বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র দুর্গাসাগর দীঘি এখন নানা অনিয়ম, নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে তার মর্যাদা হারানোর পথে। এক সময় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি বর্তমানে অসচেতন কিছু যুবক-যুবতীর অশোভন আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কিছু যুবক-যুবতী খোলা জায়গায় অশ্লীল আচরণ, অনুপযুক্ত ছবি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং পর্যটকদের মাঝে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি খাঁচাবন্দি হরিণ চুরির ঘটনা দুর্গাসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হরিণের খাঁচার আশপাশের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল এবং দায়িত্বে থাকা প্রহরীরা বিষয়টি নজরে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সচেতন মহল বলছে, সঠিক নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির অবহেলা বা অসাধু ভূমিকা থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।
তাদের দাবি, দুর্গাসাগরে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিত করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অশোভন আচরণ বন্ধে কড়া আইন প্রয়োগ করা জরুরি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “হরিণ চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ভেতরে কেউ অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাসাগরের ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, “হরিণ নিখোঁজের বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অশ্লীল আচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায়ও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই দুর্গাসাগর হারাবে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পারিবারিক বিনোদনের উপযোগিতা।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫