দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, পর্যটক, পণ্যবাহী যানবাহন, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কজুড়ে নেই কোনো হাইওয়ে থানা। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। নিরাপত্তা সংকট ক্রমেই বাড়ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের অভাবে প্রাণহানি ও ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই মহাসড়কে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা যায় তবে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, সড়কে অপরাধ দমনসহ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সহজ হবে। স্পিড গান ব্যবহার, রেকার ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে সড়ক নিরাপদ হবে, একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনকে গতিশীল করতে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন সময়ের দাবি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের অধীনে রয়েছে মোট ১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়ক, সাতটি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৬১টি জেলা মহাসড়ক রয়েছে। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটারের কিছু অংশে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। অথচ পটুয়াখালী থেকে আমতলী ৩৭ কিলোমিটার এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা ৪৭ কিলোমিটারের জন্য কোনো হাইওয়ে থানা নেই। নেই উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার কিংবা পুলিশের দ্রুত যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত গাড়ি। এর ফলে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ও আমতলী থেকে বরগুনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানের বাইরে রয়ে গেছে।
বরিশাল বিভাগের সড়ক দুটি সার্কেলে বিভক্ত—বরিশাল সার্কেল (বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা) এবং পটুয়াখালী সার্কেল (পটুয়াখালী ও বরগুনা)। দুই সার্কেলে মিলে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১২৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১ হাজার ১৮৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার। কিন্তু এত বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কে হাইওয়ে থানার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমতলীর ৩৭ কিলোমিটার রাস্তায় ১৭টি তীব্র বাঁক থাকায় প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হতাহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। উদ্ধার ব্যবস্থার অভাবের কারণে দুর্ঘটনার পর মানুষকে দীর্ঘসময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে জনগণের দাবি—অবিলম্বে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কৌশলগত অংশে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা হোক।
তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক দখল করে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। আমতলীতে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন শুধু সময়ের দাবি নয়, হাজার হাজার যাত্রী ও পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম