বরিশালের ৬ টি আসনে পাঁচ লাখ টাকার কম আয় ১৩ জনের,কোটি ছাড়িয়েছে ৬ জনের

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলার ছয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন ৪৫ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বাৎসরিক আয়ের গড় হিসাবে বেশি ধনী বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থীরা। ছয় আসন মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকার কম বাৎসরিক আয় ১৩ জনের, ১০ লাখ টাকার কম আয় পাঁচজনের, ২০ লাখ টাকার কম আটজনের, ৩০ লাখ টাকার কম পাঁচজনের, ৪০ লাখ টাকার কম তিনজনের, ৫০ লাখ টাকার কম একজনের, ৯০ লাখ টাকার কম দুজনের। আর কোটি টাকার বেশি আয় চারজনের। তিন কোটি টাকার বেশি আয় একজনের, আর চার কোটি টাকার বেশি আয় একজনের। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাৎসরিক আয় সোয়া চার কোটি টাকারও বেশি, জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলীর বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা এবং এনপিপির মো. তুহিনের আয় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের বাৎসরিক আয় ১১ লাখ টাকা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের প্রায় সাত লাখ টাকা, একই দলের অপর প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলামের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নকুল কুমার বিশ্বাসের প্রায় ১১ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির অপর প্রার্থী রজিত কুমার বাড়ৈর আয় সাড়ে চার লাখ টাকা, জাকের পার্টির স্বপন মৃধার প্রায় সোয়া ৪ লাখ টাকা, তৃণমূল বিএনপির মো. শাহজাহান সিরাজের সাড়ে তিন লাখ টাকা, এনপিপির সাহেব আলীর সাড়ে ২৭ লাখ টাকার বেশি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে ফাইয়াজুল হকের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মো. মনিরুল ইসলামের বাৎসরিক আয় সোয়া ১৯ লাখ টাকা।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরদার মো. খালেদ হোসেনের বাৎসরিক আয় ২৫ লাখ ২৯ হাজার টাকার বেশি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের প্রায় সাত লাখ টাকা এবং একই দলের অপর প্রার্থী টিপু সুলতানের প্রায় সোয়া ১০ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপুর প্রায় ১৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আজমুল হাসান জিহাদের সাড়ে ৩ লাখ, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেনের তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চুর প্রায় সোয়া ১৮ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল হকের আয় প্রায় দুই কোটি টাকা এবং মো. আতিকুর রহমানের প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমানের বাৎসরিক আয় কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু হলফনামায় বাৎসরিক আয়ের কথা উল্লেখ করেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের বাৎসরিক আয় ৪৩ লাখ টাকার কিছু বেশি।
বরিশাল-৫ (বরিশাল সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুকের বাৎসরিক আয় দেড় কোটি টাকার বেশি। জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেনের আয় প্রায় ৮৪ লাখ টাকা, জাকের পার্টির মো. আবুল হোসাইনের প্রায় ১০ লাখ টাকা, এনপিপির আব্দুল হান্নানের প্রায় ৩৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আসাদুজ্জামানের তিন লাখ টাকা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেনের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাৎসরিক আয় সাড়ে ২০ লাখ টাকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন রিপনের হলফনামায় বাৎসরিক আয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিকের বাৎসরিক আয় প্রায় সাড়ে ২৫ লাখ টাকা, জাতীয় পার্টির নাসরিন জাহান রত্মার সাড়ে ৩০ লাখ টাকা, তৃণমূল বিএনপির টি এম জহিরুল হক তুহিনের সাত লাখ টাকার বেশি, এনপিপির মো. মোশারফ হোসেনের আড়াই লাখ টাকা, জাসদের মোহম্মদ মোহসীনের সাড়ে ছয় লাখ টাকা, জাকের পার্টির মো. হুমায়ুন কবির সিকদারের আয় এক লাখ টাকা।
এ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মাইনুল ইসলামের আয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজিব আহম্মদ তালুকদারের প্রায় ২০ লাখ টাকা, মো. শাহবাজ মিঞার ৫ লাখ টাকা, মো. কামরুল ইসলাম খানের সাড়ে ৪ লাখ টাকা, খান আলতাফ হোসেনের আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা।




বরিশালে শীতের পোষাকের পাইকারী ও খুচরা বাজারে বিক্রি জমেনি

বরিশাল অফিস:: নগরীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে শীতের কাপড়ের বিক্রি এখনো জমে ওঠেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছর এ সময়ে শীতের কাপড়ের বেচাকেনা জমে যেত। কিন্তু এবার অবরোধের কারণে বেচাকেনায় গতি নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত পাইকারিতে শীতের বেচাকেনা জমে নভেম্বর মাসের শুরু থেকে। আর খুচরায় বেচাকেনা জমে ওঠে ডিসেম্বর থেকে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পাইকারিতেই এখনো ব্যবসা জমেনি। একই অবস্থা নগরীর নতুন ও পুরাতন শীতের কাপড় বিক্রয়ের মার্কেটগুলোর খুচরা বাজারেও। প্রতিবছর এই সময় বেশ ভালই শীতের প্রকোপ থাকলেও এ বছরের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ঋতুগত কারণে তেমন একটি শীতের প্রভাব এখনো পড়েনি। তবে হঠাৎ শীত জেঁকে বসলে তখন ব্যবসা ভালো হতে পারে বলে আশা বিক্রেতাদের।

নগরীর পুরাতন ও নতুন শীতের পোশাক বিক্রয়কারী মার্কেট মহসিন ও বহুমুখী সিটি মার্কেটসহ চকবাজার, কাঠপট্টি, গির্জা মহল্লার বিভিন্ন পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা গেছে, বিগত এক মাস থেকে মৌসুমে বেচাকেনার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক সাজিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ সব ধরনের ক্রেতাদের পোশাক সাজিয়ে বিক্রেতারা পুরো প্রস্তুত থাকলেও তুলনামূলক এ বছর ক্রেতা নেই বললেই চলে। গত বছর এই সময়েও চকবাজারের নতুন শীতবস্ত্র পাইকারি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হয়ে গিয়েছিল।

তবে এ বছর পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। অন্যান্য বছরগুলোতে যখন এই সময় প্রতিদিন গড়ে খুচরা বিক্রয় হত লাখ টাকার কাছাকাছি। সেখানে এ বছর একসাথে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার শীতের পোশাক পাইকারিতেও বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রেতাদের দাবি দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমনিতেই ঝুঁকি নিয়ে অধিক মূল্য দিয়ে মালামাল এনেছেন। এর মধ্যে নেই ক্রেতা। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক রকম অলস সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতি কিছুদিন চললে এ বছর বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতি সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করেন তারা। নতুন শীতের পোশাকের বাজারের এই অবস্থা, অন্যদিকে আরো খারাপ অবস্থা নগরীর ব্যবহৃত শীতের পোশাক বিক্রয়ের অন্যতম স্থান মহসিন ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের। এই দুই মার্কেটের কয়েকশত বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে সারাদিনেও আসছে না ২০-৩০ জন ক্রেতা। চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে ব্যবহৃত শীতের পোশাকের বিভিন্ন দামের গাট্টি কিনে এনে এ সকল প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে গত ১৫ দিন থেকে এক মাস আগে।

অবরোধের কারণে গত বছরের তুলনায় প্রতি গাট্টি মাল আনতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দিতে হয়েছে বলে জানান, বহুমুখী সিটি মার্কেট এর জুই ফ্যাশন এর স্বত্বাধিকারী। এনায়েত করিম নামের ব্যবসায়ী জানান, নগরীর এই মার্কেটটি মূলত ব্যবসা করে শীতের মৌসুমে। সারা বছর নতুন পোশাক বিক্রয় করলেও তা নামমাত্র। মূলত শীতের ২-৩ মাস তারা ব্যবহৃত পুরনো পোশাকের গাট্টি কিনে তা বিক্রি করে থাকেন। বিগত বছরগুলোতে বেচাকেনা ভালো থাকলে বেশ মানসম্মত ব্যবসা হয়েছে প্রতি মৌসুমে এক একটি প্রতিষ্ঠানের। নগরী ও নগরীর পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলা থেকে মূলত নিম্নমধ্য সহ সকল শ্রেণীর ক্রেতাদের ভিড় থাকে পুরো ঋতুজুড়ে। ব্যবহৃত হলেও তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পোশাক পেয়ে ক্রেতারা হতো সন্তুষ্ট। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত খুবই শোচনীয়।

দেশের অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যেও মালামাল সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে। লাভ করা তো দূরের কথা, গত ১৫ দিন থেকে এক মাস ধরে শীতের পোশাক বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের খরচ উঠানো কঠিন হয়ে গেছে। তবে এমন পরিস্থিতি হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই পাল্টাতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। শীতের তীব্রতা বাড়লে ক্রেতা বাড়বে বলে আশাবাদী বহুমুখী সিটি মার্কেট এর ব্যবসায়ীরা ।

 




১২ ডিসেম্বর ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বরিশালে টার্গেট ৩ লাখ শিশু

বরিশাল অফিস ::  আগামী ১২ ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও অনুষ্ঠিত হবে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। এদিন বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ৬ মাস হতে ৫ বছর বয়সী তিন লক্ষাধিক শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সোমবার বিকেলে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন, জেলায় ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৯ জন এবং ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৪ হাজার ৩১৫ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বরিশাল জেলায় ১০টি উপজেলায় ২ হাজার ১০৭ টি টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। এতে ৪ হাজার ২১৪ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, জেলার ৪ টি উপজেলায় (হিজলা,মুলাদী,মেহেন্দীগঞ্জ এবং বাকেরগঞ্জ) সার্সিং পোগ্রাম রয়েছে। এই ৪ উপজেলায় যে সব শিশু বাদ পড়বে তাদের পরবর্তী ৪ দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজে ভিটামিন খাওয়ানো হবে। তিনি বলেন, জ¦র,ডায়রিয়া বা গুরুতর অসুস্থ্য শিশুকে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।




ঘূর্নিঝড় ‘মিগজাউম’ বরিশাল অঞ্চলের আমন ও রবি ফসলের জন্য বড় দুঃশ্চিন্তার বিষয়

বরিশাল অফিস::  পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলকা দিয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্নিঝড় ‘মিগজাউম’ এর প্রভাবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের মাঠে থাকা ৮০ ভাগ পাকা ও আধাপাকা আমন ফসলের জন্য বড় দুঃশ্চিন্তা তৈরী করতে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় বরিশালের পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিয়ে ভারতের নিলয় ও মাসুলিপট্টমের নিকট দিয়ে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে। এর প্রভাবে গত তিনদিন ধরে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সহ উপকূলজুড়ে মেঘলা অকাশের সাথে দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। অগ্রহায়ণের এ মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ আমনের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। তাদের মতে এ ধরনের আবহাওয়া আধাপাকা ধানে ‘লেদা পোকা’ সহ ‘বাদামী ফড়িং’এর বংশ বিস্তারে সহায়তা করে থাকে। ভাটির এলাকা দক্ষিণাঞ্চলে যেহেতু আমনের আবাদ বিলম্বিত হয়, সেহেতু ধান পাকা থেকে শুরু করে কর্তনও বিলম্বিত হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের ১১ জেলায় আমনের গড় কর্তন ৩৫ ভাগের কিছু বেশী। যারমধ্যে বরিশালে কর্তনের হার মাত্র ২০ভাগের মত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মতে এবার দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আমনের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে প্রায় ২৩ লাখ টন। গত ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির বয়ে আনা হেমন্তের প্রবল বর্ষণের সাথে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে বরিশাল অঞ্চলের ২ লাখ হেক্টর জমির পাকা-আধাপাকা আমন ধান ছাড়াও আগাম শীতকালীন সবজি, গম, খেসারী ডাল ও পান সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমান ছিল প্রায় ২শ কোটি টাকার মত। ঐ ঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালায় মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশালে প্রায় ২শ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিপুল ফসলী জমি প্লাবিত হয়।

এমনকি ঐ বর্ষণে বরিশাল অঞ্চলের অন্তত ১০ সহ¯্রাধিক হেক্টরের আগাম শীতকালীন সববি প্রায় পুরোটাই বিনষ্ট হয়েছিল। একইসাথে চলতি রবি মৌসুমে যে ৬৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায়, সেই আবাদ আরো পিছিয়ে গেছে।
গত ২৪ অক্টোবর আরেক ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’এর মাঝারী বর্ষণে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও আগাম সবজি আবাদ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল।

ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানিয়েছেন, আমন এখনো দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ‘দানাদার খাদ্য ফসল’। পুরো অঞ্চলে আমনের এখন চূড়ান্ত পর্যায়। অন্তত ৭০ ভাগ ধান পাকা-আধাপাকা পর্যায়ে রয়েছে। তবে চলমান ঘূর্ণিঝড়ে এখনো দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় আমনে বড় ধরনের কোন দুর্যোগের সৃষ্টি না হলেও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা সহ কৃষকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে সঠিক পরামর্শ দিতে মাঠ কর্মীদের নির্দেশের কথা বলেন তিনি। তবে তার মতে, এ মেঘলা আবহাওয়া অব্যাহত থাকা সহ বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি সবজি সহ রবি ফসলের আবাদ আরো বিলম্বিত হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে ‘পরিস্থিতি বুঝে সবজি আবাদে কৃষকদের পরামর্শ দিতে’ ব্লক সুপারভাইজারদের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আবহাওয়ায় অফিস থেকে ‘আগামী ৩ দিন বরিশাল সহ সমগ্র উপকূলভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া সহ মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত বছর ২০ অক্টোবর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’এর গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রবল বর্ষণে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে যাবার সাথে মাঠে থাকা আমন ধান মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যায়। ফলে অন্তত ২০ ভাগ আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রায় প্রতি বছরই অক্টোবর থেকে বঙ্গাপসাগরে সৃষ্ট একাধিক নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ের রুপ নিয়ে বরিশাল সহ দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানছে। ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর রাতে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ‘হেরিকেন’এর আঘাতে ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানীর পাশাপাশি ব্যাপক ফসলহানী ঘটে। ২০০৭-এর ১৫ নভেম্বর রাতে আরেক ভয়াল ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’এর আঘাতেও উপকূলে আমন ও আগাম রবি ফসল সহ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সম্পদহানী হয়। সেই রাতে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৬ লাখ টন আমন বিনষ্ট হয়।

এর আগে পরেও কয়েকটি মাঝারী থেকে বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় উপকূল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জনপদের পর জনপদকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার সাথে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টি করে।




১০ম দফায় বিএনপির ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বাতিল, বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তি ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে বিএনপির দশম দফায় ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে। চলবে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ১০ ডিসেম্বর (রোববার) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে দলটি।



বিয়ে বাড়ির ভোজ খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কী ভাবে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রোগবালাইয়ের ভয়ে বিয়েবাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে, সেটাও ঠিক নয়। তাই রোজ বিয়েবাড়ির খাবার খেয়েও সুস্থ থাকা সম্ভব, যদি কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা যায়।

সদ্য উৎসব পেরিয়েছে। উৎসবের অনিয়ম কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শীতকাল চলে এসেছে। শীতকাল হল বিয়ের মরসুম। বাড়িতে থরে থরে জমা হচ্ছে নিমন্ত্রণের চিঠি। নিমন্ত্রণ রক্ষাও করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতি দিনই চলছে রাজকীয় ভূরিভোজ। বিয়ে বাড়ির ভোজ মানে তেল-মশলায় মাখামাখি। সেই সঙ্গে শেষ পাতে বাহারি মিষ্টি, আইসক্রিম তো আছেই। রসনাতৃপ্তি হলেও বেহাল হচ্ছে শরীরের অবস্থা। গ্যাস-অম্বল তো নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই সঙ্গে বাড়ছে ওজনও। কোলেস্টেরল, থাইরয়েডের মতো ক্রনিক সমস্যা থাকলেও বাড়াবাড়ি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে রোগবালাইয়ের ভয়ে বিয়েবাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে, সেটাও ঠিক নয়। তাই রোজ রোজ বিয়েবাড়ির খাবার খেয়েও সুস্থ থাকা সম্ভব, যদি কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা যায়।




গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ ৬ ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের এ দিনটিতে পতন ঘটে তৎকালীন স্বৈরশাসকের।



হামলায় উল্লেখসংখ্যক ইসরায়েলি সেনা হতাহত, দাবি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  সাতদিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। বিমান হামলার পাশাপাশি ট্যাংক নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর খান ইউনিসে ঢুকে পড়েছে তারা।



বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ক প্রশ্ন, এড়িয়ে গেলেন মার্কিন মুখপাত্র

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখন— প্রায় সময়ই প্রশ্ন ওঠছে— যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে। এ ব্যাপারে নিয়মিত প্রশ্ন করছেন সাংবাদিকরা; সেগুলোর উত্তরও দিচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।



তেল আবিবে হামাসের মুহুর্মুহু রকেট হামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস। মঙ্গলবারের এই হামলায় তেল আবিবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।