দুমকীতে মায়ের মামলায় ছেলে কারাগারে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দুমকীতে নিজ মাকে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে বয়োবৃদ্ধ মা মোসা. সমের্তবান এর দায়ের করা মামলায় ছেলে সেলিম সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী’র আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে জামিন না মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী আল আমিন।

জানা যায়, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. আঃ বারেক সিকদারের স্ত্রী সমের্তবান এক সময় বড় ছেলে সেলিম সিকদারের নতুন বাড়িতে থাকতেন। জমিজমা কে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হলে ছোট ছেলে আশিকুর রুম্মান ও সুমন সিকদারের কাছে পুরান বাড়িতে চলে যান। নির্যাতনের কথা এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারকে জানালেও কোন বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন মা। তাঁর বড় ছেলে কোনো খোঁজ-খবর নেয় না, টাকা পয়সা দেয় না। উল্টো এ বছরের ২১ নভেম্বর বেলা ১২ টার দিকে তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ও ছেলে নূরে আলম সিকদারসহ এক দল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী পুরান বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
এতে তিনি ও তাঁর ছোট ছেলে রুম্মান আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনায় গত ২৯ নভেম্বর মা মোসা. সমের্তবান বাদী হয়ে চীফ জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মায়ের দায়ের করা মামলায় বড় ছেলে সেলিম সিকদার আত্মসমপর্ণ করলে তার জামিন না মঞ্জুর করে মো. ইউসুফ আলী’র আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।




৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী মুক্ত দিবস

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আজ ৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী মুক্তদিবস। জেলার সূর্য সন্তানরা জীবনবাজী রেখে প্রাণান্তকর যুদ্ধ করে এ দিনটি অর্জন করেছিলেন।

অহংকারের তুলিতে আঁকা দিনটিকে পটুয়াখালীবাসী পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় অক্ষয় করে রেখেছে।

জেলাবাসীর কাছে আনন্দ-উদ্বেল ও শোক-বিধুর স্মৃতি বিজড়িত এ দিনটি অত্যন্ত সম্মানিত।

দিনটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও পটুয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক বাবু নির্মল কুমার রক্ষিত জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাত।
দেশব্যাপী পাকিস্তানি সেনারা পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। গভীর রাতেই তারবার্তা এসে পৌঁছে পটুয়াখালী জেলা সংগ্রাম কমিটির হাতে।
পরের দিন ২৬ মার্চ পটুয়াখালী মহিলা কলেজে কন্ট্রোল রুম খুলে বসে মুক্তিযোদ্ধারা। পাশের জুবিলী স্কুলে শুরু হয় মুক্তি সেনাদের সশস্ত্র ট্রেনিং। স্থানীয় সংগ্রাম কমিটির হাতে হাত মিলায় স্থানীয় অকুতভয় তরুন-যুবকরা।

তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল আউয়াল পটুয়াখালী পুলিশ লাইন অস্ত্রাগার থেকে ৬৫টি রাইফেল তুলে দেন মুক্তি সেনাদের হাতে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন জেলা ডেপুটি কমান্ডার এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত জানান, ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল সোমবার। আকাশের উত্তরদিক থেকে গগণ বিদারী আওয়াজ তুলে ধেয়ে আসে বেশ ক’টি পাকিস্তানি জঙ্গী বিমান। বৃষ্টির মত গোলাবর্ষণ, শেলিং ও মেশিনগানের গুলি ছুঁড়ে ধবংসস্তুপ করে দেয় ছোট্ট শান্তিময় পটুয়াখালী শহর।

এ হামলা থেকে নিজকে রক্ষা করতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ওই সময় শহর সংলগ্ন লোহালিয়া ও লাউকাঠি নদীতে ঝাঁপ দেয়। পাকিস্তানি সেনারা পটুয়াখালীর খাদ্য গুদাম ঘাটে চাল, গম ও চিনি বোঝাই ৪টি বার্জও ডুবিয়ে দেয়।

পটুয়াখালীর পুরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ঘর-বাড়ি। চাঁদমারী, কালিকাপুর, মাতবর বাড়ি, ও ডিসি বাংলোর দক্ষিণ পাশে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয় হাজার হাজার মানুষ।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা বন্দিদের বর্তমান পুরাতন জেলখানার পশ্চিম-দক্ষিণ কোনে গুলি করে হত্যা করা হতো। সেখানকার গণকবর গুলো এখনো ওই বিভীষিকাময় দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধ‍া সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুর বারেক হাওলাদার জানান, ১৯৭১ সালের ১৮ নভেম্বর। গলাচিপা উপজেলার পানপট্টিতে সংগঠিত হয় জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ।

মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা, সেকেন্ড ইন কমান্ড হাবিবুর রহমান শওকতের নেতৃতে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পাল্টা জবাব দিতে থাকেন পাকিস্তানি সেনাদের।

টানা ৮ ঘণ্টা উভয় পক্ষের গুলিবর্ষণে অর্ধশত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। পরে ৩৮৫ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যসহ মেজর ইয়ামিন খান পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

পানপট্টির এ যুদ্ধ পরবর্তিতে মুক্তি যোদ্ধাদের পটুয়াখালী দখল করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও তিনি জানান।

পটুয়াখালীতে প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী সাহসী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আলতাফ হায়দার জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধারা পটুয়াখালী শহরের চতুর্দিকে অবস্থান নিয়ে চুড়ান্ত হামলার প্রস্তুতি নেয়।

পরের দিন ৭ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধাদের শহর দখলের খবর টের পেয়ে পাকিস্তানি বাহিনী আচমকা পটুয়াখালী শহরে কারফিউ জারি করে।

কোন উপায় না পেয়ে রাতের আধারে পাকিস্তানি সেনারা একটি দোতলা লঞ্চ ও একটি একতলা লঞ্চযোগে পটুয়াখালী শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৮ ডিসেম্বর সকালের সূর্য উঠার আগেই ভোরে শত্রুমুক্ত হয় পটুয়াখালী।

আরও জানান, এ খবরে শুধু আনন্দ আর আনন্দ। সে আনন্দে ভাগ বসিয়েছিল স্বজন হারানোর বেদনা।

৮ ডিসেম্বর সকাল বেলা। সর্বপ্রথম পটুয়াখালী জজকোর্টে স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রথম পতাকা উত্তোলনের করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আলতাফ হায়দার।

পরে স্থানীয় শহীদ আলাউদ্দিন শিশুপার্কে তারই নেতৃত্বে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা এক আড়ম্বরহীন আয়োজনে উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা।




অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের সর্বনাশ

বরিশাল অফিস :: ‘যদি বর্ষে আগুনে-রাজা নামে মাগনে’ খনার বচনের এ প্রবাদকে সত্যি করে দক্ষিনাঞ্চলের কৃষকের ভয়াবহ সর্বনাশ হতে চলেছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ পায়রা বন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলে গত সোমবার আঘাত হেনে দূর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিনত হয়েছে। কিন্তু তার প্রভাবে বুধবার রাত থেকে দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে হালকা বৃষ্টিপাত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে মাঝারী বর্ষণের রূপ নেয়ায় মাঠে থাকা ৮০ ভাগ পাকা ও আধা পাকা আমন ফসলের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার আশংকা তৈরী করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

এবার দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় প্রায় ২৩ লাখ টন চাল উৎপাদনের আশা ছিল কৃষি মন্ত্রনালয়ের। পাশাপাশি প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টরে যে ১৬ লাখ টন শীতকালীন সবজী উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তা বার বারই পিছিয়ে যাচ্ছে তিন দফার ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে।

গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’এর মাঝারী বর্ষণে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও আগাম সবজি আবাদ পিছিয়ে যায়। কিন্তু গত ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র বয়ে আনা হেমন্তের প্রবল বর্ষণের সাথে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগের ঝড়ে বরিশাল অঞ্চলের ২ লাখ হেক্টর জমির পাকা-আধাপাকা আমন ধান ছাড়াও আগাম শীতকালীন সবজী, গম, খেসারী ডাল ও পান সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমান ছিল প্রায় ২শ কোটি টাকার মত। ঐ ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের বেশীরভাগই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অথচ সে সময় অর্ধেকেরও বেশীরভাগ জমির আমন থোর অবস্থায় এবং মাত্র ১০ ভাগ জমির ধান কর্তন হয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালায় মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশালে প্রায় ২শ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিপুল ফসলী জমি প্লাবিত হয়।

সে সময়ে নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক নিচে প্রবাহিত হওয়ায় দ্রুত পানি সরে যায়। কিন্তু মাত্র ২২ দিনের মাথায় আরেক ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম’ এর প্রভাবে বুধবার রাত থেকে হালকা বৃষ্টিপাত আমন সহ শীতকালীন সবজির মারত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, আমন এখনো দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ‘দানাদার খাদ্য ফসল’। পুরো অঞ্চলে আমনের এখন চুড়ান্ত পর্যায়। অন্তত ৬০ ভাগ ধান পাকা-আধাপাকা পর্যায়ে রয়েছে। তবে অগ্রহায়নের এ বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা সহ কৃষকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখে সঠিক পরামর্শ দিতে মাঠ কর্মীদের নির্দেশের কথা জানান তিনি।

ভাটির এলাকা বিধায় দক্ষিণাঞ্চলে আমন আবাদের মত তার কর্তনও সারা দেশের থেকে সব সময় ১৫ দিন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত পেছনে থাকে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ ভাগ আমন ধান মাঠে রয়েছে। গত বছর ২০ অক্টোবর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’এর গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রবল বর্ষণে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল সয়লাব হয়ে যাবার সাথে মাঠে থাকা আমন ধান মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে যায়। ফলে অন্তত ২০ ভাগ আমন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত দক্ষিণাঞ্চলেল কৃষি অর্থনীতিতে যথেষ্ঠ বিরূপ প্রভাব ফেলে।




বরিশালে পৃথক দুই বাসের সাথে সংঘর্ষে দুই থ্রি-হুইলার চালকসহ নিহত ৫

বরিশাল অফিস:: পৌনে এক ঘন্টার ব্যবধানে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পৃথক দুই স্থানে দুই বাসের সাথে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে। পৃথক দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অজ্ঞাত এক নারীসহ চারজন বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৃথক দুই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নলছিটি ও মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি জানিয়েছেন।

নলছিটিতে দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো- থ্রি-হুইলার চালক বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া গ্রামের খোকন হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদার (৪৫), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কাবদেবপুর গ্রামের আজিজ খানের ছেলে রাজিব খান (৪০) ও একই উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বাস্থ্য সহকারী সুরভী খানম (৩৫)।

কলসগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার কর্মচারী ও বাবুগঞ্জ উপজেলার ছয় মাইল এলাকার আলতাফ হাওলাদারের ছেলে মো. সেন্টু হাওলাদার (৩২) ও একই উপজেলার রহমতপুর এলাকার যশোধা জীবন লাল দাসের ছেলে ও থ্রি-হুইলার চালক মতি লাল দাস (৫০)।

নলছিটি থানার ওসি মো. মুরাদ আলী জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেপারী পরিবহনের একটি বাস কুয়াকাটা যাচ্ছিলো। বাকেরগঞ্জ উপজেলা বাসষ্ট্যান্ড থেকে ৫ যাত্রী নিয়ে থ্রি-হুইলার নগরীর রুপাতলী বাসষ্ট্যা-ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। নলছিটি উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুই যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মাহেন্দ্র চালক জসিম ও যাত্রী রাজিব নিহত হয়। আহত অবস্থায় চারজনকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরভীর মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরো জানান, ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত দুই যানবাহন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। বাস আটক করা হলেও চালকসহ কাউকে আটক করা হয়নি।

মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এসআই মো. আব্দুস সালাম বলেন, মাগরিবের আজানের পর বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রীজ থেকে নগরীর রুপাতলী বাস টার্মিনালের উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে থ্রি-হুইলার রওনা দেয়। থ্রি-হুইলার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কলসগ্রাম এলাকায় পৌছুলে চাকলাদার পরিবহনের একটি বাস পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে থ্রি-হুইলার থেকে ছিটকে পড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লোকমান হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত তিনজনের মধ্যে দুই জন মারা গেছে। একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর চাকলাদার পরিবহনের চালকসহ বাস আটক করা হয়েছে। উভয় দুর্ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুই থানার ওসি।




যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব থাকার পরেও সাদিক আব্দুল্লার বৈধপ্রার্থী, আপিল

বরিশাল অফিস::  বরিশাল-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সদ্য বিদায়ী সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মার্কার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থকরা।

এজন্য সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন নৌকার সমর্থক কেবিএস আহমেদ কবীর। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিপক্ষে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তার (সাদিক) চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। এরপর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহিদ ফারুক শামীমের সমর্থকরা জানিয়েছেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ভোটার। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার আইডি কার্ডে তার নাম সেরনিয়াবাত এস আব্দুল্লাহ। তিনি নিউইয়র্ক সিটির ভোটার। তার ভোটার আইডি কার্ডের নম্বর ৪১০৯০৪০০৭। এছাড়াও সাদিক আব্দুল্লাহ রিটানিং কর্মকর্তার কাছে দেয়া হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তাদের দাবি, সাদিক আব্দুল্লাহর স্ত্রী লিপি আব্দুল্লাহসহ সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নিউইয়র্ক শহরের কুইন ভিলেজে লিপি আব্দুল্লাহর নামে বাড়ি রয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণসহ সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বাতিলের জন্য আপিল করা হয়েছে।

আপিলকারী আওয়ামী লীগ নেতা কেবিএস আহমেদ কবীর বলেন, হলফনামায় অসত্য তথ্য দেয়ার পরেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি তখন তাদের নজরে আনা হলেও সেখানে বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় ইসিতে আপিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানি করে সঠিক রায় দেবেন বলেও তিনি আশা করেন।

সূত্রমতে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বড় একটি অংশ শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধীতায় নেমেছেন। তারা প্রকাশ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও করেছেন। এনিয়ে সাদিক বিরোধী পক্ষ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছে। সার্বিক বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব থাকার কারণে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম।




৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস

বরিশালের মাটিতে জয় বাংলা শ্লোগানে শ্লোগানে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করে

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয়েছিল বরিশাল। সেদিন বরিশালের আকাশ-বাতাশ প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল হাজার হাজার মানুষের মুখে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ “অপারেশন সার্চলাইট” এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বর্বরবাহিনী শুরু করে গণহত্যা। ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার খবর বরিশালে টেলিফোনে আসে।২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার তারবার্তা বরিশাল পুলিশ লাইনের ওয়ারলেস যোগে পোঁছে বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক এ্যাড, নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের কাছে ।

গভীর রাতে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার ভেঙ্গে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র করায়ত্ত করে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। ২৬ মার্চ ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ পড়িয়ে অস্ত্র হাতে তুলে দেয়া হয়। নুরুল ইসলাম মঞ্জুর মুহুরি মান্নানকে পাঠানো হয় মেজর এম এ জলিলকে আনার জন্য। সকালে বগুরারোডস্থ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম দক্ষিণাঞ্চলীয় সচিবালয় গঠিত হয়। এই সচিবালয়ের মাধ্যমে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে অস্ত্র আমদানি,গল্লামারির যুদ্ধ,চাদপুরে অস্ত্র প্রেরণ সহ বেশ কয়েকটি অপারেশন করে।এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন, অর্ন্তভুক্তি ও ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয় । এর আগে যুব সংঘের তৈরী মলোটভ ককটেল,হ্যান্ড গ্রেণেড বিভিন্ন স্থানে অপারেশনের জন্য পাঠানো হয়।১৮ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদাররা আকাশ পথে বরিশালে প্রথমে হামলা চালায়।

বঙ্গবন্ধু উদ্যান,মেডিকেলের সামনে,কীর্তনখোলা তীরে জঙ্গি ফাইটার দ্বারা নিক্ষেপ করা হয়। বোমায় বেশ কয়েকজন সেসময়ে হতাহত হয়।
পরে ২৫ এপ্রিল তারা জল, স্থল ও আকাশ পথে দ্বিতীয় দফা আক্রমন চালায়। স্থল পথে বরিশাল আসার পথে বরিশাল জেলার সড়ক পথে গৌরনদীতে প্রথম বাঁধাগ্রস্থ হয়। বরিশাল- ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর কটকস্থল ব্রীজে আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীকে আবুল হাশেমের নেতেৃত্বে মাত্র মুক্তিযোদ্ধার একটি দল রাইফেল নিয়ে বাঁধা দেয়।

পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর ভারী অস্ত্রের সামনে মুক্তিবাহিনী টিকতে পারেনি। এতে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল হাসেম, মোক্তার আলী,
আলাউদ্দিন আহম্মদ এবং পরিমল। অপর দিকে পাকিস্তানি নৌ-বাহিনী গান বোট যোগে সকাল ৯টা নাগাদ শহরে ঢোকার চেষ্টা করে। তখন শহরতলী শায়েস্তাবাদের তালতলী নদীর জুনাহারে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সাথে তাদের সম্মুখে যুদ্ধ হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক একং ক্যাপ্টেন মেহেদীর নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা ইরানি ও মাছবি নামে দু’টি যাত্রীবাহী ষ্টিমার নিয়ে দেশী বন্ধুক ও ৩০৩ রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। পাকিস্তানি বাহিনীর কামানের গোলায় ষ্টিমার ও লঞ্চটি ডুবে যায়।
একই সাথে তারা বিমান দিয়ে ছত্রীসেনাও নামায়।

এসময় পরিস্থিতি দেখার জন্য নুরুল ইসলাম মঞ্জু একটি জিপ গাড়ী কামাল উদ্দিন ফিরুকে নিয়ে আসলে তারা পাকিস্তানি আর্মিও গুলীর নিশানায় পড়ে। পাকিস্তানি আর্মির গুলিতে আহত হন কামাল উদ্দিন ফিরু (কর্ণেল কামাল উদ্দিন)। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লাকুটিয়া আশ্রয়ে। পাকিস্তানি আর্মির ভারী আস্ত্রেও কাছে টিকতে না পেরে বাধ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সরে যায়।পাকিস্থানী বিমান বাহিনীর কয়েকটি হেলিকপ্টর থেকে শহরের উপকন্ঠে চরবাড়ীয়া ও কাশীপুরে ইছাকাঠী গার্ডেনে ছত্রীসেনা নামানো হয়। চরবাড়িয়ায় পাকিস্তানি আর্মি ঢুকে নির্বিচারে সাধারন মানুষ হত্যা করে। এখানে অর্ধশতাধিক মানুষকে তারা হত্যা করে,জ্বালিয়ে দেয় বহু ঘর বাড়ি।

পাকিস্তানি বাহিনী সন্ধ্যা নাগাদ শহরে ঢুকে নির্বাচারে মানুষ হত্যা করে। সেনাবাহিনী প্রথমে অশ্বিনী কুমার হল পরে জিলা স্কুলে এবং
সর্বশেষে ওয়াপদায় তাদের হেড কোয়ার্টার গড়ে তোলে। এখানেই তৈরী করা হয় নির্যাতন কক্ষ। সৈন্যরা ওয়াপদা এলাকার পিছনে সাগরদী খালের উপর পরিত্যক্ত ব্রীজের উপর দাঁড় করিয়ে নিরীহ লোকজন ধরে এনে হত্যা করে উক্ত খালে ফেল দিত।পাকিস্তানি হানাদারদের বরিশাল দখলের পরের দিনই ২৬ এপ্রিল হানাদার বাহিনী বরিশালের বিশিষ্ট ইট ব্যবসায়ী হাজী আদম আলীকে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন। তিনি তার পদ ফেলে রেখে চরকাউয়া তার ইটের ভাটায় চলে গেলে সেনাবাহিনী এ পদে কসাই মসজিদের ইমাম
বশিরউল্লাহ আতাহারীকে নিয়োগ দেয়।

পরবর্তিতে মুসলিমলীগ, নেজামী ইসলামী জামায়াতসহ সমমনা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের নিয়ে মুসলিমলীগ নেতা শাজাহান চৌধুরী ও এডভোকেট আবদুর রব, শমসের আলী, আবদুর রহমান বিশ্বাসের নেতেৃত্বে পুর্ণাঙ্গ জেলা শান্তি কমিটি গঠন করা হয় । তখন এই সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হিসাবে তারা কাজ করে।

৯ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিল ক্যাপ্টেন শাহজাহানকে বরিশাল সাব সেক্টরের দায়িত্ব দিয়ে বরিশাল পাঠান। এ সময় তার নতুন নামকরন করা হয় ক্যাপ্টেন ওমর । ৬ সেপ্টেম্বর উজিরপুরের বরাকোঠা দরগাহবাড়ি প্রাইমারী স্কুলে তিনি প্রতিষ্টিত করেন বরিশাল সাব সেক্টর কমান্ডের হেড কোয়াটার। এছারা মেজর জিয়াউদ্দিন সুন্দরবন অঞ্চলে,ক্যাপ্টেন মেহেদী আলী ইমাম পটুয়াখালী অঞ্চলে, মাহাফুজ আলম বেগ সাতক্ষীরা অঞ্চলে সাব সেক্টও

কমান্ডের দায়িত্ব পালন করে। বেগের নেতৃত্ব সাতক্ষীরা,কালীগ্ধসঢ়;ঞ্জ,আশাশুনি,শ্যামনগর,দে ভাটা পাকিস্তানি আর্মি পর্যদুস্থ হয়ে মুক্তাঞ্চল গঠিত হয়। নভেম্বর মাস থেকে মুক্তিযোদ্ধারা থানাগুলোতে আক্রমন চালাতে শুরু করে। তখন থানাগুলোতে পুলিশ ছাড়াও পাকিস্তান থেকে আসা মিলিশিয়া ও রাজাকার বাহিনী অবস্থান করতো। পাকিস্তানি বাহিনী জেলার বিভিন্ন থানা ও বন্দরে ক্যাম্প করে। এসব ক্যাম্প থেকে গ্রাম-বন্দরের ঘরবাড়ী পুড়িয়ে ফেলতো এবং এসব ক্যাম্পে নারী নির্যাতন হত। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথেও সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ সব যুদ্ধে বেশ কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হলেও পাকিস্তানি বাহিনী কার্যত
থানাগুলোতে বন্দী হয়ে পড়ে।

ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে সীমান্তের একটির পর একটি শহর মুক্ত হতে থাকে। ৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের পতন হলে বর্বর সৈন্যরা সেনা ছাউনী ছেড়ে পালিয়ে যায় খুলনায়। এ অবস্থা দেখে বরিশাল জেলার থানাগুলো থেকে (গৌরনদী বাদে) বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সৈন্যরা পালিয়ে এসে বরিশাল ওয়াপদায় আশ্রয় নেয়। ৭ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের দপ্তরে একটি গোপন সভা হয়। সভায় শান্তি কমিটির
এডভোকেট আবদুর রব, শাহজাহান চৌধুরী, আবদুল মজিদ, মতি মিয়া ও এরশাদ সহ আলবদর ও রাজাকার কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। সভায় সেনাবাহিনীর বরিশাল ত্যাগ করে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে হঠাৎ করে বরিশালে কারফিউ ঘোষনায় মানুষ আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কারফিউ ঘোষণা হলেও শহরে কোন সেনাটহল ছিল না। এমনকি পুলিশ রাজাকারদের টিকিটিও দেখা যায়নি। অথচ অন্যদিনগুলোতে সব সময়ের জন্যই রাস্তায় সেনা, পুলিশ এবং রাজাকারদের টহলদারী থাকত। সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রেনে চলে যাওয়ার পাক হানাদাররা পালাবার পথ হিসেবে জল পথকেই বেছে নিয়েছিল। জাহাজ কিউ সহ একাধিক গানবোট, লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল ষ্টিমারঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।গভীর রাতে ওয়াপদা থেকে সেনাবাহিনী, মিলিশিয়া, একাধিক শান্তি কমিটির নেতা কিউ জাহাজে অবস্থান নেয় । কিউ জাহাজ বরিশাল ত্যাগ করে রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে। জাহাজের সামনে ছিল গান বোট ও কার্গো।

অপর জাহাজটি বরিশাল ত্যাগ করেছিল সকাল ৪ টার পর। এ জাহাজেও পাকসেনা, মিলিশিয়া ,শাহজাহান চৌধুরীসহ কয়েকজন
রাজাকার ও দালাল ছিল। পাকিস্তানি আর্মি অতি গোপনে বরিশাল ঘাট ত্যাগ করে। এ গোপনীয়তার পরেও পাকিস্থানী বাহিনী নিজেদের রক্ষা করতে পারেনী। ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় মুলাদীর কদমতলা নদীতে লঞ্চ ও চাঁদপুরের মেঘনা মোহনায় কিউ জাহাজ সহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়েছিল। । সঙ্গে সঙ্গে জাহাজে আরোহীদের সলিল সমাধি হয়।

এদিকে বরিশাল শহরে কারফিউ কারনে নিস্তব্ধতা । বেলা বাড়তে থাকে। ক্রমশঃ মানুষের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। কারফিউ অথচ সেনা টহল নেই। রাজাকার আর দালালদের খবরদারী নেই। গত ন’মাসে তো এমনটি কখনও ছিল না। সকাল ৯টার পরে মানুষের পথ চলা শুরু হয় আলি-গলিতে। সবার প্রশ্ন কি। হতে যাচ্ছে? সকাল ১০টার পরে বরিশালে ভারতীয় যুদ্ধ বিমান টহল দিতে শুরু করে।

প্রথমে শহরবাসী নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিলেও কিছুক্ষনের মধ্যে বুঝতে পারে এ যুদ্ধ বিমান মিত্র বাহিনীর। সবাই রাজপথে বেড়িয়ে এসে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। মাথার উপরে বোমারু বিমান নিচে উৎফুল মানুষ। জয় বাংলা শোগানে প্রকম্পিত শহর। কয়েক মিনিট শহরের উপর চক্কর দিয়ে বিমান দুটি চলে গেল । এ বিমান থেকেই গোলা ফেলে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করে দেয়া হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর আতœসমর্পনের খবরে কালেকটরেটের জিপ নিয়ে সাধারণ মানুষ বার্তা প্রচার করতে থাকে। মুক্ত বরিশাল। বাঁধা ভাঙ্গা স্রোতের মত মানুষ নেমে আসে শহরের রাজপথে।

৭ ডিসেস্বর সন্ধ্যায় সুলতান মাষ্টার তার দলবল নিয়ে নবগ্রাম রোডের চৌমাথা পর্যন্ত পৌছেছিল। ৮ ডিসেম্বর প্রথমে তিনি মুক্ত বরিশাল শহরে প্রবেশ করে কোতয়ালী থানা দখল করেন। পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পন করে। উড়িয়ে দেয়া হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এরপর লাকুটিয়া রোডে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুইসাইডাল স্কোয়াডের সদস্যগণ শহরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে পাওয়ার হাউস ও পরে শহর হয়ে চরকাউয়া খেয়াঘাটে বরফকলে অবস্থান নেয়। গৌরনদীর বেইজ কমান্ডার নিজাম উদ্দিন হাওলাদার তার বাহিনী নিয়ে প্রবেশ করে বরিশাল।

বাবুগঞ্জের বেইজ কমান্ডার আব্দুল মজিদ দুপুরের পরে বরিশাল টেক্সাটাইল মিলে ক্যাম্প গঠন করলেন। কুদ্দুস মোলা তার দল নিয়ে বরিশালে ঢুকে জেলখানার দায়িত্বভার গ্রহন করেন। কারাগারে আটক থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি মুক্ত করে দেন। সাব সেক্টর কমান্ডার শাহজাহান ওমর ছিলেন বাখরগঞ্জের। ৯ ডিসেম্বর বিকেলে আহত অবস্থায় নৌকাযোগে পোর্ট রোড হাজী আদম আলী ঘাটে নেমে চলে যান সার্কিট হাউজে।

তিনি সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন। এদিকে যে সব রাজাকার আলবদর পালিয়ে যেতে পারেনি তারা আশ্রয় নিল পাকসেনাদের ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে পরিচিত ওয়াপদায়। পাক সেনারা বাংকারে ঢুকে অস্ত্র তাক করে ঘোষনা করল নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছাড়া আর কারও কাছে তারা আত্মসমর্পন করবে না।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নুরুল ইসলাম মঞ্জুর এম.এন.এ এবং লেঃ মাহফুজ আলম বেগের নেতৃত্বে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে তিনশত মুক্তিযোদ্ধার বাহিনী লঞ্চের সাথে ৩৫ টি নৌকা নিয়ে বরিশাল আসে ১৭ ডিসেম্বর। ঐদিনই বিকেলে ওয়াপদায় অবস্থানকারী রাজাকার ও আলবদরা আত্মসমর্পন করেন নুরুল ইসলাম মঞ্জু ও তার বাহিনীর কাছে । ১৯ ডিসেম্বর শিকারপুরে ফেরীঘাটের বর্বর সৈন্যরা ক্যাপ্টেন কাহারের নেতৃত্বে আতœ সমর্পণ করে নুরুল ইসলাম মঞ্জু ও মাহফুজ আলম বেগের কাছে। পরাজিত পাকিস্তানি সৈন্যদের সদর রোড থেকে হাটিয়ে ওয়াপদায় নিয়ে যাওয়া হয়। অপরদিকে গৌরনদীকলেজ ক্যাম্পে

আটকে পড়া দেড়শ, পাক সৈন্য ২২ ডিসেম্বর মুজিবাহিনী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আতœসমর্পণ করে। তাদেরকে বন্দী করে বরিশাল
ওয়াপদায় ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়।শেষ হয় বরিশাল থেকে পাকিস্থানী দখলদারিত্ব। মুক্তিবাহিনী তখন দলে দলে শহরে প্রবেশ করছে,চারিদিকে জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মুক্ত বরিশাল। এভাবেই মুক্ত হয়েছিল ন’মাসের অবরুদ্ধ বরিশাল। বিজয়ের গৌরবের মিছিলে একাত্ম হয়েছিল সেদিন হাজারো মুক্তিকামী মানুষ।




জাপার সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নয়, রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে নির্বাচনের আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে, রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।



থমবারের মতো ফায়ারে নারী ফাইটার : সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে নারীরা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ মিরপুরে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করা নারী অগ্নিসেনা ব্যাচের সঙ্গে ফটোসেশনে যোগ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা প্রত্যেকটা উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইতোমধ্যে স্থাপন করেছি। এরপরও আমরা যেখানে প্রয়োজন সেখানেই উপজেলার বাইরে ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি করছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে চাহিদা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসের সেরকম কর্মকর্তা কর্মচারী ফায়ার ফাইটার বা অগ্নিসেনা নিয়োগ, আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত ব্যবহার ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমরা অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি দিয়েও ফায়ার সার্ভিসকে সমৃদ্ধ করেছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টেই নারীদের অবস্থান রয়েছে। পুলিশে রয়েছে বিজিবিতেও রয়েছে। এমনকি কারাগারেও রয়েছে। তবে ছিল না শুধু ফায়ার সার্ভিসে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রথম ফায়ার সার্ভিসেও নারীদের রিক্রুট করা হলো অগ্নিসেনা হিসেবে। মোট দুই হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রার্থী ছিলেন। সেখান থেকে বাছাই করে ১৫ জনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা সব পরীক্ষায় সব যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের প্রথম নারী অগ্নিসেনা ব্যাচে নিযুক্ত ১৫ জন ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি আছেন। আমরা মনে করি পুলিশের সঙ্গে তারাও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শুধু চ্যালেঞ্জিং নয় সবসময় যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হয়। হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্প হতে পারে। যেকোনো কিছু মোকাবিলার জন্যই তাদের প্রস্তুত থাকতে হয়। আগুন লাগলে অগ্নিসেনারাও দগ্ধ হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ফায়ার ফাইটারদের অগ্নিদগ্ধ হতে দেখেছি, আহত হয়েছেন।’

ফায়ার সার্ভিসের সেবা সম্প্রসারণে আমরা নারী ব্যাচ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা দেখেছি পুলিশ বা বিজিবি যেখানেই নারীদের নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে সাহসিকতার সঙ্গে তারা ভালো কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিসে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পাওয়া নারী ব্যাচের সদস্যরা আরও ভালো করবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন ও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।




জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে এই বৈঠক হয়। জাতীয় পার্টির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।



গাজায় আল-জাজিরার সাংবাদিকের পরিবারের ২২ সদস্য নিহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল-জাজিরার এক সাংবাদিক তার পরিবারের ২২ সদস্যকে হারিয়েছেন। যেখানে ওই পরিবারটি আশ্রয় নিয়েছিল সেখানে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

জানা গেছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বুধবার ভোরে হামলা চালানো হয়। এতে আল জাজিরা আরবির সংবাদদাতা মোয়ামেন আল শরাফির পরিবারের ২২ সদস্য নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে আল শরাফির বাবা-মা, তার ভাইবোন এবং তাদের স্বামী-স্ত্রী, পাশাপাশি ভাগ্নে ও ভাগ্নিও ছিলেন

আল শরাফি আল-জাজিরাকে বলেন, ভয়াবহ বোমা হামলার কারণে সেখানে একটি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা কেউ মরদেহের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি আমরা আমাদের প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ও দিতে পারিনি। তাদের যথাযথভাবে কবর দেওয়া থেকেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি।

এর আগে গত ২৫ অক্টোবর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় গাজায় আল জাজিরার আরবির আরেক সাংবাদিক ওয়ায়েল দাহদুহ তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারিয়েছিলেন।

এছাড়া গত ৩১ অক্টোবর জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় আল জাজিরা ব্যুরোর সম্প্রচার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু আল-কুমসানও তার বাবা ও দুই বোনসহ পরিবারের ১৯ সদস্যকে হারিয়েছেন।