বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি-ফানুসে নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি ও ফানুসে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।



তেজগাঁওয়ে ট্রেনে আগুন, ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।



বরগুনায় নৌকার মিছিলে অসুস্থ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরগুনায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মিছিলে গিয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে।‌ সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টার দিকে বরগুনা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে বরগুনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান জামাল জানান। মৃত নুরুল ইসলাম মুসুল্লি (৬৫) বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

মনিরুজ্জামান বলেন, “আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বরগুনা-১ (সদর ও আমতলী, তালতলী উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর পক্ষে সন্ধ্যায় শহরে মিছিল হয়।ওই মিছিলে অংশ নেন নুরুল।

“মিছিল শেষ করে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বসেছিলেন; হঠাৎ তিনি পড়ে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চিকিৎসক ডেকে তার পরীক্ষা করান।”

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নুরুলকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান জেলা শ্রমিক লীগের এ নেতা।




ঝালকাঠি-১: প্রচারে নামলেন মনির, ধীর গতিতে শাহজাহান

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি-১ আসনে নানা নাটকীয়তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে আসা শাহজাহান ওমর নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অপরদিকে নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান মনির ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন ঘিরে ঝালকাঠির মানুষের সবাই চোখ রাজাপুর-কাঁঠালিয়া নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসনের দিকে। হঠাৎ করেই বিএনপি থেকে নৌকায় চড়া সাবেক বিএনপির নেতা শাহজাহান ওমর জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক আলোচনা-সমালোচনা। এ আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়া আর ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম (ট্রাক), তৃণমূল বিএনপির মো. জসীম উদ্দিন তালুকদার (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মজিবুর রহমান (ডাব), জাকের পার্টির আবু বকর সিদ্দিক (গোলাপ ফুল), জাতীয় পার্টির এজাজুল হক (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. মামুন সিকদার (ছড়ি)। আসনটির সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর এবং মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনি এলাকা ঝালকাঠির রাজাপুরের নিজের বাসভবনে আসনে শাজাহান ওমর। সেখানে অল্প কয়েকজন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাড়ির উঠানে বৈঠক করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকরা নির্বাচনি প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ওমর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে খুব বেশি গুরুত্ব দেখাননি। তিনি বলেন, “আমি একজন যোদ্ধা, যুদ্ধ করেই জয়ী হতে চাই।”

প্রচারের উত্তাপ না থাকার কারণে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজাপুর-কাঠালিয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরেই তার কর্মী সমর্থক রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রচার-প্রচারণার জন্য মাঠে নেমেছেন। এ কারণে নিজের বিশেষ প্রচারের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন শাহজাহান ওমর। এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর রাজাপুরে নিজের নির্বাচনি এলাকায় ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির। এ স্বতন্ত্র প্রার্থী দুপুরে নিজের প্রচারে নেমে পড়েন এবং ঈগল মার্কায় নিজের পক্ষে ভোট চান।

এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। শাহজাহান ওমরের পাশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় উল্লেখযোগ্য নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “আমি রাজাপুর-কাঠালিয়ার জনগণের দাবির কারণে প্রার্থী হয়েছি।”

চার দলীয় জোট সরকারের আমলে রাজাপুর-কাঠালিয়ায় শাহজাহান ওমর ও তার বাহিনীর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে মনির বলেন, “জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করবে।” ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন শাহজাহান ওমর। ২৯ নভেম্বর হঠাৎ করে তিনি জামিন পান। তার পরেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে গুঞ্জন ছড়ায়। পরে আওয়ামী লীগ তাকে ওই আসনে নৌকার প্রার্থী করে।

অথচ ২৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগ যে মনোনয়নের তালিকা ঘোষণা করেছিল, সেখানে ঝালকাঠি-১ আসন দেওয়া হয়েছিল বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনকেই। তবে শেষ বেলায় তাকে হতাশ হতে হয়।




প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেছে মানতা সম্প্রদায়ের জীবন

মো: আল আমিন পটুয়াখালী ও এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: অবশেষে নাগরিক অধিকারসহ স্থায়ী বাসস্থান পেল পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদীতে নৌকায় ভাসমান জনগোষ্ঠী মানতা সম্প্রদায়। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমিসহ ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত এ সম্প্রদায়ের মানুষ। মিশে যেতে চান সমাজের মুলধারায়। শিক্ষায় আলোয় আলোকিত করতে চায় নতুন প্রজন্মকে।

এ যেন এক আজব জীবনের গল্প। জলেই জন্ম-জলেই বসবাস। মৃত্যুর পর লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় নদী কিংবা সাগরের জলে। নিজ দেশে পরবাসী এমন এক গোষ্ঠীর নাম ‘মানতা সম্প্রদায়থ। তারপরও বেঁচে থাকার লড়াই তাদের। জন্মের পর থেকেই নৌকায় বেড়ে ওঠা। নৌকাতেই হয় বিয়ে এবং সংসার। তাদের জীবন চলে জোয়ার আর ভাটার ছন্দে। ছইওয়ালা ছোট্ট একটি ডিঙ্গি নৌকা। যে নৌকায় রয়েছে কয়েক প্রজন্মের জীবনের হাজারো গল্প। যাদের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন সবই নৌকাতেই।নৌকাকে নির্ভর করে নদীই জীবিকার উৎস। আবার মৃত্যু এবং সমাধি এ নদীতেই।এই হল পটুয়াখালীর নদীতে ভাসমান মানতা সম্প্রদায়। মুল ভূখন্ডে কোন স্থায়ী জমি না থাকায় নৌকা ইহল এদের মূল আবাস। মাছ শিকারের জন্য নদী থেকে নদীতে ছুটে চলা এ জন গোষ্ঠীর ছিলনা ভোটাধিকার। বঞ্চিত ছিল শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীসহ সকল নাগরিক সুবিধা থেকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে এরই মধ্যে অনেকেই জল থেকে উঠে সুযোগ পেয়েছে ডাঙ্গায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদেরকে দেয়া হবে সব ধরনের সুযোগ। পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা। এ জনগোষ্ঠী পেয়েছে ভোটাধিকার। সরকারি খাসজমিতে নির্মান করে দেয়া হয়েছে মুজিবশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দৃস্টিনন্দন ঘর। পাচ্ছে চিকিৎসাসহ সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা।

তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছের। এরই মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের সচিব মাহবুব হোসেন মানতা পল্লী পরিদর্শনকালে মানতা শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন করার কথা জানান, ইতিমধ্যে এই সম্প্রদায়ের ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য বেসরকারী একটি বোডস্কুলে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করছে মানতা সম্প্রদায়ের শিশুরা। এতে পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা।

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য যে গৃহায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার দ্বারাবাহিকতায় আমরা রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর মোন্তাজ ইউনিয়নের মানতা সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩০ টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। এবং আরো ৩০ টি ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। মোট ৬০ টি পরিবারের ঠিকানা নির্মিত হয়েছে এই প্রকল্পটির অধিনে। এবং এখনো মানতা সম্প্রদায়ের অনেক পরিাবার নদীতে বসবাস করেন। এবং আমরা তাদেরও বিষয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এবিষয়টা আমরা নিশ্চিত করবো।

অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে ঘড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের যেসব মানুষের স্বপ্ন ছিল নদীতে সীমবদ্ধ, মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে আজ তারা স্বপ্ন বুনছেন নতুন করে। নতুন ঘরে শুরু হবে তাদের নতুন জীবনের পথ চলা।




প্রতীক পেয়েই প্রচারযুদ্ধে বরিশালের ১২১ প্রার্থী

বরিশাল অফিস ;: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১ আসনের প্রার্থীরা সোমবার প্রতীক পেয়েই প্রচারযুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। ফলে শহর থেকে তৃণমূল সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মূল সড়ক ও অলিগলিতে শুরু হয়েছে নৌকা, লাঙলসহ অন্যান্য প্রার্থীদের শ্লোগান। চায়ের দোকানের আড্ডার আলোচনায়ও নির্বাচন। সোমবার বিভাগের প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক পাওয়ার পরপরই সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিল ও জনসংযোগে নেমেছেন। দল মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক জানা থাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন নেতাকর্মীরা।

ফলে তারা দ্রুত দলীয় প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন সমর্থকরা। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারে নেমেছেন। বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াইয়ে বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ১৭৩ জনের মধ্যে শেষপর্যন্ত ১২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন। সোমবার হাইকোর্টে রীট করে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী তার প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় এখন মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২১ জন। এরমধ্যে বরিশাল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ও পিরোজপুর-২ আসনে জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে তিনটি আসন ছেড়ে দেয়া ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মি আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এখন নৌকার প্রার্থী রইলেন ১৭ টি আসনে। অপরদিকে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জাকের পার্টির নয়জন প্রার্থী রোববার তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ বিভাগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ১৭ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন প্রায় ২৮ জন। বাকিরা অন্যান্য ছোট ছোট দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সূত্রমতে, আগামী ৭ জানুয়ারির ভোটের লড়াইয়ে বরিশাল-১ আসনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ওই আসনে আরো দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন। বরিশাল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান মেননসহ সাতজন, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি লাঙল প্রতীকের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু, ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুরি মার্কার প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতান, প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ট্রাক প্রতীকের মোঃ আতিকুর রহমানসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরদার খালেদ হোসেন স্বপন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বরিশাল-৪ আসনের বর্তমান এমপি পঙ্কজ দেবনাথ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

ওই আসনে এখন তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় সদর বা বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-নৌকা, জাতীয় পার্টির মোঃ ইকবাল হোসেন তাপস-লাঙল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রচার যুদ্ধে নেমেছেন। এ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ হাইকোর্টে রিট করে সোমবার তার বাতিল হওয়া প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। তিনি ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই আসনে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। বরিশাল-৬ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারযুদ্ধে নেমেছেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক, জাতীয় পার্টির লাঙল মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি রতœা আমীন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ট্রাক প্রতীকের আলোচিত প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নু। ওই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মোট ১০ জন প্রার্থী। এ ছাড়া পটুয়াখালীর চারটি আসনে ২২ জন, ভোলার চারটি আসনে ১৬ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে ভোলা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রভাবশালী প্রার্থী তোফায়েল আহমেদও রয়েছেন।

পিরোজপুরের তিনটি আসনে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে পিরোজপুর-২ আসনটি জেপি’র আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর পিরোজপুর-৩ আসনের আট বারের এমপি ডাঃ রুস্তুম আলী ফরাজীকে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। বরগুনার দুইটি আসনে মোট ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। যারমধ্যে বরগুনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিকে বাদ দিয়ে নাদিরা সুলতানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নিজে চোখের জল ফেলে উপস্থিত সবাইকে হাসতে বললেন ॥ ছিলেন টানা দুই বারের একজন পরিচ্ছন্ন সংসদ সদস্য। একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন তালিকায় ছিলো তার নাম। কিন্তু দুইবারই তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন।

এ রাজনৈতিক নেতা হলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। তারপরেও ১৪ দলের জোটের কারণে এবারও তিনি ভাগ্যবঞ্চিত হয়েছেন। ওই আসনে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে। দলের সিদ্ধান্তে রোববার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার মোঃ ইউনুস তার মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তার নির্বাচনী এলাকা উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে নিয়ে হাজির হন।

দলের কার্যালয়ে উপস্থিত শতশত নেতাকর্মীদের সামনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান মেননকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তালুকদার মোঃ ইউনুস নিজে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাসতে অনুরোধ করেন। মনোনয়ন বঞ্চিত তালুকদার মোঃ ইউনুস তার বক্তব্যে বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে আজ মাঠে নেমেছি। এবারের যুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে রাশেদ খান মেননকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে হবে।

তালুকদার মোঃ ইউনুস আরও বলেন, রাশেদ খান মেননকে বরিশাল-২ আসন থেকে নির্বাচিত করে শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী করতেই তিনি সবকিছু ত্যাগ করেছেন।




আগৈলঝাড়ার কচুরিপানায় আয় হবে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার

বরিশাল অফিস ::  বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুস্থ নারীদের সু-নিপুন হাতে তৈরী বড় দিনের শৌখিন খেলনা, উপহার সামগ্রী ও শান্তা ক্লজে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে পালন করা হবে যীশু খ্রিষ্টের আবির্ভাব দিবস শুভ বড় দিন।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “প্রকৃতি’র” উদ্যোগে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি কারখানায় প্রায় দু’হাজার দুঃস্থ ও বিধবা নারীদের শ্রমে স্থানীয় পরিত্যক্ত ডোবা ও পুকুরের কচুরিপানা সংগ্রহ করে বিশেষভাবে নির্মিত কাগজ তৈরী করে ওই কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, গীর্জা ও বাড়ি সাজানোর পন্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নানা উপহার সামগ্রী।

উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজে কর্মরত ওই গ্রামের বাসিন্দা মনি বালা (৫০) কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি করা বড় দিনের সান্তা ক্লজসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তৈরির সু-নিপুন কারিগরদের একজন। তিনি জানান, কচুরিপানা আর বড়দিন তার জীবনে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। মনি বালার মত ওই এলাকার দু’হাজার অসহায় দুস্থ নারীরা আগৈলঝাড়ার ৫টি কারখানায় কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে থেকেছে। এখন এখানে কাজের মাধ্যমে তিনি ও তার সহকর্মীরা তিনবেলা ভাত খেয়ে সন্তানদের নিয়ে স্বাবলম্বী অবস্থায় আছেন এবং সংসারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

মনি বালার আরেক সহকর্মী বিধবা বীণা হালদার (৫৫) ও বিধবা শিউলী বেগম (৪৭) বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস তৈরি করছি, সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশের খ্রীস্টিয় সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা শুভ বড় দিন পালন করে আসছেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক উৎপাদিত কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে চার থেকে সাড়ে চারশ টাকা আয় করছেন।

জোবারপাড় এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার পাপড়ী মন্ডল জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ৫টি কেন্দ্রের প্রায় দুই হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ হচ্ছেন স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা কিংবা অসহায় ও দুস্থ। প্রোডাক্ট ডিজাইনার খোকন সমদ্দার জানান, উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ, কালুরপাড়ের বির্বতন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, বড়মগরার কেয়া পাম হ্যান্ডিক্রাফট নগরবাড়ির চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টার প্রাইজে প্রতিবছরই নতুন নতুন গিফ্ট আইটেমের কাজ করা হয়। এখানে চার হাজারের বেশি আইটেমের পণ্য তৈরী করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে কচুরিপানাকে ঘিরে এমসিসি (মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিউনিটি) আওতায় এলাকায় গড়ে ওঠে জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় এলাকার ডোবা ও মজাপুকুর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে তার সঙ্গে পাট, পরিত্যাক্ত কাগজ ও সিল্ক কাপড় দিয়ে মন্ড তৈরি করা হয়। এরপর তাতে রং দিয়ে রোদে শুকানোর পর তৈরি হয় কাগজ। এভাবে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ৩ হাজার পিস কচুরিপানার কাগজ। সেই কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয় হস্তজাত উপহার সামগ্রী। ওই উপহার সামগ্রীতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা ফুলও ব্যবহার করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে অসহায় নারীদের হাতে তৈরি পণ্য বিদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে।

একই বছর উপজেলার বাগধা এলাকায় বাগধা এন্টারপ্রাইজ নামে আরো একটি প্রকল্প চালু করা হয়। এ দুটি প্রকল্পের সাফল্যের পর ১৯৮৭ সালে গড়ে ওঠে কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট নামের আরো একটি প্রকল্প। এরপর ১৯৯৩ সালে বিবর্তন নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে।

তিনি জানান, কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি তাদের উপহার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালী, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। প্রতিবছরই ঐ সব দেশে এ উপহার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে বড়দিনের উৎসব থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছে।

ওই সংস্থার মাধ্যমে শৌখিন এসব খেলনা ও উপহার সামগ্রী ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানির মাধ্যমে আসছে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা। দুস্থ নারীদের তৈরি করা কচুরিপানার শৌখিন উপহার সামগ্রী সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে বিধবা ও দুস্থ নারীরা খুঁজে পেয়েছেন বেঁচে থেকে স্বাবলম্বী হওয়ায় সুযোগ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রকৃতি বাংলাদেশ’ এর মাদার প্রকল্প ‘এমসিসি আমেরিকা’র কান্ট্রি প্রতিনিধি মি. জর্জ জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সালে আগৈলঝাড়ায় কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট মাত্র ৭ জন নারী কর্মী নিয়ে ৬ লাখ ডলার মূল্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে এখানকার হস্তজাত শিল্প এখন ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২৫ লাখেরও বেশী মার্কিন ডলার আয় করছে।




প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী সাদিক আবদুল্লাহ, হাইকোর্টেও ব্যর্থ শাম্মী

বরিশাল অফিস :: উচ্চাদালতের নির্দেশে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তবে উচ্চাদালতের আদেশের কপি পৌছুতে দেরি হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দ পাননি। সোমবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. মো. বশিরউল্লাহর বেঞ্চ তার প্রার্থীতা বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন।

একই সাথে বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত রাখার আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয় সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষনা করেন। বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আমেরিকার নাগরিকত্ব ও হলফনামায় তথ্যে গোপনের অভিযোগ দেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অব. জাহিদ ফারুক শামীম। শুনানী শেষে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের পর হাইকোর্টের বেঞ্চে আপীল করেন। প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর আদেশের কপি প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার সময় শেষে পৌছে। তাই তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর।

অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনের পর হাইকোর্টেও প্রার্থীতা ফিরে পাননি বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. শাম্মী আহমেদ। সোমবার বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ তার রীট খারিজ করে দিয়েছেন।




দেশের স্বার্থে নির্বাচন করছি-মেনন

মেননের সামনে চেয়ারে বসা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ১৪ দলীয় জোটের নৌকার প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ খান মেনন বলেছেন, জোটকে কতটা আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সেটা বিবেচনার বড় কোন বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। দেশী-বিদেশী সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবেলা করে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সোনার বাংলা বিনির্মাণে নৌকাকে বিজয়ী করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করাই হচ্ছে একমাত্র লক্ষ্য।

সোমবার বিকালে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাওলাদ হোসেন সানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পৌর মেয়র এ্যাড. সুভাষ চন্দ্র শীল বক্তৃতা করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ্ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মন্টু লাল কুন্ডু, উজিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদল, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার,

সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন মোল্লা,সহ-সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আ.জলিল ঘরামী,সহ-সভাপতি ও সলিয়াবাকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি ও চাখারের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু,সহ-সভাপতি মাষ্টার আ.সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মামুন-উর রশিদ স্বপন, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দা তাসলিমা হোসেন ফ্লোরা, উজিরপুরের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সীমা রাণী শীল,

বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন সরদার, কোষাধ্যক্ষ ও বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শান্ত, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক এমাম হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, সদস্য ফারুক বেপারী, সৈয়দ সাইফুর রহমান কিসমত, সৈয়দকাঠির ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মৃধা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ.মন্নান মৃধা, পৌর আওয়মী লীগের সভাপতি কামাল হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মীর সুলতান হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার,শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোল্লা,সাবেক কাউন্সিলর মশিউর রহমান কামাল ও আনোয়ার হোসেন,

যুবলীগ নেতা মু. মুন্তাকিম লস্কর কায়েস, শেখ মহিম, মাসুম বিল্লাহ্, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাজনীন হক মিনু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মোল্লা,পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুবিনা আক্তার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শফিক শাহিন,সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ শাওন প্রমুখ।

এদিকে মতবিনিময় সভা শুরুর পূর্বে চেয়ারে বসা নিয়ে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের সামনে বর্তমান এমপি শাহে আলমের অনুসারীদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু,

সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, সদস্য সামসুল আলম মল্লিক, পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সজল চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মশিউর রহমান সুমন, ছাত্রলীগ নেতা বাবু, সাংবাদিক রাহাদ সুমন সহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।

 




বরিশালে প্রতিদ্বন্ধিতায় দুইজন নারী প্রার্থী

বরিশাল অফিস:: জেলার ছয়টি আসনে ৩৬ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এরমধ্যে দুটি আসনে নারী প্রার্থী রয়েছেন দুইজন। তারা উভয়েই আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকে শাহানাজ হোসেন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে প্রেসিডয়াম সদস্য ও বর্তমান সাংসদ নাসরিন জাহান রতনা প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

সূত্রমতে, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী নাসরিন জাহান রতনা বরিশাল-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হওয়ায় তার অভিজ্ঞতা আছে বেশ ভালোই। পাশাপাশি এ আসনে তার নিজস্ব কর্মী সমর্থকও রয়েছে। তবে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শাহানাজ হোসেন প্রথমবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সংসদীয় আসনে দলের অবস্থান যাই হোক না কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী দাবি করে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে মানুষ আমাকে ভোট দেবে। দুইটি আসনে নেই নৌকার প্রার্থী ॥

জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থী নেই। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নেই বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৪ আসনে। সূত্রমতে, ১৪ দলের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে বরিশাল-৩ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ ও জাপার প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন। দলের সিদ্ধান্তে তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অপরদিকে বরিশাল-৪ আসনে ড. শাম্মী আহমেদকে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। ফলে এ আসনেও নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্থী নেই। তবে এ আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া পঙ্কজ দেবনাথ এবার ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

সোমবার দুপুরে প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহবান করে বলেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে সকল প্রার্থীকে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি আহবান করেন। লাঙ্গলের প্রার্থী বেশি ॥

জেলার ছয়টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। ঘোষিত প্রতীকের মধ্যে লাঙ্গলের প্রার্থী সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে নৌকা, আম, ঈগল ও ট্রাক।

সূত্রমতে, ছয়টি আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ভোটের লড়াই করবেন ছয়জন প্রার্থী। অর্থাৎ প্রতিটি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে চারজন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীকে চারজন, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকে তিনজন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকে তিনজন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে দুইজন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের গামছা প্রতীকে একজন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকে একজন, জাসদের মশাল প্রতীকে একজন, ট্রাক প্রতীকে তিনজন, ঢেঁকি প্রতীকে একজন, তরমুজ প্রতীকে একজন, রকেট প্রতীকে একজন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন চারজন প্রার্থী।