আইজিপি মামুনের জবানবন্দির আদ্যপান্ত: ক্ষমতা পিপাসু হিংস্র নারীর প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার হিংস্রতা এবং দুর্নীতির চিত্র এখন কারো কাছেই আর অজানা নয়। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

এই স্বৈরশাসক তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  এখন বিচারের মুখোমুখি। আদালতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপ্রকাশিত লোমহর্ষক হিংস্রতা আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টার বিশদ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের লিখিত জবানবন্দিতে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, এই জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য অনেক। মামলা প্রমাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বল প্রয়োগ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসিনা সরকারের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, গুলি করা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যেসব নির্দেশনা এসেছিলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন তিনি। এমনকি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হতাহতের পরেও পুলিশ দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যা উঠে এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমাতে ঢাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ হামলা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবু সাঈদ। আবু সাঈদ নিহতের পর আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধারণ করে। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার নিজের গদি রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিভাবে এই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো এবং কাদের নির্দেশে হয়েছিলো তা উঠে এসেছে আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে।

জবানিতে মামুন বলেছেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে আন্দোলনকে নজরদারি, গুলি করা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন পরিকল্পনা করা হয়। মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সরাসরি লেথাল উইপেন -মরণাস্ত্র ও আন্দোলন প্রবন এলাকাগুলোতে এলাকা ভাগ করে ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজে আইজিপিকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আন্দোলন দমন করার জন্য লেথাল উইপেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ লেথাল উইপেন ব্যবহারে অতি উৎসাহি ছিলেন।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে আইজিপির মাধ্যমে। চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি পড়লে গা শিউরে উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিঘ্নে গুলি চালানোয় বাসা-বাড়িতে থাকা শিশুরাও নিহত হন।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোঃ আলী আরাফাত, জাসদের সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন মারনাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শ এবং উসকানি দিতেন।

দেশব্যাপী এত অধিক সংখ্যায় মানুষ মারা যাওয়ার পরেও তারা তাদের উসকানি বন্ধ করেননি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে থামতে বলেননি। সরকারকে বিপথে পরিচালিত করে ও আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার সকলে আগ্রহী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নৃশংসতা দেখেছি ছাত্র-জনতার উপর, এই জবানবন্দির সঙ্গে তা মিলে যায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের  এই জবানবন্দি মামলা প্রমাণে সহায়ক হবে।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান তুষার বলেন, এই জবানবন্দির ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।

জুলাই গণ আন্দোলনে পতন হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হন চৌধুরী মামুন।  তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্র- জনতার হার না মানা আন্দোলনে পতন হয় গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিজম আর উন্নয়নের মিথ্যে বয়ানের আড়ালে লুটপাটতন্ত্র কায়েমকারী স্বৈরাচার হাসিনার সরকারের।




স্ত্রীর মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে দর্জির আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্ত্রীর অবহেলা ও সংসারের টানাপোড়েন সইতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন লোকমান সরদার (৩২) নামের এক দর্জি। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত লোকমান সরদার উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দর্জি ছিলেন এবং পাখিমারা বাজারে নিজের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের ভেতরে নানান অশান্তি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে লোকমান একটি নোটপ্যাডে হাতে লেখা চিরকুট রেখে গেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, স্ত্রী তাকে ভালোবাসেন না এবং সংসারে টাকার অভাবে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকি স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মানসিক যন্ত্রণায় ক্লান্ত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই ওই চিরকুটে উল্লেখ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং এর ফলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। তারা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধানমন্ডি থেকে রিকশাচালক গ্রেপ্তারের ব্যাখ্যা তলব

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রিকশাচালক মো. আজিজুর রহমানকে কীসের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে, তা জানতে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমার নিকট ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। বিষয়টি রোববার (১৭ আগস্ট) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজিজুর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানার ওসির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা ঢাকা মহানগর পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

মামলার তদন্ত শেষে সংশোধিত সিআরপিসির ১৭৩(এ) ধারা মোতাবেক অতিসত্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজিজুর রহমান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন পেয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বরগুনায় সমন্বয়ক পরিচয়ে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে কোটি কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. সরোয়ার (৩৩) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ভুয়া নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান্য দপ্তর থেকে কাজ সংগ্রহ করছেন।

সরোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজের লাইসেন্স না থাকলেও অন্য কারো লাইসেন্স ব্যবহার করে বরগুনা জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তিনটি প্রকল্প নিয়েছেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৫০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ এবং একটি লেট্রিন নির্মাণের কাজ, যার মোট খরচ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। স্থানীয়রা জানায়, তিনি বিভিন্ন নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরগুলোতে প্রকল্প নেয়, কখনো সোহাগ, স্বপন বা সুমন নামে পরিচয় দেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সরোয়ার পূর্বে চান্দখলী কদভানু মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার নামে বেতাগী থানায় মামলা রুজু হয় (মামলা নং-১১)। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে তাকে স্কুল থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যহতি দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইমাম হোসেন জানিয়েছেন, সরোয়ার নামে এনসিপির কেন্দ্রীয় কোনো নেতা নেই। তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর ভুয়া নেতা বের হয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ ধরনের কাজের উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে সরোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া সত্ত্বেও তিনি রিসিভ করেননি।

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, “ঢাকা থেকে আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্টিমিট পাঠাতে বললে আমরা তা পাঠিয়ে দেই। চাকরির বদলী প্রক্রিয়া নিয়ে এখানে অনেকের বদলী হয়েছে। এর বেশি আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় মেডিকেল কলেজ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে মানববন্ধন

উপকূলীয় জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে বরগুনায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি উঠেছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জেলার একমাত্র বড় সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষকে প্রায়ই অন্য জেলায় রেফার করা হয়। তাই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, আইসিইউ স্থাপন, চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি।

বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন অর রশিদ রিংকু বলেন, “এ দাবিগুলো শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরগুনার প্রতিটি মানুষের প্রাণের দাবি। অবহেলিত বরগুনাকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের উদ্যোগ জরুরি।”

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “আমি আমার মেয়েকে ডেঙ্গুতে হারিয়েছি। আমি জানি পরিবারের কাউকে হারানোর যন্ত্রণা কতটা কষ্টদায়ক। আমরা চাই আর কোনো পরিবার যেন চিকিৎসার অভাবে প্রিয়জন হারাতে না হয়। তাই বরগুনা জেনারেল হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করতে হবে এবং আইসিইউ স্থাপন করতে হবে।”

এসময় জেলা জামায়াতের আমির মহিব্বুল্লাহ হারুন বলেন, “আমরা বরগুনাবাসী দীর্ঘদিন অবহেলিত। সামান্য অসুস্থ হলেই রোগীদের অন্য জেলায় পাঠানো হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”

মানববন্ধনে সংহতি জানায় স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম, আমাদের জন্য আমরা, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ধ্রুবতারা ইয়ূথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, জেরিন স্মৃতি কেয়ার, মানবিক বরগুনা এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাব বরগুনা শাখাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজওয়ানুর আলম, স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের হাসানুর রহমান ঝন্টু, রোগী কল্যাণ সমিতির আবুল কালাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল আলম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন সুলতানা আসমা, সাংবাদিক মুশফিক আরিফ, গোলাম হায়দার স্বপন, ছাত্রশিবিরের গাজী হোসাইন ও জেলা শ্রমিক আন্দোলনের আব্দুস সালামসহ অনেকে।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবিগুলো অগ্রাহ্য করা হলে হরতালসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেবাচিম’র সামনে ফের উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সামনে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ প্রধান গেট আটকে দেয়। আন্দোলনকারীরা বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ভেতর থেকে হাসপাতালের কর্মচারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তেই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।

এর আগে শনিবার (১৬ আগস্ট) বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক মহিউদ্দীন রনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একইসাথে শেবামেকের কর্মচারীদের হামলার প্রতিবাদে ২১তম দিনের (১৭ আগস্ট) কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণার ধারাবাহিকতায় রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে আন্দোলনকারীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শেবামেকের দিকে রওনা হন।

সূত্রমতে, বিক্ষোভ মিছিলের খবরে শেবামেকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগেভাগেই ভেতরে অবস্থান নেন। সংঘর্ষের আশঙ্কায় গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এসময় তারা দালালচক্র ও সিন্ডিকেট বিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাঈদীর রায়ে মিষ্টি বিতরণকারী আ.লীগ নেতা পুলিশের হাতে

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আলোচিত শহিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের অভিযোগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিরণকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্র জনতা। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ঘোষেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির রায় ঘোষণার পর হিরণ প্রকাশ্যে মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছিলেন। এ ঘটনার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে শনিবার রাতে ঘোষেরহাট বাজার এলাকায় স্থানীয় ছাত্র জনতার নজরে এলে তাকে আটক করা হয়।

প্রথমে হিরণকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়, পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন জানান, আটক হিরণ বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ঘোষেরহাট বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের মতবিনিময় সভা

বরিশালের গৌরনদীতে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের সদস্য সচিব মেজর আবুল কালাম আজাদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর মাষ্টার ওয়ারেন্ট অফিসার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব সিকদার।

এসময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান।

মতবিনিময় সভায় প্রায় দুই শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য অংশগ্রহণ করে নানা অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেন। বক্তারা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের কল্যাণ ও সামাজিক ভূমিকা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশের চিকিৎসা মানসম্মত নয়; মানুষ বিরক্ত হয়েই বিদেশগামী হচ্ছে: আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের মানুষ বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধ্য হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, “চিকিৎসা খাতে ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার আছে। কিন্তু আপনারা সেই বাজার দখল করতে পারছেন না। কেন মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবে? ভারত বা ব্যাংককে এমন লোকও যায়, যারা কখনো ঢাকায় আসেনি। তারা বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে যায়। সঠিক সেবা দিলে কেউই বিদেশে যাবে না।”

তিনি চিকিৎসকদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দেওয়ার প্রবণতা এবং রোগীদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য করার সমালোচনা করে বলেন, “আমার বাসার এক গরিব হেল্পিং হ্যান্ডকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ১৪টি টেস্ট দেওয়া হয়েছিল। সে রাগ করে গ্রামে চলে যায় এবং টেস্ট ছাড়াই সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। এই ধরনের অনর্থক খরচ বন্ধ করতে হবে।”

আসিফ নজরুল আরও বলেন, “নার্সরা যদি ১২ হাজার টাকা বেতন পায়, তাহলে তারা কীভাবে ভালো সেবা দেবে? অনেক হাসপাতালের মালিক কোটি টাকার বাগানবাড়ি করেন, অথচ নার্সদের ন্যায্য বেতন দেন না। করোনাকালে আপনারা প্রমাণ করেছেন—চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আছে। সামান্য লাভ কম হলেও উন্নত সেবা দিলে দীর্ঘমেয়াদে সেই ক্ষতি পূরণ সম্ভব।”




জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য খুঁজছে কমিশন

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই সনদের খসড়া পাঠিয়েছে। সনদটি নিয়ে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক মতামত চাওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে খসড়াটি প্রেরণ করা হয়।

সনদের প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে—পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় সংস্কারের অঙ্গীকার রাখা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রতিটি বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে। এর বৈধতা বা কর্তৃত্ব নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। একই সঙ্গে জনগণের অভিপ্রায়কে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গীকার রয়েছে সনদে। প্রয়োজনে সংবিধান ও আইনের সংশোধন, সংযোজন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সনদে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, শহীদ পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো কোনো বিলম্ব ছাড়াই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন করবে সরকার।