ভোলায় ভরা মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। বিভিন্ন আকারের ইলিশ এখন স্থানীয় বাজারগুলোতে উঠলেও দাম নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ইলিশের দাম অনেক বেশি, ফলে সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ভোলা শহরের কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, তুলাতুলি, ইলিশা জংশন, ভোলার খাল, নাছির মাঝি মৎস্যঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে খুচরা বিক্রেতারা মাছ নিয়ে এসেছেন। বাজারে এক কেজি থেকে শুরু করে ২০০-৯০০ গ্রাম পর্যন্ত সব আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকে।
ক্রেতা মো. ইকবাল হোসেন, খায়রুল আলম ও খুশি আক্তার জানান, ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১,৭০০ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছে। তবে ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি আকারের ইলিশের দাম এত বেশি যে কিনতে পারছেন না। অন্যদিকে, আকলিমা বেগম, হারুন অর রশিদ ও শান্তা রহমান বলেন, এক কেজির ইলিশ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৭০০ টাকায়। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক ৫০০ টাকা কম হলেও স্বাদ কম থাকায় সেগুলো নেননি।
আরেক ক্রেতা ফারজানা বেগম জানান, “দেশের মোট ইলিশ আহরণের বড় অংশ ভোলায় হয়। অথচ এখানকার দাম ঢাকাসহ চাঁদপুর ও বরিশালের চেয়ে বেশি—এটি মেনে নেওয়া যায় না।”
খুচরা বিক্রেতা মো. জয়নাল ও মো. জুয়েল জানান, জাটকা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা দরে। ৬০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১,৪০০-২,২০০ টাকা এবং এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ২,৫০০-২,৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন তারা। বিক্রেতাদের দাবি, ঘাট থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও বেশি দাম নিতে হচ্ছে।
ভোলা সদরের তুলাতুলি মৎস্যঘাটের আড়তদার মো. কামাল ব্যাপারী ও মঞ্জু ইসলাম জানান, সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে পাইকারি আড়ত থেকে জেলেদের জন্য দাদন দেওয়া থাকায় চাপ রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়লে কেজিপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, “ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রতিদিন জেলেদের জালে ভালো ইলিশ ধরা পড়ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে, তখন বাজারে দামও কমে আসবে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫