জুলাই শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় বিএনপি, নির্বাচনে অংশের ইঙ্গিত

বিএনপি জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণাকে ‘দুটি যুগান্তকারী উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই দুই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের পথ সুগম হলো।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ থেকে এক বছর আগে এই দিনে আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। হাজারও ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে সেই অর্জন এসেছে। আজকের এই ঘোষণাগুলো সেই সংগ্রামের স্বীকৃতি ও পূর্ণতা।”

তিনি জানান, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “আমরা আগে থেকেই বলেছি, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ও শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হবে। ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোকে যথাযথ সংবিধানিক জায়গায় স্থাপন করা হবে,” বলেন সালাহউদ্দিন।

তিনি আরও জানান, গুলশান বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ ও রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে তুলে ধরা রূপরেখাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

“নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ চেয়ে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশাবাদী, যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে,”— বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা আহত হয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও আইনি সুরক্ষার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিএনপি তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে— এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই লক্ষ্যে দেশের জনগণকে প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানাচ্ছি।”

রাজনৈতিক ভারসাম্য ও রাষ্ট্রে অনিশ্চয়তা দূর করার প্রশ্নে বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা ছিল, “আজকের ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আস্থা ফিরে আসবে, রাষ্ট্রীয় গতিশীলতা বাড়বে।”

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নামে একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত দলিল প্রকাশ করেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।




নতুন রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা প্রকাশ, ‘জাতীয় বীর’ সম্মানে শহীদদের স্বীকৃতি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই ২৮ দফার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিক রূপরেখা। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয় শুধু একটি সরকারের পতন নয়, এটি ছিল জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা।”

শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করছে এবং তাদের পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।”

এছাড়া ২৭ নম্বর দফায় জানানো হয়েছে, এই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

ঘোষণাপত্রে কী আছে?

২৮ দফার ঘোষণাপত্রে জাতির ইতিহাস, রাজনৈতিক চক্রান্ত, একদলীয় শাসনের সমালোচনা, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বর্ণনা, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠনসহ গত ষোলো বছরের শাসনের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে—

  • শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশে গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
  • তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) ছিল প্রহসনমূলক, যা জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
  • ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান ছিল গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের ফল, যা সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সফল হয়।

ঘোষণাপত্রের ২০ নম্বর দফায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে নতুন সংবিধান সংস্কারের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি

শেষ দফাগুলোর একটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই, জলবায়ু ও পরিবেশ সহিষ্ণু উন্নয়ন কাঠামোর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, মূল্যবোধসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সরকার এই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। জনগণের বিজয়কে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রকে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, জনগণের রক্ত এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি মিলে তৈরি হয়েছে এই নতুন দিকনির্দেশনা।




বরগুনায় কোর্ট থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

বরগুনা আদালত চত্বর থেকে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়া আসামি আল আমিনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ক্রোক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আল আমিন বরগুনা সদর উপজেলার লেমুয়া পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি পারিবারিক মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল আমিনের প্রথম স্ত্রী ২০১৮ সালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আদালত তার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করেন। এরপরে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

গত শনিবার (৩ আগস্ট) বরগুনা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে রোববার বিকেলে আদালত থেকে জেলহাজতে নেওয়ার সময় জেলা ও জজ আদালতের দক্ষিণ পাশের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশি হেফাজত থেকে সে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সোমবার (৪ আগস্ট) একদিনের ব্যবধানে সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াকুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আসামিকে আবারও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং কোর্ট পুলিশের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আসামির এমন দুঃসাহসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতপাড়ায় এবং প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি ফিরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পবিপ্রবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” উদযাপন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস”। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিবসটি উদযাপন করে।

সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালির মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। র‌্যালিতে প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি ক্যাম্পাস এবং দুমকি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় টিএসসি ভবনের সামনে।

এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় “জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রগতির পটভূমি” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান এবং কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুল লতিফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন হোসেন খান ও ড. মো. মাসুদুর রহমান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, বেসিক সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ, ড. মো. জামাল হোসেন, ড. মো. আবদুল মাসুদ, জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ এবং উপ-রেজিস্ট্রার মো. আবু বকর সিদ্দিক।

দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্য প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনের কার্যক্রম।


আল-আমিন

 




স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তিতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার ডাক হেফাজতের

শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের বর্ষপূর্তিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সতর্ক বার্তা দিয়েছে—এই বিজয় যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্রের দ্বারা বেহাত না হয়। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের আত্মঘাতী কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রনেতা, আলেম-ওলামা এবং জনগণের আস্থাভাজন নেতৃত্বের দূরদর্শী কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী হাসিনা সরকারের পতনে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই অভূতপূর্ব বিজয়ের জন্য আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁদের আত্মত্যাগ আল্লাহ কবুল করেছেন। কিন্তু সংগ্রাম এখনো শেষ নয়। এই বিজয়কে ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান ও সরকারব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন, “এই বিজয় শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও এর সুফল ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে মুক্তচিন্তা বা নাস্তিকতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংখ্যালঘুদের কোনোভাবে রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানো যাবে না।”

ইসলামী সংস্কৃতির স্ববিরোধহীন প্রকাশের আশা

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়নের অবসানে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। এখন জাতীয় জীবনে ইসলামী পরিচয় ও সংস্কৃতির পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে বলে আমরা আশা করি।”

ভারতীয় আধিপত্য ও দালালদের বিচারের দাবি

তারা আরও বলেন, “শুধু গণহত্যার বিচার নয়—ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী সেক্যুলার শক্তিরও বিচার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিভেদহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কারও ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুম-খুন কিংবা পুলিশি নির্যাতন আর থাকবে না।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করল।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ৫ আগস্ট—তারেক রহমানের বার্তা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৫ আগস্টকে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রতিজ্ঞার দিন হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আজ ও আগামীর প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের দিন। বিজয়ের মুহূর্তে আমি বলেছিলাম, বিজয়ী যদি পরাজিতকে নিরাপত্তা দেয়, তবেই সে বিজয় মহিমান্বিত হয়। সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সহিংসতায় না জড়ান, নারীর প্রতি সহিংসতা না করেন এবং সকলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটি হবে ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’। যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী কেউই বঞ্চিত হবে না।”

আওয়ামী লীগ শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার গুম, খুন, নির্যাতন আর নিপীড়নের সংস্কৃতি চালু করেছিল। ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো, অনেকে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলমের আজও খোঁজ মেলেনি।”

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “ব্যাংকব্যবস্থা ধ্বংস করে, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ব্যক্তিতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির জালে আবদ্ধ করা হয়েছিল।”

বার্তায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। দুই সংগ্রামেই শহীদের রক্ত আছে, বাংলাদেশের হৃদয়ে সেই রক্তচিহ্ন চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

তারেক রহমান বার্তার শেষাংশে বলেন, “এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আমি ও বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করি।”




পাথরঘাটায় নৌবাহিনীর অভিযানে অবৈধ সিগারেট জব্দ, দুইজনের কারাদণ্ড

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা এবং অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালতলা বাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান (ট্যাজ), বিএন (পি নং ২৭৭৭)-এর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল এবং পাথরঘাটা থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযানে অংশ নেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

অভিযানে তালতলা বাজার সংলগ্ন “সাজিদ ট্রেডার্স” ভবনের নিচতলায় তল্লাশি চালিয়ে বার্গো টোবাকো কোম্পানির ২৫,৭৬০ শলাকা ‘কিংস’ ও ৬,৬৯০ শলাকা ‘ড্রাগন’ ব্র্যান্ডের অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব সিগারেট দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অনুমোদনহীনভাবে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আটককৃত দুই ব্যক্তি হলেন—পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নাছির হাওলাদারের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং কাঠালতলি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. হাসান (৩৫)। তারা অবৈধ সিগারেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫০ ধারা অনুযায়ী মামলা নং-১৯/২০ অনুযায়ী উভয় আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জব্দকৃত সব অবৈধ সিগারেট উপজেলা পরিষদ মাঠে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

নৌবাহিনীর এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, এমন অভিযান নিয়মিত হলে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে এবং বাজারে ন্যায্যতা ফিরবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ভিডিও বার্তা

জাতীয় পুনর্জাগরণ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় এই বার্তা দেন তিনি। বার্তায় তিনি বলেন, “আজ আমরা অতীত স্মরণ করতে আসিনি, এসেছি শপথ নিতে—নিপীড়নের কাছে মাথা নত করব না। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণ রেখা।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট একটি প্রতিজ্ঞার দিন। এটি গণজাগরণ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জাতির নবজাগরণের উপাখ্যান। “আজকের দিনে আমরা স্মরণ করি ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। “তরুণ প্রজন্ম, যাদের মেধা ও পরিশ্রম সত্ত্বেও তারা পেত না চাকরি। দুর্নীতিগ্রস্ত কোটা পদ্ধতি, ঘুষ, তদবির, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য—এই ছিল তাদের বাস্তবতা।”

সরকারি চাকরি, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুবিধাভোগী শ্রেণির দৌরাত্ম্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা শাসকের পক্ষে কাজ করেছে, তারাই পেয়েছে সুযোগ। বাকিরা বঞ্চিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দাবি আদায়ের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার গুলি চালিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে চক্ষু ও অঙ্গ হারানোর পথে ঠেলে দিয়েছে।”

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছরে সরকারের সমালোচকদের গুম-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাখো বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২৪ জুলাই জাতি এক হয়েছে।”

জুলাই শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।”

তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৬ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫ পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান।

এছাড়া আহত ১৩,৮০০ জনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন গুরুতর আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায়। চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা একটি সত্যিকারের কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব—যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না শোষণ ও দুর্নীতি।”




গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষ: ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “চলমান গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ এখন একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে আগৈলঝাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা বিএনপি এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন, “এই গণ-আন্দোলন কোনো একদিনে হয়নি, এটি ১৭ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এই আন্দোলনের শক্ত ভিত গড়ে উঠেছে।”

তিনি দাবি করেন, অতীতে যারা গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে শহীদদের সম্মানে স্থাপনাগুলোর নামকরণ, পরিবার পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা হবে।

আন্দোলনের সফলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বক্তারা বলেন, এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণ বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহাবুবুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল আউয়াল লোকমান, আনোয়ার সাদাত তোতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহে আলম ফকির, যুবদল নেতা শোভন রহমান মনির, মনির হাওলাদার, রাশেদুল ইসলাম টিটন, আনোয়ার শাহ, আবু হানিফ বকতিয়ার, ছাত্রদল নেতা এস এম হীরা প্রমুখ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একবছর পূর্তি: পটুয়াখালীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

পটুয়াখালীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একবছর পূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এবং পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ পটুয়াখালী পৌর শহরের মহাশ্মশানে অবস্থিত শহীদ হৃদয় তরুয়ার মঠে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে শহীদ বাচ্চু হাওলাদারের বসাক বাজার এলাকার কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ শেষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এই সময় জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও জেলার অন্যান্য শহীদদের কবরেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ উপজেলার শহীদদের কবরস্থানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

একই দিনে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে ২৩ জন শহীদ পরিবারের সদস্য অংশ নেন। আলোচনা সভায় তাদের স্মৃতিচারণ ও ত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর। এই দিনটি স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ