মির্জাগঞ্জে মা-ছেলেসহ চারজনের গাঁজাসহ আটক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মা ও ছেলেসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ২৬ পুরিয়া গাঁজা (১৯৫ গ্রাম) এবং গাঁজা বিক্রির নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার রাতে উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের উত্তর সুবিদখালী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতরা হলেন— মোছা. হেলেনা বেগম (৫০), তার ছেলে মো. সাগর মৃধা (৩৫), সাগরের স্ত্রী তানিয়া আক্তার (২৫) এবং মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামের মো. ইসমাইল (১৫)

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার রাতের অভিযানে বসতঘর তল্লাশি করে ২৬ পুরিয়া গাঁজা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুট: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে রিট, শুনানি রোববার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় সাদা পাথর লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের শুনানি আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মীর একেএম নূরুন নবী, যিনি নিজেই রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে।

এছাড়া রিটে দাবি করা হয়েছে, পাথর লুট ঠেকাতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি রুল জারিরও আবেদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত এক বছরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সাদা পাথর উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের সামনেই দিনের আলোয় এসব পাথর লুট হয়, অথচ তৎপরতা দেখা যায় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এ ঘটনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।




বাংলাদেশে বিচার ‘প্রহসন’ দাবি টিউলিপ সিদ্দিকের, অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে নিজের মা, ভাই ও বোনকে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও টিউলিপের নিজের নামে কোনো প্লট বরাদ্দ নেই, তবে প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে এ সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিচার শুরু হওয়ার পর, এক প্রতিক্রিয়ায় মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে টিউলিপ সিদ্দিক এ বিচারকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, এই মামলা ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

টিউলিপ বলেন, “ঢাকায় এখন যে তথাকথিত বিচার চলছে তা একটি প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি বানানো অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত এক বছরে বারবার অভিযোগের ধরণ পরিবর্তন হলেও, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কখনও তার বা তার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। “আমি কখনও কোনো আদালতের সমন পাইনি, সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া পাইনি,”— বলেন টিউলিপ।

তিনি আরও বলেন, “যদি এটি একটি প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রমাণ উপস্থাপন করত। বরং তদন্তকারীরা সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে, যেগুলো কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।”

৪২ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ এমপি আরও দাবি করেন, তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণে প্রস্তুত এবং যে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের জবাব দিতে রাজি আছেন।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক সফরের সময় তার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

উল্লেখ্য, দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বাচল প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং তাদের ছয় স্বজন—যাদের মধ্যে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী রয়েছেন—তাদের নামে ছয়টি প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে।

টিউলিপ সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং ব্রিটিশ লেবার পার্টির একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ ও এমপি।




পায়রা সেতুতে মেয়াদ শেষের পরও টোল আদায় চালাচ্ছেন সাবেক এমপির পরিবারিক প্রতিষ্ঠান

পটুয়াখালীর দুমকিতে অবস্থিত পায়রা সেতুতে মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সিএনএস কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের কর্মীরা টোল আদায় চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩১ জুলাই সিএনএস-এর মেয়াদ শেষ হলেও তাদের বহাল তবিয়তে রাখায় নতুন ঠিকাদারদের মধ্যে টোল প্লাজায় কাজ শুরু করতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ৬-৭ লাখ টাকা টোল আদায় হলেও সড়ক ও জনপদ (সওজ) অফিসে নামমাত্র অর্থ জমা দেওয়া হত। সওজের এক প্রকৌশলীর সহযোগিতায় পূর্বের ঠিকাদারের কর্মীরা এখনো এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। টোল প্লাজায় প্রজেক্ট ম্যানেজার মাইনুল, অ্যাডমিন অফিসার সোহেল, অ্যাকাউন্টেন্ট খায়ের ও মাসুদসহ অন্যান্য কর্মী আদায় চালিয়ে যাচ্ছেন।

পূর্বেও টোল আদায় সংক্রান্ত সংঘর্ষ, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি। ২০২২ সালের শেষ দিকে সাবেক এমপি কাজী কানিজ সুলতানা হেলেনের পরিবারের সঙ্গে বাকবিতন্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল হোসেন জানিয়েছেন, এখন সিএনএস সিস্টেম বাদ দিয়ে আরএইচডির নিজস্ব সফটওয়্যারে টোল আদায় হচ্ছে। তবে পুরনো কর্মীরা বদল হয়েছে কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন।

পায়রা সেতু ১ হাজার ১৭০ মিটার দীর্ঘ ও ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থের, ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত এবং ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতা মান্না হাওলাদার গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মান্না হাওলাদার (৪৫) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। মান্নার বাবা মৃত আনিছুর রহমান রব ছিলেন ধুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

গ্রেপ্তারের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মান্নার স্ত্রী বলেন, “মান্না ছাত্রলীগ করলেও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষে জড়াননি। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় শিক্ষক দম্পতি লাঞ্ছিতের অভিযোগে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় শিক্ষক দম্পতিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসানের প্রকাশ্যে ক্ষমা ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে কয়েক শত মানুষ উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে জড়ো হয়। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন, এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনও ইরতিজা হাসান দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এহসানুল হককে অফিসে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করেন। একই দিন গভীর রাতে শিক্ষক দম্পতিকে ঘুম থেকে ডেকে এনে জোরপূর্বক ‘মীমাংসা হয়েছে’ এমন ভিডিও সাক্ষাৎকার ধারণ করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, এর আগেও ইউএনও দুই শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া নিয়মিত অফিসে না গিয়ে ব্যক্তিগত বাসায় সময় কাটানোর কারণে সেবা গ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা আজকের মধ্যেই ইউএনওর অপসারণ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেন।

এক শিক্ষার্থী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিকেলের মধ্যে দাবি না মানলে বাসভবন ঘেরাও করা হবে।”

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অধিকার কারো নেই। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সড়ক অবরোধ বা বাসভবন ঘেরাও মব জাস্টিসের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা কাম্য নয়।”

ইউএনও ইরতিজা হাসানের সরকারি ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন ইসমাইল তাকে বিদায় জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, ড. আসিফ নজরুল ও ফাওজুল কবির খান। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনও সফরে অংশ নেন।

সফর চলাকালে ড. ইউনূস ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনা হওয়া দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো শিগগিরই মালয়েশিয়ান মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা তার দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সফরটি ছিল ঐতিহাসিক এবং মালয়েশিয়ার উষ্ণ আতিথেয়তা বাংলাদেশের প্রতি তাদের বন্ধুত্বের প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট শুরু হওয়া এই সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং তিনটি নোট বিনিময় হয়, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




সাদাপাথর লুটপাট: জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দুদক

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এলাকাটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফী মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত।

৯ সদস্যের একটি দল নিয়ে তিনি সাদাপাথর এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনে অবস্থা পর্যালোচনা করেন। তিনি জানান, যাদের সহযোগিতায় এ লুটপাট চালানো হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তার ভাষ্য, “নির্বিচারে পাথর লুটপাটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায় স্থানীয় প্রশাসনের।”

তিনি আরও বলেন, “সাদাপাথর এলাকা থেকে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযান পরিচালনায় বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, তারা কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন এবং জনবলের অভাবে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সময় লেগেছে।

সাদাপাথর এলাকায় অব্যাহত লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দুদকের এই পদক্ষেপে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী।




মহাপরিচালক: স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের আন্দোলন যৌক্তিক, তবে সময় লাগবে

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেছেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা যে তিন দফা দাবি তুলেছেন তা যৌক্তিক। তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মহাপরিচালক বলেন, “সেবার মান বৃদ্ধিতে লোকবল এবং অবকাঠামোগত পরিবর্তনে সময় লাগবে। আন্দোলনকারীদের বিষয়ে ভাবতে হবে, এটা কি সরকারকে বেকাদায় ফেলে তৃতীয় পক্ষের কেউ ফায়দা লুটতে চায় কিনা।”

মহাপরিচালক বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। তিনি সফরের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। সভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকারীরা ১৭তম দিন পাড় করছেন। এর মধ্যে পাঁচদিন ধরে তারা নথুল্লাবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা অবরোধ পালন করছেন। শেবাচিমের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা অনশন করছেন। মহাপরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা অনশন ভাঙেননি। তারা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরিশালে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মহিউদ্দিন রনি বলেন, “সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে আমাদের আন্দোলন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া আন্দোলন চলবে।”

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে ও তিন দফা দাবিতে এই আন্দোলন ১৭ দিন ধরে চলমান। মহাপরিচালক শেবাচিমে অবস্থানরত ছাত্রদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাজি হননি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঐকমত্যের সঙ্কেত দিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু জাফর।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় শেবাচিমের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আমরা কি বিনা কারণে সরকারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে চাই, নাকি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অন্য ধরনের ফায়দা লুটতে চাই? আমরা তাদের প্রতি সহনীয় থাকার চেষ্টা করছি।”

মহাপরিচালক আরও জানান, আন্দোলনকারীদের চাওয়া-পাওয়া ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তিনি বলেছিলেন, “এরপরও যদি দূরত্ব সৃষ্টি করতে চান, আমাদের ভেবে দেখতে হবে আসলে আপনারা কী চান।”

সভায় তিনি শেবাচিম হাসপাতালে ইতোমধ্যেই করা সংস্কারের তালিকা তুলে ধরেন এবং বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি ন্যায্য এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালার মধ্যে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জনবল সমস্যা প্রকট, তাই দ্রুত সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শুরু হওয়া সংস্কার যথাযথভাবে বজায় থাকবে এবং এর দায়িত্ব আগামী রাজনৈতিক সরকারের ওপর বর্তাবে।

মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ ছায়েদুল হক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভার মধ্যে দায়িত্বশীল ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৬ দিন ধরে শেবাচিমসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করার জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলমান। শুরুতে আন্দোলন মেডিক্যাল ক্যাম্পাস ও নগরী কেন্দ্রিক হলেও পরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নথুল্লাবাদ এলাকায় অবরোধের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রী, যানবাহন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫