টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়, নেপাল ব্যর্থ রান তাড়ায়

দারুণ ব্যাটিং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সমন্বয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেপালকে ৩২ রানে হারিয়ে এবারের আসরে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে দলটি।

শনিবার (১৬ আগস্ট) টসে জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ। ওপেনার জিশান ব্যাট হাতে খেলেন দুর্দান্ত ইনিংস—৭১ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন তিনি। অপর প্রান্তে আফিফ হোসেন ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস বড় করতে সাহায্য করেন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নেপাল। হাসান মাহমুদ ও রিপন মণ্ডলের আগ্রাসী বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই তারা হারায় ২ উইকেট। মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রণ নেন স্পিনাররা। রকিবুল হাসান একাই তুলে নেন ৩ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো নেপাল শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে থামে ১৫৪ রানে।

ফলাফল হিসেবে ৩২ রানের দাপুটে জয় পেয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম সাফল্যের স্বাদ নেয় বাংলাদেশ ‘এ’ দল।




লন্ডন নয়, জনগণই কেবলা : এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, যারা লন্ডনকে কেবলা বানিয়ে সেজদা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, তাদের কেবলা পরিবর্তন করে জনগণের দিকে সেজদা দিতে হবে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নেই, থাকলে ১/১১ ঘটত না। গণহত্যায় শহীদ ও আহতদের নিরাপত্তার জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অপরিহার্য। দেশে নির্বাচন হলে তা অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি জানান, মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপি সে সুযোগ গ্রহণ করেনি। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে জনগণ, কোনো রাজনৈতিক দল নয়।”

মিডিয়ায় আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি এ নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি।

বর্তমান সংকট সমাধানে গণপরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই জানিয়ে নাসীরুদ্দীন বলেন, সেনাবাহিনীকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগও নেই।




গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি, প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এনসিপি নেতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে সরকারকে বেচে দিয়েছেন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বিদেশে গিয়ে একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওইদিনই তিনি লন্ডনে সরকারকে বেচে দিয়ে এসেছেন।”

মিডিয়া ও প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন রাজনৈতিক দলের কাছে বিক্রি। সচিবালয়ে বিকেল ৫টায় অফিস শেষ হওয়ার আগেই কর্মকর্তারা গুলশান ও পল্টনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে লাইনে দাঁড়ান। আগে যেমন হতো ধানমন্ডি ৩২ ও গুলিস্তানের আওয়ামী লীগের অফিসে।”

দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের জবাবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ থাকে যে আমরা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তাহলে সেই ব্যক্তি সাক্ষ্য দিক। প্রমাণ পাওয়া গেলে আমি ও আমার সহযোদ্ধারা রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, “আমাদের কোনও সমস্যা নেই নির্বাচন নভেম্বর, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হলে। তবে ‘রুলস অব গেম’ পরিবর্তন করতে হবে। নির্বাচন অবশ্যই গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পুরোনো সংবিধান ফ্যাসিবাদের পাঠ্যবই, তাই নতুন সংবিধান প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নতুন রাজনৈতিক দলকে থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে, কারণ “আমাদের আসন দিয়ে কেউ কিনতে পারবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি।”

এনসিপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫ আগস্টের পর যদি কেউ মনে করে আগের রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রেখেই নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব, তবে তারা আবারও গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।”




অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ে ও নির্যাতন: বাবাসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরগুনার আমতলীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া ও পরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বাবাসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরী বধূসহ তার মা, বোন ও আত্মীয়দের পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকালে উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামে। পুলিশ খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগী জান্নাতুল (১৩) স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আবু জাফর হাওলাদার তাকে চলতি বছরের ২ এপ্রিল সৌদি প্রবাসী ৩৮ বছর বয়সি আব্দুল হালিম হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দেন। গত জুন মাসে স্বামীর বাড়িতে তোলা হলে কিশোরী বধূ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে বাবার বাড়ি ও পরে ঢাকায় মায়ের কাছে চলে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক সালিশের কথা বলে জান্নাতুলকে কৌশলে বাড়িতে আনা হয়। শুক্রবার তাকে আবার স্বামীর বাড়ি পাঠাতে চাইলে সে রাজি না হওয়ায় বাবা, চাচা ও দাদাসহ কয়েকজন মিলে জান্নাতুল ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।

জান্নাতুল অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে জোর করে বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের কারণে আমি আর স্বামীর বাড়ি যেতে চাই না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা, দাদা, চাচাসহ অনেকে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

তার মা আইরিন বেগম বলেন, “আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এত অল্প বয়সে তাকে জোর করে প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়েকে আবার স্বামীর বাড়ি পাঠাতে চাইলে রাজি না হওয়ায় আমাদেরও মারধর করা হয়েছে।”

অভিযুক্ত বাবা আবু জাফর হাওলাদার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেয়ে যেতে না চাওয়ায় আমি শুধু গালাগাল করেছি, মারধর করিনি। মেয়েকে জোর করে পাঠানো হবে না।”

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দরকার জনসচেতনতা ও কমিউনিটি পার্টিসিপেশন : ডিএনসিসি”

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেছেন, সব শ্রেণির মানুষের সচেতনতা ছাড়া শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-১৮ এর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের সন্ধ্যামালতী প্লেইং ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ‘স্পোগোমি (ময়লা কুড়ানোর প্রতিযোগিতা) কোয়ালিফায়ার’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “আমরা কমিউনিটি পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় ৭০ দলের হয়ে ২১০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তারা এক ঘণ্টা ধরে উত্তরা সেক্টর-১৮ এলাকায় ঘুরে আবর্জনা সংগ্রহ করেন এবং পরে ২০ মিনিট সময় নিয়ে সেগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেন।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী ওজনের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি কেজি সিগারেট প্যাকেটের জন্য ৩,০০০ পয়েন্ট এবং প্রতি কেজি সিঙ্গেল-ইউজ পলিথিনের জন্য ১০ পয়েন্ট বরাদ্দ করা হয়।

সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করে বিজয়ী হয় টিম ইকো ফাইটার্স, যার সদস্যরা মো. ইমরান হোসেন, মো. জুবায়ের শেখ এবং মো. তানভীর— তিনজনই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। বিজয়ী দলটি আগামী অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য ‘২য় স্পোগোমি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৫’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।




স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশালে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন থেমে নেই। বরং আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২:৩০ মিনিটে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দীন রনি বলেন, “আমরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শান্তিপূর্ণ অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ বারবার হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসন-সমর্থিত একটি চক্র জড়িত।”

রনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উস্কানিমূলক বক্তব্যের পরই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সংশ্লিষ্টরা উল্লাস প্রকাশ করে খিচুড়ি পার্টি এবং ১৫ আগস্ট উপলক্ষে কাঙালীর ভোজের আয়োজন করেছে, যা দেখে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই আন্দোলন থামবে না। যতদিন না দালালচক্র ভেঙে প্রকৃত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, ততদিন আমরা রাজপথ ছাড়ব না। ছাত্র আন্দোলন বন্ধ হয়ে গেছে এমন অপপ্রচার হলেও বাস্তবে আন্দোলন চলছে এবং চলমান থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রোববার সকাল ১১টায় বরিশাল সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল টাউন হল চত্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। এতে বরিশালবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা সেবায় অব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও দালালচক্র ভেঙে সাধারণ মানুষের জন্য দালালমুক্ত ও মানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা প্রায়ই হামলা ও বাধার মুখে পড়ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





শেবাচিমে চার দিনে ৯৫টি অচল মেশিন সচল, রোগী সেবা বৃদ্ধি

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) দীর্ঘদিন অকেজো থাকা যন্ত্রপাতি সচল করে নতুনভাবে রোগী সেবায় ব্যবহার শুরু করেছে। মাত্র চার দিনের মধ্যে হাসপাতালের ৯৫টি অচল মেশিন সচল করতে সক্ষম হয়েছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীরের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কারিগরি টিম।

ন্যাশনাল ইলেকট্রো ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) থেকে আসা ৭ সদস্যের টিম হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অকেজো যন্ত্রপাতি মেরামত করেছেন।

সচল হওয়া যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে:

  • ৬টি অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন

  • ২৫টি সাকশন মেশিন

  • ১০টি আইসিইউ ভেন্টিলেটর

  • ৫টি অটোক্লেভ

  • ১টি সি-আর্ম মেশিন

  • ২টি মনিটর

  • ৮টি ওটি টেবিল

  • ৫টি ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর

  • ১০টি হাই ফ্লো নাসাল ক্যানুলা

  • ৫টি আইসিইউ বেড

  • ৬টি ওটি লাইট

  • ৫টি ডেন্টাল ইউনিট

  • ২টি ডায়াথার্মি মেশিন

  • ৪টি ইসিজি মেশিন

  • ১টি এক্সরে মেশিন

কারিগরি টিম জানিয়েছে, হাসপাতালের আরও ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সচল করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে রয়েছে এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এক্সরে, চোখের লেসিক ও ওসিটি, ইউরোলজি লিথোরিপটর, এন্ডোসকপি মেশিনসহ অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম। তবে অনেক যন্ত্রাংশ দেশে না থাকায় তা বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মিথুন রায় বলেন, “শতাধিক যন্ত্র সচল হওয়ায় রোগীরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসকরাও কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারছেন।”

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, “অকেজো যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় রোগী সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বাকি মেশিনের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে একটি এমআরআই মেশিন, ক্যাথল্যাব ও সি-আর্ম মেশিন পাওয়া যাবে। আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলমান। জনবল ও সরঞ্জাম ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





“জনগণ ভোটাধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি” : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অযথা শঙ্কা প্রকাশকারীরা গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের পক্ষের শক্তি নয়।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবদল আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আজ যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে কিংবা নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়াচ্ছে, তারা মূলত নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বন্দিত্ব থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি “আপসহীন দেশনেত্রী” হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সালে জনমতের চাপে তার নেতৃত্বেই সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, যার জন্য আমাদের সন্তানরা জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে, তাহলেই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে।”

সালাহউদ্দিন সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।




গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের অনিয়ম, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের গৌরনদীতে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, ছুটি ছাড়াই ভ্রমণ, শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রিফাত আরা মৌরি জানান, সরকারি নীতিমালায় শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা একসাথে করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—গৌরনদীর নাঠৈ রিজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মুহাম্মদ শাহিন এবং নলচিড়া ইউনিয়নের গরঙ্গল দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নু। অভিযোগ রয়েছে, তারা শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেন।

সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি ছাড়াই পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে ভ্রমণে যান এই দুই শিক্ষক। ওই সময় প্রধানশিক্ষক শাহিন বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় উপস্থিতি স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন কক্সবাজারে। অপরদিকে, নান্নু অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ভ্রমণে যোগ দেন এবং পরে তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি প্রদর্শন করেন।

শিক্ষক মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। এতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি পূর্ববর্তী সরকার আমলে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজকেও দমন করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৌরনদী উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংবাদিকতার দাপটে আমাকে একাধিকবার পদত্যাগের চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ফারহান হোসেন নান্নু বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী চাকরি করি, পত্রিকায় লেখালেখি করে কিছু হবে না।” অন্যদিকে প্রধানশিক্ষক শাহিন দাবি করেন, “আমি কোনো অনিয়ম করিনি। অনিয়ম-দুর্নীতি দেখা সাংবাদিকদের দায়িত্ব নয়।”

প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আসিয়ানের সভাপতি হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ জোরদার করতে চায় ঢাকা।

মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রত্যাশার কথা জানান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয়দানের অভিজ্ঞতা এবং আসিয়ানে নেতৃত্বের অবস্থান মিলিয়ে মালয়েশিয়া এ সংকট সমাধানে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

ড. ইউনূস জানান, গত ১৮ মাসে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে আগে থেকে অবস্থানরত ১২ লাখ শরণার্থীর সঙ্গে মিলে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে।”

রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি চলতি মাসের শেষ দিকে কক্সবাজারে, দ্বিতীয়টি সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এবং তৃতীয়টি বছরের শেষের দিকে দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।

মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী সনদ বা ১৯৬৭ সালের প্রোটোকলে স্বাক্ষরকারী না হলেও মানবিক কারণে দেশটিতে বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশসহ আসিয়ানের বিভিন্ন দেশ এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সমস্যার ভার বহন করে আসছে।