রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হলো দ্রুত নির্বাচন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচন চায়।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে এখন তিনি সুস্থ আছেন বলেও জানান।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূর্ণ হবে না। বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের নির্বাচনী পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, যে সব দল সংস্কার চাইছে না, সেটা তাদের নিজস্ব দলের ব্যাপার। তবে জাতীয় নির্বাচন ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়।




নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে: রেজাউল করিম

সংস্কার ছাড়া পূর্বের নিয়মে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দৃশ্যমান হতে হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর।

রেজাউল করিম বলেন, “দেশ যখন সংকটে জর্জরিত ছিল তখন ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে অন্যায়, খুনখারাবি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। যদি কোনো অশুভ শক্তি প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারের আগেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করে, তাহলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

তিনি আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছরের নির্বাচনী ধারা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা। এর মাধ্যমে কালোটাকা, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও বিদেশি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হবে। বিভিন্ন জরিপেও পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনসমর্থন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনই দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ। এই দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের যুগ্মমহাসচিব ও মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।




বরিশাল কোতোয়ালি থানায় ছাত্র-জনতার উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থান

বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তার এবং নারী আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকেই কোতোয়ালি মডেল থানার সামনে শত শত ছাত্র-জনতা অবস্থান নিয়ে ধর্মঘট শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা থানার মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নিলে গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এতে তারা ভেতরে ও বাইরে আটকা পড়ে। এমনকি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

থানার ভেতরে থাকা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দীন রনি বলেন, “আমরা সুহান ভাইয়ের গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায় তাকে ডেভিলে আটক করা হয়েছে। তবে মামলার বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।”

রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা থানার ভেতরে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যান। বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন আরও বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এদিকে পুলিশ সাংবাদিকদেরও গেটের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৩০ মিনিটের মধ্যে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি জানানো হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত থানা চত্বরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বাংলাদেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ইইউ সবসময় পাশে আছে। আগামী নির্বাচন আন্তর্জাতিকমানের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। সেপ্টেম্বরে ইইউর বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইইউর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এজন্য নির্বাচন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে ইইউ। পাশাপাশি নির্বাচনে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তি ও ডিজিটাল সমস্যাগুলো মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাক্ষাৎকালে ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেয়।




নির্বাচন নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পরেই বিদায় নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সরকারের, কোনো দলের নয়। নির্বাচন নিয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সব কার্যক্রম সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং আমরা ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নেব।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। “বাংলাদেশে সবসময়ই নির্বাচন ঘিরে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে। এতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

সরকারের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা একজন বিশ্বপর্যায়ের স্বীকৃত নন্দিত মানুষ। তিনি নিজেই নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। তার সেই ঘোষণার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

এছাড়া, তিনি জানান দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। এ বিষয়ে কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।




কোটি টাকার সেতু, সংযোগ সড়কহীনতায় ভোগান্তি

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী নদীর ওপর প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখনো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকোই ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।

২০২৩ সালের ১৯ মে বরিশালের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ সেতুর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৪ সালের জুনে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়। কিন্তু পশ্চিম পাশে ৫ ফুট উঁচু এলাকায় একটি বিদ্যমান সড়ক থাকায় সংযোগ সড়ক তৈরি সম্ভব হয়নি। এর ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা।

সেতুটি ঘুরে দেখা যায়, শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে সেতু ব্যবহার করছেন। পূর্ব প্রান্তে কিছুটা বালু ভরাট হলেও পশ্চিম প্রান্তে কোনো কাজ হয়নি। এতে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে, অথচ সংযোগ সড়ক হলে ১৫ মিনিটেই পৌঁছানো সম্ভব হতো।

বাসিন্দা রাশেদুল হাসান বলেন, “কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছে না। আমরা বারবার দাবি জানিয়েও সমাধান পাইনি।”
আরেকজন ইউসুফ বলেন, “শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এলাকার অমৃত নামে একজন জানান, “সংযোগ সড়ক না থাকায় স্কুলগামী শিশু ও রোগীদের জন্য চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এখন সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ নয়, দুর্ভোগের কারণ।”

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, “সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় নতুন ডিজাইন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সংযোগ সড়কের জন্য আলাদা টেন্ডার আহ্বান করা হবে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাদক ব্যবসায়ীকে গণপিটুনি, হাসপাতালে ভর্তি

বরিশালের গৌরনদীতে পাঁচশ’ পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েছেন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ইদ্রিস মাতুব্বর (৫০)। তাকে আটক করে স্থানীয় জনতা বেধড়ক মারধর করলে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইদ্রিস এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এতে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ওইদিন ভোরে ইয়াবা পাচারের খবর পেয়ে জনতা তাকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে পাঁচশ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা ইদ্রিসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে।

পরে গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইদ্রিসকে উদ্ধার করে। ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, আহত অবস্থায় ওই মাদক ব্যবসায়ীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেবামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট, আন্দোলনকারী যুবক গ্রেফতার

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবামেক) চিকিৎসক ও কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনার বিচার এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জরুরি সেবা চালু রেখে কর্মবিরতিতে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই দাবিতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও মানববন্ধন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তারা সোমবার দুপুর থেকে আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মবিরতিতে আছেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির জানান, জরুরি সেবা চালু রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, আন্দোলন চলাকালে হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হোসাইন আল সুহান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি মিজানুর রহমান জানান, সুহান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী এবং ছাত্রলীগের কর্মী।

পুলিশ জানায়, সুহানকে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে। তবে স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুহানকে গ্রেপ্তারের সময় আরও কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের সমন্বয়ক সুহানকে নির্যাতন করেছে এবং নারী কর্মীদেরও শ্লীলতাহানী করেছে।

এর আগে সোমবার শেবামেকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনি নামধারী আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ৮০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরও আগে ১৪ আগস্ট হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়ের চন্দ্র শীল আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যেখানে মহিউদ্দিন রনি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিসহ ৪২ জনকে আসামি করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুর্গাসাগরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা: হারাচ্ছে পর্যটন কেন্দ্রের ঐতিহ্য

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র দুর্গাসাগর দীঘি এখন নানা অনিয়ম, নিরাপত্তাহীনতা ও বিশৃঙ্খলার কারণে তার মর্যাদা হারানোর পথে। এক সময় পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি বর্তমানে অসচেতন কিছু যুবক-যুবতীর অশোভন আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কিছু যুবক-যুবতী খোলা জায়গায় অশ্লীল আচরণ, অনুপযুক্ত ছবি তোলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছে। এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক ও পারিবারিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং পর্যটকদের মাঝে অস্বস্তি সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি খাঁচাবন্দি হরিণ চুরির ঘটনা দুর্গাসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হরিণের খাঁচার আশপাশের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল এবং দায়িত্বে থাকা প্রহরীরা বিষয়টি নজরে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সচেতন মহল বলছে, সঠিক নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির অবহেলা বা অসাধু ভূমিকা থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।

তাদের দাবি, দুর্গাসাগরে নিয়মিত নিরাপত্তা টহল নিশ্চিত করা, সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং অশোভন আচরণ বন্ধে কড়া আইন প্রয়োগ করা জরুরি।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “হরিণ চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ভেতরে কেউ অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাসাগরের ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, “হরিণ নিখোঁজের বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অশ্লীল আচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায়ও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয়রা মনে করছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই দুর্গাসাগর হারাবে তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পারিবারিক বিনোদনের উপযোগিতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেড়িবাঁধ সংস্কারে ঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন আড়াইশ পরিবার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশ্বাসে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া প্রায় আড়াইশ ভূমিহীন পরিবার এখন চরম বিপাকে। সংস্কার কাজ শেষ হলেও বাঁধের ঢালে নতুন করে ঘর তুলতে না পারায় এসব পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল ভবনে ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের নিচে। আবার কেউ ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে বাঁচতে প্রতিবেশির রান্নাঘর কিংবা মাছঘাটে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ নতুন বাঁধের ওপর ঝুপড়ি তুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।

জমির মালিকদের দাবি করা মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তারা আগের স্থানেও ঘর তুলতে পারছেন না। তিন মাস ধরে এমন দুর্ভোগে থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা না পেয়ে পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

মধ্য হাসাননগরের বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করা হেলাল মাঝি ও তার স্ত্রী বিবি আয়শা জানান, মেঘনার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর শেষ ভরসা ছিল বেড়িবাঁধের ঢাল। কিন্তু সংস্কারের সময় ঘর ভেঙে দেয়ার পর আর নতুন ঘর তুলতে পারেননি। এখন বাধ্য হয়ে ঝুপড়িতে ঝড়-বাদল সামলে জীবন কাটছে।

এলাকাবাসী জানান, হাসাননগর ও টবগী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে শতাধিক জেলে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘর সরানোর নির্দেশ দিলেও সংস্কারের পর বাঁধের ক্ষতি এড়াতে সেখানে ঘর তুলতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে জমির মালিকরা জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন। ফলে পরিবারগুলো আরও বিপদে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মধ্য হাসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলায় কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে। এতে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৫ পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য খাস জমি খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোকে ভিজিএফ ও ভিজিডির মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার শেষ হয়েছে, বাকি কাজ চলছে। নতুন বাঁধের ওপর ঘর তোলা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিজ খরচেই ঘর তুলতে হবে, কারণ পুনর্বাসনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।

জুন মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসাননগর ও টবগী ইউনিয়নের এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করে। বর্তমানে আরও এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এতে করে শতাধিক পরিবার আবারও ঘর হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫