শেবামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রভাষকের মৃত্যু, বরগুনায় প্রাণহানি বেড়ে ৪২

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবামেক) এক প্রভাষকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রভাষকের নাম মো. শামীম। তিনি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে শামীম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি শেবামেকে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হলো। প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় অজানা রোগে ছাগলের মড়ক, খামারিরা নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কায়

বরগুনায় হঠাৎ করে অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপকহারে ছাগল মারা যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। অনেকেই দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে দাঁড়িয়েছেন।

ভুক্তভোগী খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসকরা মনে করছেন, অতিবর্ষণে খাবারে বিষক্রিয়া, কৃমির আক্রমণ, ভাইরাস এবং সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়াসহ নানা কারণে ছাগলের মৃত্যু হচ্ছে।

খামারিদের দাবি, জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে হঠাৎ করেই ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রথমে আক্রান্ত ছাগলের পাতলা পায়খানা হয়, গলা বা পেট ফুলে ওঠে এবং জ্বর দেখা দেয়। এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ সময় স্থানীয় ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডাকলেও কোনো চিকিৎসা কাজে আসছে না।

বরগুনা পৌর শহরের ফরমান আলী সড়কের খামারি দেলোয়ার হোসেন ও সুফিয়া বেগম জানান, এক মাসে তাদের ২২টি ছাগলের মধ্যে আটটি মারা গেছে। আরও কয়েকটি ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, “ছাগল খামার করে স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু এখন সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

একইভাবে আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামের বেশিরভাগ খামারিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই গ্রামের খামারি মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমার ৯টি ছাগলের মধ্যে গত এক মাসে পাঁচটি মারা গেছে। প্রথমে পাতলা পায়খানা, পরে জ্বর, তারপর মৃত্যু—একই উপসর্গে সব মারা যাচ্ছে।”

খামারি মো. রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাগল পালন করে সংসার চালাতাম। এখন সুদে টাকা এনে সংসার চালাতে হচ্ছে।” শহিদুল ইসলাম নামে আরেক খামারি জানান, নিয়মিত তদারকি থাকলে এত বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক বীথি দেবনাথ বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে খাবারে বিষক্রিয়া, কৃমি আক্রমণ, ভাইরাস এবং সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়ার মতো কারণে ছাগল মারা যাচ্ছে। সরকার থেকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, খামারিদের উচিত নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া ও সচেতন থাকা।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন (লিটন) ও ক্যামেরাপারসন উৎপল দেবনাথের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হলেন ভবানীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল কাজী। এ ঘটনায় শুক্রবার (২২ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় দৌলতখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, দুপুর তিনটার দিকে সাংবাদিক নাসির উদ্দিন ও উৎপল দেবনাথ ভবানীপুর এলাকায় গরু বিতরণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে গেলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের গালিগালাজ শুরু করেন। পরে উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সাংবাদিক নাসির উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, তিনি জেলেদের মাঝে গরু বিতরণের ওপর প্রতিবেদন তৈরির জন্য রাসেল কাজীর বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন। ওই বাড়ির দুজন গরু পেয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করতেই রাসেল কাজী তাদের ওপর হামলা করেন, ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন এবং প্রায় ২০ মিনিট ধরে ক্যামেরা ও মোবাইলসহ সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় তারা ছাড়া পান।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রাসেল কাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের আন্দোলনের সুফল পাচ্ছেন রোগীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনির নেতৃত্বে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও জনতার আন্দোলন প্রথম দিকে খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও এর ইতিবাচক প্রভাব এখন স্পষ্ট। দীর্ঘদিন অচল থাকা বরিশাল হাসপাতালের বহু যন্ত্রপাতি পুনরায় সচল হওয়ায় সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই ৯৫টি যন্ত্রপাতি চালু করা হয়েছে। আগে এসব মেশিন অচল থাকার সুযোগে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো লাভবান হলেও বর্তমানে রোগীরা সরকারি হাসপাতালে সেবা পাচ্ছেন।

এখনও ১টি এনজিওগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, লেসিক, ওসিটি, লেথোরিপটর, এন্ড্রোস্কপি মেশিনসহ আরও প্রায় ২০টি যন্ত্রপাতি সচল করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে একটি এমআরআই, ক্যাথ-ল্যাব এবং সি-আর্ম মেশিন চালু করার প্রস্তুতিও রয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পূর্বে রোগী ও মৃতদেহ পরিবহনে সিন্ডিকেটভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করত। এখন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ভাড়ার হার নির্ধারণ করে হটলাইন (০১৭৮২৭৫৫৫০০) চালু করা হয়েছে। তবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা দাবি করেছেন, এ উদ্যোগ রোগীদের জন্য ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

সংস্কারের অংশ হিসেবে অস্বাস্থ্যকর ভবন থেকে মেডিসিন ওয়ার্ডগুলো মূল ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। অথচ এসব সংস্কার দাবি করার কারণেই আন্দোলনকারীরা হাসপাতাল কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন।

জানা গেছে, বরিশাল হাসপাতালকে ঘিরে শতাধিক বৈধ ও অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০টি পুরানো মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করে রোগীদের সেবা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়ম করা হয়েছে— বাইরের থেকে রোগী আনা অ্যাম্বুলেন্স রোগী নামানোর পর দ্রুত হাসপাতাল কম্পাউন্ড ত্যাগ করবে।

অন্যদিকে, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও স্বাস্থ্য পরিচালক সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে আউটডোর ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য পেয়েছে মহানগর পুলিশ (বিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। বিশেষ অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট ২০২৫) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে বন্দর থানার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে কর্ণকাঠী এলাকার খয়রাবাদ সেতু সংলগ্ন বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মোঃ জাহিদ হাসান। তার সঙ্গে ছিলেন এএসআই (নিঃ) দিদারুল ইসলাম, এএসআই (নিঃ) মোঃ হাসানুজ্জামান, কনস্টেবল কেএম রফিকুল ইসলাম, মোঃ মেহেদী হাসান খান, মোঃ ইমাম হোসেন, মোঃ জুলফিকার হোসেন ও মোঃ জসিম উদ্দিন।

আটক যুবকের নাম মোঃ সিফাত হাওলাদার (১৭)। তিনি পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মোহাম্মদ রফিক হাওলাদার এবং মাতা মোসাঃ শাহানাজ বেগম।

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা এবং একটি কালো রঙের স্কুল ব্যাগ জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এমডি ডিগ্রি অর্জনে চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমানকে সংবর্ধনা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামের কৃতি সন্তান ও লিভার-পরিপাকতন্ত্র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মশিউর রহমান গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিষয়ে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট ২০২৫) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশালের উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি এবি সিদ্দিক জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর উদ্যোগে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা, গৌরনদী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকারসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ডা. মশিউর রহমানের এ অর্জন শুধু পরিবারের গর্ব নয়, বরং বরিশালবাসীর জন্য এক বড় সম্মান। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার অবদান ভবিষ্যতে দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে হাইওয়ে থানা স্থাপনের দাবি

দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ততম পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, পর্যটক, পণ্যবাহী যানবাহন, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কজুড়ে নেই কোনো হাইওয়ে থানা। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। নিরাপত্তা সংকট ক্রমেই বাড়ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটলেও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের অভাবে প্রাণহানি ও ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই মহাসড়কে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা যায় তবে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, সড়কে অপরাধ দমনসহ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সহজ হবে। স্পিড গান ব্যবহার, রেকার ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম নিশ্চিত করা গেলে সড়ক নিরাপদ হবে, একই সঙ্গে পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। তাদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনকে গতিশীল করতে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন সময়ের দাবি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের অধীনে রয়েছে মোট ১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়ক, সাতটি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৬১টি জেলা মহাসড়ক রয়েছে। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটারের কিছু অংশে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। অথচ পটুয়াখালী থেকে আমতলী ৩৭ কিলোমিটার এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা ৪৭ কিলোমিটারের জন্য কোনো হাইওয়ে থানা নেই। নেই উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার কিংবা পুলিশের দ্রুত যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত গাড়ি। এর ফলে পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ও আমতলী থেকে বরগুনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানের বাইরে রয়ে গেছে।

বরিশাল বিভাগের সড়ক দুটি সার্কেলে বিভক্ত—বরিশাল সার্কেল (বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা) এবং পটুয়াখালী সার্কেল (পটুয়াখালী ও বরগুনা)। দুই সার্কেলে মিলে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১২৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১ হাজার ১৮৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার। কিন্তু এত বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কে হাইওয়ে থানার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমতলীর ৩৭ কিলোমিটার রাস্তায় ১৭টি তীব্র বাঁক থাকায় প্রায়ই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হতাহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেই। উদ্ধার ব্যবস্থার অভাবের কারণে দুর্ঘটনার পর মানুষকে দীর্ঘসময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে জনগণের দাবি—অবিলম্বে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের কৌশলগত অংশে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন করা হোক।

তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক দখল করে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে এবং পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। আমতলীতে হাইওয়ে থানা স্থাপন এখন শুধু সময়ের দাবি নয়, হাজার হাজার যাত্রী ও পর্যটকের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা জাতিসংঘের

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণকারী সংস্থা আইপিসি নিশ্চিত করেছে যে, গাজা সিটি ও এর আশপাশের এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার মানুষ বর্তমানে খাদ্যের জন্য চরম হাহাকার ও অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গাজা গভর্নরেটের মানুষ এখন কার্যত অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্য সংকট পরিমাপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গাজা সিটি ও আশপাশের অঞ্চলকে “পঞ্চম ধাপে” উন্নীত করা হয়েছে। এই ধাপটি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা, যার অর্থ হলো মানুষ খাবার পাচ্ছে না, অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সর্বনাশা দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।

আইপিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাজার দেইর এল-বালাহ এবং খান ইউনুসেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই দুই শহরেও দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে গাজা উপত্যকার অন্তত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি সাত হাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। তারা আইপিসির “চতুর্থ ধাপের” আওতায় আছেন, যেখানে মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া আরও প্রায় চার লাখ মানুষ “তৃতীয় ধাপে” রয়েছে, যাদের পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের দফায় দফায় বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও অবরোধের ফলে এ দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ এবং মানবিক সহায়তা কার্যত গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

একই সময়ে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির ওপর আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, গাজা সিটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

এটি প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিল। ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, আর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি বিবৃতি

মিডিয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদ এবং অনলাইন আউটলেটগুলিতে ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে যেখানে তিনি মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গনমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরা, এমন একটি সময়ে, সংবাদ মাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলি, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।




ইরানে তেল বিক্রিতে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের অবৈধ তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে বেশ কয়েকটি ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে চীনভিত্তিক দুটি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য টার্মিনাল অপারেটর। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চিহ্নিত কয়েকটি ট্যাঙ্কারে লাখ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গ্রিক নাগরিক আন্তোনিওস মার্গারাইটিস, তার নেটওয়ার্ক এবং কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানি পেট্রোলিয়াম পরিবহনের জন্য জাহাজ শিল্পে নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়েছে। এছাড়াও, ইরানের তেল রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকটি জাহাজ ও অপারেটরকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, “এই পদক্ষেপগুলো তেহরানের উন্নত অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং আমাদের সৈন্য ও মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মোকাবেলা করবে।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার প্রধান আমদানিকারকদের কাছে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।