গৌরনদীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. বক্কর প্যাদা (৪৫) নামে এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ কটকস্থল গ্রামের পৈত্রিক বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, মো. বক্কর প্যাদা তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। অনাদায়ে তিন মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “বিশ্বস্ত গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে আসামির পৈত্রিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল জেলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

এই গ্রেপ্তারের ফলে পলাতক আসামির বিচারে আরও এক ধাপ এগিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলে মানসিক চাপ, আত্মহত্যা করলো এইচএসসি পরীক্ষার্থী তনু

ভোলার তজুমদ্দিনে নিজের ভুলেই মৃত্যুকে বেছে নিল এক তরুণী। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার খাতায় রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল লেখার কারণে মানসিক চাপে পড়ে তনু চন্দ্র দাস (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৮ জুলাই) রাতে। তনু নিজ ঘরে বসে গলদঘর্ম অবস্থায় কিটনাশক পান করেন। প্রথমে তাকে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তনু চন্দ্র দাস তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শায়েস্তাকান্দি গ্রামের শিক্ষক বিতিস চন্দ্র দাস ও গৃহিণী উজ্জলা রানী দাসের একমাত্র কন্যা। তিনি তজুমদ্দিন হোসনেয়ারা চৌধুরী মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

তনুর মা উজ্জলা রানী দাস বলেন,
“সোমবার তার জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা ছিল। বাসায় ফিরে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল করে ফেলেছে। বারবার বলতে থাকে, আমি আর পাশ করব না। আমরা তাকে সান্ত্বনা দেই, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলি। কিন্তু হঠাৎ রাত ৯টার দিকে তার চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি, পানের বরজে ব্যবহারের জন্য ঘরে রাখা কিটনাশক খেয়ে ছটফট করছে।”

পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে ভোলা হাসপাতালে রেফার করেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুনায়েদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,
“তনুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিটনাশকের বিষক্রিয়াকে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছি।”

এ মর্মান্তিক ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা তনুর অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

——————————————————————————————————————————————

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তজুমদ্দিনে পরিত্যক্ত পুকুরে মিলল বাকপ্রতিবন্ধীর ক্ষতবিক্ষত লাশ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের এক পরিত্যক্ত পুকুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর বাকপ্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মো. কবির (৩৫)। তিনি ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রতন ডুবাই বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।

শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে লাশটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট, বিশেষ করে হাতে, বুকে ও চোখে মারাত্মক জখম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কবিরকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কবির একজন বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার চার সন্তান রয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

কবিরের বৃদ্ধা মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বোবা ছেলে কথা বলতে পারে না, খাবার চেয়ে নিতে পারে না। কী অপরাধে ওকে এত কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলল? চারটা নাতি-নাতনি নিয়ে আমি কোথায় যাবো? আমি বিচার চাই।”

তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোহাব্বত খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভাণ্ডারিয়ায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ট্রলার চালকের লাশ উদ্ধার

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় খাল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রব্বানী বেপারী (৩০) নামে এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাপালিরহাট এলাকার একটি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রব্বানী দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের মন্টু বেপারীর ছেলে ও পেশায় একজন ট্রলার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি রব্বানীকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা খালে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের হাত-পা বাঁধা এবং শরীরের সাথে একটি ইট বাঁধা ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দিনার মাহমুদ রাসেল বলেন, নিহত রব্বানীর সঙ্গে মাদক ব্যবসা নিয়ে কয়েকজনের বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

রব্বানীর বাবা মন্টু বেপারী বলেন, “আমার ছেলেকে রবিউল, সুদেব, ইলিয়াস ও মিলন নামে চার ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।”

ভাণ্ডারিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক হালদার জানান, এটি পূর্ব বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এলাকায় এ ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচিতে আলাদা সভার ডাক

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি ৫ আগস্ট ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ দিবস’ পালনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পৃথক সভা ও র‍্যালির আয়োজন করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকট হয়ে উঠেছে। একই কর্মসূচি ঘিরে একাধিক নেতৃত্বে প্রস্তুতি সভা ও ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও হতাশা।

তিনটি পক্ষ ও আলাদা কর্মসূচি:

  • পক্ষ-১: কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুছুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট বিকেলে ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমি মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন: আফজাল হোসেন শিকদার, অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম পান্না, মাওলানা আ. রব মিয়া, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার, সালমান হাসান রিপন প্রমুখ।

  • পক্ষ-২: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোহবান’র পক্ষ থেকে সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা বিদ্যালয় মাঠে সভা ও র‍্যালির আয়োজন।

    • প্রস্তুতি সভার নেতৃত্বে ছিলেন: ডা. মাহাবুবুল ইসলাম, যুবদল আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম শিপন ও জেলা যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম টিটন।

  • পক্ষ-৩: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন’র পক্ষ থেকে সকালেই গৌরনদী কলেজ মাঠে সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    • প্রস্তুতি সভা করেছেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছে। মাঝে মধ্যে কুদ্দুছুর রহমান ও সোহবানপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করলেও জহির উদ্দিন স্বপনের অনুসারীরা সব সময়ই পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

একাধিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের আগ্রহও কমে গেছে। অনেকেই বলেন, “এক নেতার সভায় গেলে অন্য নেতা কী মনে করেন—এই দোটানায় পড়ে থাকি। তাই কেউ কারও সভায় যেতে চায় না।”

উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেতাগীতে বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বরগুনার বেতাগীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে বেতাগী থানা-পুলিশ তাঁর নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সারা দেশের মতো বেতাগীতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই যুবলীগের ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তারের নির্দিষ্ট কারণ বা মামলা সংক্রান্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠে দেশজুড়ে জনসমাগম নিশ্চিতে সরকার ভাড়া নিল ১৬টি বিশেষ ট্রেন

জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৬টি (৮ জোড়া) বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। আগামী ৫ আগস্ট দুপুরের মধ্যে এসব ট্রেনে অংশগ্রহণকারীরা রাজধানীতে পৌঁছাবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে রাতেই ফিরে যাবেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ব্যবস্থার জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ট্রেন ভাড়ার নির্দেশ দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপরই ট্রেনের রুট, সময়সূচি ও কোচ সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—

  • রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে ট্রেনগুলো ছাড়বে ৪ আগস্ট রাতে ও ৫ আগস্ট ভোরে।
  • ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ফরিদপুর থেকে ট্রেন ছাড়বে অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে।
  • অনুষ্ঠান শেষেই রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এসব ট্রেন গন্তব্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

রেলওয়ের তথ্য মতে, রংপুর থেকে ১৪ কোচের একটি ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ—প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ১৬ কোচের ট্রেনের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য জেলার ট্রেনগুলোর ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে দূরত্ব ও কোচ সংখ্যার ভিত্তিতে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “আমরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ভাড়া দিয়েছি। এখানে মূল বিষয় হলো—সরকার নিজে অর্থ পরিশোধ করছে।”

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে। রোববার ছাত্রদলের শাহবাগের ছাত্র সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে ২০ কোচের বিশেষ ট্রেন আনা হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচিতে চারটি রুটে ট্রেন চালানো হয়েছিল, যার ভাড়া ছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

রেল কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন ভাড়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যে কোনো সংস্থা বা সংগঠনকে ট্রেন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ভাড়ায় সাধারণ টিকিট মূল্যের তুলনায় গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি চার্জ নেওয়া হয়।

সরকারের উদ্যোগে ট্রেন ব্যবস্থাপনার এই পদক্ষেপ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।




গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ভিন্ন কৌশল অব্যাহত, তথ্য প্রবাহেও জট — টিআইবি

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি, বরং ভিন্ন কৌশলে নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এই মূল্যায়ন তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চলেছে। এই সময় ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় প্রাণ হারান তিনজন সাংবাদিক।

এছাড়া ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদচ্যুত করা হয়, ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক চাকরি হারান এবং অন্তত ৮টি পত্রিকার সম্পাদক ও ১১টি টেলিভিশনের বার্তা প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, সংঘবদ্ধ মব তৈরি করে সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে ভীতি ছড়ানো হয়েছে। সরকার তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালায় সংশোধন আনা হলেও তা কার্যত গণমাধ্যমবান্ধব হয়নি বলে দাবি করা হয়।

টিআইবি আরও বলেছে, তথ্য কমিশনকে নিষ্ক্রিয় রেখে এবং তথ্য অধিকার আইন সংস্কারে সরকারের অনীহা জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করছে। দপ্তরগুলোতে তথ্য গোপনের প্রবণতা এবং স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য না দেওয়ার সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ সম্পর্কেও টিআইবির পর্যবেক্ষণ নেতিবাচক। সংস্থাটির মতে, কিছু ধারা সংশোধন হলেও জাতিসংঘের সুপারিশ পুরোপুরি মানা হয়নি। অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও দমনমূলক কাঠামোর কারণে আইনের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, ফেলো মো. জুলকারনাইন, শাহজাদা এম আকরাম এবং ফারহানা রহমান।

টিআইবি তাদের মূল্যায়নে স্পষ্ট করে জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, যা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।




ভোলার ৪৮ যুবকের তাজা প্রাণ দেশের স্বপ্নে শহীদ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন ভোলার বিভিন্ন উপজেলার ৪৮ তরুণ। কিন্তু ফিরে এসেছেন কফিনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন, পদদলিত ও পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। পরিবারে ভরনপোষণের স্বপ্ন নিয়ে যারা রাজধানী পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারা আজ পরিণত হয়েছেন শহীদ হিসেবে ইতিহাসের পাতায়।

ভোলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও তজুমুদ্দিন উপজেলার হতভাগ্য শহীদ পরিবারের বুক ফাটা কান্না এখনো থামেনি। স্বজন হারানোর বেদনায় ডুবে থাকা এসব পরিবার আজ ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

কে কবে শহীদ হলেন:

  • ১৯ জুলাই: প্রাণ হারান ১৩ জন

  • ৪ আগস্ট: নিহত ৭ জন

  • ৫ আগস্ট: প্রাণ হারান ৮ জন


ভোলা সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের শহীদ রনি ছিলেন এক নবম শ্রেণির ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনের খবরে ঢাকা যান ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে, পরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। বাবার কান্না থামে না, প্রতিদিন কবরের পাশে গিয়ে সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের শামিম ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রি হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। তার মৃত্যুতে তিনটি ছোট সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুরো পরিবার। মা বিউটি বেগম বললেন, “আমার ছেলের ছেলেদের ভবিষ্যৎ কে গড়বে?”

চরফ্যাশনের শহীদ হাচনাইন ঢাকায় ইন্টারনেট সার্ভিসে কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বহু হাসপাতাল ঘুরেও সেবা পাননি বলে অভিযোগ তার মা হাছিনা বেগমের। “চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল আমার ছেলে, ওরা শুধু একটা সীল মেরে বললো মৃত।”

শহীদ ওমর ফারুকের বাবা মিলন ফরাজি বলেন, “আমার ছেলে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে, এখনও বিচার হয়নি।”

আন্দোলনকারী রাহিম ইসলাম বলেন, “শহীদ পরিবারগুলো আজও অবহেলিত। কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। ভোট ও রাজনীতির মধ্যে শহীদদের গল্প হারিয়ে যাচ্ছে।”


ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, “প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে আছি। সরকারি-বেসরকারি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহায়তা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও চলবে।”

তবে শহীদ পরিবারের একটাই দাবি—দ্রুত গণহত্যার বিচার ও পুনর্বাসন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গাজায় খাদ্য সহায়তার লাইনে ইসরায়েলি বোমা, একদিনেই নিহত ১১৯ ফিলিস্তিনি

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা বিমান ও স্থল হামলায় আরও একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৯ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা এখন ৬০ হাজার ৮৩৯ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে পৌঁছেছে আরও ১১৯টি মরদেহ ও ৮৬৬ জন আহত। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় পড়ে থাকা বহু মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, শুধু মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫১১ জনেরও বেশি। চলতি বছরের ২৭ মে থেকে সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টাকালে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৮৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নতুন করে ২৯০টি মরদেহ শনাক্ত করে নিহতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। সংকট গভীর হওয়ায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টায় ফিলিস্তিনিরা প্রতিনিয়তই নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের যে চুক্তি হয়েছিল, তা ১৮ মার্চ ইসরায়েলের নতুন হামলার মধ্য দিয়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে ওই সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৩৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৪৭ জন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলছে গণহত্যার মামলাও।

বিশ্ব সম্প্রদায় যখন গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করছে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি।