বরগুনায় ইলিশ সংকট, জাটকার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে

বরগুনার নদ-নদীতে চলতি ইলিশের ভরা মৌসুমে কেবলই সংকট। বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী গ্রামের দিনমজুর লিটন দাস বলেন, “ছোট ইলিশও মোগো পক্ষে এক দিন খাওয়া সম্ভব না। যা আয়, তাতে চাউলও জোটে না।”
বরগুনার মাছের বাজারে দেখা গেছে, দুই থেকে তিনজন ডালায় কয়েকটি মাছ নিয়ে বসে আছে। তবে সামুদ্রিক ইলিশের দেখা মেলে না। স্থানীয় বিক্রেতা খলিল মিয়া জানিয়েছেন, ২০০ থেকে ৩০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ টাকা কেজিতে। ১০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ টাকা, ৯০০ গ্রাম ও ৮০০ গ্রামের ইলিশ যথাক্রমে ২,০০০ ও ১,৮০০ টাকায়। চারটিতে এক কেজি ওজনের জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকায়।
জেলেরা বলছেন, বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে জালের ধরা ইলিশ কম হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। বরুন দাস, বামনা উপজেলার জেলে, বলেন, “এ বছর ৫০ হাজার টাকা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি। দু-একটি মাছ পেলেও টাকা শোধের পর কিছু বাকি থাকে না। উপায় না পেয়ে আবার ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীর প্রবেশপথে শিল্পায়ন, নদীগুলোর ভরাট এবং সাগরে ট্রলারগুলো জাল ফেলার কারণে মা ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। নদীতে নির্বিচারে জাটকা নিধন ও চাপিলা বিক্রি নদীর ইলিশকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “জাটকা শিকারই মূল সমস্যা। বাজারে চাপিলা নামে বিক্রি হওয়া ছোট ইলিশ প্রতিদিন টন-টন পরিমাণে হচ্ছে। যদি জাটকা বাঁচানো না যায়, নদীর ইলিশও বাঁচবে না।”
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, “সমুদ্রে ইলিশ আছে। তবে নদীতে ইলিশ কম আসছে, কারণ কম বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। বর্তমান বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আশা করা যায়, ইলিশ নদীতে ধরা পড়বে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








