“অনেক কিছু দেখবেন”— শুল্ক বাড়িয়ে চীন-ভারতকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতসহ আরও অনেক দেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ বার্তা দেন তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আপনারা আরও অনেক কিছু দেখবেন। প্রচুর সেকেন্ডারি স্যাংশন (পरोক্ষ নিষেধাজ্ঞা) আসছে।” তিনি বলেন, রুশ জ্বালানি কিনে তা পুনরায় রপ্তানি করে ভারত বিপুল মুনাফা করছে। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প জানান, শুধু ভারত নয়, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায় জড়িত থাকলে চীনসহ আরও অনেক দেশকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

এই মন্তব্যের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ আদেশ ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

একই আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ান তেল সরবরাহে জড়িত দেশগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য।

ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলাপ এবং মস্কো সফরে নিযুক্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসঙ্গে ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন। তখন থেকেই ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল এই নতুন শুল্ক ও হুঁশিয়ারির মধ্যে।




কুয়াকাটা সৈকতে ঢেউয়ের টানে প্রাণ গেল তরুণ পর্যটকের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সামাদ সিদ্দিকী পারভেজ (১৭) নামে এক কিশোর পর্যটক। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে সকাল ১১টার দিকে গোসলে নামার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

মৃত সামাদ মাগুরা সদর উপজেলার পশ্চিবাড়ীয়ালা হাজীপুর গ্রামের আলীউল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তারা খুলনার খালিশপুর এলাকায় বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে সামাদসহ ৭ বন্ধুর একটি দল বেড়াতে এসে কুয়াকাটার হোটেল সৈকতে উঠেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সবাই মিলে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে গোসলে নামেন। এ সময় সামাদ স্রোতের টানে সাগরের গভীরে তলিয়ে যান। বন্ধুরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে ফায়ার সার্ভিস এবং কয়েকজন ক্যামেরাম্যান উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর আড়াইটার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকেই সামাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের লিডার শাহাদাৎ হোসেন জানান, উদ্ধার করার পর সঙ্গে সঙ্গে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিকাশ মন্ডল বলেন, নিহত পর্যটকের মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটার পথে রয়েছেন। তারা পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সমুদ্রস্নানে নেমে প্রতি বছর এভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়াকাটার সাগরপাড়ে উপযুক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইফগার্ড ও সতর্কতা সাইনবোর্ডসহ স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোট উৎসবের পথে প্রথম পদক্ষেপ: নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এ লক্ষ্যে আজ (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও কার্যক্রম দ্রুত শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই চিঠি পাঠানো হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিগত পনেরো বছরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন আনন্দঘন, স্মরণীয় ও উদ্‌যাপনযোগ্য একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার। নির্বাচন যেন হয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যে পরিপূর্ণ—এমন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চিঠিতে।

সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার আলোকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়।




দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির তিনটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে চেরাগি মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

আমীর খসরু বলেন, “জনগণ আজ প্রমাণ করেছে, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৬ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করছি। এই আন্দোলন জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। আমরা এখন নির্বাচনের পথে আছি, দেশবাসী ধানের শীষের জন্য প্রস্তুত।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শৃঙ্খলিত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খসরু জানান, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ বা ভাইয়ের রাজনীতি বিএনপিতে চলবে না। জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। আমরা নতুন রাজনীতির সূচনা করেছি—যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সম্মানবোধও থাকবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তারা রাজনীতি করবে কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে না। জনগণকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে দেশ চালানোর চেষ্টা আবারও শুরু হয়েছে, কিন্তু জনগণ সেটা আর মেনে নেবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তরিকুল ইসলাম তেনজিং।




‘রক্তের ইতিহাস উপেক্ষিত’: শাপলা গণহত্যা বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘নৃশংস গণহত্যা’ নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রে কোনো বক্তব্য না থাকায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণপ্রতিরোধে আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণাপত্রে শাপলার শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও জানানো হয়নি।

বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—এমনকি একটি বাক্যও নেই। অথচ ঘোষণাপত্র পাঠের সময় আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। এটি কোনো ভুল নয়, এটি সচেতন অবহেলা। আমরা মর্মাহত, বিক্ষুব্ধ এবং বিস্মিত।”

তারা জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কোনো নিরাপত্তা পান না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও গোয়েন্দা কাঠামোতে এখনও মূল সংস্কার আনতে না পারায় তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিবৃতিতে মোদির আগমনবিরোধী বিক্ষোভে শহীদদের কথাও স্মরণ করা হয়। নেতারা বলেন, “শাহবাগী ফ্যাসিবাদ ও দিল্লির আধিপত্যবাদ ঠেকাতে হেফাজত শুরু থেকেই সামনে থেকেছে। শাপলার শহীদদের ইতিহাস কোনো দিন মুছে ফেলা যাবে না।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাই ঘোষণায় এই রক্তাক্ত অধ্যায়কে উপেক্ষা করে সত্যকে আড়াল করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্মৃতি দীর্ঘমেয়াদি। সরকার যদি শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে এই উপেক্ষার জবাব জনগণই দেবে।”




দেশের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমান: সেলিমা রহমান

“আজ সমগ্র দেশ তাকিয়ে আছে তারেক রহমানের দিকে”—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ‌”গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

আজ বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে নগর বিএনপি ও উত্তর জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে বিজয় শোভাযাত্রা বের হয়।

সমাবেশে যোগদানের আগে আজ সকাল ৯টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে যান সেলিমা রহমান। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবদুল্লাহ আল আবিরের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর তিনি শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। সেলিমা রহমান বলেন, “আন্দোলনে নিহত শহীদ আবির, শান্ত ও রাজিবের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ন্যায় ও সমতার সংগ্রামে তাঁরা আমাদের অনুপ্রেরণা।”

সমাবেশে সেলিমা রহমান আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—জনগণের অধিকার ও ক্ষমতা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া। সে জন্য প্রতিটি নেতাকর্মীকে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে একটি সুশাসনভিত্তিক ও জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সমাবেশ শেষে বরিশাল মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপির উদ্যোগে বের করা হয় বিজয় শোভাযাত্রা। এটি সদর রোড থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বান্দ সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন—

  • বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান,

  • কেন্দ্রীয় নেতা মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, হাসান মামুন,

  • দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান শহীদুল্লাহ,

  • মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারসহ
    মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড, উত্তর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





‘হতাহতের তথ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা’, জুলাই ঘোষণায় ঘাটতির অভিযোগ এনসিপির

সরকার গত এক বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এই ব্যর্থতার ছাপই ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ প্রতিফলিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের অবস্থান তুলে ধরেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “এক বছরের মধ্যে সরকার আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপারগতা ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”

আখতার আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রে উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা থাকলেও ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ এই ধারাবাহিকতাই বর্তমান সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।”

তিনি দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোকে ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হতো।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান লেখার প্রস্তাব বারবার দিয়েছি। কিন্তু ঘোষণাপত্রে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই।”

তিনি জানান, এনসিপি মনে করে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় অতীত ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ ও গণমানুষের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।




‘গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফর’— এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাকে দলীয় অনুমতি ছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়, “গতকাল ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনি এবং দলের আরও চারজন কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন। সফরের বিষয়ে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’কে কোনো ধরনের পূর্ব অবগত না করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন—দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে শৃঙ্খলাবিরোধী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বসম্পন্ন দিবসের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।”

গতকাল (৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে পাঁচ নেতা কক্সবাজারে পৌঁছান। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন, ওই নেতারা কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে একটি হোটেলে বৈঠক করতে গেছেন। এ গুঞ্জনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হোটেলের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভও করেন।

তবে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং এনসিপি সূত্রও এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, “দলীয় দায়িত্বশীলরা এমন দিনে ব্যক্তিগত সফরে গেলে জনমানসে ভুল বার্তা যায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় দলকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”




অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আস্থা ফিরিয়ে আনা: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায় অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে সামনে এখনো রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং শুল্ক নীতি। আর সবকিছুর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সৃষ্টি।

বুধবার (৬ আগস্ট) অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনীতি এখন আর সেই টালমাটাল অবস্থায় নেই। খাদের কিনারা থেকে অনেকটা উপরে উঠে এসেছে। তবে এই অগ্রগতি বোঝার জন্য প্রয়োজন দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি।”

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান, শুল্ক—সবই চ্যালেঞ্জ। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাণিজ্যে গতি ফেরানো। এখন আমরা সেসব প্রকল্পে মনোযোগ দিচ্ছি, যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ও ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করবে।”

মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা এমন না যে ঘোড়ার লাগাম টেনে একদিনে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কিছুটা কমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) খাত এখনো চ্যালেঞ্জিং।”

বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এখন পর্যন্ত ঘাটতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত সীমা ৪ দশমিক ৫-এর মধ্যে রয়েছে।”

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইন, এনবিআরের সংস্কার, পুঁজিবাজার উন্নয়নসহ কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কিছু বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “শুল্ক আরও কিছুটা কমলে ভালো হতো। তবে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থায় নেই। আমাদের আরএমজি খাত এখনো প্রতিযোগিতায় রয়েছে।”

চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি হয়নি, তবে দরকষাকষি চলছে। “ওয়ান-টু-ওয়ান নেগোশিয়েশনে অনেক কিছু বলা যায় না। তবে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ওপর আস্থা আছে।”

তিনি বলেন, “শেভরন, মেটলাইফের মতো কোম্পানির অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন অনেক ভালো।”




প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকাতে লটারি পদ্ধতিতে বদলি হবে এসপি-ওসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলি এবার লটারির মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির সূচনা ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বৈঠকে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা অনেক সময় নিজ এলাকার পছন্দের এসপি, ডিসি কিংবা ওসিকে চান। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণমাধ্যমের সামনে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

তিনি জানান, এই লটারি প্রক্রিয়া শুধু এসপি ও ওসিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ওসিদের ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক লটারি করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তফসিল ঘোষণার কিছুদিন আগেই এই লটারি সম্পন্ন করা হবে, যাতে নির্বাচনের ঘোষণার পর এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে কমিশন চাইলে তাদের নিজস্ব বিবেচনায় বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতের অভিযোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।