তার্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা সরকারি বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে তার্কিশ এয়ারলাইন্স ব্যবহার করলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

এই চুক্তি সেনাসদস্যদের যাতায়াত ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হবে এবং সরকারি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ‘স্টার এলায়েন্স’-এর বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

সেনাবাহিনী মনে করছে, এ ধরনের সহযোগিতা বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভ্রমণকেও আরও সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।




সাংবাদিক হত্যায় ক্ষুব্ধ জামায়াত, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “তুহিন বিকেলে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এতে প্রমাণিত হয়, একজন সাংবাদিকও আজ নিরাপদ নন। এ ধরনের ঘটনা জাতির জন্য অশনি সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হামলা করছে না, বরং চাঁদা না পেলে মানুষকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে। নিজেদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি করছে তারা।”

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নিহত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে মুরাদিয়া নদী

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগের প্রাণ ছিল মুরাদিয়া নদী। এক সময় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও প্রায় ৫০ ফুট প্রশস্ত নদীটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করত। কিন্তু দখল, দূষণ ও পলির চাপে নদীটি আজ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দুই যুগে তা পরিণত হয়েছে মাত্র ৩০ ফুট চওড়া এক নালা সদৃশ খালে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দুই তীর অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী কিছু পরিবার। তারা পানি ব্যবহার করলেও কোনো খাজনা দেয় না। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় কৃষিকাজে ব্যাপক সমস্যা হয়। আবার বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ করে তোলে।

এক সময় এই নদীপথে পটুয়াখালী, গলাচিপা ও ঝালকাঠির বাকেরগঞ্জের সঙ্গে সক্রিয় বাণিজ্যিক সংযোগ ছিল। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে যাত্রী চলাচলেও নির্ভরশীল ছিল এলাকাবাসী। বর্তমানে নদী সংকুচিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি, পানির সংকট এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদী দখল করে ঘর-বাড়ি, দোকানপাট তৈরি করা হয়েছে। অনেক পরিবার এই খালের ওপর নির্ভরশীল হলেও পানি না থাকায় তাদের জীবন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

প্রশাসন বলছে, অবৈধ দখলদারদের শনাক্ত করতে এবং খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর ইজাজুল হক বলেন,

“মুরাদিয়া খালসহ উপজেলার যতগুলো খাল রয়েছে, তার তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব খাল দখলে আছে কি না এবং কারা দখল করে আছে, তা শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন রাজস্ব আদায় ও পরিবেশ রক্ষার দিকেও নজর দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকাবাসী চান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নদীটি তার স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনা হোক। কারণ, মুরাদিয়া শুধু একটি নদী নয়—এটি একসময় ছিল দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণ।


প্রতিবেদক: মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকির খাল-বিলে নিষিদ্ধ জালের দাপট, বিপন্ন দেশি মাছ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ম্যাজিক জাল, সুতিজাল, বেহুন্দি, ভেসাল এবং চায়না রিং জাল। এতে ধ্বংস হচ্ছে স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য, হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের পরিচিত দেশি মাছ।

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই এইসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এসব জালের মাধ্যমে ডিম ছাড়ার আগেই পোনা মাছ ধরা হচ্ছে, যা মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ফলে প্রতি বছর দেশি মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।

দুমকির নতুন বাজার, পীরতলা বাজার, বোর্ড অফিস বাজারসহ বিভিন্ন হাটে-ঘাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ জাল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই দেদারসে বিক্রি করছে এগুলো। নিষিদ্ধ জাল বিক্রির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারও চলছে নির্বিঘ্নে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি।

এছাড়াও জলাশয় দখল, পুকুর সেচ ও কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করায় জলজ পরিবেশ ভয়াবহভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এতে এক সময়ের সাধারণ দেশি মাছ যেমন—বোয়াল, গজার, শোল, পাবদা, আইড়, খলসে, পুটি, ভেটকি, বাইলা, টাকি, টেংরা ইত্যাদি এখন বাজারে দুর্লভ হয়ে পড়েছে।

দায়িত্বরত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “মৎস্য বিভাগকে ইতোমধ্যে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।”

অবিলম্বে এই অনিয়ম ও অপরাধ বন্ধে প্রশাসন, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জনগণের সম্মিলিত পদক্ষেপ ছাড়া দেশি মাছ ও জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় গাজীপুরে সাংবাদিক খুন

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) নামের এক সংবাদকর্মীকে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। তিনি রাজধানী থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে তুহিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত চৌরাস্তা এলাকায় পথচারীদের বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপারের দৃশ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য। গাজীপুর চৌরাস্তা।”

ভিডিওটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরই তিনি চা খেতে যান মসজিদ মার্কেটের পাশে একটি দোকানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। সবার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল, গণমাধ্যমকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, একজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করায় গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুনিয়রের অধীনে দায়িত্ব পেয়ে পবিপ্রবির শিক্ষক সাইফুলের পদত্যাগ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের ছাত্রবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বুধবার বিকেলে রেজিস্ট্রার বরাবর তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, গত চার মাস ধরে তিনি নিজ দায়িত্বে ছাত্র বিষয়ক দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার অধীনস্থ এক জুনিয়র শিক্ষক, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সু জাহাঙ্গির কবির সরকারকে ওই দপ্তরের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে নিজের সম্মানহানির আশঙ্কা থেকে ড. সাইফুল পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগের বিষয়ে ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি চার মাস ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ প্রশাসন আমার নিচের পদে থাকা একজন শিক্ষককে আমার ওপর বসিয়ে দিল। এটা অত্যন্ত অসম্মানজনক ও বিব্রতকর। তাই আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে ড. জাহাঙ্গির কবির সরকারকেও ফোন দিলে তিনি কল রিসিভ না করে তা কেটে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. এস এম হেমায়েত জাহান এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, “ড. সাইফুল পদত্যাগ করেছেন, এটা ঠিক। তবে তিনি আগে ১০ বছর বরখাস্ত ছিলেন। ফলে তার সমসাময়িক শিক্ষকরা এখন পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র হয়ে গেছেন। তিনি সংক্ষুব্ধ হয়ে যা বলছেন, তা একপেশে হতে পারে। পরিচালক পদটি জুনিয়র-সিনিয়র দেখে দেওয়া হয়নি, বরং প্রশাসনিক বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

এই ঘটনায় পবিপ্রবির শিক্ষক সমাজ ও প্রশাসনে চলছে নানা গুঞ্জন। শিক্ষক মহলের একাংশ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা ও সমতা না থাকলে ভবিষ্যতে এমন পদত্যাগ আরও বাড়তে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরের শুরুতে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, রমজান শুরুর আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ড্রোনের অপব্যবহার রোধে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। আচরণবিধিতে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা শুধু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নয়, অন্যান্য সম্ভাব্য পক্ষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এজন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভুল তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়াতে এআই ব্যবহার করা হলে কমিশন তা কঠোরভাবে দমন করবে।”

নির্বাচনে প্রার্থীদের ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান তিনি।

ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে কমিশনার বলেন, “সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। ইতোমধ্যে একটি কমিটি বিকল্প উপায় খুঁজে দেখছে, যার মধ্যে বিদ্যমান ক্যামেরা ব্যবহার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

এছাড়া নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এভাবে ১৮ থেকে ২০ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি আরপিও সংশোধনের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।




আমতলীতে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও আলোচনা

বরগুনার আমতলীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৫। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এতে সহায়তা করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ও এনএসএস (ন্যাশনাল সাপোর্ট সোসাইটি)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার।
বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক জাকির হোসেন, নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রানী দাস, হেলথ ইন্সপেক্টর লাভলী ইয়াসমিন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সাবেরা পারভীন, ওয়াস ফ্যাসিলিটেটর আহম্মদ রফিক ও কমিউনিটি প্রতিনিধি শাহিদা পারভীন।

বক্তারা বলেন, শিশুর জন্য মায়ের দুধই হচ্ছে সবচেয়ে পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।
তারা জন্মের পরপরই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সাপ্তাহিক এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল মূল লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো’ — হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শোকজের জবাবে দলের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা সংস্থা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।”

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে শোকজের জবাব প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা। ওই ঘটনায় ‘দলের অনুমতি না নেওয়ার’ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপি।

শোকজের জবাবে হাসনাত বলেন, “আমরা যে ঘোষণা বা আয়োজন প্রত্যাশা করেছিলাম, সেখানে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মান ও অন্তর্ভুক্তি ছিল না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে আমি ওই আয়োজনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি দাবি করেন, দলের আহ্বায়ককে তিনি ভ্রমণের ব্যাপারে অবহিত করেছিলেন। এরপরও শোকজ নোটিশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘অতি উৎসাহী পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শোকজের জবাবে আরও বলা হয়,

“ঘোষণাপত্রে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর অর্পণের যে কথা বলা হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চেয়েছি গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান।”

তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কিছু গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে ‘গোপন বৈঠক’ ও ‘ষড়যন্ত্র’–এর অভিযোগ তোলা হয়, যা তিনি ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নারী নেত্রী তাসনিম জারাকে ঘিরে পরিচালিত অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন নারীকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানো হয়েছে। এটা নারী নেতৃত্বকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।”

শেষে তিনি দলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দিয়েই আমাদের দল আরও পরিণত হবে।”




জয়দেব দত্ত হত্যার অভিযোগে মামলা, তদন্ত করবে পিবিআই

বরগুনার তালতলী উপজেলার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সাবেক উপজেলা টিম লিডার ও ‘সিডরম্যান’ খ্যাত সমাজসেবক জয়দেব দত্তের মৃত্যুকে হত্যা দাবি করে ৮ বছর ৭ মাস পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জয়দেব দত্তের ছেলে প্রসেনজিৎ দত্ত আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই পটুয়াখালীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত মামলায় উল্লেখ করেন, তার বাবা জয়দেব দত্ত একজন সদালাপী, মানবিক ও জনহিতৈষী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বন্ধকী ভিত্তিতে সুদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তালতলী শহরে তার কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল। এই সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন ঘিরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট রাতে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের প্রভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করে ধামাচাপা দেওয়া হয়।

১৪ জনকে আসামি করে মামলা

মামলায় তালতলী উপজেলার রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস (সাবেক সভাপতি, বরগুনা প্রেসক্লাব)

  • রেজবী উল কবির জোমাদ্দার (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি)

  • মনিরুজ্জামান মিন্টু (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)

  • মুহা. তৌফিকুজ্জামান তনু (সাধারণ সম্পাদক, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ)

  • আলমগীর হোসেন আলম মুন্সী (চেয়ারম্যান, বড়বগী ইউনিয়ন)

  • দুলাল ফরাজী (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান)
    সহ আরও ৮ জন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম হাওলাদার জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই পটুয়াখালীকে দিয়েছেন। বিচারক ইফতি হাসান বাদীর বক্তব্য শুনে এ নির্দেশ দেন।

বাদী প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, “আমার পিতাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এতদিন পর হলেও আমি সত্য ও ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি, পিবিআইয়ের তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫