বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলা ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত। এখানকার কৃষির চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় জলাবদ্ধ ও যোগাযোগ সমস্যা আর্থিক উন্নয়নে বাধা ছিল। এখন সর্জান পদ্ধতিতে নিচু জমি পুনরুজ্জীবিত হয়ে গাছ আলুসহ বিভিন্ন ফসল এবং মাছ চাষে সমৃদ্ধ হচ্ছে।
ভোলা জেলা মূলত সমতল ভূমি যেখানে নদী ও সমুদ্রের জোয়ার-ভাটায় প্রায় অর্ধবছর নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে অধিকাংশ জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল ফলানো যেত। সেক্ষেত্রে ফসল সংগ্রহের পর ক্ষতিও প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতো, কারণ দ্রুত বাজারজাতকরণে সীমাবদ্ধতা ছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভোলা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামীম আহমেদ জানান, সর্জান পদ্ধতিতে জমির অংশ উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় যেখানে সবজি ও ফলের চাষ হয় এবং নীচু নালায় মাছ চাষ করা হয়। এতে একই জমি থেকে দ্বিগুণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
চরফ্যাসনের আসলামপুরের কৃষক মো. হেলাল সর্জান পদ্ধতিতে গত বছর ৩২ শতাংশ জমিতে গাছ আলু, মরিচ, শিম, বেগুন ও পেঁপে চাষ করেছেন। নালায় তেলাপিয়া ও সরপুঁটি মাছ চাষের মাধ্যমে তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন। গাছ আলু বিক্রি থেকে লাভ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
ড. শামীম আরও জানান, গাছ আলু একটি লতানো উদ্ভিদ, যা মাটির নিচে বড় আলু ও কাণ্ডের গায়ে ছোট আলু উৎপন্ন করে। বাজারে এর চাহিদা ভালো। ভোলায় সর্জান পদ্ধতিতে গাছ আলুর ব্যাপক চাষ হচ্ছে, যা জেলার শস্যবিন্যাসকে ২৫৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। তিন ফসলি জমি ৭০৪ হেক্টর থেকে বেড়ে ১,০৫৪ হেক্টরে পৌঁছেছে। চর অঞ্চলে শস্য নিবিড়তা বেড়ে ১৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
ভোলার সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল উন্নয়ন প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রম। তবে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থার উন্নতি হলে ভোলা দ্রুত রপ্তানিমুখী কৃষি জেলা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার সর্জান পদ্ধতি বাংলাদেশের চরাঞ্চলের কৃষিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত। একই জমিতে মাছ ও ফসল চাষে কৃষকের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত বাজার লিংকেজ ও পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে ভোলা হতে পারে দেশের প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিমুখী জেলা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫