“রক্ত নয়, জ্ঞান-মেধায় গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ” — শারমীন মুরশিদের আহ্বান

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর কাঠামোকে ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের সময় এসেছে। তবে সেই সংগ্রাম রক্ত দিয়ে নয়, হতে হবে জ্ঞান ও মেধার শক্তিতে।

শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ আয়োজিত ‘স্যালুট টু জুলাই ওয়ারিয়র্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সরাসরি অংশগ্রহণকারী শারমীন সেই সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, “১৮ জুলাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখেছি হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হচ্ছিল, পুলিশও গুলি ছুঁড়ছিল। এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হলে আমি তার দিকে ছুটে যাই। সেদিন আমিও গুলির শিকার হতে পারতাম, কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই।”

তিনি বলেন, “আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। এখন সময় জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দিয়ে দেশ গড়ার। শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকরাই পারে এই ভঙ্গুর সমাজ কাঠামো বদলে দিতে।”

১৬ বছরের অপশাসনের প্রভাব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যে কাঠামো পেয়েছি তা পাহাড়সম কঠিন। এই কাঠামো ভাঙতে এক বছর যথেষ্ট নয়। তবু আমাদের থেমে গেলে চলবে না।”

ছাত্র সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তোমরা কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে আন্দোলন করেছো। এই দেশকে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক করতে হলে এখন তোমাদের ক্লাসে ফিরে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে মেধা, মানবিকতা ও ন্যায়ের জয় হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও জুলাই আন্দোলনের চেতনা সামনে রেখে ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।




শৃঙ্খলা ও সততার জন্য জামায়াতের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সততা অনুকরণীয়। এই গুণাবলি দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুসরণযোগ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে জামায়াত আমির শায়খুল হাদিস ড. শফিকুর রহমানকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে জামায়াত আমিরের সুদৃঢ় নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সংকটময় সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেস সচিব।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “হার্ট সার্জারির পর বিশেষ করে শফিকুর রহমান ভাইকে নিয়ে ভাবছি এবং সালাত ও দোয়ায় তার জন্য প্রার্থনা করছি।”

তিনি আরও লেখেন, “এই গভীর অনিশ্চয়তার সময়ে তার শান্ত নেতৃত্ব এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় গঠনমূলকভাবে যুক্ত হওয়ার সদিচ্ছা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার নেতৃত্বে জামায়াত অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সততার যে সুনাম বজায় রেখেছে, তা দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য অনুকরণীয় হওয়া উচিত।”

জামায়াত আমিরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রেস সচিব বলেন, “তিনি যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন—এই প্রার্থনাই করছি। তার জন্য শান্তি ও মানসিক শক্তি কামনা করছি। ইনশাআল্লাহ।”

স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জামায়াতের নেতৃত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত ও সমর্থনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।




পিআর পদ্ধতিতে  নির্বাচনী ব্যবস্থায় শঙ্কা মেজর হাফিজের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক পদ্ধতি চালু হলে জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, “এই পিআর পদ্ধতিতে দেখা যাবে, ভোলার একজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন এমন ব্যক্তি, যিনি আদতেই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। এলাকাভিত্তিক পরিচিতি, সমস্যা বোঝা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক—এসব বিষয়ই তখন হারিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতির পক্ষে ছিলেন না। তারা চেয়েছিলেন দেশের গণতন্ত্র ফিরে আসুক। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো জনগণের ভোটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে পড়ে গণতন্ত্রের সহজ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী ও শহীদদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, যারা সত্যিকার অর্থে বিপ্লবে জীবন দেন, তাদের আর কেউ মনে রাখে না। বরং আন্দোলন সফল হলে কেউ কেউ এসে কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করে।”

মুক্তিযোদ্ধা সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও মন্তব্য করেন মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানানো হয় এবং নেতৃবৃন্দ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রে সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি চাই’ — এবি পার্টি

গণঅভ্যুত্থানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের স্বীকৃতি ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে সাবেক সেনাসদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা গণজাগরণকে সহজ করেছে এবং তা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান দলের নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার, লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান এবং সামরিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।

বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “যখন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একত্র হয়, তখনই মুক্তিযুদ্ধ বা গণঅভ্যুত্থানের পথ উন্মোচিত হয়। সেই ইতিহাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও প্রতিফলিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বিবেকের তাগিদে জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, যা গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করে।”

তিনি বলেন, “ডিওএইচএস এলাকার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য—যেখানে সেনা পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন—সেটিই সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পথ তৈরি করে দেয়।”

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনিশ দেওয়ান বলেন, “সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। জগদ্দল পাথর কিছুটা সরানো গেলেও তা এখনো চাপিয়ে আছে।”
লে. কর্নেল (অব.) মশিউজ্জামান বলেন, “দু’একজনের অপকর্মে পুরো বাহিনীকে দোষারোপ করা উচিত নয়। মিডিয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার দরকার। সংস্কারবিহীন নির্বাচন মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি।”

মেজর (অব.) ডা. ওহাব মিনার বলেন, “দেশ এখন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের উচিত অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা।”

সভায় বক্তারা ‘জুলাই সনদ’-এ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর দায়মুক্ত ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।




বরিশালের এনসিএল কোচ হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান।

আকরাম খান জানান, “আশরাফুল নিজেই কোচ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বরিশালের হয়ে দুই বছর খেলেছে সে, তাই আমরা তাকে কোচ হিসেবে নিয়েছি।”

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিং পেশায় যুক্ত হন আশরাফুল। এর আগেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সের সাথে কাজ করেছেন তিনি।

আকরাম বলেন, “সাবেক খেলোয়াড়দের ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করার সুযোগ দিতে চাই আমরা। সেলিম, রোকন, আফতাবদের সাথেও আলোচনা চলছে। তাদের অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া আঞ্চলিক ক্রিকেট উন্নয়নেও বিসিবি কাজ করছে বলে জানান আকরাম। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি ২৭ আগস্ট থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ১১টি জেলা রয়েছে। এখান থেকে ভালো মানের ২-৩ জন খেলোয়াড় পেলেই তারা চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে খেলতে পারবে।”

এই উদ্যোগকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সংবিধানের সংশোধনী সংসদেই হতে হবে: আমীর খসরু

সংবিধানে কোনো সংশোধনী আনতে হলে তা অবশ্যই সংসদের মাধ্যমেই আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদের বাইরে সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএবি মিলনায়তনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মান্নান নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।

আমীর খসরু বলেন, “সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা চললেও, যদি কোনো পরিবর্তন আনতেই হয়, তা হতে হবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এবং সংসদীয় কাঠামোর মাধ্যমেই। স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হলে তা সংসদের বাইরের কোনো মাধ্যমে আনা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “যারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সংসদীয় ব্যবস্থাকেও অস্বীকার করে।”

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “যত সংস্কারই করা হোক না কেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে তা ব্যর্থ হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা ছাড়া ঐক্য গঠন সম্ভব নয়। দেশের স্বার্থেই আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য ভেঙে গেছে— এমন মন্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমি তা দেখি না। প্রতিটি দলের নিজস্ব মতাদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। যেটুকুতে একমত হওয়া যাবে, ততটুকুতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাকি বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক জনগণ।”

আবদুল মান্নানের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, “তিনি সবসময় দেশ নিয়ে ভাবতেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ বিমানের এমডি হয়েছিলেন এবং তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুম আবদুল মান্নানের মেয়ে ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।




‘জুলাই সনদের ভিত্তিতেই হবে নির্বাচন’, ঘোষণা দিলেন নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি এই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলেছি, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই সংবিধানের প্রস্তাবনা ও তফসিলে উল্লেখ করে স্বীকৃতি দিতে হবে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

নাহিদ ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। তবে ঐকমত্য কমিশন এখনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদের সুরাহা করা আমাদের এবং দেশবাসীর যৌক্তিক দাবি। এই সনদে যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্রদল ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে রোববার ঢাকায় কর্মসূচি চলাকালে ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে এনসিপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান নাহিদ।

ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। যারা জড়িত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণতা পায়নি। জুলাই সনদের মাধ্যমে আংশিক পূরণ হতে পারে। তবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।”

তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। আগামীকাল রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শহীদ মিনারে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করা হবে। এর মধ্য দিয়েই জুলাই পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্তা শারমিন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




বরগুনায় “জুলাইয়ের মায়েরা” অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত


জুলাই পুনর্জাগরণ ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিভাবক সমাবেশ। শনিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সমাবেশ আয়োজন করে বরগুনা জেলা প্রশাসন। সমাবেশের নাম ছিল– “জুলাইয়ের মায়েরা”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াছির আরাফাত রানা

  • বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজ

  • সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান

  • সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়দার স্বপন

  • জুলাই যোদ্ধা রনি‘র মা

  • জুলাই যোদ্ধা আইরিন আকতার, হান্নান

  • ছাত্র প্রতিনিধি ইমাম হোসেন, রেজাউল করিম প্রমুখ

সমাবেশে বক্তারা বলেন,

“জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা আমাদের গর্ব। যারা গুলি চালিয়ে আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই।”

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের আহত ও নিহত যোদ্ধাদের মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল আবেগঘন, প্রতিবাদী এবং প্রত্যয়বদ্ধ— একটি নতুন ভোরের প্রত্যাশায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তিন দফা দাবিতে বরিশালে কফিন নিয়ে উত্তাল বিক্ষোভ

সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা নিয়ে তিন দফা দাবিতে বরিশালে কফিন নিয়ে সড়কে নেমেছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। শনিবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী বিক্ষোভে ছিল কফিন বহনকারী মিছিল, প্রতিবাদী স্লোগান এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রতীকী বার্তা।

তাদের প্রধান তিন দাবি:
১. বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সকল সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন
২. পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও দক্ষ জনবল নিয়োগ
৩. আধুনিক যন্ত্রপাতি, ওষুধ সরবরাহ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি

বক্তারা জানান, দেশের স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনায় ভুগছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ হয়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সংকট শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, রয়েছে জনবল, ওষুধ এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতি। উপরন্তু, দুর্নীতি ও অবহেলা জনসাধারণের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা কফিন নিয়ে একটি প্রতীকী মিছিল বের করেন, যা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তারা জানান, এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল দলের বিশৃঙ্খলায় বিপাকে বিসিবি

জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বরিশাল বিভাগীয় দল নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা ও অভিযোগে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠের বাইরে নানা বিতর্কিত ঘটনার জেরে গত মৌসুমে বরিশাল দলের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

মৌসুমের মাঝপথে অধিনায়কত্ব ছাড়েন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ফজলে মাহমুদ রাব্বি। বিসিবিকে পাঠানো চিঠিতে কারণ না উল্লেখ করলেও তিনি জানিয়েছেন, স্কোয়াডে না থাকায় সহখেলোয়াড় ইসলামুল হাসানের কাছ থেকে তিনি মৃত্যুর হুমকি পান। বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগে হুমকির ফোন রেকর্ডও জমা দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সোহাগ গাজীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে ক্রিকেটার মঈন খানের বিরুদ্ধেও। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া কোচিং স্টাফদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রধান কোচ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান মজুমদার দায়িত্ব ছেড়ে দেন মৌসুমের মাঝপথে। পরে দায়িত্ব নেন অভিজ্ঞ কোচ ওয়াহিদুল গনি, কিন্তু তাঁর সময়েও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকায় বিসিবিতে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। জাতীয় দলের নির্বাচকরাও বরিশালের অব্যবস্থাপনা দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। এবারের মৌসুমে তাই স্কোয়াড গঠন ও কোচিং স্টাফ নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট কমিটি। পুরো কোচিং ইউনিট বদলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

কিছু খেলোয়াড় কোচ আশিকুর রহমান, সহকারী কোচ শাহীন হোসেন এবং ট্রেনার বিকাশ শর্মার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও প্রোগ্রাম হেড মিনহাজুল আবেদীন প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

আজ বিকাল সাড়ে ৩টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এনসিএল সমন্বয় সভায় বরিশাল দলের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন,

“যে দলে কোচ ও অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, সেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ আশা করা যায় না। খেলোয়াড়দের ভাষা ব্যবহার ও আচরণেও অবনতি দেখা যাচ্ছে, যা দুঃখজনক।”

এদিকে বরিশালের কিছু ক্রিকেটার দাবি করেছেন, এনসিএলে না থাকায় তারা ঢাকা লিগে সুযোগ পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন, যা শুনে তিনিও বিব্রত হন।

বরিশাল দলের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন,

“বরিশালে ঘরোয়া লিগ না থাকায় সব ক্রিকেটারই জাতীয় লিগে খেলতে চায়। অনেকেই মনে করেন, জাতীয় লিগে খেললেই ঢাকা লিগে জায়গা পাওয়া সহজ হবে। তবে এটি ভুল ধারণা।”

ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও সোহাগ গাজীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা চান, অতীতের বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে। তারা বরিশালকে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। যদিও বর্তমানে বরিশালের মূল স্কোয়াডে খেলার মতো স্থানীয় ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র সাতজন। ফলে অন্য বিভাগীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাতে হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫