আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে ; মব কালচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: রিজভী

ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে রিজভী বলেন, “কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। ওই চিকিৎসক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ তার ওপর হামলা করেনি। বরং তিনি নিজের নাকে রং মেখে ভিডিও লাইভে এসে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপপ্রচার করেছেন।”

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে রিজভী বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। উসকানিমূলক কথাবার্তার ফলে যেন আর কেউ প্রাণ না হারায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশে মব কালচার চলছে। সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে, যার কোনো হদিস আজও নেই। সরকারকে এই অর্থ উদ্ধারে আন্তরিক হতে হবে।”

পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখনো পিআর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় টেকসই নয় এবং এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বরং গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো জরুরি।”

দলের ভেতরে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সুষ্ঠু সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।




জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয়ে শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবিতে ঘোষিত পদযাত্রা বাতিল করে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন শিক্ষকরা। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রতিনিধি দলটি পুলিশের সহায়তায় শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।

এর আগে হাজারো শিক্ষক রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশের সময় শিক্ষকদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নেয় কঠোর প্রস্তুতি।

কুমিল্লা থেকে আসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা আশা করি, প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে আমাদের দাবি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে এবং তারা সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসবেন।”

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর সরকার কিছু আর্থিক সুবিধা (৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০% বৈশাখী ভাতা) বাস্তবায়ন করলেও জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা আলোচনায় শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। চলতি বছরের বাজেটে উৎসব ভাতা ২৫% বৃদ্ধি ও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও বিনোদন ভাতা কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও সেটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।

জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলেও বছরের পর বছর তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারির জন্য ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে আমরা প্রস্তুত। এটা শুধু কর্মসূচি নয়, ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই।”

শিক্ষকরা এখন আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন সচিবালয়ে আলোচনার ফলাফলের জন্য, যা আগামী দিনের আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




কাশ্মির সীমান্তে ফের উত্তেজনা: উরি সেক্টরে গোলাগুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মিরের উরি সেক্টরে ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সময় গোলাগুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, এ ঘটনাকে সাধারণ অনুপ্রবেশ নয় বরং একটি সমন্বিত হামলা হিসেবে দেখছে সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণের সহায়তা পেয়েছিল। পাল্টা গুলি চালালে সংঘর্ষে এক ভারতীয় সেনা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

সংঘর্ষের পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অনুপ্রবেশের চেষ্টাটি ব্যর্থ করা হলেও ভারতীয় পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও কাশ্মির সীমান্তে এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনার ঘটনা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।




নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত অন্তর্বর্তী সরকার : মালয়েশিয়ায় ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার এখন নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশকে স্বাভাবিক শাসনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারব। এ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আমরা মালয়েশিয়ার সহায়তা প্রত্যাশা করছি।”

এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়াকে আহ্বান জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।”

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় মানবিক সংকট। এ সংকট সমাধানে আমরা আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস)-এর কার্যকর সহযোগিতা চাই।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সোমবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। তিন দিনের এই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, ব্যবসায়িক ফোরামে অংশগ্রহণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

বুধবার (১৩ আগস্ট) ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম)-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি একটি স্মারক বক্তৃতাও দেবেন।




মালয়েশিয়ার ইউকেএম থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান

শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে মালয়েশিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া’ (ইউকেএম)।

বুধবার সকালে কুয়ালালামপুরে ইউকেএম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের হাত থেকে ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক ব্যবসা বিস্তারে তাঁর অনন্য অবদান এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইউনূস, যেখানে তিনি সামাজিক উদ্যোগ ও তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রফেসর ইউনূস অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ থেকে আগত সফরসঙ্গীরাও।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত সোমবার (১১ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।




পবিপ্রবি এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রাণিসম্পদ খাতের সমতা ও কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বরিশাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। নিউ একাডেমিক ভবনের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের রোডম্যাপ ঘোষণার আল্টিমেটাম দেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান আন্দোলনের পরও আশানুরূপ পদক্ষেপ না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ শেষে তারা ডিন অফিসের সামনে জড়ো হয়ে ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের রূপরেখা না পেলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি লেভেল ৪ সেমিস্টার ১-এর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, “দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাইনি। প্রশাসন যদি কার্যকরী পদক্ষেপে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।”

এ বিষয়ে এ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. খোন্দকার জাহাঙ্গীর আলম জানান, “আমি ইতোমধ্যে উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি। আজ বিকেল তিনটায় দুই ডিসিপ্লিনের (এএইচ ও ডিভিএম) শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হবে। আশা করি শিক্ষার্থীদের অনুকূলে একটি কার্যকরী সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘ভোট দিন ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে’— যুব সমাবেশে তারেক রহমান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে।”

মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব সমাবেশের প্রত্যাশা ও বিএনপির পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, এক দশকের বেশি সময় পর ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”

তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানে কর্মসংস্থানের রাজনীতি। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ কর্মক্ষম। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডই হতে পারে আমাদের উন্নয়নের চালিকা শক্তি, যদি আমরা তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি।”

তিনি বলেন, “জনগণ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি চায় না, চায় তার বাস্তবায়ন। বিএনপি প্রতিটি খাতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা করছে, যা জনগণের রায় পেলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএস জিলানী। সঞ্চালনায় ছিলেন যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রুমি ও শরীফুল ইসলাম খান, নাট্য নির্মাতা মাসরুর রশীদ বান্নাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাফসীর।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজকে বিএনপির “জনমুখী ও গণমুখী” কর্মপরিকল্পনা ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।




পটুয়াখালীতে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার মৌসুমি সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে চাষাবাদ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন বহু কৃষক পরিবার। উৎপাদনের পাশাপাশি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

জেলার চরাঞ্চলসহ বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকী, মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া ও রাঙাবালি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়েছে। এসবের মধ্যে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি বারোমাসি হাইব্রিড বেগুন, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, পটল, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচকলা, পেঁপে, লাউ, টমেটো, গাজরসহ নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় এ বছর ১৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে, উৎপাদন ৩ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। বাউফলে ২৫০ হেক্টরে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, গলাচিপায় ৩৮০ হেক্টরে ৬ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন, কলাপাড়ায় ৩৫০ হেক্টরে ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন, দশমিনায় ১৬৫ হেক্টরে ২ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন, মির্জাগঞ্জে ১৫০ হেক্টরে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন, দুমকিতে ৭৫ হেক্টরে ১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙাবালিতে ১২০ হেক্টরে ২১৬ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া ১০৭ হেক্টর জমিতে কাঁচকলা আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের পাতারপোল গ্রামের আদর্শ কৃষক মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি বাড়ির আঙিনায় ৫০ শতক জমিতে চাল ও মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক, কাঁচকলা, পেঁপে, ঝিঙা ও বেগুন চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন, আর দুই-তিন মাস এই আবাদ থেকে আয় হবে বলে আশা করছেন। সবজি বিক্রির অর্থেই পরিবারের চাহিদা মেটানো ও সন্তানদের পড়াশোনা চলছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শীতকালীন ও বারোমাসি হাইব্রিড সবজি চাষ করছেন তারা। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই জমি ও বাড়ির আঙিনায় আবাদ বাড়াচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে এসব বাগানের যত্ন নিচ্ছেন।

সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ছোট ৫০-৮০ টাকা, মাঝারি ৮০-১২০ টাকা এবং বড় ১৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা হালি ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা জানান, বাজারে চাহিদা থাকায় সব ধরনের সবজি ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট-বাজার থেকে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার কিছুটা কম সবজি আবাদ হয়েছে, তবে বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে, উৎপাদন ৩০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় পটুয়াখালী মহিলা দল সভাপতির পদে অবসান

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আফরোজা সীমার সভাপতির পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এই আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমানও এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্ট রাতে। এশিয়ান টেলিভিশনের ডিজিটাল প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম তনুকে প্রকাশ্যে গালমন্দ ও “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন আফরোজা সীমা। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। তীব্র সমালোচনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মহিলা দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আফরোজা সীমাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“সংস্কারের আগে নির্বাচন নয়, শহীদদের রক্তের হিসাব দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও সেই নির্বাচন বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে না।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫’-এ এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “যদি সত্যিই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তাহলে যেসব ভাই শহীদ হয়েছেন, যারা সংস্কারের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। একই সংবিধানে, একই ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় নির্বাচন করলে সেই আত্মত্যাগের মানে কী?”

তিনি আরও বলেন, “যে ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি, তার একটি প্রধান কারখানা এখনো টিকে আছে— সেটি বঙ্গভবন। সেই কারখানার পতন হবে তরুণদের হাত ধরেই।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সরকারবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, বিদ্যমান সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ভেতরে থেকে কোনো অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়।