জয়দেব দত্ত হত্যার অভিযোগে মামলা, তদন্ত করবে পিবিআই

বরগুনার তালতলী উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সাবেক উপজেলা টিম লিডার ও ‘সিডরম্যান’ খ্যাত সমাজসেবক জয়দেব দত্তের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে ৮ বছর ৭ মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জয়দেব দত্তের ছেলে প্রসেনজিৎ দত্ত আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই পটুয়াখালীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত মামলায় উল্লেখ করেন, তার বাবা জয়দেব দত্ত একজন সদালাপী, মানবিক ও জনহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বন্ধকী ভিত্তিতে সুদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তালতলী শহরে তার কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল। এই সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন ঘিরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট রাতে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের প্রভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
১৪ জনকে আসামি করে মামলা
মামলায় তালতলী উপজেলার রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
-
অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস (সাবেক সভাপতি, বরগুনা প্রেসক্লাব)
-
রেজবী উল কবির জোমাদ্দার (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি)
-
মনিরুজ্জামান মিন্টু (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)
-
মুহা. তৌফিকুজ্জামান তনু (সাধারণ সম্পাদক, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ)
-
আলমগীর হোসেন আলম মুন্সী (চেয়ারম্যান, বড়বগী ইউনিয়ন)
-
দুলাল ফরাজী (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)
সহ আরও ৮ জন।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই পটুয়াখালীকে দিয়েছেন। বিচারক ইফতি হাসান বাদীর বক্তব্য শুনে এ নির্দেশ দেন।
বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, “আমার পিতাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এতদিন পর হলেও আমি সত্য ও ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি, পিবিআইয়ের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫






