তালতলীতে ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর জাতীয় পার্টি ও যৌথ বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে শনিবার (৩০ আগস্ট) তালতলীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর রোডের মামুন লাইব্রেরির সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিল ও সমাবেশে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন:

  • “হাসিনা গেছে যে পথে, জাপা যাবে সেই পথে”

  • “নুরের ওপর হামলা- সইবে না এ বাংলা”

  • “স্বৈরাচার গেছে ভারতে- জাপা কেন বাংলায়”

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ তালতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীমসহ উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা ভিপি নুরের ওপর যৌথ বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও তারা জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতিকে দেশে নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপন করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো জুলাই যোদ্ধা স্মৃতিচারণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে আলোচনা সভা এবং সংবর্ধনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বরিশাল বিভাগের জুলাই যোদ্ধা, শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের স্বজন, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানে। বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তাদের স্মরণ করা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

আয়োজকরা জানান, প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, যাতে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখা যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জামায়াতে যোগ দিলেন কৃষকদল নেতা জসিম

বরগুনার আমতলী উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) ফকির, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আমতলী উপজেলার বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজ সড়কে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে তিনি সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আবদুল মালেক, আমতলী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, উপজেলা সেক্রেটারি মো. মোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু বকর সিদ্দিক (জসিম) ফকির ২০০৫ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি একসময় বরগুনা জেলা কৃষকদলের সহ-সভাপতি, আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আমতলী উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ৮টি মামলা দায়ের হয়।

এক ফেসবুক পোস্টে জসিম ফকির লিখেছেন— বিএনপিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দলের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলার অভাব ও সিনিয়র নেতাদের প্রভাবের কারণে ত্যাগী নেতারা অবহেলিত। এ কারণে তিনি কৃষকদল, যুবদলসহ বিএনপির সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলের আদর্শ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। তাই আমি নতুনভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন বলেন, “জামায়াত ইসলামী একটি শান্তিপ্রিয় ইসলামী রাজনৈতিক দল। যে কেউ আমাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিতে পারেন। আজ জসিম ফকির আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ছাত্রলীগ নেতা আরিফকে পিটিয়ে হত্যা

ভোলা সদর উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আরিফ (৩০) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গভীর রাতে ভোলা পৌরসভার কালিবাড়ী সড়কের নববী মসজিদসংলগ্ন গলিতে নিজের বাসার সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

শনিবার ভোরে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ আরিফের মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, গেটের সামনে রক্তের দাগ ও ছেঁড়া চটি পড়ে আছে। ভেতরে চলছে শোকের মাতম। নিহতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. বসির উদ্দিন বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
“আমার একটাই ছেলে ছিলো, মানুষ আমার পুত্রকে পিটিয়ে হত্যা করলো।”

পারিবারিক সূত্র জানায়, আরিফ টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করেছিলেন ঢাকা সিটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সম্প্রতি চাকরির খোঁজ করছিলেন। একইসাথে তিনি ভোলা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। অসুস্থ বাবাকে দেখতে মাত্র দুই দিন আগে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর রাত ১টা পর্যন্ত নিজ কক্ষে ছিলেন আরিফ। এর কিছুক্ষণ পর দুর্বৃত্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় আরিফদের কিছু জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক জানান, “এটি একটি হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে হত্যার সঠিক কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকি উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ককে শোকজ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক চাকলাদার গোলাম সরোয়ারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করেছে জেলা ছাত্রদল।

গত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মো. মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়ার নির্দেশক্রমে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. হারুন রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মুরাদিয়া আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে পদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত কমিটির চার নেতার পদত্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক গোলাম সরোয়ারের অনুগত পদবঞ্চিতরা মুরাদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এছাড়া, উক্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আহবায়ক সরোয়ারের সুপারিশ আমলে না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ে।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আহসানুল হক-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নুরের ওপর হামলা: ইসলামী আন্দোলনের কঠোর প্রতিবাদ

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সাহসী নেতার ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দেওয়া। অথচ জাতীয় পার্টির অতীত ভূমিকা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী এবং ফ্যাসিবাদকে আইনি কাঠামো দেওয়ার। তার মতে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টি প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। “জাতীয় পার্টি ইস্যুতে নুরকে রাস্তায় মারধর করা মানে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে অস্বীকার করা,” তিনি বলেন।

মাওলানা আতাউর রহমান আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বিশ্বাস করে ঘটনাটি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত সেনা ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্তের ফল হতে পারে। তবে কে বা কারা এ হামলার পেছনে মদত দিয়েছে, তা খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি নিজেই বুঝে নেবে কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করছে।




“আ.লীগ-জাপা একই পথের পথিক, পরিণতিও হবে একই”— সারজিস আলম

আওয়ামী লীগ যেভাবে অপরাধী, তাদের সহযোগী ও বৈধতা প্রদানকারী দল জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধে জড়িত— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন। সারজিস আলমের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় “প্ল্যান-বি” হিসেবে জাতীয় পার্টিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলার পেছনেও এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তার ভাষায়, “জাতীয় পার্টি নিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্যই এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

সারজিস আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই পথের যাত্রী এবং অবশেষে তাদের পরিণতিও হবে অভিন্ন। তাই জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




রাজধানীতে সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত নুরুল হক নুর ঢামেকে

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ৯টার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আল রাজী টাওয়ারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ চালালে নুরুল হক নুরসহ দলের শীর্ষ নেতারা হামলার শিকার হন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ আকস্মিকভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।




জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত নুরুল হক নুর

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সবাইকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে আছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ (৩২), উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা কিবরিয়া (৩০), সদস্য হাসান তারেক (২৮), মেহবুবা ইসলাম (৩০), নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব আনিসুর রহমান (৪২) এবং এক পুলিশ পরিদর্শক।

গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমরান জানান, মিছিল নিয়ে বিজয়নগর এলাকায় প্রবেশ করার সময় জাতীয় পার্টির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তাদের চারজন নেতা-কর্মী আহত হন। বর্তমানে তারা ঢামেকে চিকিৎসাধীন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজয়নগর থেকে চারজন গণঅধিকার পরিষদের কর্মী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।




সাবমেরিন ক্যাবল ত্রুটিতে চারদিন ধরে বিদ্যুৎহীন মেহেন্দিগঞ্জ

সাবমেরিন ক্যাবলে ত্রুটির কারণে বরিশালের নদীবেষ্টিত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা গত চারদিন ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাট-বাজার, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল চার্জসহ জরুরি কাজে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

মেহেন্দিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে জানান, উপজেলার দরিচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া নদীর তলদেশে থাকা সাবমেরিন ক্যাবল কেটে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো জাহাজ নোঙর ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, এ কারণে ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ডুবুরি নামিয়ে ত্রুটির স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে ভাসমান ক্রেন দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তার তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তা মেরামত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা যাবে। তবে মেরামত সম্ভব না হলে নতুন তার প্রতিস্থাপন করতে হবে, সেক্ষেত্রে আরও ৩-৪ দিন সময় লাগতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে মুলাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু এবার ক্যাবল ত্রুটির কারণে সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে পুরো উপজেলা। ভুতুড়ে পরিস্থিতির মধ্যে সাধারণ মানুষ অতিজরুরি কাজে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছেন।

এদিকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল্প বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীরা বিশেষ করে রাতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজুর রহমান জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫