবা আরিফ ব্যাপারী বলেন, “জ্বরের কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি সে এমন কিছু করে বসবে। চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”

খবর পেয়ে মুলাদী থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রীটির লাশ উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫






ঠিকাদারদের বিল নিয়ে তদবির করতে গিয়ে আটক দুই শিক্ষার্থী, ছাড়া পেলেন মুচলেকায়

ঝালকাঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তোলার তদবির করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। পরে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হলেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তারা।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম (২৪) এবং বরিশাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী (২৫)।

জানা গেছে, তারা সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত কম্পিউটার অপারেটর শাওন খানের পক্ষে প্রায় তিন কোটি টাকার সড়ক ও ব্রিজ প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তুলতে গেলে তাদের সঙ্গে এলজিইডির কর্মকর্তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এসময় বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদার ও কর্মীদের সঙ্গে হট্টগোল বাঁধে, যা গড়ায় হাতাহাতিতে। পরে পুলিশ এসে দু’জনকেই সদর থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা থানায় উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “এলজিইডির পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।”

এলজিইডি সূত্র জানায়, কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল প্রদানে আপত্তি জানায় প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু বিল আদায়ের জন্য অভিযুক্তরা একাধিকবার চাপ প্রয়োগ করে এবং ঘুষের প্রস্তাবও দেয় বলে দাবি করেন নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর

অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, প্রকৌশলীর দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরতেই তারা এসেছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সিরাজুল ইসলাম ঝালকাঠির দোগলচিড়া গ্রামের ফল ব্যবসায়ী নুরুল বাশারের পুত্র এবং মেহেদী বরিশাল শহরের মুদি দোকানি কালামের ছেলে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫