আজ জাতির সামনে উন্মোচিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা ও সংস্কার পরিকল্পনার দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। অভ্যুত্থানে জড়িত রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।
তবে অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে রয়েছে কিছু বিতর্কও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন শীর্ষস্থানীয় সমন্বয়ককে দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। সোমবার (৪ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এদিকে একইদিন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় এ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এরইমধ্যে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে অনুষ্ঠানসূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শিশু, কিশোর, তরুণ ও সব বয়সী মানুষকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ মূলত আসে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। তবে তৎকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা সে সময় নিজ উদ্যোগে দলিল প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টি নিজ হাতে নেয় এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে একটি খসড়া তৈরি করে। কমিশনটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়া চূড়ান্ত করে এবং ২৮ জুলাই তা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায় আজ (৫ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশ গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








