চামড়া ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

চামড়া সংরক্ষণে নীতিমালা, অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে এবার কোরবানির ঈদে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিলেও, ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানান, যারা এ বছর চামড়া সংরক্ষণ করেছেন, তারা তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন—ফলে আগামী বছর সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।
বুধবার (৬ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির তৃতীয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের কোরবানিতে প্রায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু জবাই হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ লাখ ৪৫ হাজার চামড়া সংরক্ষণ করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে। শুধু মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর মাধ্যমেই ১৭ লাখ ৬১ হাজার চামড়া সংরক্ষিত হয়। বিভাগভিত্তিক সবচেয়ে বেশি সংরক্ষিত হয়েছে চট্টগ্রামে—১৫ লাখ ৪৮ হাজার চামড়া। এরপর ঢাকায় ১৪ লাখ ৯ হাজার এবং রাজশাহীতে ১৩ লাখ ৯০ হাজার চামড়া সংরক্ষিত হয়েছে।
তবে এবারের কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—অননুমোদিত হাট, পশুর হাসিল আদায়ের অনিয়ম, কোরবানিদাতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়া, নির্দিষ্ট কোরবানির স্থান বা অবকাঠামোর অভাব, ট্যানারির কমপ্লায়েন্স ঘাটতি এবং চামড়া সংরক্ষণের নির্দিষ্ট নীতিমালার অনুপস্থিতি।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কমিটি আগামী বছর থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- কোরবানির হাট পরিচালনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন,
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসওপি তৈরি ও বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা,
- চামড়া সংগ্রহ-সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি,
- গবাদি পশুর রোগ প্রতিরোধে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অনুরোধ,
- কসাই ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের ডাটাবেজ ও প্রশিক্ষণ,
- ট্যানারির সিইটিপি/ইটিপি’র সক্ষমতা বৃদ্ধি,
- ঢাকার নিকটবর্তী অঞ্চলে চামড়া সংরক্ষণের জন্য জায়গা বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণ।
কমিটির পক্ষ থেকে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে চামড়া খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা ও অকার্যকরতা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।








