তরুণদের ঘিরেই রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে বিএনপি: তারেক রহমান

তরুণদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যুগোপযোগী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ—এই পাঁচ দিকনির্দেশনায় দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ছাত্র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় এসব দিক তুলে ধরে তরুণদের ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

তারেক রহমান বলেন, “দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে ৪ কোটিরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সামনে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

শিক্ষা ও দক্ষতা: আমূল সংস্কারের বার্তা

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, “কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা শিক্ষা, ই-কমার্স ও আউটসোর্সিংয়ে দক্ষতা অর্জন, উচ্চশিক্ষায় মেধার বিকাশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বিএনপি।”

তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে স্কুলস্তর থেকেই আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি কর্মমুখী ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বায়নের এই যুগে সম্ভাবনার সব দরজা খোলা। তরুণদের এসব সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দিতে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্ব

তারেক রহমান বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরকেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার পুনর্বাসন ঠেকাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের রাষ্ট্র নির্মাতা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবাসন সংকট ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি একইভাবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন।

নবীন-প্রবীণের সম্মিলনে স্বপ্নের বাংলাদেশ

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটা একজন মায়ের চোখে কাঙ্ক্ষিত। সেই বাংলাদেশ গড়তে নবীন-প্রবীণ সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।




‘নতুন পথের দিশা’ দিতে ৫ আগস্ট আসছে জুলাই ঘোষণাপত্র

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে যাচ্ছে। আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তথ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা সরকারপ্রধান নিজেই জাতির উদ্দেশে পাঠ করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু প্রতীক্ষিত এ ঘোষণাপত্র হতে যাচ্ছে দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি মৌলিক রূপরেখা। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকার তার নীতিগত অবস্থান, সাংবিধানিক সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করবে।

রাজনীতি থেকে অর্থনীতি—বদলের রূপরেখা

জুলাই ঘোষণাপত্রে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কাঠামোগত পরিকল্পনা, প্রশাসনিক রদবদলের সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো স্থান পাচ্ছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই থাকবে এই ঘোষণার মূল প্রতিপাদ্য।

গণআন্দোলনের পর প্রথম রাজনৈতিক নীতিপত্র

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি পুনর্গঠনের ম্যান্ডেট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুলাই ঘোষণাপত্র সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের প্রথম সরকারিভাবে ঘোষিত দিকনির্দেশনা।

অনেকেই এই ঘোষণাকে ‘নতুন পথের দিশা’ হিসেবেই দেখছেন, যা পরবর্তী সরকারের কাঠামো, নির্বাচন এবং সমাজিক ভারসাম্য তৈরির ক্ষেত্রে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।




ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা দিল এনসিপি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর জন্য ২৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করেছে, যেখানে জোর দেওয়া হয়েছে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ২৪ দফা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের অবসান চায় এনসিপি

ইশতেহারে বলা হয়েছে, একচ্ছত্র ক্ষমতার রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে আর থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা, সংসদের বিকেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনিক বিভাগীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি।

সংবিধান ও নাগরিক অধিকারে রূপান্তরমূলক প্রতিশ্রুতি

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধানের চেতনার ভিত্তিতে নতুন এক সমাজগঠনের। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক তথ্যের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের মর্যাদা সংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার ঘোষণা এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান ও সেনা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি

একটি ব্যতিক্রমী দফায় এনসিপি বলেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর যারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কাঠামোগত সংলাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও উৎপাদনভিত্তিক পরিকল্পনা

গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অবসান চায় এনসিপি। তারা বলছে, উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে সম্পদের বণ্টন, একক দাতা নির্ভরতা থেকে মুক্তি, এবং শ্রমিক-কৃষকের ঐক্য ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে জাতীয় স্তরের প্ল্যাটফর্ম গড়ার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন কূটনীতি ও আঞ্চলিক বন্ধুত্বের দৃষ্টিভঙ্গি

ঔপনিবেশিক প্রভাব ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত থাকার সংকল্পে এনসিপি বলেছে, তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বন্ধুত্ব নয়, সমতা ও সংহতি’র ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ ও বিকল্প কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার

নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার, শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তৃতীয় লিঙ্গসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি।

এক নজরে এনসিপির প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো:

  • গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন
  • শাসন কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণ ও বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসন
  • প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার আইন
  • সামরিক বাহিনীর গণমুখী রূপান্তর এবং স্বীকৃতি প্রদান
  • অর্থনৈতিক গোষ্ঠীপ্রভুত্বের অবসান ও উৎপাদন-ভিত্তিক অর্থনীতি
  • ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি
  • নারীবান্ধব, শিশু-সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রনীতি
  • প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কূটনীতি

এনসিপি জানায়, তারা এ ২৪ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল নতুন সরকার নয়, এক নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়—যেখানে ক্ষমতা জনগণের, রাষ্ট্রের নয়।




বাউফলে এক রাতেই ১১ দোকানে চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা চৌমোহনী বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে এই চুরির ঘটনাগুলো ঘটে। একটি বসতঘরসহ ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সংঘবদ্ধ চুরির কবলে পড়ে। ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল তালুকদার জানান, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল পরিকল্পিতভাবে তার রাইস মিল এবং সার-ওষুধের দোকানসহ একাধিক দোকানে হানা দেয়। চুরির শিকার দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সালাউদ্দিন মৃধা, গণেশ দাস, মালেক মৃধার মুদি ও মনোহারি দোকান, ফোরকান তালুকদারের দোকান, জাকিরের ফার্মেসি, আবদুর রহমানের হার্ডওয়্যার, আবদুর রহিমের সিমেন্টের দোকান ও দক্ষিণ পাশের হালিম হাওলাদারের বসতঘর। একই এলাকার খেয়াঘাট এলাকায় ফিরোজের কসমেটিকসের দোকান এবং একটি টি-স্টলেও চুরির ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীরা জানান, চোরেরা দোকানগুলোর তালা ভেঙে ও নানান কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ অর্থ ছাড়াও মালামাল নিয়ে যায়, যার মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে দোকান খুলতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা চুরির ঘটনা টের পান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, একই রাতে এতগুলো দোকানে চুরি সংগঠিত হওয়ায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই ধারণা করছেন, সম্প্রতি এলাকায় বেড়ে যাওয়া মাদকের ছড়াছড়ি এসব অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। মাদকাসক্ত চক্রগুলোই এমন পরিকল্পিত চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, ঘটনাস্থলে এসআই শহীদুলের নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। চোরেরা বারবার ধরা না পড়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং রাতের বেলা বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে টহল জোরদারের দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় গভীর রাতে ভয়াবহ ডাকাতি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম রজপাড়া গ্রামের বিশকানি এলাকার আবদুস সোবাহানের বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গভীর রাতে বাড়ির প্লাস্টিকের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং প্রায় এক লক্ষ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।

ভুক্তভোগী আবদুস সোবাহান ও তার স্ত্রী খুকি বেগম জানান, ডাকাতরা ছিল সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত। তারা ঘরে ঢুকেই সবাইকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পুরো পরিবার। পুরো ঘটনা ঘটার সময় তারা কিছু বলতে বা চিৎকার করতেও পারেননি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে এটি একমাত্র ঘটনা নয়। মাত্র কিছুদিন আগেই, ১৩ জুলাই একই ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সে সময়ও ডাকাত দল একটি বাড়িতে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে এবং বাড়ির একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ করে। ওই ঘটনায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা লুট হয়।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারির ঘাটতি থাকায় এসব ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, পুলিশের টহল ফোরলেন এলাকায় ছিল। এটি সত্যিকারের ডাকাতি, নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অপরাধ বাড়তে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অনেকেই এখন বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে চাইলেও, ঘটনার পুনরাবৃত্তি তাদেরকে আরও শঙ্কিত করে তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, গৃহবধূর মর্মান্তিক আত্মহত্যা!

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে (নেছারাবাদ) পরকীয়ার অভিযোগ এবং একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জেরে ফাহিমা আক্তার আইমিন (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামে নিজ বাড়িতে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে নেছারাবাদ থানা পুলিশ। পরদিন লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে একই গ্রামের আব্দুল মন্নান মাঝির ছেলে রাজু মাঝির সঙ্গে ফাহিমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী রাজুর দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী আইমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হয়। পরবর্তীতে তারা ঢাকার কালিগঞ্জের বড়ইতলায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেখানেও আইমিনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠে।

রাজুর ভাষ্য মতে, একপর্যায়ে একটি বখাটে চক্র তার স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। কয়েকদিন আগে আইমিনকে এক যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এরপর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে রাজু শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পুরো ঘটনা তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়ি মেয়েকে শাসন করেন এবং চড়-থাপ্পড় মারেন বলে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পরই ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আইমিন আত্মহত্যা করেন।

নিহত নারীর মা আক্তারুননাহার জানান, মেয়ের সংসার দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত ছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আইমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, এমনকি তাদের একবার বিবাহ বিচ্ছেদও হয়, পরে আবার একত্রে বসবাস শুরু করে।’

নেছারাবাদ থানার ওসি বনি আমিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাবুগঞ্জে শহীদ জিয়াকে রাজাকার বলা নিয়ে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন কলেজ প্রভাষক

বাবুগঞ্জ উপজেলার সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানার একটি ফেসবুক মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মন্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে “রাজাকার” হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন,
“আমি বিষয়টি ভুল করেছি। আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য আর করব না।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান আল আমিন বলেন,
“একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এ বিষয়ে বলেন,
“এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত মন্তব্য। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষাক্ষেত্রে বিষ ছড়াতে পারে। আমরা এ ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।”

বিএনপির সদস্য সচিব ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন,
“এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য কোনো সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে আশা করা যায় না। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানাই।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা কলেজ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এখন পিরোজপুরের কচুরিপানা

এক সময় অযত্ন আর অবহেলার প্রতীক ছিল কচুরিপানা, এখন তা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষের জন্য রীতিমতো স্বপ্নের সোপান। উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এই জলজ উদ্ভিদ এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ঝুড়ি, রঙিন পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরনের কুটির শিল্প পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা কেটে ৩-৪ দিন রোদে শুকানো হয়। শুকনো কচুরিপানা প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামীণ সড়কের পাশে কর্মচঞ্চল শ্রমিকরা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মৌসুম মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও, সারা বছরই এ কাজ চলে।

মাদরাসা ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, “অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।” উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, “নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি অসাধারণ। কচুরিপানা প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল বানিয়ে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এর পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা উদ্যোগ নেব।”

অবহেলিত কচুরিপানার এমন রূপান্তর শুধু নাজিরপুর নয়, গোটা দেশের কুটির শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

 সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ ২০২৫-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার (৩ আগস্ট) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় পদোন্নতির প্রক্রিয়া, যার আওতায় নৌবাহিনীতে লে. কমান্ডার থেকে কমান্ডার, কমান্ডার থেকে ক্যাপ্টেন এবং ক্যাপ্টেন থেকে কমোডোর; আর বিমানবাহিনীতে স্কোয়াড্রন লিডার থেকে উইং কমান্ডার, উইং কমান্ডার থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন থেকে এয়ার কমডোর পদবিতে কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়া দেওয়া এবং সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটে জনমানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সুনীল অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবদান অপরিসীম। গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে বাহিনী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষা, সেবা ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বাহিনী দুটির অংশগ্রহণ দেশের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং দেশপ্রেমিক, মেধাবী, মানবিক ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত নির্বাচনী পর্ষদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন যেন শুধু পদোন্নতি নয়—মানবিক, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হয়।”

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান এবং তার উপস্থিতিকে বাহিনীর সদস্যদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা নৌবাহিনী সদর দপ্তর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির জন্য শুভ কামনা জানান।




‘ছাত্রদল চাইলে সারা দেশ অবরুদ্ধ করতে পারে’—শাহবাগে শক্তিমত্তার বার্তা রাকিবুলের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তিকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রয়োজন হলে সারাদেশে অবরোধ কার্যকর করার সক্ষমতা ছাত্রদলের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক উপস্থিতি ও আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরেন।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, “যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, ছাত্রদল চাইলে তাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলতে পারে। ছাত্রদলকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে অবরোধ করে দিতে পারবে।”

সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

সমাবেশের শুরুতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিগত ১৫ বছরে সংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছেন স্বৈরাচারী সরকারের বাহিনীর হাতে।”

সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মাথায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা বাঁধা ছিল, কারও হাতে ছিল ছাত্রদল ও বিএনপির পতাকা, আবার অনেকে সংগঠনের নাম ও লোগোযুক্ত ব্যান্ড পরে হাজির হন। পুরো সমাবেশে ছাত্রদলের সংগঠনিক ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের বার্তা ছিল স্পষ্ট।