নলছিটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে প্রাথমিক শিক্ষা

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৭৭নং নাচনমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রায় ১২ বছর আগে নির্মিত ভবনটি অল্প সময়ের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়টি ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সর্বশেষ পুনর্নির্মাণ করা হয় ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়—কখনো মাথার ওপর থেকে অংশবিশেষ ভেঙে পড়তে পারে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১০ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। পাশের একতলা ভবনে সীমিত আসন থাকায় সেখানে একসঙ্গে দুটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পূর্বে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস চললেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. শিউলী পারভীন বলেন, “কিছুদিন আগে ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছিল। সৌভাগ্যবশত সেদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শৌচাগারের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে।”

তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে মাঠে জোয়ারের পানি উঠে প্লাবিত হয়। এ কারণে মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (ক্লাস্টারের দায়িত্বে) মো. রেজা বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভবনের জন্য আবেদন করেছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সুপারি চুরি করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সুপারি চুরি করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে মো. নাছির (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের বাদলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির ওই গ্রামের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাছির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন স্থানীয় বজলু পাটোয়ারীর সুপারি বাগানে চুরি করতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নাছির নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত আলী খান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রোববার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের একটি খাল থেকে কাজল (৫০) নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা তার রিকশাটি ছিনিয়ে নিয়েছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, “রিকশাচালক কাজলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরাদ্দ সংকটে ভাঙা সড়ক, ভোগান্তিতে বরগুনার মানুষ

বরগুনার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর এসব সড়কের সংস্কার দরকার হলেও বরাদ্দ সংকটে কাজ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন হলেও এ জন্য প্রয়োজন ৩৫০ কোটি টাকা। অথচ বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। ফলে ৬০-৭০ কিলোমিটারের বেশি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষ করে আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কের পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ। প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও পড়ছেন ভোগান্তিতে। তালতলীতে সোনাকাটা ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চরসহ একাধিক পর্যটনকেন্দ্র থাকায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যাত্রী ও চালকরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে, কোথাও কোথাও গাড়ি আটকে যায় গর্তে। এমন অবস্থায় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি পার করতে হয় চালকদের। এতে সময়ের অপচয় ছাড়াও ঘটে দুর্ঘটনা।

ঢাকা থেকে আসা এক যাত্রী রত্না দাস বলেন,
“তালতলীতে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি এখন প্রাণনাশের ফাঁদ। ছোট শিশু বা বয়স্ক মানুষ নিয়ে চলাচল করাটা ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুদ অভিযোগ করে বলেন,
“বর্ষায় খানাখন্দে পানি জমে গর্ত বোঝা যায় না। এতে প্রায়ই গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

অটোরিকশা চালক মিলন সিকদার জানান,
“গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তার অর্ধেকের বেশি চলে যায় গাড়ি মেরামতে। সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।”

পর্যটকবাহী গাড়ির চালক মো. শাহজাহান বলেন,
“পর্যটন এলাকায় যাত্রী নিয়ে যেতে গেলে অনেক সময় প্রোগ্রাম পরিবর্তন করতে হয়। প্রশাসনের কাছে দাবি—এই সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হোক।”

অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে সব সড়ক সংস্কার সম্ভব না হলেও স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথের সড়কগুলো যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মেশিনারিজ সংকটে ভুগছে বরিশালের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাইভেট ক্লিনিকেই ভরসা রোগীদের

বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো নানা সংকটে জর্জরিত। ৬ জেলার ৪১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশেই পরীক্ষার যন্ত্রপাতি অচল। কোথাও বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে আছে ভারি মেশিনারিজ, আবার কোথাও লোকবল সংকট। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ। বাধ্য হয়ে বেশি খরচে ছুটতে হচ্ছে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা অকেজো। আল্ট্রাসোনোগ্রামসহ অধিকাংশ পরীক্ষার যন্ত্রাংশও নষ্ট। বাড়তি টাকায় বাইরের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন রোগীরা।

রোগী ইতি আক্তার জানান, ডাক্তার আল্ট্রাসোনোগ্রাম পরীক্ষা দিয়েছেন কিন্তু কমপ্লেক্সে করানো যাচ্ছে না, তাই প্রাইভেটে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়েছে। একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন গৃহিণী রহিমা বেগমও।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমী আক্তার স্বীকার করে বলেন, “ডিজিটাল এক্সরে, আল্ট্রাসোনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষার কাউন্টার মেশিনের অভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।”

এদিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের এক্সরে মেশিন মাসের পর মাস নষ্ট পড়ে আছে। ইসিজিও হয় না সেখানে। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই যন্ত্রপাতি অকেজো রেখে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “অধিকাংশ পরীক্ষা করা সম্ভব হলেও কয়েকটি যন্ত্র নষ্ট রয়েছে। সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে।”

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৫টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে সচল মাত্র ২টি। আল্ট্রাসোনোগ্রাফ মেশিনও নষ্ট হয়ে আছে একটি। ফলে রোগীদের প্রাইভেট ল্যাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থেকে আসা ইউনুস মোল্লা জানান, ডাক্তার ৪টি টেস্ট দিলেও হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় সবকিছু প্রাইভেটে করাতে হবে, কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, “দুটি আল্ট্রাসোনোগ্রামের একটি নষ্ট হয়ে আছে। মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

সরকারি হিসেবে, বরিশাল বিভাগের ৪১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা ৩৬টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে সচল মাত্র ৯টি। ৪১টি আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের মধ্যে অকেজো ১৫টি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, “দেশব্যাপী মেশিনারিজের ঘাটতি রয়েছে। নতুন কেনাকাটা প্রক্রিয়াধীন, তবে সময় লাগবে।”

এ অবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ বলছেন, অবিলম্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যন্ত্রপাতি সচল করে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ দুইজন গ্রেপ্তার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইয়াবা ব্যবসার সময় এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রত্নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল হাওলাদারের স্ত্রী লিজা বেগম (৩০) এর কাছ থেকে মোহনকাঠি গ্রামের নকুল বৈরাগীর ছেলে নিরব বৈরাগী ইয়াবা কিনতে গেলে স্থানীয়রা নিরবকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে এলাকাবাসী লিজা বেগমকে ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। তবে এ সময় মাদক ব্যবসার মূল ডিলার ফরিদ হাওলাদার পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরব ও লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লিজা, নিরব এবং পলাতক ফরিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, লিজা বেগম, তার স্বামী আসাদুল হাওলাদার ও ফরিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। তাদের হাতে স্থানীয় তরুণ সমাজ ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসী এই চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও লিজা ও ফরিদ একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বাকেরগঞ্জে ডিসি ও ইউএনও’র স্বাক্ষর জালকারী আসামি গ্রেফতার

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বশির মৃধাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বশির মৃধা উপজেলার পাদ্রশিবপুর ইউনিয়নের পারশিবপুর গ্রামের মৃত সফেজ মৃধার ছেলে। তিনি সিআর ৫১৮/২০২৪ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সুমন মৃধা নামের এক ব্যক্তির জমি দখলের উদ্দেশ্যে মৃত গহর মৃধার মৃত্যু সনদ সংগ্রহের আবেদন করেন বশির মৃধা। আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নিয়ম অনুযায়ী বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর ইউএনও তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরণ করেন।

কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের স্বাক্ষর বশির মৃধা নিজেই জাল করে দেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে জমির মালিক সুমন মৃধা আদালতে মামলা করেন।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত চালিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বশির মৃধা জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর করেন এবং তাকে সহযোগিতা করেন পাদ্রশিবপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সুরাইয়া আক্তার বেবী।

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত বশির মৃধা ও ইউপি সদস্য সুরাইয়া আক্তার বেবীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বশির মৃধা গ্রেফতার হলেও ইউপি সদস্য বেবী এখনও পলাতক রয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার গঙ্গামতি এলাকায় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি বড় ইলিশ। সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে সমুদ্রে মাছ ধরার সময় বাবুল মাঝি নামের ওই জেলে ইলিশটি জালে পান। পরে মাছটি কুয়াকাটা মেয়র বাজারে নিয়ে আসলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

নিলামের মাধ্যমে মৎস্য ব্যবসায়ী রফিক পাটোয়ারী মাছটি ৫ হাজার ৭০০ টাকায় ক্রয় করেন। তিনি জানান, মাছটি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করা হবে। রফিক পাটোয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরের তীরবর্তী এলাকা থেকে ধরা এই ধরনের বড় ইলিশ এখন খুব কমই মেলে। সামান্য লাভ হলেও মাছটি বিক্রি করে দেব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেলে বাবুল মাঝি বলেন, “সাগরে বড় ইলিশ এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। তবে এই ইলিশটির আকার বড় হওয়ায় ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। আল্লাহ যা দিয়েছেন, তাতেই আমি খুশি।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “গভীর সমুদ্রের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকাতেও বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। এটি জেলেদের জন্য অবশ্যই সুখবর। আশা করা যাচ্ছে, সামনে ইলিশের পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে বাজারে সরবরাহও বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমে আসবে।”

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে ইলিশের প্রাচুর্য দেখা গেলেও বড় আকারের ইলিশ খুব কমই জালে ধরা পড়ে। তাই এমন মাছ ধরা পড়ায় স্থানীয় বাজার ও সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের রঙিন আয়োজন

“অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশী মাছে দেশ ভরি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

দিনটি শুরু হয় পটুয়াখালী সার্কিট হাউসের সামনে পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে। জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন ও বিশেষ অতিথিরা বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণাঢ্য সড়ক র‌্যালি বের হয়, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মৎস্য অফিসার মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, কোস্টগার্ড পটুয়াখালীর কন্টিনেন্ট কমান্ডার নুর উদ্দিন, জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্য দলের সভাপতি একেএম শফিকুল ইসলাম (ভিপি শাহীন) ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম।

এছাড়াও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মামুন খন্দকারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মৎস্যচাষীরা সভায় অংশ নেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার সঞ্চালিত এ সভায় বক্তারা বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে অভয়াশ্রম রক্ষা ও দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সফল চারজন মৎস্যচাষী ও সংগঠনকে বিশেষ ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য বিভাগের খামার ব্যবস্থাপক শাহানাজ পারভীন, মেরিন অফিসার মন্দিরা সরকারসহ মৎস্য খাতের কর্মকর্তারা।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এই আয়োজনে পুরো শহর যেন উৎসবে মুখর হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, সরকার মাছ উৎপাদন বাড়াতে এবং দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে মৎস্যচাষীদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পটুয়াখালীসহ সারাদেশে মাছ উৎপাদনে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আশুগঞ্জ রেলসেতুতে মহানগর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল, আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর উপর রেলসেতুতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে ঢাকা অভিমুখি আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন ছেড়ে আশুগঞ্জের পথে যায়। আশুগঞ্জ স্টেশন ঢোকার আগেই ‘ট’ ও ‘ঠ’ বগির মাঝখানে আলাদা হয়ে যায়। এতে ট্রেনের পেছনের পাঁচটি বগি আলাদা হয়ে পড়ে। বাকি অংশ নিয়ে ট্রেনটি আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাত্রাবিরতি দেয়।

পরে ট্রেনটি ভৈরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে মেঘনা সেতুতে ওঠার সময় হঠাৎ ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে ট্রেনটি সেতুর ওপর আটকে যায় এবং ঢাকা অভিমুখি আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ট্রেনটি আশুগঞ্জে যাত্রাবিরতি দেয় এবং পরে ভৈরবের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে সেতুর ওপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





ভোলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন

“অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি” প্রতিপাদ্যে ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ। সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, মাছ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। উৎপাদন বৃদ্ধি ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি সম্ভব। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার।

তারা আরও উল্লেখ করেন, উপকূলীয় জেলা ভোলায় মৎস্যসম্পদের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন জরুরি।

মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে ভোলায় সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫