“ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল : উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

উপাচার্য জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই হলে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকবে। হল প্রশাসন এ নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি প্রসঙ্গে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে হলে যেকোনো ধরনের রাজনীতির সম্পূর্ণ অবসান দাবি করেন। তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—

  • কেন কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামসহ সকল গুপ্ত কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিতে হবে।
  • সব হল কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলুপ্ত করতে হবে।
  • হল প্রভোস্টদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
  • দ্রুত ডাকসু বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, তবুও কমিটি ঘোষণার পর রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিকেল থেকে চলা এ বিক্ষোভ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয় এবং রাত ১২টার পর সবগুলো হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘ হট্টগোলের পর উপাচার্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী প্রকাশ্য ও গুপ্ত— উভয় ধরনের হল রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে।




দখল-দূষণে মরছে বরিশালের নদ-নদী

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলো এখন দখল ও দূষণের করাল গ্রাসে অস্তিত্ব সংকটে। নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবনে পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। প্রশাসনের নীরবতা আর প্রভাবশালীদের বেপরোয়া দখল—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলার প্রাণ।

বিশেষ করে বরিশালের প্রাণ কীর্তনখোলা নদী এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ও চরবাড়িয়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, স-মিল, ইট-বালুর ডিপো, অফিস, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি নদীদূষণ ও দখলের সঙ্গে জড়িত। কালিজিরা, কর্নকাঠী, রসুলপুর ও পলাশপুর এলাকায় নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড, গোডাউন ও কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দখলের পেছনে প্রভাবশালী মহল সক্রিয়।

তালিকায় দেখা গেছে—

  • কীর্তনখোলায় দখলদার: ২১৪ জন

  • পটুয়াখালী নদীতে: ৩৫৫ জন

  • ভোলার জাঙ্গালিয়া নদীতে: ৩৫ জন

  • পিরোজপুরের বেলুয়া নদীতে: ৮৮ জন

  • বরগুনার পায়রা নদীতে: ১১০ জন

  • ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদীতে: ২৩ জন

পিরোজপুরের দামোদর নদের ব্রিজ এলাকা ও বলেশ্বর নদীও দখলের শিকার। স্থাপনা নির্মাণে হারিয়েছে নাব্যতা। এলাকাবাসীর দাবি—নদী রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক মো. সেলিম রেজা জানান, “কীর্তনখোলা নদীর ৪ হাজার ৩২০ জন অবৈধ দখলদারের খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। জরিপ শেষে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।” বরিশাল জেলার ২৩টি নদীর দুই তীরই দখলের কবলে রয়েছে।

বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবীব বলেন, “প্রত্যেকটি নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




টাকার অভাবে রেফার্ড না হয়ে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু বরগুনায়

বরগুনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আলেয়া (৬০) নামের এক নারী। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আলেয়া সদর উপজেলার লতাবাড়িয়া এলাকার মরহুম নূর মোহাম্মদের স্ত্রী ছিলেন। গত ৪ আগস্ট তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু আর্থিক অক্ষমতার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে বরিশাল নিতে রাজি হননি।

তার ছেলে সরোয়ার চিকিৎসকদের বন্ডে সই করলে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা চালু রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি সাড়া দেওয়া বন্ধ করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলেয়ার মেয়ে রুবিনা আক্তার বলেন, “আমাদের বরিশাল নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। চিকিৎসা খরচ জোগানোর অবস্থাও ছিল না।” পুত্রবধূ সাথী আক্তার জানান, “বরিশাল রেফার্ড করা হলেও টাকা না থাকায় বন্ডে সই করে আবার বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি করি।”

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকা জানান, “রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বজনরা না নেওয়ায় আমরা এখানেই চিকিৎসা দিয়েছি, তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




স্বাস্থ্য সেবার সংকটে বরিশালে ছাত্র-জনতার ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি

বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, রোগী হয়রানি এবং চিকিৎসা সেবার সংকটের প্রতিবাদে লাগাতার আন্দোলন চলছে। শুক্রবার (আজ) আন্দোলনের ১২তম দিনে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নথুল্লাবাদ এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় সড়ক অবরোধ করে ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের উপরেই জুমার নামাজ আদায় করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ নামাজে আন্দোলনকারী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যাত্রী এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশ নেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে রেখেছে। ফলে সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। ১২ দিন ধরে আন্দোলন চললেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান বা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন ও অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারী ছাত্র সাব্বির হোসেন বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম চিকিৎসাও পাচ্ছে না। নানা উপায়ে রোগীদের হয়রানি করা হয়, ডাক্তাররা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন, হাসপাতালের সরঞ্জাম অকেজো করে রাখা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। অথচ সবকিছুই চলে জনগণের টাকায়।”

সংগঠক মহিউদ্দিন রণি বলেন, “শুধু আশ্বাসে কিছু হবে না, স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে নিজে এসে সমস্যা সমাধান করতে হবে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কারো অবহেলা বরদাশত করা হবে না। দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”

কর্মসূচিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির হোসেন সিকদার জানান, “নথুল্লাবাদ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য উত্তেজনা তুঙ্গে, আলোচনা স্থগিত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

ভারতীয় পণ্যের ওপর দ্বিগুণ অর্থাৎ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আগে ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্য আলোচনা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) এনডিটিভি ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানায়, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “না, এটা সমাধান হওয়ার আগে কিছুই হবে না।”

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশে জানানো হয়, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পণ্যের ওপর নতুন করে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে ২৮ আগস্ট থেকে। এর আগে ৭ আগস্ট থেকেই প্রথম দফার ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।

এই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এই যুক্তিতে প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ব্যবহার করেছেন।

তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং ইতোমধ্যে রপ্তানির পথে থাকা চালানের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দিল্লিতে এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক চাপের মুখেও আমাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরব না। ভারতের জন্য কৃষকের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে, কোনো আপস হবে না।”

ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোটি কোটি গ্রামীণ মানুষের জীবিকা সংবেদনশীল খাতগুলোর সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য সেগুলো খুলে দিলে তা তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত রাখা এবং উচ্চ শুল্ক আরোপ—এই দুই সিদ্ধান্তই দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কৌশল ও আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও ঘোষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি দলগুলোর অবস্থান এবং যুগপৎ কর্মসূচির সমন্বয়।

১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকিব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ১২ দলীয় জোট ও ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট একত্রে অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপির একাংশ, জাগপার একাংশ, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপ-ভাসানী, বিকল্প ধারা, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টিসহ আরও বেশ কিছু দল।

বৈঠকে নতুন কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নির্বাচনী রূপরেখা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গেছে।




ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতায় ‘গোপন কার্যালয়’ খুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে ‘দলীয় কার্যালয়’ খুলেছেন দলটির নেতারা। কলকাতার আশপাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে গোপনভাবে গঠিত এই অফিসে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা ও কর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। শুরুতে কেউ কেউ নিজেদের বাসায় ছোটখাটো দলীয় বৈঠক করলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দিষ্ট একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের অষ্টম তলায় গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাজানো হয়েছে অফিসটি। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি কিংবা দলীয় চিহ্ন। এমনকি অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সেখানে রাখা হয় না।

আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই ঘরটার পরিচিতি আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। শুধু দেখাসাক্ষাৎ বা বৈঠকের প্রয়োজনেই এটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি আসলে একটি পুরোনো বাণিজ্যিক অফিস, আগের চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করছি।’’

সেখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন বসতে পারেন। তবে শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বড় বৈঠকের জন্য রেস্টুরেন্ট বা ব্যাঙ্কুয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এই পার্টি অফিসটিকে ঘিরেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।




‘জুলাই সনদের’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে আবারও আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন

‘জুলাই সনদ’-এর বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত ও স্বাক্ষরিত সনদের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা জরুরি। সেই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আলী রীয়াজ আরও জানান, ইতোমধ্যে দুই দফা সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সুপারিশ পাওয়া গেছে।

প্রথম পর্বে ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, যার কিছু বাস্তবায়ন করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্বে ২০টি সাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যে ১১টিতে সর্বদলীয় ঐকমত্য ও বাকি ৯টিতে অধিকাংশ দলের সমর্থন রয়েছে, যদিও কিছু দলের ভিন্নমত সংযুক্ত থাকবে।

তিনি জানান, প্রথম দফার আলোচনায় দলগুলোর অনীহার কারণে ২৫টি প্রস্তাব আলোচনার বাইরে ছিল। তবে এবার সব বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ মতবিনিময়ের আশা করছেন তারা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, খুব শিগগিরই সনদ বাস্তবায়নের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ সম্ভব হবে।




৩ কিলোমিটারে শত গর্ত! পটুয়াখালী-বাউফল সড়কে নৌকা ছেড়ে প্রতিবাদ

পটুয়াখালী-বাউফল আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ৩ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে হচ্ছে শতাধিক গর্তের ওপর দিয়ে। দুর্ঘটনার শঙ্কা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে এই রুটে। যানবাহনের গর্তে আটকে পড়া, যাত্রী নামিয়ে হেঁটে রাস্তা অতিক্রম, আবার গাড়িতে ওঠা—এ যেন এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগ।

বিশেষ করে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাঙ্গাব্রিজ থেকে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। শত শত যানবাহন, যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক ও মোটরসাইকেল এই সড়কে চলছে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল বিশাল গর্তে জমে থাকা পানি যেন রাস্তার ওপর ছোট ছোট পুকুর। সেই পানিতে কখনও বাস আটকে যাচ্ছে, কখনও ট্রাক। স্থানীয়দের সহায়তায় সেগুলো টেনে বের করতে হচ্ছে। বাস যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তাহীনতা।

ঢাকাগামী ‘চেয়ারম্যান পরিবহনের’ যাত্রী নাসরিন জাহান বলেন,

“মায়ের অসুস্থতার জন্য ঢাকা যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত তিন জায়গায় বাস থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছি। কখন পৌঁছাব, জানি না। অন্তত গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করলেই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”

এমনই ভোগান্তিতে পড়ে অনেক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ওই রুটে বাস চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। কেউ কেউ বিকল্প রুটে ৩০-৪০ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছেন। বিশেষ করে ‘সাকুরা পরিবহন’ ঘুরে বাউফল উপজেলা সদর হয়ে যাত্রী পরিবহন করছে।

এমন অবস্থার প্রতিবাদে আসুরীহাট বাজারে গর্তে পানি জমে যাওয়ায় স্থানীয়রা নৌকা চালিয়ে প্রতিবাদ জানান, যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ঘটনা।

অটোচালক মমিন হাওলাদার বলেন,

“আমরা নিজেদের টাকায় ১০টিরও বেশি গর্তে ইট ফেলেছি। কিন্তু প্রতিদিনই নতুন নতুন গর্ত হচ্ছে। যে গর্তে ইট ফেলি, তা আবার উঠে যায় বৃষ্টির পানিতে।”

স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছেই, এর পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসা সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর স্বীকার করেছেন সড়কের ভয়াবহ অবস্থার কথা। তিনি বলেন,

“ওই রাস্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবে।”

কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব অস্থায়ীভাবে হলেও গর্তগুলো সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জেলা সদরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ; ইতিহাস বিকৃত’ — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির মতে, এই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতিও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “ঘোষণাপত্রটি একটি প্রামাণ্য দলিল হলেও এটি প্রকৃত অর্থে ‘প্রক্লেমেশন’ হয়ে উঠতে পারেনি। এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও শহীদদের প্রসঙ্গ অনুল্লিখিত রয়ে গেছে, যা ঘোষণার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ মূলত ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীক্ষিত দলিল হলেও তা আকাঙ্ক্ষিত পরিপূর্ণতা পায়নি। বরং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ পড়েছে যা এই ঘোষণাকে সীমিত ও অসম্পূর্ণ করে তুলেছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যা, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং ভ্যাটবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো এই ঘোষণায় উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ এসব আন্দোলন গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘোষণাপত্রে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দেওয়া হলেও তাদের হত্যাকারীদের বিচার ও প্রকৃত শহীদ সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে শহীদদের প্রতি ইনসাফ হয়নি বলেই মনে করে সংগঠনটি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এই ঘোষণায় তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই ছিল ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী মূল প্ল্যাটফর্ম।

ঘোষণাপত্রে পরবর্তী সংসদের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, “রাষ্ট্রের সংবিধান সংসদ নয়, নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সংস্কার নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার কৌশল।”

সবশেষে, সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘোষণা বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্যায়বিচার (ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা করা হোক।