দশমিনায় সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরে ডাকাতি, প্রবাসীর স্ত্রী গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূঁজা খোলার উত্তর পাশে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) ভোররাতে প্রায় ৩টার দিকে চারজন মুখোশধারী ডাকাত ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়।
ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর একে একে ঘরের মালামাল লুট করতে শুরু করে। তারা নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেমের মেশিন খুলে নিয়ে যায়।
ডাকাতদের অত্যাচার এখানেই থেমে থাকেনি। বাড়ির প্রবাসী মালিকের স্ত্রী শুক্লা রানীকে তারা বেধড়ক মারধর করে। ডাকাতরা মূল্যবান জিনিস চাইলেও না পেয়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে শুক্লা রানী ঘরের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে তার আগেই ডাকাতরা সব মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত শুক্লা রানীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি জানান, “চারজন মুখোশধারী আমার ঘরে ঢুকে মারধর করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও সিসি ক্যামেরার মেশিন লুট করে নিয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আমি সম্মান রক্ষায় ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছি।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই ঘটনায় এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।








