দিল্লি যেতে দেওয়া হলো না মেজর হাফিজকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  চিকিৎসার জন্য ভারতের দিল্লিতে যেতে চাইলে মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দেখিয়ে তাকে যেতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।



পটুয়াখালীর শিক্ষার্থীর চায়ের দোকান, ব্যবসায় সফল হওয়ার গল্প

বরিশাল অফিস:: আমাদের দেশে প্রবাদ আছে সরকারি চাকরি নাকি সোনার হরিণ। অধিকাংশ বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান বড় হয়ে এই হরিণ শিকার করবে অর্থাৎ সরকারি চাকরিজীবি হবে। সরকারি চাকরি মানেই নিরাপদ নিশ্চিন্ত জীবন। এটাই আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালির অপরিবর্তনশীল ধারণা। এই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি চাকরির আশা ছেড়ে পটুয়াখালীতে হরেক রকমের চায়ের দোকান দিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোঃ সাকুর।

সাকুরের ধারণা স্মার্টভাবে গুছিয়ে করতে পারলে কোন কাজই ছোট নয়। সবাই যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পড়াশুনা করে চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে বেকার ঘুরে বেড়ায়। সেখানে সাকুর পড়াশুনার পাশাপাশি এই হরেক রকমের চায়ের দোকান করে শিক্ষাজীবন শেষে ভালো অংকের একটি পুঁজি জোগার করতে সক্ষম হবে। সেই পুঁজি কাজে লাগিয়ে আরও ব্যবসা শুরু করবে এমনটাই স্বপ্ন সাকুরের৷ কথায় আছে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।

পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন লেকের পাড়ে ‘চায়ের আড্ডা’ নামের এই স্পেশাল চায়ের দোকানে বর্তমানে তান্দুরী চা,স্পেশাল মালাই চা, পিনিক চা,কাজুবাদাম চা, চকলেট চা সহ মোট ৩০ রকমের চা পাওয়া যায়। তবে চা প্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পিনিক চা ও স্পেশাল মালাই চা। এই চায়ের দোকানে সর্বনিম্ন ১০ টা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা মূল্যের চা পাওয়া যায়।

চা খেতে আসা একজন চা প্রেমী রুবাইয়েত মেহেদী। তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে হরেক রকমের চায়ের দোকান এই প্রথম। চা প্রেমীদের জন্য অনেক বড় সুখবর এটি৷ প্রতিনিয়ত লাল চা আর দুধ চা খেতে আমাদের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। এবার রুচি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে।

আরও একজন চা প্রেমী সাওদার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এত কম টাকায় এতো স্পেশাল হরেক রকমের চা পটুয়াখালীতে খাওয়া যাবে তা ভাবতে পারিনি। ঢাকা-বরিশালে দেখেছি তবে পটুয়াখালীতে এই প্রথম। আইডিয়াটা সত্যি অনেক ভালো হয়েছে৷

কাস্টমারের কাছে কেমন চাহিদা রয়েছে এই হরেক রকমের চায়ের- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকুল বলেন, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খুব ভালো রেসপন্স পাচ্ছি৷ আর বিশেষ করে যারা চা প্রেমী তারা খুব ভালো রেসপন্স দিচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অব্দি কাস্টমারের চাপ বেশি থাকে।

চায়ের দোকানী শিক্ষার্থী মোঃ সাকুর এ বছর লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে পটুয়াখালী আব্দুল করিম মৃধা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে। সাকুরে বাসা পটুয়াখালী পৌর শহরের বি-টাইপ বাজারের পাশে। দুই ভাই বোনের মধ্যে সাকুর বড়। তার বাবা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান একজন সরকারি চাকরিজীবি। বাবা সরকারি চাকরিজীবি হলেও সাকুরের ছোটবেলা থেকেই চাকরির বিষয়ে কোন ইচ্ছে ছিলো না। সবসময়েই সে চেয়েছে নিজে কিছু করবে৷ আর সেই চিন্তা থেকেই আজকের এই স্পেশাল চায়ের দোকান।

সাকুর বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমান বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে আর সরকারি চাকরির পেছনে লাইন দিচ্ছে তারা যদি প্রত্যেকে তাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেরা কিছু করতো তবে বেকারত্বের হার অনেকটাই কমে যেতো আর আমাদের দেশও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতো। কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হতো। আমি ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখেছি নিজে কিছু করবো। চাকরির পেছনে ছুটবো না। আমি পড়াশুনা শেষ করে আরও ব্যবসা করবো বলে ভাবছি। এতে করে আমি নিজেও সাবলম্বী হতে পারবো পাশাপাশি অনেক বেকার যুবক-যুবতীদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।

এখন যৌবন যার, তার যুদ্ধে যাবার সঠিক সময়। তাই এখন থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যুদ্ধটা শুরু করেছি। সবাই যখন পড়াশুনা শেষ করে চাকরি খুঁজবে আমি তখন সকলের দোয়া ও সমর্থন থাকলে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবো।




১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে জিৎ-মিমের ‘মানুষ’

২৪ নভেম্বর কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। ‘মানুষ’ সিনেমায় জিতের বিপরীতে আছেন সুস্মিতা চ্যাটার্জি। এ ছাড়াও আছেন টালিউডের জীতু কমলসহ আরও অনেকে।

অবশেষে মিলেছে অনুমতি, তবে এবার জাজ মাল্টিমিডিয়া নয়, অনন্য মামুনের অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্টের হাত ধরেই ‘মানুষ’ আসছে বাংলাদেশে।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা।

পরিচালক সঞ্জয় সমাদ্দার বলেন, ‘অবশেষে আমার ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে। এটি আমার প্রথম সিনেমা। চেয়েছিলাম দুই দেশের দর্শক সিনেমাটি একসঙ্গে উপভোগ করুক। তিন সপ্তাহ পরে হলেও আমার দেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখতে পাবেন। আশা করছি, ভালো সাড়াও পাব। এ সিনেমায় আমি মানুষের গল্পই বলতে চেয়েছি। তো আমার কাছে মনে হয়, যেহেতু আমি এই দেশের মানুষ, এখানকার প্রেক্ষাপটেই গল্পটা চিন্তা করেছি; সুতরাং দেশের দর্শক সিনেমাটি বেশি উপভোগ করবে।’




পটুয়াখালীতে ধ্বংসের পথে ৫০০ বছরের পুরোনো গুরিন্দা মসজিদ

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৫০০ বছরের পুরোনো মোগল আমলের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রাচীন ও অন্যতম নিদর্শন এক গম্বুজবিশিষ্ট গুরিন্দা জামে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপত্য শিল্পের এক অপরূপ সৌন্দর্যের দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এখনো ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এই মসজিদ। এটি উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া সড়কের পূর্ব পাশে গুরিন্দা এলাকায় খালের পাশে অবস্থিত।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বহু শতাব্দী আগে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের অনেক আগেই গুরিন্দা জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকের মতে, এ অঞ্চলে মুসলমানদের আগমন ঘটে আনুমানিক ১৪৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মোবারক শাহের চন্দ্রদ্বীপ বিজয়ের আগে, তখন হয়তো এটি নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটির মূল ভবন প্রায় ৩৬০ বর্গফুট ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট বর্গাকৃতির। এর উচ্চতা প্রায় ১৬ ফুট। এটি একটি একতলা মসজিদ। একটি মাত্র গম্বুজ বলে এটিকে এক গম্বুজ মসজিদও বলা হয়ে থাকে।

ধ্বংসের পথে ৫০০ বছরের পুরোনো গুরিন্দা মসজিদ ৮২৩ বছরের প্রাচীন মসজিদ, একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন মাত্র ১৭ জন

মসজিদটি ভূমি থেকে প্রায় চার ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি এতটাই ছোট, এর ভেতরে ১৮/২০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটির ভেতরে ও বাইরের সমস্ত দেয়ালের পলেস্তারা উঠে ইট বেরিয়ে গেছে। মসজিদটির পাশে রয়েছে ছোট একটি পাকা ভবনের বৈঠকখানা। এটি মসজিদটির চেয়ে আকারে ছোট। সেখানে ১০/১২ জন লোক বসতে পারেন। মসজিদটির মতো এ বৈঠকখানাটিরও একই দুরবস্থা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগ নিলে এটাও হতে পারে একটি দর্শনীয় স্থান।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শত শত বছরের পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত এ মসজিদের ঐতিহ্য যেন ক্রমেই কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় বাবুল খান বলেন, কে বা কারা নির্মাণ করেছেন, আমরা কেউ জানি না। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে নামাজ পড়েন এবং মানত করেন।

মসজিদটি একদম খালের পাড়ে। বৃষ্টি হলেই মসজিদটির ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। মসজিদ যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে রতনদী তালতলী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা খান জানান, মসজিদটি অনেক পুরোনো এবং জমিদারদের করা। মসজিদটি এখনই সংস্কার করা না হলে এটি একদিন বিলীন হয়ে যাবে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা এই মসজিদ দেখতে আসেন। এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই এখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা হয়। তাই প্রাচীন ও অন্যতম এই নিদর্শন অতিদ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

এদিকে প্রাচীন মসজিদটি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ফিল্ড অফিসার মো. খায়রুল বাশার বলেন, আমরা দেশের শত বছর বা হাজার বছরের স্থাপনাগুলো গুরুত্বসহকারে সংরক্ষণ করে প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। বিষয়টি আমাদের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রত্নতত্ত্বের রিজিওনাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোট না করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন রওশন এরশাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘খণ্ডিত জাতীয় পার্টি’ ও জি এম কাদেরের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোট না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, জি এম কাদের অবৈধভাবে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দখল করেছেন।

আজ মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রওশন এরশাদের একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের দেন তাঁর অনুসারী নেতারা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়।

 এই বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি (রওশন) বলেছেন জি এম কাদের অবৈধভাবে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দখল করেছেন। সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সুকৌশলে তাঁকে, সাদ এরশাদকে ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সরিয়ে দিয়েছেন। দলের মধ্যে ‘ক্যু’ করে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন।

রওশন বলেন, নির্বাচন অধিক গ্রহণযোগ্য করার জন্য জাতীয় পার্টি যাতে এককভাবে সারা দেশে প্রতিযোগিতামূলকভাবে নির্বাচন করে, সেটি নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছেন তিনি।

জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রওশন ও তাঁর ছেলে সাদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন, যেখানে এখনকার সংসদ সদস্য সাদ এরশাদ।




ঘন কুয়াশায় টিপু লঞ্চের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সুরভী, নিহত ১

বরিশাল অফিস::  ঘন কুয়াশায় চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুরভী-৮ ও টিপু-১৪ লঞ্চের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সুরভী-৮ লঞ্চের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত যুবকের পরিচয় ভোলার চরফ্যাশনের মো. সোহেল। জানা গেছে, সোহেলের দেড় বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। সুরভী-৮ লঞ্চে থাকা যাত্রী শাফায়াত আহমেদ রাজিব বলেন, ‘ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ২৫০ যাত্রী নিয়ে সুরভী-৮ লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটের দিকে সোমবার রাত নয়টার দিকে ছেড়ে যায়। মেঘনা নদীর হাইমচর নামক স্থানে আসার পর ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশনগামী টিপু-১৪ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ সুরভী-৮-এর সঙ্গে সংঘর্ষের।

এতে সুরভী-৮ লঞ্চটির ডান অংশ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় লঞ্চের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। পরে আহতদের মধ্যে সোহেল নামে এক যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সুরভী লঞ্চটি হাইমচর নামক স্থানে একটি ডুবচরে আটকা আছে।’

সুরভী-৮ লঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘন কুয়াশায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে সুরভী-৮ লঞ্চের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সুরভী লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। নিহত এবং আহতরা লঞ্চেই আছে।’




ভিটামিন “এ” প্লাস শিশুদের মেধার বিকাশ সহ শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে: বিসিসি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত

বরিশাল অফিস:: বরিশালে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্ধোধন করলেন সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ আজ (১২) ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশাল নগরীর  আলেকান্দা কিশোর মজলিস ক্লাবে উদ্বোধন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এর শুভ উদ্ধোধন করেন তিনি।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বিসিসি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ বলেন,জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পুষ্টি সেবা প্রতিষ্ঠানের একটি কর্যক্রম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করে থাকে।ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ৫ বছরের শিশুদেরকে খাওয়ানো হয়।এর দ্বারা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে,চোখের অসুখ দুর হয়।এছাড়াও শিশুদের মেধার বিকাশ সহ শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় তিনি আরো বলেন,জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে বরিশাল সিটির ২২০ টি কেন্দ্রে (১২-৫৯ মাস) বয়সী ৬০ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।আমাদের এই কার্যক্রমে সরকারী ও বেসরকারী (এনজিও) ১০ টি প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ২ জন সেচ্ছাসেবক এই কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছেন।প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন করে কর্মী থাকবেন। ক্যাম্পেইন কার্যক্রম অনলাইনে সুপারভিশন হবে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার,বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোঃ আতিকুর রহমান,বিসিসি কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন রয়েল, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আয়শা তৌহিদা লুনা, মেহেদী পারভেজ খান আবির,বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক প্রশাসন ডাঃ মোঃ সাইফুল হাসান,ইউনিসেফ বরিশাল ডিভিশনের চিফ ফিল্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডাঃ শেখ মোঃ মনিরুল ইসনান, সহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার কর্মী ও আগত শিশুদের অভিভাবক বৃন্দ।
অপর দিকে বরিশাল জেলায় ২০৯৭ টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ১১ মাসের ৪৩৩১৫ ও ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৯ শিশুকে ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তাছাড়া ভ্রাম্যমান জনগোষ্ঠির জন্য বাসষ্টান্ড, ল ঘাট এবং ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে কেন্দ্র থাকবে।



বরিশাল-১ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আবুল হাসানাত

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলার প্রবেশদ্বারের নির্বাচনী আসন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বিজয় ঘোষণা শুধু অপেক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটের মাধ্যমে পঞ্চম বারের মতো এমপি হতে যাচ্ছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাবরের মতো এ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকায়ই নয়; গোটা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর খ্যাতি রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের একমাত্র অভিভাবকও তিনি। ফলে এ আসনে কেউ তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী হতে চায়না।

তারপরেও গতানুগতিকভাবে এখানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী ও এনপিপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মোঃ তুহিন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে ওই দুই প্রার্থীকে আর নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি। এমনকি তাদের পক্ষে কোন কর্মী-সমর্থকদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জাপা মনোনীত প্রার্থীর নিজ উপজেলা আগৈলঝাড়ার জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, জাপা থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সেই প্রার্থী আমাদের সাথে কোনধরনের যোগাযোগ করেননি। কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া তার (প্রার্থীর) সাথে নির্বাচনী এলাকার জাপার নেতাকর্মীদের কোনধরনের সম্পর্কও নেই। একই কথা জানিয়েছেন, গৌরনদী উপজেলা জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরা।

জাপা প্রার্থীর নিজ এলাকা সেরাল গ্রামের বাসিন্দা সাগর সেরনিয়াবাত বলেন, পুরো নির্বাচনী আসনতো দূরের কথা জাপা প্রার্থীর নিজ গ্রামের ভোট কেন্দ্রেও এজেন্ট দেওয়ার মতো তার কোন লোক নেই। সূত্রমতে, বরিশাল-১ আসনে জাতীয় পার্টির এককভাবে একহাজার ভোটও নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে এনপিপির নেই কোন কমিটি। কখনও কোনদিন ওই পার্টির সভা-সমাবেশও হয়নি। পুরো নির্বাচনী এলাকায় এনপিপি’র একশ’ ভোটও নেই। এনপিপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ তুহিনের প্রতিবেশী আশোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশার, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, তুহিনের তার নিজ গ্রামের ভোট কেন্দ্রেও এজেন্ট দেওয়ার লোক নেই।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য করতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। ইতোমধ্যে আগৈলঝাড়ার পাঁচটি ইউনিয়নে বিশেষ সাংগঠনিক সভা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা। ১১ ডিসেম্বর বাগধা ইউনিয়নের বিশেষ সাংগঠনিক সভার মাধ্যমে পাঁচ ইউনিয়নে সভা সম্পন্ন করা হয়েছে। ওই সভায় ভোট কেন্দ্রের জন্য কমিটি গঠণ থেকে শুরু করে নির্বাচনের সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ লিটন বলেন, আমরা কোন দলের প্রার্থীকে ছোট করে দেখছিনা। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তাই আমাদের প্রার্থীর নির্দেশে ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি।

উল্লেখ্য, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল-১ আসন থেকে ১৯৯১ সালে প্রথম, ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় ও ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে রওশন এরশাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে গেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি গণভবনে যান বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, রওশন এরশাদের সঙ্গে তার ছেলে সাদ এরশাদ রয়েছেন। তারা দুপুর ১টায় গণভবনে যান।



পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ২৪