সেবামূলক নেতৃত্বে সমৃদ্ধ রহমতপুর: চেয়ারম্যান সুমন শিকদারের অবদান

বরিশাল ৫নং রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সুমন শিকদার জনগণের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে কাজ করছেন সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে।

প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান—সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ইউনিয়নের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং জনসেবার মান বজায় রাখা তার প্রধান লক্ষ্য।

স্থানীয়রা মনে করছেন, মোঃ সুমন শিকদারের মতো সৎ, কর্মঠ ও মানবিক নেতৃত্ব আরও বেশি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দেখতে চাই। তার কর্মকাণ্ডে ইউনিয়নবাসী প্রতিনিয়ত স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ প্রশাসনের ছোঁয়া অনুভব করছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে ৩৪২ শিশুকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সুবিধা বঞ্চিত ৩৪২ জন শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১০ জন অসহায় নারীর সেলাই প্রশিক্ষণ উদ্বোধন উপলক্ষে সেলাই মেশিনও বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারাও উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় মধ্য ও দক্ষিণ বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন আনন্দপুর বিডি প্রকল্পের আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি ২৫ আগস্ট বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রিফাত আরা মৌরী। প্রকল্পের ম্যানেজার সান্তনু বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টরকী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি শাহাবুব শরীফ, সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান চঞ্চল মাঝি, খ্রীষ্টিয়ান এসোসিয়েশনের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সভাপতি সুধাংশু বোস, এলসিসি সদস্য পাস্টর এ্যালবাট বল্লভ, এবং চার্চের সম্পাদক সুবল মিত্র।

প্রকল্পের সমাজ কর্মী বৃষ্টি রায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬৬ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। নতুন ১০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে তিন মাস অন্তর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শিশু ও পরিবারের উন্নয়নে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিপুল পলিথিন জব্দ, জরিমানা আদায়

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের সময় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরি।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে টরকী বন্দরের মক্কা ট্রেডার্সের মালিককে ১০,০০০ টাকা, গৌরনদী বন্দরের তপন স্টোরের মালিককে ৭,০০০ টাকা এবং গৌতম কুন্ডু স্টোরের মালিককে ৩,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ও গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বিএনপির কার্যালয়ে আগুন: অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে বিএনপির একটি কার্যালয়। ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোরে সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা বেপারীরহাটে।

বুধবার সকালেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক মাঝি অভিযোগ করেছেন, কার্যালয়টি আগের পতিত সরকারের সময়ে খুলতে দেওয়া হয়নি। গত বছরের ৫ আগস্ট কার্যালয়টি সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়।

তিনি আরও জানান, সোমবার রাত ১০টায় নেতাকর্মীরা কার্যালয় বন্ধ করে চলে যান। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা আগুন জ্বলতে দেখে ডাকচিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকান্ডে ভেতরের আসবাবপত্র, টেলিভিশন ও কাগজপত্রসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মুলাদী থানার এসআই মো. মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ঝালকাঠি জেলার দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ পানির তীব্র সংকট বিরাজ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপ শুকিয়ে গেছে। ফলে গ্রামীণ মানুষকে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার তিন উপজেলায় (সদর ব্যতীত) ৫ হাজার ৪২৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেয়। উদ্দেশ্য ছিল বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহার করা।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঠিকাদাররা ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন, কিন্তু অধিকাংশ গ্রামে সুবিধাভোগীরা প্রকল্পের সুফল পাননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ট্যাংক বসানো হলেও তার উপরে শেড বা প্লাটফর্ম নেই। কিছু ট্যাংক মাসের পর মাস পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারদের দায়িত্বে থাকা মালামাল পরিবহন, পাইপ সংযোগ ও শ্রমিক মজুরি দিতে হয়েছে গ্রামবাসীকেই।

কাঁঠালিয়া উপজেলার কৃষক শাহআলম তালুকদার বলেন,
“আমার বাড়িতে ট্যাংক বসানো হলেও শ্রমিকদের মজুরি দিই আমি নিজেই। মালামাল আনার খরচও বহন করেছি। ঠিকাদারের কেউ কাজ তদারকি করেনি।”

একই উপজেলার কৃষক অদুদ মিয়া বলেন,
“ট্যাংকের পাইপ সংযোগ ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। নিজের খরচে পাইপ লাগাতে হয়েছে।”

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসপি লি.-এর মালিক মো. জাফরুল হক জানান,
“আমাদের ১৮০৯টি কাজের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দূর্গম এলাকায় মালামাল নিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এখনও প্রায় ১০০ ট্যাংক বসানো বাকি আছে।”

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমান দাবি করেন, প্রকল্প এখনো চলমান রয়েছে। মালামাল বহন ও শেড নির্মাণের দায়িত্ব ঠিকাদারের। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার এরশাদুজ্জামান মৃদুল বলেন,
“লোকবল স্বল্পতার কারণে প্রতিটি কাজ তদারকি করা সম্ভব হয় না। তবে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি প্যাকেজের কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে অনিয়ম চলতে থাকলে সরকারের কোটি টাকার এই উদ্যোগ কার্যকর হবে না। আর এর ফলে বর্ষার পানি ধরে রাখা ও শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাইকোর্টে শপথ নিলেন নতুন ২৫ বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথ পাঠ করান।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় ২৫ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা হলেন— সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান, রেজাউল করিম, আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারই প্রথম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান, মৌখিক পরীক্ষা ও বাছাইয়ের পর বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলো। এ নিয়োগের ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাইকোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৮ জনে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কয়লা সংকটে পূর্ণ উৎপাদনে অনিশ্চয়তা রাবনাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে

পটুয়াখালীর রাবনাবাদ নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাবনাবাদ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড (আরএনপিএল) জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। তবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এ কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে পারেনি। বর্তমানে কেন্দ্রটির কেবল একটি ইউনিট আংশিক চালু রয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। পরে ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ইউনিটও চালু হয়। কিন্তু কয়লার স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটে।

জানা গেছে, কয়লা আমদানি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চার দফা আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন করে আবারও দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেড় লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। এছাড়া নতুন জাহাজে আরও কয়লা আসছে। এতে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর নিশ্চয়তা নেই।

চীনের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রায় ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বহুল এই প্রকল্পে দেশটি ঋণ দিয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু না হওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএনপিএল পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপও হ্রাস পাবে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন হয় প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। নতুন এ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৯৫০ একর জমির ওপর নির্মিত। এটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করলেও কয়লার দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি না হওয়ায় পূর্ণ উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সংযোগ সড়ক ছাড়াই ৬ কোটি টাকার সেতু, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সীমান্তে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এখন ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি দুই বছর ধরে ঝুলন্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

জানা গেছে, জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ৬ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৭ টাকা ব্যয়ে জলিশাবাজার সংলগ্ন বেড়েরধন নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং কাজটি পান ‘এনায়েত এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না করায় সেতুটি এখন কার্যত অচল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৩ ফুট উঁচুতে সেতুটি নির্মিত হয়েছে, যার এক প্রান্ত গিয়ে ঠেকেছে একটি বাড়ির ছাদের সঙ্গে। এতে সেতুটি এক অদ্ভুত ও অকেজো কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ব্যবহার না হওয়ায় এখনো তারা পুরোনো কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, এমনকি রোগীবাহী যানবাহনও এই পথে চলতে পারছে না, ফলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, “এই ব্রিজ আমাদের কোনো কাজে আসে না। কাগজে-কলমে আছে, কিন্তু বাস্তবে অকেজো। বরং এখন এটি এলাকার হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

স্কুলছাত্রীরা জানান, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ফরাজী বলেন, “প্রয়োজনীয় এই সেতু অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।”

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।”

তবে দুই বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাফিলতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে কি না—সেই প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—জনগণের কোটি কোটি টাকার অপচয়ের দায় কে নেবে? আর কতদিন এমন একটি শূন্যে ঝুলে থাকা সেতুর বোঝা বইতে হবে তাদের?


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি, ক্ষোভ ক্রেতাদের

ভোলায় ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। বিভিন্ন আকারের ইলিশ এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে উঠলেও দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ইলিশের দাম অনেক বেশি, ফলে সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ভোলা শহরের কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, তুলাতুলি, ইলিশা জংশন, ভোলার খাল, নাছির মাঝি মৎস্যঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে খুচরা বিক্রেতারা মাছ নিয়ে এসেছেন। বাজারে এক কেজি থেকে শুরু করে ২০০-৯০০ গ্রাম পর্যন্ত সব আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকে।

ক্রেতা মো. ইকবাল হোসেন, খায়রুল আলম ও খুশি আক্তার জানান, ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১,৭০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। তবে ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি আকারের ইলিশের দাম এত বেশি যে কিনতে পারছেন না। অন্যদিকে, আকলিমা বেগম, হারুন অর রশিদ ও শান্তা রহমান বলেন, এক কেজির ইলিশ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৭০০ টাকায়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক ৫০০ টাকা কম হলেও স্বাদ কম থাকায় সেগুলো নেননি।

আরেক ক্রেতা ফারজানা বেগম জানান, “দেশের মোট ইলিশ আহরণের বড় অংশ ভোলায় হয়। অথচ এখানকার দাম ঢাকাসহ চাঁদপুর ও বরিশালের চেয়ে বেশি—এটি মেনে নেওয়া যায় না।”

খুচরা বিক্রেতা মো. জয়নাল ও মো. জুয়েল জানান, জাটকা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা দরে। ৬০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১,৪০০-২,২০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২,৫০০-২,৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন তারা। বিক্রেতাদের দাবি, ঘাট থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও বেশি দাম নিতে হচ্ছে।

ভোলা সদরের তুলাতুলি মৎস্যঘাটের আড়তদার মো. কামাল ব্যাপারী ও মঞ্জু ইসলাম জানান, সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে পাইকারি আড়ত থেকে জেলেদের জন্য দাদন দেওয়া থাকায় চাপ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়লে কেজিপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, “ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন জেলেদের জালে ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে, তখন বাজারে দামও কমে আসবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলকর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বরিশালের কাশিপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী লিটন শিকদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জাকির গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাব-৮ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

র‌্যাব-৮ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান জানান, গত ৩১ জুলাই পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মো. জাকির গাজীসহ কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লিটন শিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর তারা মৃতের ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দামি আসবাবপত্রসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের বোন বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে র‌্যাব-৮ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ যৌথভাবে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার প্রধান আসামি জাকির গাজীকে আটক করে। পরে তাকে ঢাকার শ্যামপুর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে একই মামলায় দ্বিতীয় আসামি মো. মিলন গাজী ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ইলাকেও গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫