ভুল চিকিৎসায় সাবেক ইউপি সদস্যার মৃত্যু, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লী চিকিৎসক কিরণ চন্দ্র বাড়ৈকে (পিতার নাম: কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈ) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিরপাড় গ্রামের লিপিকা বালা (৬০), রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য, গত শনিবার থেকে ডায়রিয়া ও সামান্য জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। ২৪ আগস্ট গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা পল্লী চিকিৎসক কিরণ চন্দ্র বাড়ৈকে ডাকেন। চিকিৎসক এসে লিপিকার শরীরে স্যালাইন ও একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরই তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ আছে, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
স্থানীয়রা জানায়, পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসার কারণে এর আগেও একাধিক মৃত্যু ঘটেছে, তবে অর্থের বিনিময়ে তা চাপা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কিরণ চন্দ্র বাড়ৈ বলেন, “আমি চিকিৎসা দেওয়ার আগেই রোগী মারা গেছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।” তিনি জানান, তার পেশাগত কোনো সনদ নেই, কেবল ৫ মাসের একটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউল ইসলাম বলেন, মৃত লিপিকা বালার ছেলে শিক্ষক সঞ্জিব কুমার বালা বাদী হয়ে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযানে চিকিৎসক কিরণ চন্দ্র বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫







