মুলাদীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরিশালের মুলাদীতে রাহিমা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের আলীমাবাদ গ্রামের ব্যাপারী বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাহিমা ওই গ্রামের শিপন ব্যাপারীর স্ত্রী।

পারিবারিক কলহের জের ধরে রাহিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী শিপন ব্যাপারী। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে মর্গে প্রেরণ করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম।

প্রতিবেশী আবুল খায়ের তালুকদার জানান, শিপন ঢাকায় চাকরি করলেও তার স্ত্রী একাই বাড়িতে থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যার পর শিপনের ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে এক নারী ডাকাডাকি করেন। সাড়া না মেলায় জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায় রাহিমা ঘরের চালার আড়ার সঙ্গে ঝুলছেন। পরে ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

এদিকে শিপন ব্যাপারী মোবাইলে জানান, বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় ফোন দিলে স্ত্রী রিসিভ করেননি। রাতে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান।

ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণধর্ষণের অপরাধে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

গণধর্ষণ মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মিজান হাওলাদার (৪৫) অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পরে রাতে তাকে থানায় আনা হয়। শুক্রবার সকালে আদালতে হাজির করলে বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মিজান হাওলাদার বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত আ. রব হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক জানান, ২০১১ সালে মিজান ও তার দুই সহযোগী মিলে ময়মনসিংহের ফুলপুর এলাকা থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ফুলপুর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৭, তারিখ ৭/৬/২০১১)।

মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৭ সালে মিজান হাওলাদারকে অনুপস্থিতিতে ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাব-৩ এর সহযোগিতায় তাকে হাতিরঝিল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ সরকার: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ সরকার নির্ধারণ করবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

আমীর খসরু বলেন, “ভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করবে। তখন জনগণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌলিক চাহিদার কথা বলতে পারবে, আর সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে এবং জনগণ যদি সমর্থন দেয়, তবে দলটি আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে নির্বাচনের পরপরই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অর্থনীতি আর সীমিত গোষ্ঠীর হাতে থাকবে না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে গিয়ে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করতে হবে। গ্রামের মানুষের তৈরি একটি পণ্যই হতে পারে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার।”

তিনি জানান, বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগে গিয়ে মানুষের সমস্যা ও দাবি শুনছে। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পকে পুনরুদ্ধার, ব্র্যান্ডিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া হবে।

আমীর খসরু আরও বলেন, “আমরা চাই গ্রামীণ মানুষ ঘরে বসেই পণ্য তৈরি করুক, যা দেশ-বিদেশে বিক্রি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং অর্থনীতির মূলধারায় সাধারণ মানুষ যুক্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মসজিদ উন্নয়নে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতার অনুদান

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদশী বায়তুল নূর জামে মসজিদের উন্নয়নে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নগদ অর্থ অনুদান দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ পরিচালনা কমিটির হাতে এ অনুদান তুলে দেন তিনি।

এর আগে নামাজ শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন হাওলাদার, গৌরনদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ মিলন, জেলা উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম টিটন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এসএম হিরাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফেরানোর দাবি জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান করে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ দিন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার পরিবারের অনেকে চরম মানসিক ট্রমা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনের খোঁজ না পাওয়ায় অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জামায়াত নেতার দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সরকার আমলে সাতশ’রও বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ তালিকায় রয়েছেন। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল বিরোধী কণ্ঠরোধের অংশ, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে তিনি কয়েকজন দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যদিও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এসেছেন, তবে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গুমের শিকারদের ফিরিয়ে দেবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।”




“নৈতিকতার বিকল্প নেই”— নির্বাচন কমিশনের বটম লাইন জানালেন সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ‘বটম লাইন’ বা মূল ভিত্তি হলো পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ কোনোভাবেই নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কোর ট্রেনারস ট্রেনিং কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক বার্তা পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। “যোগাযোগ ভেঙে পড়া মানেই সব ভেঙে পড়া,” মন্তব্য করে তিনি যোগ করেন— স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যে অর্থ খরচ হয়, সেটিকে ব্যয় নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

যোগাযোগ ভাঙনের ঝুঁকির প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অংশ নেওয়া এক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন। সেখানে দেখা যায়, একটি বার্তা একাধিক ধাপ পেরোতে গিয়ে বিকৃত হয়ে যায়। একই ঝুঁকি নির্বাচনকালীনও থাকতে পারে, তাই প্রত্যেককে মনোযোগী হয়ে শুনতে ও সঠিকভাবে নোট নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “অনেক সময় পেছনের সারিতে বসা প্রশিক্ষণার্থীরা মনোযোগ হারায়, এতে বার্তা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রশিক্ষণের সময় সতর্ক থাকতে হবে।”

নাসির উদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ শুধু রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নয়, নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট সমস্যাও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ সেল গঠন করবে।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনকানুন শেখানোর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। এ বার্তা যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের প্রশিক্ষণে ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন। দুই ধাপে মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।




“প্রাণ যেতে পারে, কিন্তু নির্বাচনে কারসাজি নয়”— ইসি আনোয়ারুল

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত সবকটি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কোর ট্রেনারস ট্রেনিং কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইসি আনোয়ারুল বলেন, কমিশনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “জীবন বিপন্ন হলেও নির্বাচনে ফাঁকিবাজি কিংবা কারসাজি মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের শপথ নিতে হবে— দায়িত্ব পালনে কোনো আপস নয়।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন হোঁচট খাচ্ছে। তাই কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

আসন্ন নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে কমিশনার বলেন, “পুরো ভোট প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। তারা যদি দক্ষ, সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে একটি ভোটকেন্দ্র নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা সম্ভব।”

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব চ্যালেঞ্জের তালিকা প্রণয়ন করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তাহলেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।




গণতান্ত্রিক রোডম্যাপের অপেক্ষায় বিএনপি : ফখরুলের সতর্ক বার্তা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন ধারায় নিতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ফখরুল বলেন, হতাশার কথা বললে অনেক সময় সমালোচনা শুনতে হয়, তবে বাস্তবতা হলো— আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় এসেছেন— এমন কোনো ভ্রান্ত ধারণা কারও মধ্যে থাকা উচিত নয়। এখনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনেই হতে হবে মূল রাজনৈতিক শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ স্বাভাবিক হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জনগণের মনে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় গভীর হচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তা না হলে রাষ্ট্র ও জাতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কাও তীব্রতর হবে।

বিএনপির সংস্কার-অবদান প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “সংস্কারের প্রথম ধাপ শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান— বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। অথচ কিছু গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারবিরোধী। বাস্তবে যত বড় সংস্কার হয়েছে, তা বিএনপির হাত ধরেই।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিএনপিকে হেয় করার জন্য মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।”




গাজায় ইসরায়েলি হামলা : একদিনে নিহত অন্তত ৬১

ইসরায়েলি সেনাদের টানা বোমাবর্ষণে আবারও রক্তাক্ত হলো গাজা নগরী। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা হামলায় অন্তত ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জন মানবিক সহায়তার খোঁজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে ওইদিন আরও চারজন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে দু’জন শিশু। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধে ক্ষুধা-সংক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৭-তে, যার মধ্যে ১২১ শিশু।

বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু জায়তুন এলাকার দক্ষিণাংশেই ১,৫০০-টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, বহু পরিবার ঘর ছেড়ে উপকূলের দিকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজা নগরীতে ইসরায়েলের এই অভিযানকে যুদ্ধের “নতুন ও ভয়াবহ ধাপ” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে এবং লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ আরও গভীর সংকটে পড়বে।”

এদিকে ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে খান ইউনিসে একটি তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক নারী ও তার শিশুও রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা খাবারের সন্ধানে যাওয়া মানুষদের ‘গুম’ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা গাজায় হামাস যোদ্ধাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে এবং কয়েকজন যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকটে লাখো মানুষ মরিয়া হয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মানুষজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খাবার পাচ্ছে না। অনেকেই জীবন বাজি রেখে বিতরণকেন্দ্রে ছুটছে।”




কুয়াকাটা সৈকতে অবৈধ বালু উত্তোলনে যুবককে জরিমানা ও কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতি ঝাউবন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় মো. হাসনাত (১৯) নামের এক যুবককে হাতে নাতে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ট্রলি ভর্তি বালুসহ হাসনাতকে আটক করা হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪ ও ১৫ ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সৈকত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, গঙ্গামতি এলাকার বাসিন্দা মো. হাসনাত ট্রলিতে করে সৈকতের বালু বহন করছে। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, “সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বালু উত্তোলনের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ঝুঁকির মুখে পড়ে উপকূলীয় এলাকা। তাই এ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, নিয়মিতভাবে কুয়াকাটা সৈকতে নজরদারি চলছে এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষ এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় এ পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম