আজ জাতির সামনে উন্মোচিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা ও সংস্কার পরিকল্পনার দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। অভ্যুত্থানে জড়িত রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

তবে অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে রয়েছে কিছু বিতর্কও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন শীর্ষস্থানীয় সমন্বয়ককে দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। সোমবার (৪ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এদিকে একইদিন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় এ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এরইমধ্যে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে অনুষ্ঠানসূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শিশু, কিশোর, তরুণ ও সব বয়সী মানুষকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ মূলত আসে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। তবে তৎকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা সে সময় নিজ উদ্যোগে দলিল প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

পরে অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টি নিজ হাতে নেয় এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে একটি খসড়া তৈরি করে। কমিশনটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়া চূড়ান্ত করে এবং ২৮ জুলাই তা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় আজ (৫ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশ গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঐক্যের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে অভ্যুত্থানপন্থি ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন ও রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই বার্তা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই রক্তাক্ত বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল। সহস্রাধিক শহীদ ও আহতের আত্মত্যাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই দিনটিকে ‘অভ্যুত্থানের বিজয় দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একজন স্বৈরশাসকের পতন নয়, বরং তা ছিল একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষের বিস্ফোরণ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এখনো অনেক পথ বাকি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভিযোগ করে, অভ্যুত্থানের এক বছর পরেও শহীদ হত্যার বিচার হয়নি, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রে এখনো ফ্যাসিবাদী উপাদান রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ’ গঠনের পথে তা প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

তবে বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়, কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান না হলেও কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভ্যুত্থানপন্থি ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, ‘জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে সকলে যেন ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হয়।




অন্তবর্তী সরকারের ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচনে বিএনপির প্রতিনিধি দল

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন— স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।

এর আগে সোমবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ১০টায়। ভার্চুয়ালি এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, জুলাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপরেখা, নির্বাচনী নির্দেশনা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যপরিধি নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। বিএনপি এই ঘোষণাপত্রের প্রতি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।




দশমিনায় সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরে ডাকাতি, প্রবাসীর স্ত্রী গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূঁজা খোলার উত্তর পাশে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) ভোররাতে প্রায় ৩টার দিকে চারজন মুখোশধারী ডাকাত ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়।

ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এরপর একে একে ঘরের মালামাল লুট করতে শুরু করে। তারা নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সিস্টেমের মেশিন খুলে নিয়ে যায়।

ডাকাতদের অত্যাচার এখানেই থেমে থাকেনি। বাড়ির প্রবাসী মালিকের স্ত্রী শুক্লা রানীকে তারা বেধড়ক মারধর করে। ডাকাতরা মূল্যবান জিনিস চাইলেও না পেয়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে শুক্লা রানী ঘরের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে তার আগেই ডাকাতরা সব মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

আহত শুক্লা রানীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি জানান, “চারজন মুখোশধারী আমার ঘরে ঢুকে মারধর করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও সিসি ক্যামেরার মেশিন লুট করে নিয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে আমি সম্মান রক্ষায় ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছি।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হঠাৎ আগুন, উপজেলা জুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন!

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের একটি ট্রান্সমিটারে আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই উপকেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ট্রান্সমিটারে ওভারহিট বা শর্টসার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। তাদের তৎপরতায় অল্প সময়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পরপরই পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক।

ডিজিএম জয় প্রকাশ আরও জানান, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে তাদের টেকনিক্যাল টিম। গ্রাহকদের সমস্যা কমাতে সবধরনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আল-আমিন



বিজেপির পটুয়াখালী জেলা কমিটি গঠন, আহ্বায়ক শাওন ও সদস্য সচিব রুমী

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) পটুয়াখালী জেলা শাখার ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেছেন দলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

(৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঘোষিত কমিটিতে মো. শামসুদ্দোহা শাওনকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রুমীকে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নতুন এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, জুলফিকার হাসান আসিফ, মো. রেজাউল করিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে এমএ ওয়ারেজ, ডা. সাইফুল আরেফিন, মো. হাসিবুল হাসান হাসিব, মো. জোবায়ের হোসেন বিজয়, মো. মানিক খাঁন, মো. সোহান মৃধা।

এছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. আল-আমিন, ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মাহমুদ, মিজান রহমান, মো. ইব্রাহিম, মো. আবু ইসহাক, মো. শাফায়েত ইসলাম অলি, আজাদ তালুকদার মিন্টু, মো. আরিফুজ্জামান ডালিম, মাইনুর রহমান প্রিন্স, মো. ইসতিয়াক আহমেদ তামিম, মো. জাহিদুল, মো. মনির হোসেন, গোলাম সরোয়ার অপু, মো. মেহেদী হাসান, মো. রাকিবুল ইসলাম শরীফ, মো. জাহিদুল ইসলাম, তুষার মিত্র শুভ, মো. কাওসার ইসলাম, মো. লিমন, মো. ফাহাদ, মো. সাকিব, মনি, মো. বাদশা, শেখ জুয়েল, মো. নাজমুল, খাঁন হাসিবুল ইসলাম, মো. হাসান, মো. হাসান বসরী, মো. মাইনুল ইসলাম, মো. বাদশা সর্দার, মো. ইমাম হোসেন, মো. সালাম মাস্টার, মো. ফকু মিয়া, মো. মোখলেসুর রহমান, মো. আবুল কালাম, কামরুল, কালাম, শাকিল, শামিম, ডিউক এবং জহির।

নবনির্বাচিত নেতারা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ যে আস্থা রেখে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তা সততার সঙ্গে পালন করব।”

এদিকে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন কমিটি পটুয়াখালীতে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের, শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামিকরণ, শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণসহ একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে ছিল। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির কারণে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে একটি ঈমানভিত্তিক, নৈতিকতা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”

জামায়াত প্রতিনিধি দলের প্রধান দাবি ছিল—দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ। তাদের মতে, “শিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড হলে, শিক্ষকই হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষক যদি উপেক্ষিত থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।”

দ্বিতীয় প্রধান দাবি হিসেবে তারা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আহ্বান জানায়। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দ্রুত প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানায় দলটি।

সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দল বলেন, “দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা দরকার।”

শিক্ষা উপদেষ্টা দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াত নেতা।

বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা : রাষ্ট্রপতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তরুণ প্রজন্মের বিস্ফোরিত ক্ষোভের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, “বহুদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে এই অভ্যুত্থান ছিল নির্যাতিত জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদ।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং দৃষ্টিশক্তি হারানো জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিও রাষ্ট্র কৃতজ্ঞ। শহীদদের পরিবার এবং আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব, এবং এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের রূপ নেয়। “এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং জনগণের ক্ষমতায়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক অনন্য অর্জন। এই চেতনা ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে। এই সংস্কার গণতন্ত্র, ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়বে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”




গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিচ্ছে চক্রান্তকারীরা, জাতীয় ঐক্যের ডাক ফখরুলের

গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশজুড়ে চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র যেন সঠিক পথে এগোতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়’ শীর্ষক যুবসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আমরা গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৮ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াই চালিয়ে গেছি। আজ যখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তখনই একদল চক্রান্তকারী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের সময় পার করে আমরা এখন এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, যেখানে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। ইতিহাস বলে, যখনই দেশ ভেঙে পড়ে, তখনই বিএনপি এগিয়ে এসে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেয়। এবারও আমাদের সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করি। এটাই আমাদের সামনে বড় সুযোগ। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো সম্ভব।”

এই সমাবেশে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।




বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধে শিক্ষার্থীদের দাবি!

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে গতিরোধক স্থাপনের দাবিতে সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে তারা মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত এই ব্যস্ততম মহাসড়ক দিয়ে শুধু দূরপাল্লার যানবাহন নয়, নগরের যানবাহনও চলাচল করে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রতিদিন এই সড়ক পারাপারে দুর্ঘটনার শঙ্কায় ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এক শিক্ষিকা সম্প্রতি মোটরসাইকেলের চাপায় গুরুতর আহত হয়ে পা ভেঙে যাওয়ায় এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। রোববার মানববন্ধন করেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে সোমবার তারা মহাসড়ক অবরোধে উত্তেজিত হন এবং জানান, গতিরোধক বসানো না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই প্রান্তে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা নগরের অন্যান্য সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫