বরিশালে রাজনৈতিক মাঠে নিরবতা, নেই ভোটের আমেজ

বরিশাল অফিস:: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে সরকার দলীয় দুই নেতা প্রার্থী হওয়ায় ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা দুই জনেই দুই জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন। এখনো রায় না পাওয়ায় কর্মী সমর্থকরা স্থবির হয়ে পড়েছেন। শহরজুড়ে নির্বাচনী কোনো আমেজ শুরু হয়নি। এখানকার রাজনীতিতে নিরবতা দেখা দিয়েছে। বলতে গেলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কর্মীরা অপেক্ষায় আছেন কারো প্রার্থিতা বাতিলের।

বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে নির্বাচনী আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে সদর আসন। এ আসনের সরকার দলীয় প্রার্থীরাই গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাদের নিয়ে সদর আসন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে তাদের একজন সরকারের প্রভাবশালী সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মহানগর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি নৌকার টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর অন্যজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক শামীম। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। আসন্ন নির্বাচনে তিনি সদর আসন থেকে নৌকার টিকিটে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর এখান থেইে শুরু হয় বরিশাল সদর আসনে রাজনৈতিক অস্থিরতা।

রাজনীতির মাঠে হওয়া সভা সমাবেশে চলে দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের পালাপাল্টি বক্তব্য। এমনকি নৌকাকে হারাতে প্রকাশে মাঠে নেমে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীরসহ অনেক নেতারা। শুধু তাই নয়, নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয় বরিশালের রাজনীতি।

জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার ও মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনও করেন একাংশের নেতাকর্মীরা। তবে, সেই পরিবেশ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সাদিকের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করেন নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। তবে, সেই আপিল টেকেনি রিটানিং কর্মকর্তার দপ্তরে। তাই পুনরায় আপিল করেন নির্বাচন কমিশনে। সেখানে বলা হয়, সাদিক আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীর সম্পত্তি হলফনামায় গোপন করেছেন। তার স্ত্রীর আমেরিকায় বাড়ি আছে, এমনকি তারা স্বামী-স্ত্রী দুই জনেই আমেরিকার ভোটার।

এবার নির্বাচন কমিশনে সাদিক আব্দুল্লাহও আপিল করেছেন জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে। জাহিদ ফারুক হলফনামায় তার ও স্ত্রীর সম্পত্তির ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। দুই জনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের শুনানির রায় এখনো না দেওয়ায় নিরাবতা দেখা দেয় উভয়ের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। আতঙ্ক বিরাজ করছে কারও মনোনয়ন বাতিল হয় কি না। কেননা বরিশাল সদরে নৌকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবাধে দলের একটি অংশের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন। এক্ষেত্রে চাপে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী। তাই দুই পক্ষই চাচ্ছে একজনের মনোনয়ন যেন বাতিল হয়। তাই কোনো পক্ষই ভোটারদের কাছে কোনো অজুহাতেই যাচ্ছেন না। ব্যবহার হচ্ছে না প্রচারণার কোনো মাধ্যম। দোকান পাটেও ভোটের চেয়ে প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়েই আলোচনা বেশি।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক বলেন, কেউ কেউ হয়তো এই পরিস্থিতি অবলোকন করছেন। তবে নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি আইন মেনে চলেন। যেহেতু ১৮ ডিসেম্বরের পর ছাড়া প্রচারণায় নামা যাবে না তাই তিনি তা মেনে চলছেন। এমনকি তার কর্মী সমর্থকরাও মেনে চলছেন। কিন্তু প্রতিদিনই তার বাসায় প্রচুর মানুষ আসছেন। তাদের সঙ্গে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম দেখা করছেন ও কথা বলছেন।

মহানগর আওয়ামী লী‌গের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হ‌য়ে‌ছেন। আচরণবি‌ধি সংরক্ষণ কর‌তে গি‌য়ে নেতাকর্মীরা নিরাবতা পালন কর‌ছেন। আগামী, ১৮ ডি‌সেম্ব‌রের আগে প্রচারণায় নামা যা‌বে না। ত‌বে, কেন্দ্র ও নির্বাচন পরিচালনার কাজ চল‌ছে।




বরিশালে শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র, চ্যালেঞ্জে জাপা

বরিশাল অফিস:: দলীয় ভোট ব্যাংক তলানিতে থাকলেও মহাজোটের সমর্থনে ২০০৮ সাল থেকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটি জাতীয় পার্টির (জাপা) দখলে। দলটির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রথমবার এমপি হন এবং পরের দু’বার হয়েছেন তাঁর স্ত্রী ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রত্না আমিন। এবারও তিনি প্রার্থী। আসন ভাগাভাগিতে এ আসনটি জাপার ঘরে যাবে– ভোটের মাঠে স্থানীয় বিশ্লেষণ এমনই ছিল।

তবে এ হিসাব ওলটপালট হয়ে গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায়। অন্যদিকে ১৪ দলের আসন সমঝোতা প্রশ্নে আসনটির আরেক দাবিদার জাসদ (ইনু) প্রার্থী মো. মহসীনও আছেন শক্ত অবস্থানে। জাপাকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে নারাজ চুন্নু ও মহসীন। এ দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে জোটের সমর্থন পেলেও আসনটি ধরে রাখা জাপার জন্য কঠিন হবে বলে মনে করে স্থানীয় সচেতন মহল।

এ আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক। ২০০৮, ’১৪ ও ’১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। মহাজোটের আসন সমঝোতায় তাঁকে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে হয়। এবারও তাঁর পরিণতি পুরোটাই কেন্দ্রীয় সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নু বলেন, বাকেরগঞ্জ আসনটি আওয়ামী লীগের। জাপা পরবাসীর মতো আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে এমপি হচ্ছে। তারা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের আসন পুনরুদ্ধারে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকব। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বাধা নেই।

জাসদের মো. মহসীন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকলে তাদের সঙ্গে আমার তথা জাসদের সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু জাপা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসনটি জাপাকে দেওয়া হলে আমি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাশের দুমকী উপজেলার রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জে ‘উড়ে এসে জুড়ে’ বসেছেন। এবার ছাড় দেওয়া হবে না।

দুই প্রার্থী জাপার হুমকি যে কারণে::

বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের এবং জাপা ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে। গত ৩০ নভেম্বর চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৭ জন চেয়ারম্যান। এর দু’দিন আগে হাফিজ মল্লিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শুধু নিজের এলাকা ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সঙ্গে ছিলেন। জানা গেছে, বর্তমানে পাদ্রীশিবপুর, ভরপাশা, রঙ্গশ্রী ও ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ মল্লিকের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়া এবং কলসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান আছেন নীরব ভূমিকায়।

চুন্নু ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ১৯ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়েছিলেন। ওই বছর ধানের শীষের কাছে ১৩ হাজার ১৪৬ ভোটে হারেন নৌকার প্রার্থী। ২০০৯ সাল থেকে চুন্নু টানা ৩ বার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে তাঁর রয়েছে আলাদা পরিচিতি।

জাপার নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার প্রার্থী ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রতিটি নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা এ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল যথাক্রমে ১৯ হাজার ৪৮৬, ১৫ হাজার ৬৬১ এবং ২০ হাজার ১২০টি।

জাসদের মো. মহসীন জনপ্রতিনিধি হতে না পারলেও এলাকার কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায় তাঁর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। প্রকল্পগুলো হলো– নির্মাণাধীন গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতু, বরিশাল-বাউফল সড়ক নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ প্রকল্প ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণ। গত এক বছরে উপজেলার সব ইউনিয়নে জাসদের সম্মেলন ও কমিটি গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড-বাকেরগঞ্জ উপজেলার সভাপতি ফরুক হোসেন মল্লিক বলেন, জাপার বিরুদ্ধে যিনি শক্তিশালী প্রার্থী থাকবেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা চুন্নুর সঙ্গে আছি।

জাপার প্রার্থী নাসরিন জাহান রত্না আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাপার প্রস্তাবনা রয়েছে যারা বর্তমান এমপি আছেন, তাদের সবাইকে মহাজোটের প্রার্থী করার জন্য। এ বিষয় চূড়ান্ত হবে ১৭ ডিসেম্বর।




বরিশালে আ.লীগ প্রার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বরিশাল অফিস:: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ভোটযুদ্ধের আগেই প্রার্থীদের মধ্যে চলছে জোটের মনোনয়নযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন এ আসনে নৌকা প্রতীকের কান্ডারি-এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। টানা দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেনন এমপি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস এ আসনে প্রার্থী হওয়ায় ‘প্রার্থিতা’ নিয়ে জোটগত লড়াই শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পাঁচবারের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেননের প্রার্থিতা নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ও দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরেও তারা অস্বস্তিতে রয়েছেন।

এ ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল ইসলাম মনি ও শেরেবাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক রাজু। আওয়ামী লীগ কিংবা তার শরিক দল থেকে যিনিই চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন-তার জন্য তারা দুজনও দুশ্চিন্তা ও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। মনোনয়ন প্রশ্নে জোটের আসন ভাগাভাগিতে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে ভোটের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে। এ আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের তিন সংসদ সদস্য গত ১৫ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একসময়ের চরমপন্থি সর্বহারা ও সন্ত্রাসীদের চারণভূমি বানারীপাড়া ও উজিরপুরে গত দেড় দশক ধরে বিরাজ করছে শান্তিময় পরিবেশ। গ্রামীণ জনপদগুলো রূপ নিয়েছে শহুরে জনপদে। এসব কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ সাধারণ ভোটাররা মুখিয়ে আছেন। এখানে ওয়ার্কার্স পার্টির অবস্থান খুবই নাজুক। আওয়ামী লীগের ওপর ভর করে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে চান রাশেদ খান মেনন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত হওয়া এ আসনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দিতে নারাজ।

গুঞ্জন রয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত একটি পক্ষ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসকে ঠেকিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে রাশেদ খান মেননকে এ আসনে নৌকার প্রার্থী করার চেষ্টা-তদবির করছেন। শেষ পর্যন্ত সেটা হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কারও কপাল খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা অপেক্ষায় রয়েছেন, জোটের মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

তাদের অভিমত এ আসন জোটের প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে ছেড়ে দেওয়া হলে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকবেন। কারণ এ আসনে জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পাটির সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক।

পূর্বের বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ-উজিরপুর) আসনে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হাতুড়ি প্রতীকে রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম ফারুক অভির কাছে পরাজিত হন। এরপর তিনি আর এ আসনমুখী না হয়ে পরে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ঢাকা-৮ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মেনন এবার বরিশাল-২ ও বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। এবারও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বাবুগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপন। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দুদলই নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। মেনন ছাড়াও এ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান।

অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংশোধিত বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম মনি, দশম সংসদ নির্বাচনে অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে মো. শাহে আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রথমে অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছিলেন ইউনুস। তখন এ আসনে প্রথমে জাপার প্রার্থী চলচ্চিত্র অভিনেতা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিদ্যুৎ বিল খেলাপিতে হওয়ার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে নৌকার টিকেট পেয়ে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য হন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহে আলম। এবার তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস একজন জনদরদী, নির্মোহ ও ক্লিন ইমেজের কর্মীবান্ধব নেতা। তার বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা একাট্টা হয়ে কাজ করছি। তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। নবরূপে তারা উজ্জীবিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ আসন আওয়ামী লীগের দুর্গ। দলকে বাঁচাতে তার বিকল্প নেই।

ওয়ার্কার্স পার্টির উজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল বলেন, ১৪ দলীয় জোট রাশেদ খান মেননকে এ আসনে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বানারীপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মিজানুর রহমান চোকদার বলেন, এ আসন একসময় আমাদের দখলে ছিল। জাতীয় পাটির প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসকে এ আসন ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি বিজয়ী হবেন-এটা সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রার্থী প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাসের বিজয় নিয়েও তার কর্মী-সমর্থক ও ভক্ত-অনুরাগীরা স্বপ্নের জাল বুনছেন। প্রসঙ্গত, বরিশাল-২ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইতে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

 




শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ  ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিটের আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ক্রীড়াজগতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আজীবন কৃতিত্ব ও অর্জনের জন্য ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিটের (ডাব্লিউএফএস) আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসগত ১১ ডিসেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সৌদি আরবের জেদ্দায় ১২ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ফুটবল সামিটের সর্বশেষ সংস্করণের আগে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়




বরিশাল সদর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুলের শুভেচ্ছা

বরিশাল অফিস::  স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট বরিশাল সদর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সদ্য যোগদান কৃর্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফুলের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট বরিশাল সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে সদ্য যোগদান কৃর্ত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদারকে ফলের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

আজ বুধবার (১৩) ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে তিনটায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্য জোটের বরিশঅল উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহজালাল,প্রচার সম্পাদক আয়সা সিদ্দিকা,দপ্তর সম্পাদকশান্তা ইসলাম শান্তা,

সহ দপ্তর সম্পাদক শাহানাজ বেগম, সদস্য নজরুল ইসলাম, সদস্য সুমন তালুকদার,সদস্য আব্দুর রহিম,সদস্য জায়েদা খাতুন ও সদস্য রাব্বি হাওলাদার প্রমুখ।




বরিশালের গৌরনদীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

বরিশাল অফিস::  বরিশালের গৌরনদীতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ৬শত ৫০টি শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্প ও ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে কম্বল বিতরণ করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।

এসময় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম সরদার, সাবেক ইউপি সদস্য বিপ্লব বাবুল রায়, চানমনি দেওয়ান সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




বামনা-বদনীখালী পয়েন্টে ফেরী সার্ভিস চালু

বরিশাল অফিস :: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে বরগুনা জেলার বামনা ও বেতাগী উপজেলার বদনীখালী পয়েন্টে বিষখালী নদীতে ফেরী চলাচল শুরু হয়েছে। এ ফেরীর মাধ্যমে পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা সাথে সরাসরি যাতায়াত সৃষ্টি হওয়ায় খুশি তিন উপজেলার জনগন। আজ বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে বামনা উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকার ফেরীঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির স্বর্নচাপা নামের মিনি ইউটিলিটি ফেরীটি বিষখালী নদীর অপরপ্রান্ত বেতাগী উপজেলার বদনীখালী ফেরীঘাটে প্রথম যাত্রা শুরু করে।

বামনা-বদনীখালী ফেরী চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আল ইমরান, সহকারী কমিশনার ভূমি তারিক হাসান, রামনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার,বামনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জানাগেছে, ২০১৭ সালে বামনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বামনা-বদনীখালী ফেরী চাই নামে একটি সংগঠন এর মাধ্যমে বিষখালী নদীতে প্রথম ফেরীর চলাচলের দাবী ওঠে। এসময় বামনা ও বেতাগীর দুই প্রান্তের কয়েক হাজার মানুষ ফেরীর দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নেন। দীর্ঘ ৬ বছর পরে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সদ্য প্রয়াত এ্যাড. হারুন অর রশিদ এর প্রচেষ্টায় বামনা-বদনীখালী পয়েন্টে ফেরী স্থাপন কাজ শুরু হয়।

আজ বুধবার প্রথম যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে ফেরী সার্ভিসটি চালু হয়। বিষখালী নদীর বামনা-বদনীখালী পয়েন্টে ফেরী চলাচল শুরু হওয়ায় পায়রা সমূদ্র বন্দর, পটুয়াখালী, গলাচিপা, ভোলা, বামনা, মঠবাড়িয়া, বাগেরহাট, মংলা সমূদ্র বন্দর, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরার সাথে যাতায়াত সহজ হবে।




বরিশালের টর্চার সেলের নীরব সাক্ষী ফিরু বেগম

বরিশাল অফিস:: ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে বরিশাল নগরীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা কলোনীকে ব্যবহার করা হতো বরিশাল বিভাগের পাকিস্তানী সৈন্যদের প্রধান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে। যার দায়িত্বে ছিলেন পাকিস্তান হকি টিমের ক্যাপ্টেন কর্নেল আতিক। বিভাগের সবগুলো জেলায় এখান থেকেই অপারেশন পরিচালনা করা হতো। ওয়াপদা কলোনীর ১৩টি ভবন পাকিস্তানী সৈন্য ও আল-বদর রাজাকারদের দখলে থাকলেও দুটি ভবন ব্যবহার করা হতো টর্চার সেল হিসেবে। এরমধ্যে একটি ছিল নারী নির্যাতনের জন্য।

আরেকটি পুরুষদের নির্যাতনের জন্য। এখানে কোনো পুরুষ বাঙালি কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আসার পর তাকে ২৪ ঘন্টার বেশি বাঁচিয়ে রাখা হতো না। কলোনী সংলগ্ন সাগরদী খালের ওপরের ব্রিজে তুলে বা কখনো খালের পাড়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। এসব খুব কাছ থেকে দেখেছেন ওয়াপদা কলোনীর বাসিন্দা ফিরু বেগম। ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। তার বাবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্পিডবোট চালক ছিলেন। যে কারণে খাল লাগোয়া বড় বিল্ডিংটির দ্বিতীয় নম্বর কক্ষে থাকতেন তারা। দেশ আক্রমণের পর তাদের পরিবারকে ‘ডান্ডি কার্ড’ দেওয়া হলে কোয়ার্টারে থাকতে এবং চলাফেরা করতে তাদের কোন সমস্যা হতো না। তারপরেও তার মা সব সময় আতঙ্কে থাকতেন।

ঘরের চৌকির নিচে বিছানা পেতে সেখানেই সকলকে শোয়ায়ে রাখতেন। ফিরু বেগম বলেন, সাল তারিখ ঠিক মনে নেই। দেশে যুদ্ধ লেগে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ওয়াপদা কলোনীর অধিকাংশ বাসিন্দারা নিরাপদে চলে যান। কিন্তু আমার আব্বা স্পিডবোট চালক থাকায় তিনি চাইলেও যেতে পারলেন না। তাকে ডান্ডি কার্ড দেওয়া হলো। একদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখি মিলিটারিরা ওয়াপদা কলোনী দখলে নিয়েছে। আরেকদিন দেখি খালের পাড়ে বড় বড় চারটি বাঙ্কার তৈরি করছে। আমরা বুঝতাম না ওগুলো কি। মিলিটারিরা যখন এসব বানাচ্ছিল তখন ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতাম। তারা চলে গেলে আমিসহ ছোট ছোট যে কয়জন ছেলে-মেয়ে কোয়ার্টারে থাকতাম তারা দৌঁড়ে আসতাম। আব্বা আমাদের ধমকাতেন আর বলতেন, কখনো যেন মিলিটারিদের সামনে না পরি। তখন আব্বাই বলেছিলেন, ওইগুলো বাঙ্কার।

ফিরু বেগম বলেন, পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর পর কখনোই আমরা রুমের বাহিরে বের হতে পারতাম না। আমার ভাই দেলোয়ার হোসেন তখন কলেজের ছাত্র। আব্বা সরকারি চাকরি করেন, আমাদের ডান্ডি কার্ড আছে, এসবের কারণে সে (দেলোয়ার) আর ঘরে থাকতো না। সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে যেত। একদিন মিলিটারি আমাদের ঘরে এসে ভাইকে ধরে নিয়ে ঘরের সামনে বেঁধে রাখলো। মিলিটারি আমাদের জানালো তারা দেলোয়ারের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় পেয়েছে। মা-বাবার তখন কিছুই করার ছিল না। ভাইকে ঘরের সামনের আম গাছের সাথে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হলো। শেষে আমার ভাইসহ আটক অন্যান্যদের গুলি করার জন্য পাক সেনারা কীর্তনখোলা নদীর তীরে নিয়ে গেল। কিন্তু দেলোয়ারকে গুলি করার জন্য দাঁড় করালেও গুলি করার আগেই সে নদীতে ঢলে পরে যায়। এরপর নদীতে ভাসতে ভাসতে দূরে গিয়ে উঠে ভিজা কাপড়ে আব্বার অফিস বগুড়া রোডে গিয়ে ওঠে। আব্বা দেলোয়ারকে ওয়াপদা কলোনীতে না এনে তার এক বন্ধুর বাসায় আটকে রাখেন।

এভাবে তিন মাস সেখানে থাকলেও একদিন দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দেলোয়ার পালিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরে নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় বসে মিলিটারির হাতে ধরা পরার পর ৭ ডিসেম্বর দেলোয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফিরু বেগম আরও বলেন, টর্চার সেলের সকল নৃশংসতা আমি দেখেছি। খালের পাড়ে আমাদের বাসা থাকায় প্রতিদিন লাশ ভাসতে দেখতাম। প্রতিদিন আসরের আজানের পর আমাদের বাসার সামনে থেকে সারিবদ্ধভাবে আটক মুক্তিযোদ্ধা ও নিরিহ বাঙালিদের ব্রিজের ওপর নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। তিনি আরও বলেন, রাত হলে নারীদের টর্চার সেল থেকে করুণ চিৎকার, কাকুতি-মিনতি, কান্নার শব্দ ভেসে আসতো। আমরা কেউ ঘুমাতে পারতাম না। মনে হতো নরকের মধ্যে আছি। যেখানে প্রতিটি মুহুর্ত অন্যের মৃত্যু দেখেছি। সেসব স্মৃতি মনে পরলে এখনও ভয়ে আতঁকে উঠি।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয় ওয়াপদা কলোনীতে। এখানে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের ঘটনার পাশপাশি গণকবরের কথাও জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। পাক সেনাদের কবল থেকে ওয়াপদা কলোনী উদ্ধারের নেতৃত্ব দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার ঘোষ পুতুল, পরিমল কুমার ঘোষ, এএমজি কবির ভুলু জানিয়েছেন, এখানে ১০ হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কতোজন নারী বন্দী ছিলেন তা সুনির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি।

বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনী দেশের বড় বড় টর্চার সেল ও গণহত্যার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি। ২০১২ সালে ওয়াপদা কলোনী সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন। কিন্তু তার অকাল মৃত্যুর ফলে সেই উদ্যোগ আর অগ্রসর হয়নি। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির মুখে ২০২০ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ চার কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াপদা কলোনীর বধ্যভূমি সংরক্ষণ করেছেন।




বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯ কোটি টাকা বেতন বকেয়া

বরিশাল অফিস :: কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১৯ কোটি টাকা বেতন বকেয়া থাকা সত্বেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদের মেয়র অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে দিয়েছিলেন অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ। অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পঞ্চম পরিষদকে আর্থিক সংকটে ফেলতেই অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। অবশেষে চতুর্থ পরিষদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ১৩৪ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও চতুর্থ পরিষদের আমলে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে চাকরিচ্যুত ৩১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বহাল করেছেন বর্তমান সিটি মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুমা আক্তার বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ১৩৪ জনের নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ৫১ জনের নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ পরিষদের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ অব্যাহতি নেয়ার পূর্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৯ কোটি টাকা বকেয়া রেখে যান। আর এরইমধ্যে আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় তিনশ’জনকে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখায় অস্থায়ী ভিত্তিতে অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। পঞ্চম পরিষদের মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি জানতে পেরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমান পঞ্চম পরিষদকে ঝামেলায় ফেলতে এ অপ্রয়োজনীয় অবৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ দাবি করেন। পরবর্তীতে গত ৭ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রশাসন, হাটবাজার, পরিছন্নতা, ভান্ডার, বিদ্যুৎ, জন্ম নিবন্ধন, প্রকৌশল, সিটি নিরাপত্তা, কর আদায়, সম্পত্তি, বাণিজ্য ও জনসংযোগসহ অন্যান্য শাখায় কর্মরত ১৩৪ জন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ১৩৪ জনের নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ৫১ জনের নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপর একটি নোটিশে দেখা গেছে, সদ্য সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দায়িত্বথাকাকালীন সময়ে চাকরিচ্যুত ৩১ জনকে পূন.নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২৫ জনের বিল ছাড় হয়েছে। ১৬ জনের বিল খুব শীঘ্রই ছাড় করা হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার একান্ত সহকারী মোঃ রুবেল হাওলাদার বার্তা২৪,কমকে বলেন, নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চতুর্থ পরিষদ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখায় অপ্রয়োজনী ও অবৈধ নিয়োগ দিয়েছিলো। তিনি (রুবেল) আরও বলেন, সাবেক মেয়র সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১৯ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছেন। পাশাপাশি ৩৯ জন স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করেছেন। ওএসডি করা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের খোড়পোষের ভাতাও দেয়া হয়নি। ফলে চাকরিচ্যুত ওইসব স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন। এখন তাদের পূর্নবাসনের প্রক্রিয়া চলছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুমা আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের যতোটা কর্মচারী প্রয়োজন তার চেয়েও দ্বিগুন রয়েছে। যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিত্বে নিয়োগ দেওয়া কর্মচারী। নিয়োগ দেওয়ার সময় শর্ত ছিল কর্তৃৃপক্ষ চাইলে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তাই ১৩৪ জনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৫১ জনের নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।