ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশ্বাসে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া প্রায় আড়াইশ ভূমিহীন পরিবার এখন চরম বিপাকে। সংস্কার কাজ শেষ হলেও বাঁধের ঢালে নতুন করে ঘর তুলতে না পারায় এসব পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল ভবনে ও স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের নিচে। আবার কেউ ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে বাঁচতে প্রতিবেশির রান্নাঘর কিংবা মাছঘাটে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ নতুন বাঁধের ওপর ঝুপড়ি তুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।
জমির মালিকদের দাবি করা মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তারা আগের স্থানেও ঘর তুলতে পারছেন না। তিন মাস ধরে এমন দুর্ভোগে থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা না পেয়ে পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
মধ্য হাসাননগরের বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করা হেলাল মাঝি ও তার স্ত্রী বিবি আয়শা জানান, মেঘনার ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর পর শেষ ভরসা ছিল বেড়িবাঁধের ঢাল। কিন্তু সংস্কারের সময় ঘর ভেঙে দেয়ার পর আর নতুন ঘর তুলতে পারেননি। এখন বাধ্য হয়ে ঝুপড়িতে ঝড়-বাদল সামলে জীবন কাটছে।
এলাকাবাসী জানান, হাসাননগর ও টবগী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে শতাধিক জেলে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘর সরানোর নির্দেশ দিলেও সংস্কারের পর বাঁধের ক্ষতি এড়াতে সেখানে ঘর তুলতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে জমির মালিকরা জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা দাবি করছেন। ফলে পরিবারগুলো আরও বিপদে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মধ্য হাসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলায় কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছে। এতে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৫ পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য খাস জমি খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোকে ভিজিএফ ও ভিজিডির মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার শেষ হয়েছে, বাকি কাজ চলছে। নতুন বাঁধের ওপর ঘর তোলা সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিজ খরচেই ঘর তুলতে হবে, কারণ পুনর্বাসনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।
জুন মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসাননগর ও টবগী ইউনিয়নের এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করে। বর্তমানে আরও এক কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। এতে করে শতাধিক পরিবার আবারও ঘর হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫