জাতীয় প্রতিরক্ষায় তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক। তরুণদের গণপ্রতিরক্ষার অংশীদার করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সবসময় জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫-এ তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে যে তারুণ্য শক্তি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এই রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমরা তরুণদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাল্লাহ তা বাস্তবায়ন করব।”

তিনি জানান, জুলাই মাসে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’-তে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার তরুণ সংগঠকদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে যুবশক্তি এখন সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে নানা চেষ্টা করা হলেও সমীকরণ এখনও শেষ হয়নি। গত এক বছরে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, কিন্তু ‘জুলাই সনদ’-এ আর এক শতাংশও ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই হতে হবে।”

চাঁদাবাজিসহ দলীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশোধন ও সংস্কার শুরু করতে হবে নিজেদের ঘর থেকে। সুবিধাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া যাবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যুবশক্তি শুধু এনসিপির নয়, বরং এটি দেশেরই ভ্যানগার্ড হবে। ক্ষমতার নির্ধারকরা যদি তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে।”




জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: রিজভী

গণতন্ত্রবিরোধী একটি নতুন শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আরেকটি শক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে বিএনপির ওপর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “১৯৮৬ থেকে শুরু করে ৯০’র দশক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি — কিছু গোষ্ঠী আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে নানা অজুহাতে সহায়তা করেছে। এখন তারা আবারও বিএনপিকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন শক্তি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখনই জোরালো হয়, তখনই তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তৎপর হয়ে ওঠে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আর শিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচন ঘিরেও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

বিএনপির আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আমরা একটি আদর্শের জন্য লড়ছি। এই আদর্শের জন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন। তাদের নেতৃত্বেই ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক নয়’ দাবি করে রিজভী বলেন, “তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ। শেখ হাসিনা সরকারের নিপীড়নের কারণেই কোকোর অকাল মৃত্যু হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ অনেকে।

এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।




“শুধু শাস্তি নয়, দুর্নীতি রোধে চাই সচেতনতা ও সহযোগিতা” — দুদক চেয়ারম্যান

রংপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার জনসচেতনতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সেবাদাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে সুসম্পর্ক।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগর স্টেশন রোডে ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, “দুদক শুধু দোষীদের শাস্তি দিতে চায় না, বরং সেবা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। এতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।”

তিনি জানান, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। এতে এ অঞ্চলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন মাত্রা পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিজেই দুর্নীতির ঘোর বিরোধী। তার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্নীতি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সংবাদ সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) আক্তার হোসেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ছয়তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ কোটি ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা।




বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব: কুয়ালালামপুরে ড. ইউনূসের বার্তা

মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক অগ্রগতি আশানুরূপ না হলেও বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে। নতুন বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন সৃজনশীল তরুণদের দেশ। বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রবাসীদের বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিআইডিএ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বিনিয়োগ-সুবিধা এবং সরকার ঘোষিত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ উদ্যোগ তুলে ধরেন।

রবি’র মূল শেয়ারহোল্ডার আজিয়াটা গ্রুপের সিইও বিবেক সোদ বলেন, “বাংলাদেশে আজিয়াটার ২৮ বছরের সফল যাত্রা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে পেট্রোনাস, খাজানাহ ন্যাশনাল, সিম ডার্বি, কেএলকে, আইওআই, এফজিভি, প্রোটন হোল্ডিংস ও টপ গ্লোভের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকালে মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (NCCIM) এবং বাংলাদেশের এফবিসিসিআই-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




হাসপাতাল ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির; পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন দুই সপ্তাহ

ওপেন হার্ট সার্জারির পর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, সার্জারির পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তার পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ তিনি বাসায় বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিন সপ্তাহ পর তিনি জনসম্মুখে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদ আলম চৌধুরী জানান, গত ২ আগস্ট ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। তার হৃদযন্ত্রে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছিল। ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কার্ডিয়াক আইসিইউতে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হলে ৫ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক জানান, তিনি নিজে হাঁটতে পারছেন এবং তার স্বাস্থ্য ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকের ভাষ্যে, “আমরা তার সার্বিক উন্নতিতে খুবই সন্তুষ্ট। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। প্রাথমিকভাবে ডিহাইড্রেশনের কারণে অসুস্থতা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩০ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং হার্টে ব্লকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চাওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার

 বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পুত্রজায়ার পার্দানা পুত্রা ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জ্বালানি, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষত মানবসম্পদ রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতে।”

আনোয়ার ইব্রাহিম ড. ইউনূসকে ‌“মালয়েশিয়ার বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, শিক্ষাবিনিময় ও অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে যৌথ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আটকে থাকা প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার এবং একাধিকবার প্রবেশের ভিসা চালুর জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, এতে শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে যেতে পারবেন, চাকরির ঝুঁকি ছাড়াই।

আলোচনায় আইন, বিচার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ায় চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রবাসে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মালয়েশিয়া সরকার জানায়, বাংলাদেশি কর্মীরা এখন থেকে স্থানীয়দের মতো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন এবং বাংলা ভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ ভিসা চালুর অনুরোধ জানানো হয়, যাতে তারা পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে পারেন।

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বাজারে ওষুধ, পাদুকা, ব্যাটারি, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার চেয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে ও যৌথ ব্যবসা পরিষদ কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।

জ্বালানি খাতে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মালয়েশিয়াকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে ড. ইউনূসকে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, এলএনজি সরবরাহ, কৌশলগত গবেষণা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, হালাল শিল্প এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়। মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এই বৈঠক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম।
“দেশ গঠনে অংশ নিন, ধানের শীষে ভোট দিন” স্লোগান সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে গিয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

আমতলী উপজেলার সোনাখালী গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নুরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। চাকরিজীবন ও রাজনৈতিক জীবনে বহুবার মামলা, হামলা ও কারাবন্দি হয়েও বিএনপির আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকারের সিদ্ধান্তে বরগুনার তিনটি আসনকে দুইটিতে রূপান্তর করে আমতলী ও তালতলী উপজেলার জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। এ অঞ্চলে শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদি বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব।”

স্থানীয়দের ভাষ্যে, নুরুল ইসলাম সৎ, নির্ভীক ও শিক্ষিত একজন নেতা। অতীতে তিনি এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এবং বারবার দলের জন্য কারাবন্দি হয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বরগুনা-১ আসনের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





ভোলায় সরগরম রাজনীতি, প্রার্থী চূড়ান্তে অপেক্ষা বড় দলগুলোর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বীপজেলা ভোলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামী চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি, বিজেপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বড় দলগুলো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জেলার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কমিটি গঠন ও সদস্য সংগ্রহের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বিশেষ করে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিজেপি থেকে চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জামায়াত থেকে নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা।

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম এগিয়ে আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রার্থী হিসেবে বেশ সক্রিয়। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) থেকে মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমের নাম শোনা গেলেও বিজেপি ও জাপার তৎপরতা তেমন নেই।

ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লা ও নুরুল ইসলাম নয়নের নাম আলোচনায় রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে কামাল উদ্দিনও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

বিএনপি নেতা গোলাম নবী আলমগীর জানিয়েছেন, “দল বড়, তাই একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতে পারেন। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আমরা তার পক্ষেই কাজ করব।” জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির নজরুল ইসলাম বলেছেন, “ভোলার চারটি আসনেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত এবং সংগঠন প্রস্তুত।”

এদিকে এনসিপির ভোলা জেলা প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান শরীফ জানান, প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে দলীয় মাঠ গোছানোর কাজ জোরদার হয়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বীপজেলা ভোলার চার আসন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ এখন অনেকটাই সরগরম, আর ভোটারদের চোখ এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় বিদ্যালয়ের পানি পান করে ৫ ছাত্রী অসুস্থ

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের রূপধন বন্দর আমেরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি পান করে পাঁচ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে কোনো ধরনের বিষ মিশ্রিত ছিল। সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে কোচিং শেষে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছাত্রী সাবিনা তার ব্যাগে রাখা বোতলের পানি পান করে দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে আরও চারজন ওই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যাগে থাকা পানি ও খাবার থেকেও বিষের গন্ধ পান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির জানান, বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয় এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অপূর্ব বিশ্বাস রাখাল জানান, শিক্ষার্থীরা এখন শারীরিকভাবে সুস্থ আছে, তবে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কী ধরনের বিষক্রিয়া ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




লাল গালিচায় মালয়েশিয়ার অভ্যর্থনা পেলেন প্রধান উপদেষ্টা

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এসময় ড. ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে ১২ আগস্ট পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকসহ মোট পাঁচটি এমওইউ এবং তিনটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে তিনি একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

১৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। ওই দিনই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।