গৌরনদীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ফিলিং স্টেশনে চাঁদাবাজির চেষ্টা

বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকযোগে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনের পরিচালকের কাছে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৫ আগস্ট)। গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, দুপুরে ডাকযোগে তিনি এ চিঠি পান। চিঠিতে দাবি করা হয়—প্রেরক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত মিটিং-সমাবেশে খরচ হয়। তাই প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা সহযোগিতা দিতে হবে, অন্যথায় পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রেরকের নাম-পরিচয়ও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, উল্লিখিত ঠিকানায় এ নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। এতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কর্মচারীরাও চিঠি পেয়ে আতঙ্কে রয়েছে।”

গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব বলেন, “এটি সম্পূর্ণ একটি ষড়যন্ত্র। অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী কিংবা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কেউ বিএনপিকে বদনাম দিতে এই ধরনের কাজ করতে পারে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক এর সঙ্গে জড়িত নয়।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মহিপুরে অবৈধ ট্রলার জব্দ, কোস্টগার্ডের অভিযানে কঠোর ব্যবস্থা

পটুয়াখালীর মহিপুরে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যৌথ অভিযানে তিনটি অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর। সোমবার দুপুরে আলিপুর বাজার সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, নিজামপুর স্টেশনের সদস্যরা মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন। এ সময় সমুদ্রে মাছ ধরার নিয়ম ভঙ্গ করে তৈরি অবৈধ ট্রলারে ব্যবহৃত জাল, সরঞ্জাম ও তিনটি বোট জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জালগুলো ধ্বংস করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, “মৎস্যসম্পদ রক্ষার স্বার্থে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। সমুদ্রে অবৈধভাবে মাছ আহরণে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি ট্রলারগুলো নিয়ম বহির্ভূতভাবে লোহার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করে অবৈধভাবে সমুদ্রে মাছ আহরণের জন্য ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব নিষিদ্ধ নৌযান সমুদ্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যা সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অবৈধ ট্রলার সমুদ্রে শুধু মাছের মজুতই হ্রাস করছে না, বরং ছোট আকারের মাছ ও ডিমও ধ্বংস করছে। ফলে দেশের মৎস্যসম্পদ টেকসইভাবে রক্ষা করতে হলে অবৈধ মাছ ধরা ও নিষিদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো অপরিহার্য।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা করতে হলে আইন মেনে মাছ ধরা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন লুৎফর রহমান

রাষ্ট্রপতির আদেশে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২৫ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. লুৎফর রহমানও যিনি এনসিপি নেতা সারজিস আলমের শ্বশুর। 

সোমবার (২৫ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিয়োগপ্রাপ্তরা শপথের দিন থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

নিযুক্ত বিচারপতিদের মধ্যে আছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, সলিসিটর, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব, সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান দীর্ঘদিন আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জামিউল হক ফয়সাল জানান, লুৎফর রহমান ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।




ট্রাম্পের হুমকি: চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার চীনা পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি দুর্লভ খনিজ ও ম্যাগনেট সরবরাহ করতে হবে চীনকে। নইলে তাদের রপ্তানিপণ্যে ২০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি শুল্ক বসানো হবে।

এ বিষয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক ম্যাগনেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। এসব খনিজ উপাদান সেমিকন্ডাক্টর চিপ, স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যে অপরিহার্য। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন এসব খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।

ট্রাম্পের নতুন এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশনে ১০ শতাংশ শেয়ার নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি বিরল খনিজ উপাদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এদিকে চীনের রপ্তানি খাতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশটির কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিরল খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও জটিল করছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়ান, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যথায় বিদ্যমান শুল্কহার ১৪৫ শতাংশে পৌঁছাত। এর আগে মে মাসে দুই দেশ শুল্কহার কমিয়ে আনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও সর্বশেষ হুঁশিয়ারি আবারও দ্বন্দ্বকে ঘনীভূত করেছে।




“ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো বঞ্চিত, ইসিতে স্মারকলিপি পাহাড়ি প্রতিনিধিদের

পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলার জন্য ৩টি সংসদীয় আসন থেকে বাড়িয়ে ৮টি করার দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা।

আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব

স্মারকলিপিতে তারা প্রস্তাব করেন—

খাগড়াছড়ি-১: রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি ও গুঁইমারা

খাগড়াছড়ি-২: মাটিরাঙা, মহালছড়ি, পানছড়ি

খাগড়াছড়ি-৩: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা

রাঙামাটি-১: বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল

রাঙামাটি-২: সদর, কাউখালি, ননিয়ারচর

রাঙামাটি-৩: জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী

বান্দরবান-১: সদর, রুমা, থানছি, বোয়াংছড়ি

বান্দরবান-২: লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি

দাবির পক্ষে যুক্তি

পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা এখনো শান্তি ফিরতে দিচ্ছে না। বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় সংসদীয় আসন সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় উন্নয়নকাজ ও প্রতিনিধিত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।

রাঙামাটির বাসিন্দা সৈয়দ ইবনে রহমত অভিযোগ করেন, সাজেক ইউনিয়নের আয়তন ঢাকার চেয়েও বড় হলেও সেখানে মাত্র একজন এমপি আছেন। “ঢাকায় ২০ আসন, অথচ রাঙামাটির ৫০টি ইউনিয়নে মাত্র ১ আসন—এভাবে পাহাড়ের মানুষ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বঞ্চনা

প্রতিনিধিরা আরও জানান, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানত মারমা, ত্রিপুরা বা চাকমা সম্প্রদায় থেকে এমপি নির্বাচন করে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো নেতৃত্বে আসতে পারে না। আসন বৃদ্ধি হলে তারাও সংসদে কণ্ঠস্বর তুলতে পারবে এবং বঞ্চনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।




জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির অবস্থান

পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত জুলাই সনদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দলের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তাব

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। এজন্য সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে সরে আসা ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরপিও বা নির্বাচন বিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিতে হবে। অঢেল অর্থব্যয়, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে উগ্র বৈরিতা ও সহিংসতায় নিয়ে যাওয়া আত্মঘাতী হবে এবং এতে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

জুলাই সনদ নিয়ে দলের অবস্থান

প্রস্তাবিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, এতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরই যথেষ্ট, আলাদা অঙ্গীকারনামার প্রয়োজন নেই। দলটি অভিযোগ করে, সনদে অন্তর্ভুক্ত কিছু প্রস্তাব সংবিধানের দর্শন ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সাইফুল হক বলেন, জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমঝোতা দলিলকে জনগণের চূড়ান্ত মত হিসেবে গণ্য করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, সনদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দলটির অবস্থান ইতিবাচক। প্রয়োজনে সরকার প্রধান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।

গণভোট প্রসঙ্গে

দলটি জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবকে অবাস্তব আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সংবিধানশূন্য নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাই সংবিধান সভার নির্বাচন কিংবা গণভোট— দুটিই অপ্রাসঙ্গিক।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্ব্যক্ত করে, তারা বিদ্যমান সংবিধানকে গণতান্ত্রিক, দায়বদ্ধ, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কাজ করছে, নতুন কোনো সংবিধান প্রণয়নের জন্য নয়।




রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনে হাইকোর্টে ২৫ অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একসঙ্গে ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার (২৫ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতিরা শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় ধরনের বদলি করা হয়েছে। ঢাকাসহ ১৯ জেলায় মোট ২৩০ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন জেলা জজ, ৫৩ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৪০ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং ৯৬ জন সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।




উপদেষ্টার নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি হলে প্রকাশ করুন : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর তার ‘বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন’ বেড়ে গেছে। তবে এসব পরিচয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা অনিয়মে জড়িত হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “উপদেষ্টার পরিচয়ে যদি কেউ দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি করে, তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। তবে ভুল বা গুজবনির্ভর খবর প্রচার না করার অনুরোধ রইলো।”

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

  • পিস্তল ও শটগানের জন্য পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা
  • চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ টাকা
  • এসএমজির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
  • এলএমজির জন্য ৫ লাখ টাকা
  • আর প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে সতর্কতা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বর্তমানে ব্যাপক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ হলে তাৎক্ষণিক জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, গত এক বছরে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।




আনসার বাহিনীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু সারাদেশে

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। চলমান ২৮ দিনব্যাপী ভিডিপি অ্যাডভান্সড কোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষা এবং কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মাবলি।

এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আনসার বাহিনীর সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাপে কাটলে করণীয় : কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি

বর্ষা মৌসুম এলেই বন্যার সাথে বেড়ে যায় সাপের উপদ্রব। শুধু গ্রামীণ অঞ্চল নয়, শহরেও এ সমস্যার প্রকোপ বাড়ে। এমনকি পাহাড়ি বা বনভূমিতে বেড়াতে যাওয়া মানুষও প্রায়ই সাপের দংশনে আক্রান্ত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সাপে কাটার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে বিপদের মুখে পড়েন।

সাপে কাটলে করণীয়

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।

  • আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে। বাংলাদেশে অধিকাংশ সাপই নির্বিষ।

  • আক্রান্ত অঙ্গ নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে। আধশোয়া অবস্থায় রাখা ভালো।

  • ক্ষতস্থানে চাপ প্রয়োগ করে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।

  • শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

  • দংশনের স্থান সাবান দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

  • শরীরে থাকা গয়না, ঘড়ি বা তাবিজ খুলে ফেলতে হবে।

যেসব কাজ করা যাবে না

  • ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না।

  • আক্রান্ত স্থানে ভেষজ ওষুধ, কাদা বা গোবর লাগানো একদমই ঠিক নয়।

  • মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

  • কামড়ের স্থানে শক্ত করে বাঁধন দেওয়া যাবে না। এতে টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

  • ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা যাবে না।

  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।

  • রাসায়নিক পদার্থ বা সেঁক দেওয়া যাবে না।

  • জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করা যাবে না।

সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রচলিত ভুল ধারণা থেকে বিরত থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার সঠিক পদক্ষেপ নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫