দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা।”
সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গতকাল নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেই নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে আমাদের সব পরিকল্পনা এই নির্বাচনকে ঘিরে। আমরা চাই যেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পারে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে: ১) সুষ্ঠু নির্বাচন, ২) কাঠামোগত সংস্কার এবং ৩) বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল।
নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার আলোকে কমিশন তারিখ জানাবে।”
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুলিশের এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি। ডিসিদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। আগে ৮ লাখের মতো নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা থাকলেও এখন ৫০-৬০ হাজার বাড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা হচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল অংশ নিতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, “এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নেতাদের ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণা প্রায় সব দলই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আগেও আলোচনা হয়েছে, সামনে আরও হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি—এটা একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।”
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন হবে ফ্রি, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর। কেউ অভিযোগ করার সুযোগ পাবে না।”






