জয়দেব দত্ত হত্যার অভিযোগে মামলা, তদন্ত করবে পিবিআই

বরগুনার তালতলী উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সাবেক উপজেলা টিম লিডার ও ‘সিডরম্যান’ খ্যাত সমাজসেবক জয়দেব দত্তের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে ৮ বছর ৭ মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জয়দেব দত্তের ছেলে প্রসেনজিৎ দত্ত আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই পটুয়াখালীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত মামলায় উল্লেখ করেন, তার বাবা জয়দেব দত্ত একজন সদালাপী, মানবিক ও জনহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বন্ধকী ভিত্তিতে সুদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তালতলী শহরে তার কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল। এই সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন ঘিরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট রাতে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের প্রভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

১৪ জনকে আসামি করে মামলা

মামলায় তালতলী উপজেলার রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস (সাবেক সভাপতি, বরগুনা প্রেসক্লাব)

  • রেজবী উল কবির জোমাদ্দার (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি)

  • মনিরুজ্জামান মিন্টু (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)

  • মুহা. তৌফিকুজ্জামান তনু (সাধারণ সম্পাদক, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ)

  • আলমগীর হোসেন আলম মুন্সী (চেয়ারম্যান, বড়বগী ইউনিয়ন)

  • দুলাল ফরাজী (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)
    সহ আরও ৮ জন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই পটুয়াখালীকে দিয়েছেন। বিচারক ইফতি হাসান বাদীর বক্তব্য শুনে এ নির্দেশ দেন।

বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, “আমার পিতাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এতদিন পর হলেও আমি সত্য ও ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি, পিবিআইয়ের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা।”

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গতকাল নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেই নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে আমাদের সব পরিকল্পনা এই নির্বাচনকে ঘিরে। আমরা চাই যেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পারে।”

তিনি আরও জানান, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে: ১) সুষ্ঠু নির্বাচন, ২) কাঠামোগত সংস্কার এবং ৩) বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল।

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার আলোকে কমিশন তারিখ জানাবে।”

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুলিশের এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি। ডিসিদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। আগে ৮ লাখের মতো নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা থাকলেও এখন ৫০-৬০ হাজার বাড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা হচ্ছে।”

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল অংশ নিতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, “এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নেতাদের ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণা প্রায় সব দলই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আগেও আলোচনা হয়েছে, সামনে আরও হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি—এটা একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।”

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন হবে ফ্রি, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর। কেউ অভিযোগ করার সুযোগ পাবে না।”




আমতলীতে পরিত্যক্ত টাউন হল সংস্কারের জোর দাবি

বরগুনার আমতলী পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘আমতলী টাউন হল’ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এক সময় সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এই টাউন হল। অথচ বর্তমানে এলাকায় সভা-সমাবেশ, নাট্যচর্চা বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। এতে একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়েছে, তেমনি তরুণ সমাজ মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।

১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি থানায় একটি অডিটরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমতলী টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় এমপি নিজাম উদ্দিন আহমেদ তালুকদারের উদ্যোগে জায়গা নির্ধারণ ও অর্থ বরাদ্দের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজের দায়িত্বে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার। ডিজাইন করেন গাজী আমির হোসেন ও আতাহার উদ্দিন আকন।

তবে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে এই স্থাপনাটি কখনও ব্যায়ামাগার, কখনও সিনেমা হল হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। একাধিকবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোটি স্থায়ী হয়নি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে তৎকালীন এমপি মতিয়ার রহমান তালুকদারের নির্দেশে সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে টাউন হলটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

সাংবাদিক একেএম খায়রুল বাশার বুলবুল বলেন, “তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এই টাউন হলের সংস্কার জরুরি। এটা চালু হলে তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।”

এনএসএস’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন, “মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। টাউন হলটি সংস্কার করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত করলে তা যুবসমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রোকনুজ্জামান খান বলেন, “আমরা অচিরেই টাউন হলটি পরিদর্শন করবো এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমতলী টাউন হল সংস্কার করে পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে তরুণ সমাজ গঠনমূলক কাজে যুক্ত হতে পারে এবং এলাকায় সাংস্কৃতিক জাগরণ ফিরে আসে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সংস্কার কমিশনের অগ্রগতি: ১২১ সুপারিশের মধ্যে ১৬ বাস্তবায়িত, ৮৫ বাস্তবায়নাধীন

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি জানাতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ১২১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৮৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলেন। এসব কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের মধ্যে আইন উপদেষ্টা ১২১টি সুপারিশকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। আজকের বৈঠকে এসব সুপারিশের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।”

এগুলোর মধ্যে ১৬টি সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, ৮৫টি বাস্তবায়নাধীন এবং ১০টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। আর বাকি ১০টি সুপারিশ এখনো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে, বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিরূপণ করা হচ্ছে।

তবে এসব সুপারিশের বিস্তারিত তালিকা বা নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেস সচিব বিস্তারিত কিছু জানাননি।




“ড. ইউনূস ব্যর্থ হলে সেটি ইতিহাস মনে রাখবে”—বিএনপি উপদেষ্টা ফারুক

আগামী নির্বাচনে যদি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের আমলের চেয়েও ভালো নির্বাচন না হয়, তবে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল আয়োজিত একক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, “যদি ড. ইউনূস একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দায় সম্পূর্ণ তার কাঁধেই বর্তাবে।”

এ সময় অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনসমূহে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফারুক বলেন, “১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের যেন বদলির লটারিতে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়। তাদের কারণে গণতন্ত্র কলঙ্কিত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে তারা কোনোভাবেই দায়িত্বে থাকতে পারেন না।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত, যা অতীতের কুৎসিত চিত্রকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক বলেন, “২০০৮ সালে আমি কারাগারে থাকাকালে আমার মা মারা যান। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তার শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি।”

তিনি প্রয়াত রাজনীতিক শাহজাহান সিরাজের একটি মন্তব্য স্মরণ করে বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”

বিএনপি নেতা আরও বলেন, “রাজনীতি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে সৎ রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যদি তিনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত না করতেন, তাহলে হয়তো আজ তাঁকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হতো না।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।




হজে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার

ওমরাহ হজ পালনে সৌদি আরবে রওনা দেওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আকন।

বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।

পুলিশ জানায়, কামাল আকনের বিরুদ্ধে বরগুনা ও আমতলী থানায় দুটি পৃথক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। অপর মামলাটি আমতলী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে একই ধরনের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, “চেক-ইনের সময় কামাল আকনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ আটক করে। পরে আমতলী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। তাকে বরগুনা জেলা কারাগারে আনার জন্য আমাদের একটি টিম ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত কামাল আকনকে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইলিশ সংকটে ভোলায় জেলেদের বিশেষ দোয়া

ভোলার মেঘনার তীরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে জেলেরা আয়োজন করেছেন বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। দিনদিন ইলিশের সংকট বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলেরা। আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়েও নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় এই বিশেষ আয়োজন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে স্থানীয় জেলেরা ইলিশ প্রাপ্তি ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য সমবেত হয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের শতাধিক জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জেলেদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন নদীতে গেলেও জালভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘরে ফেরা তো দূরের কথা, ন্যূনতম খরচটুকু উঠছে না। এতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণ করে মাছ ধরতে নেমে এখন বিপদে।

স্থানীয় জেলে আমির হোসেন বলেন, “আগে দিনে অন্তত কিছু ইলিশ পাওয়া যেত, এখন দিন পার হলেও জাল ফাঁকা নিয়ে ফিরতে হয়। নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি—যেন আমাদের রিজিকের রাস্তা খুলে দেন।”

আরেক জেলে রুস্তম আলী বলেন, “জ্বালানি, বরফ ও খাওয়ার খরচ মিলিয়ে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।”

এদিকে, জেলেরা অভিযোগ করেছেন—নদীতে বিভিন্ন সময় কারেন্ট জাল ও অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা হওয়ায় প্রকৃত মৌসুমে ইলিশ আসছে না। তারা নিয়ম মেনে মাছ ধরা এবং নদী রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি।

জেলেদের এই দোয়ায় নদী পাড়ের বৃদ্ধরাও অংশ নেন। অনেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ইলিশ না থাকলে শুধু জেলে নয়, গোটা ভোলার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ভোলা অঞ্চলে ইলিশ মৌসুমে হাজার হাজার জেলে নদীতে নামেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীতে ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সড়ক অবরোধ

বরিশালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নথুল্লাবাদ এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন—‘সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে’, ‘স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য চলবে না’, ‘শেবাচিমে জনদুর্ভোগ বন্ধ করো’—এমন আহ্বানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, “স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি, দালালচক্র ও দায়িত্বে অবহেলা চরমে পৌঁছেছে। আমরা বহুদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু সরকার কর্ণপাত করছে না। বাধ্য হয়েই বরিশাল ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রণালয় বরিশালের মানুষের কথা শুনছে না—এটা আর চলতে দেওয়া হবে না। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।”

আন্দোলনে অংশ নেয় সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাসপাতালে হয়রানির শিকার রোগী ও তাদের স্বজনরাও।

গতকাল (৬ আগস্ট) আন্দোলনকারীরা বিকেলে আধাঘণ্টার প্রতীকী অবরোধ করে এই পূর্ণাঙ্গ ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজ একাদশ দিনের মতো টানা কর্মসূচি চলছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, সিন্ডিকেট ভাঙন, রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং বরিশালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাহসিকতার স্বীকৃতি : মেহরিন চৌধুরীর নামে শিক্ষকদের জন্য পুরস্কার চালু

সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরীর স্মরণে চালু হচ্ছে একটি বিশেষ পুরস্কার। শিক্ষকদের জন্য প্রবর্তিত এই অ্যাওয়ার্ডটি চালু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, “সাহসী শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরীর নামে একটি অ্যাওয়ার্ড চালু করা হবে, যা প্রতিবছর দেশের শিক্ষকদের মধ্যে অসামান্য সাহসিকতা বা আত্মত্যাগের জন্য প্রদান করা হবে।”

প্রসঙ্গত, গত মাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরী নিজের জীবন উৎসর্গ করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা করেন। তার এই বীরত্ব দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটাই সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। বৈঠকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ নম্বর গেট ছাড়া সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।




কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো নিখোঁজ জেলের লাশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলার ও এর এক জেলের লাশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুয়াকাটার ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন সৈকতে ট্রলারটি ভেসে এলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উদ্ধার হওয়া মৃত জেলের নাম ইদ্রিস হাওলাদার (৫০)। তার পরিচয় শনাক্ত করেছেন জামাতা সাগর ইসলাম।

স্থানীয় সূত্র এবং নৌ-পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই গভীর সমুদ্রের শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার ভেতরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৫ জেলে নিয়ে ডুবে যায় ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের একটি ট্রলার। দুর্ঘটনার পর টানা ৪ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার করা হয় ১০ জেলেকে। এরপর ১ আগস্ট সৈকতের মীরা বাড়ি পয়েন্টে ভেসে আসে নজরুল ইসলাম নামের এক জেলের মরদেহ। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ জেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিস হাওলাদারের মরদেহসহ ভেসে আসা ট্রলারটি দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, লাশসহ ট্রলারটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সমুদ্রে মাছ ধরার সময় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান বা অনুসন্ধানেও তেমন গতি দেখা যায় না। তাই এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে।

এখনো নিখোঁজ তিন জেলের পরিবারদের আহাজারিতে ভারি হয়ে আছে কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চল। তারা মরদেহ উদ্ধার বা অন্তত কোনো খোঁজ পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম