শীতে বরিশালে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ এত বেশি, যে এক বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশু ভর্তি থাকতে হচ্ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মোট ৪১টি শয্যা থাকলেও প্রায় ৩০০ শিশু ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জনের বেশি শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে ভর্তি হচ্ছেন। বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে শিশুরাই প্রধান। পাঁচজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
রোগীদের স্বজনরা জানান, শীতে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া নিয়ে তারা হাসপাতালে আসছেন। অনেকেই প্রথমে গ্রামে চিকিৎসা নিয়েছিলেন, কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন আকলিমা বেগম জানান, “এক বেডে দুই থেকে তিন শিশু থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছি।” অন্য স্বজন লিমা বেগম বলেন, “স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানোর পরও জ্বর ও কাশি কমেনি, তাই হাসপাতাল এনেছি।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগের সংখ্যা বাড়ছে এবং আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি মা ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিশুরা শীত থেকে সুরক্ষিত থাকে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর বলেন, “শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। নার্সদের ওপর চাপ বেশি, তবে সব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকরা শিশুদের ঘরের তাপমাত্রা ও কাপড়ের প্রতি খেয়াল রাখবেন।”
বরিশালের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তিন দিনে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। দিনের মধ্যে সূর্যের আলো সীমিত সময়ের জন্য উপস্থিত থাকায় শীত অনুভূত বেশি হচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫