বরগুনায় ইলিশ সংকট, জাটকার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে

বরগুনার নদ-নদীতে চলতি ইলিশের ভরা মৌসুমে কেবলই সংকট। বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী গ্রামের দিনমজুর লিটন দাস বলেন, “ছোট ইলিশও মোগো পক্ষে এক দিন খাওয়া সম্ভব না। যা আয়, তাতে চাউলও জোটে না।”

বরগুনার মাছের বাজারে দেখা গেছে, দুই থেকে তিনজন ডালায় কয়েকটি মাছ নিয়ে বসে আছে। তবে সামুদ্রিক ইলিশের দেখা মেলে না। স্থানীয় বিক্রেতা খলিল মিয়া জানিয়েছেন, ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকা কেজিতে। ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ টাকা, ৯০০ গ্রাম ও ৮০০ গ্রামের ইলিশ যথাক্রমে ২,০০০ ও ১,৮০০ টাকায়। চারটিতে এক কেজি ওজনের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায়।

জেলেরা বলছেন, বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে জালের ধরা ইলিশ কম হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। বরুন দাস, বামনা উপজেলার জেলে, বলেন, “এ বছর ৫০ হাজার টাকা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি। দু-একটি মাছ পেলেও টাকা শোধের পর কিছু বাকি থাকে না। উপায় না পেয়ে আবার ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীর প্রবেশপথে শিল্পায়ন, নদীগুলোর ভরাট এবং সাগরে ট্রলারগুলো জাল ফেলার কারণে মা ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। নদীতে নির্বিচারে জাটকা নিধন ও চাপিলা বিক্রি নদীর ইলিশকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জাটকা শিকারই মূল সমস্যা। বাজারে চাপিলা নামে বিক্রি হওয়া ছোট ইলিশ প্রতিদিন টন-টন পরিমাণে হচ্ছে। যদি জাটকা বাঁচানো না যায়, নদীর ইলিশও বাঁচবে না।”

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, “সমুদ্রে ইলিশ আছে। তবে নদীতে ইলিশ কম আসছে, কারণ কম বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বর্তমান বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আশা করা যায়, ইলিশ নদীতে ধরা পড়বে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় কিশোর গ্যাং-এর দাপট, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত

বরগুনা জেলা দিনকে দিন কিশোর গ্যাং-এর অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। একসময় বই-খাতাই ছিল তাদের সঙ্গী, আজ তারা সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের নাম। অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরাই এসব গ্যাংয়ের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল—সবত্রেই চলছে তাদের তাণ্ডব।

শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই মারামারি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন বা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার মতো ঘটনা ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়াও যেন তাদের কাছে বিনোদনের অংশ। দিনের আলোয় প্রকাশ্য সংঘর্ষ হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

এদের হাতে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক। সামান্য টাকার বিনিময়ে তারা মাদকের জগতে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবও তাদের অপরাধকে বীরত্ব হিসেবে দেখাতে উসকে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নৈতিক শিক্ষার অভাব, পারিবারিক বন্ধনের ভাঙন এবং সামাজিক সংকটই কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ।

সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে বরগুনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তোফাকে মারধরের ঘটনা। ফেসবুকে মন্তব্য করায় তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। আরও লজ্জাজনকভাবে তাকে থুথু মাটি থেকে জিভ দিয়ে তুলতে বাধ্য করা হয়। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা খেলার মাঠ, কলেজপাড়া, বাজার এলাকা—কোথাও নিরাপদ নয় সাধারণ মানুষের জন্য। বরগুনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, টিউশনিতে যাতায়াত বা বিকেলে হাঁটার সময়ও তারা হয়রানির শিকার হন। প্রতিবাদ করলে গ্যাংয়ের টার্গেটে পড়তে হয়। এমনকি সন্ধ্যার পর নির্জন রাস্তায় পরিবারের সদস্যরাও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলেও কিশোর অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, “আমরা এখন সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাই। দুপুরে রাস্তায় বের হলেও আতঙ্ক কাজ করে, হঠাৎ কিশোর গ্যাং ঘিরে ধরবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহিম অভিযোগ করেন, “এই কিশোররা নিজেরাই এত সাহসী নয়। মাদক ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা তাদের উসকে দেয়, আশ্রয় দেয়। তাই তারা মনে করে, তাদের কিছু হবে না।”

বরগুনা সরকারি কলেজসংলগ্ন মসজিদের ইমাম উল্লেখ করেন, মোবাইল আসক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে নৈতিক শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে কিশোররা।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবারে সন্তানদের সঠিক নজরদারি রাখা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ পুনর্গঠনই হতে পারে মূল সমাধান।

এদিকে বরগুনার পুলিশ সুপার ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, কিশোর অপরাধ দমন করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেক গ্যাং ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া যারা নেপথ্যে এই অপরাধে উসকানি দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—প্রতিনিয়ত কেন নতুন গ্যাং জন্ম নিচ্ছে? কেন তাদের দাপট দিনে-দুপুরেই এত বেপরোয়া? প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার ভূমিকা কি এ সমস্যার মূল কারণ নয়?


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

বরগুনার আমতলী উপজেলার চুনাখালী বাজার স্লুইজগেট সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশে রোপণ করা শতাধিক মেহগনি, রেইন্ট্রি ও চাম্বল গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী মো. রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে রুবেল আহমেদ লাখ টাকার এসব গাছ জলিল বেপারীর কাছে বিক্রি করেছেন। গাছ রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড চুনাখালী এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের সময় বাঁধের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে। কিন্তু সম্প্রতি রুবেল আহমেদ বাঁধের শতাধিক গাছ জলিল বেপারীর কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এর পর থেকে কয়েকদিন ধরে শ্রমিক দিয়ে গাছ কেটে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, দুইদিন ধরে গাছ কেটে স্তূপ করা হচ্ছিল। সোমবার রাতে একটি ট্রাকে করে ওই গাছ জলিল বেপারী অন্যত্র নিয়ে যান। তারা বলেন, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জলিল বেপারী স্বীকার করে বলেন, “রুবেল আহমেদ আমার কাছে এক লাখ টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি, বাকি টাকা গাছ বিক্রি করে পরিশোধ করা হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার না করে রুবেল আহমেদ বলেন, “সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রি করা আমার ভুল হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছি। এখন আর গাছ কাটা হবে না।”

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, ঘটনাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় নজরুল স্মৃতি সংঘে কবির আদর্শে তরুণদের প্রেরণা

মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখনীতে গেয়েছেন সাম্য, প্রেম, বিদ্রোহ ও মানবতার জয়গান। সেই চেতনা লালন করে ভোলাবাসী গড়ে তুলেছে “নজরুল স্মৃতি সংঘ”। চার দশকের বেশি সময় ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি জেলার শিল্প-সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত “নজরুল স্মৃতি সংঘ” প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (রেজি. নং-২৩৬/৭৮) মূলত তরুণ প্রজন্মকে কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবনদর্শনে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করছে।

সংগঠনের তত্ত্বাবধায়ক আলহাজ্ব মো. রাইসুল আলম জানান—
“জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের নীতি-আদর্শকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তরুণদের উদ্যোগেই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।”

এ সংঘ নিয়মিত সাহিত্য পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছর শীতকালে আয়োজন করা হয় “নজরুল স্মৃতি সংঘ ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট”। এ আয়োজনে ভোলার তরুণরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয়।

কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্যযাত্রায় ভোলার কৃতিসন্তান কবি মোজাম্মেল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা মোসলেম ভারতবঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় নজরুলের প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ ও গল্প ‘হেনা’ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনো ভোলাবাসীর গর্বের বিষয়।

ভোলার শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো. জসিমউদ্দিন বলেন—
“ছাত্রজীবনে আমরা নজরুল স্মৃতি সংঘে কবির লেখা পড়ে বড় হয়েছি। নতুন প্রজন্মও এখানে এসে তাঁর চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ হচ্ছে।”

সাংবাদিক মো. উমর ফারুক জানান—
“সরকারি সহায়তা পেলে নজরুল স্মৃতি সংঘকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগারে রূপান্তর করা সম্ভব।”

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন—
“নজরুল স্মৃতি সংঘকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির আদর্শ তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।”

ভোলার এই নজরুল স্মৃতি সংঘ প্রমাণ করছে—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল রাজধানী বা জাতীয় পরিসরেই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজেও আজও সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল নার্সিং কলেজে শিক্ষক অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

বরিশাল নার্সিং কলেজে তিন শিক্ষককে অবিলম্বে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৬ মে চলমান আন্দোলনের সময় বহিরাগতদের দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছেন কলেজের তিন শিক্ষক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রতিবাদস্বরূপ তারা ক্লাস, ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস ও ল্যাব প্র্যাকটিস বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতদিন দাবির পূর্ণাঙ্গ সমাধান না হবে, ততদিন আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল চলবে।”

এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় শিক্ষার্থীরা কালো কাপড় চোখে বেঁধে ও কালো ব্যাজ ধারণ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নওরীন পেলেন আন্তর্জাতিক একাডেমি ফেলোশিপ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল নওরীন ঊর্মি সাউথ এশিয়া ইয়ং উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট একাডেমি ফেলোশিপ-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক মনোনয়নপত্র পেয়েছেন।

আগামী ১৫–১৯ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় তিন দিনব্যাপী এ ফেলোশিপ অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচির আয়োজন করছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (আইডিইএ)। এতে অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন।

জান্নাতুল নওরীন বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য গৌরবের বিষয়। এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তা যুব ও নারীর নেতৃত্ব শক্তিশালীকরণে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁর এ অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তরুণ নারীদের নেতৃত্ব ও অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হওয়ার পর তিনি সহিংসতার শিকার হন। ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এখনও তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সীমানা পুনর্নির্ধারণে ইসিতে আজ শেষ দিনের শুনানি

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে চূড়ান্ত দিনের শুনানি আজ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে এ শুনানি শুরু হয়েছে।

আজ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের আসনগুলোর দাবি-আপত্তির শুনানি হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পঞ্চগড়-১, পঞ্চগড়-২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-৫, সিরাজগঞ্জ-৬ এবং পাবনা-১ আসনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর-১, ফরিদপুর-৪, মাদারীপুর-২, মাদারীপুর-৩, শরীয়তপুর-২ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের শুনানি হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮৩টি আসনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তি জমা পড়ে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য গত ২৩ আগস্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে শুনানি শুরু করে ইসি, যা শেষ হচ্ছে আজ।

শুনানি শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

উল্লেখ্য, শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পর্যালোচনা করে সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা তালিকা প্রকাশ করবে।




নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান চায় আপিল বিভাগ

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে সাময়িক নয়, কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান চায় আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে আমরা অস্থায়ী সমাধান চাই না। এমন একটি সমাধান চাই যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বিঘ্নিত করবে না এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখবে।”

বুধবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যদি ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা কখন থেকে কার্যকর হবে।

শুনানির অগ্রগতি

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু করে। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পটভূমি

১৯৯৬ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে। এরপর পাস হয় সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী।

তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিরা। এর মধ্যে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।




জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে নজরুলকে শ্রদ্ধা তারেকের

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কবি নজরুল জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমকে বিদ্রোহ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তারেক রহমান লেখেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যবাদের চেতনায় দীপ্ত ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় কবি। কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল তার সহজাত বৈশিষ্ট্য।”

তিনি আরও বলেন, নজরুল ইসলামের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—সবসময়ই তার রচনা মুক্তিকামী মানুষকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও লিখেন, “মানব প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কবি নজরুল ইসলাম। মানুষকে ভালোবেসে তাদের কল্যাণে আত্মনিবেদিত হতে তার সাহিত্যকর্ম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। আমি বিশ্বাস করি, যুগ যুগ ধরে তার রচনা আমাদের স্বদেশ প্রেমে অনুপ্রাণিত করবে।”




ভোলায় নতুন শিল্প সম্ভাবনা: অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে লাইসেন্স পেলো ভোলা ইকোনমিক জোন

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোলা জেলায় গড়ে উঠতে যাওয়া ‘ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোন’ পেয়েছে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স।

ভোলা সদর উপজেলার প্রায় ১০২.৪৬ একর জমিতে এ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তা পরবর্তীতে ১৫৮ একরে সম্প্রসারিত হবে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব, শ্রমঘন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এখানে মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, কৃষি-শিল্পভিত্তিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোন বরিশাল বিভাগের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছে চীনের লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. ঝুয়াং লাইফেং বলেন, “আমরা একটি পরিবেশবান্ধব ও সার্কুলার ইকোনমিক জোন গড়ে তুলতে কাজ করছি। ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস ও কৃষি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। এবার ভোলায় বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা টেকসই শিল্পায়ন ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রমে নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।

বেজার বিশ্বাস, এ অঞ্চল চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও ভোলা হয়ে উঠবে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫