নৌকা জয়ী হলে বরিশালে দেশি বিদেশি শিল্প কারখানা হবে-কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ আসনের নৌকা মার্কার নির্বাচনী জনসভা রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৩ টায় কড়াপুর পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সদর আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম।

তিনি বলেন, আমরা একটি স্বাধীন দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছি। এদেশ স্বাধীন করেছেন বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে সোনারবাংলা করতে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেয়া হয়নি। পাকিস্থানির দোসররা তাকে মির্মমভাবে হত্যা করে। তবে জাতির পিতার স্বপ্ন হত্যা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আমরা দক্ষিানাঞ্চলের মানুষ অবহেলিত ছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী তা উপলব্দি করে এ অঞ্চলে উন্নয়নের মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন। পদ্মা সেতুর কারনে আজ মানুষ সকাল বেলা সবজি নিয়ে ঢাকা গিয়ে তা বিক্রি করে বিকালে বরিশালে ফিরে আসে। করেছেন পায়রা বন্দর। ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস সংযোগের পাইপলাইন স্থাপন কাজ শুরু হয়ে গেছে। এদ্বারা বরিশালে শিল্প কারখানা বাড়বে।

বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়বে।  বরিশাল সদর আসনে নৌকা জয়ী হলে লামচরীতে ইপিজেড নির্মান হবে। সেখানে দেশি বিদেশি শিল্প কারখানা হবে। নৌকা মার্কার প্রার্থীরা জয়লাভ করতে না পারলে এসব উন্নয়ন থেমে যাবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক সরদার। উপস্থিত ছিলেন, নৌকা মার্কার নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কেবিএস আহমেদ কবির, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম,

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহামুদুল হক খান মামুন, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর জিয়াইল রহমান বিপ্লব, এনামুল হক বাহার, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাহামুদুর রহমান মধু,

রায়পাশা-কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহারিয়ার কবির বাবুসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে জাগুয়া ইউনিয়নে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন নৌকা মার্কার প্রার্থী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম।




আমি বেঁচে থাকলে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ হবে -তোফায়েল আহমেদ

বরিশাল অফিস -ভোলা: আমি বেঁচে থাকলে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ হবেই। আর সেই ব্রীজ দিয়ে আমরা কয়েক ঘন্টার মধ্যে দিয়ে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ দিয়ে ঢাকা যেতে পারবো। আমি ভোলার মানুষের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমার জীবনের বাকি দিনগুলোও যেন ভোলার মানুষের জন্য কাজ করতে পারি বলে জানান আ’লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ভোলা-১ আসনের আ’লীগের মনোনিত প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ভোলার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। ভোলাকে নদীর ভাঙ্গন রোধে, সড়ক নির্মাণসহ সকল ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনও কাজ করেছি। এই বাপ্তা ইউনিয়নের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। ভোলার প্রায় কাঁচা রাস্তাগুলো পাকা করে দিয়েছি এবং বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার জন্য টিউবওয়েল দিয়েছি। আগামী ৭ তারিখে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আ’লীগ সরকারকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আনতে হবে, তাহলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির নষ্ট রাজনীতি ও মানুষ পোড়ানোর নামে যে কর্মকান্ড করছে বাংলাদেশের মানুষ তা পছন্দ করে না।

তোফায়েল আহমদ আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বড় বড় মেগা প্রকল্প, যেমন-পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল প্রকল্পেরসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিশ্বে মর্যাদা লাভ করেছেন।

এ সভায় বাপ্তা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আজাহার উদ্দিন কালুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোশারফ হোসেন, জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গোলদার প্রমূখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা-উপজেলা-ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।




কিস্তির টাকা পরিশোধ করেও রক্ষা পায়নি গৃহবধু

বরিশাল অফিস :: কিস্তির সমূদয় টাকা পরিশোধ ও মামলা উত্তোলনের টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি চার সন্তানের জননী গৃহবধু সুমি বেগমের (৩৫)। থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করেছে সুমি বেগমকে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার শাহাজিরা গ্রামের। ভুক্তভোগি গৃহবধু ওই গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল বয়াতীর স্ত্রী।

রোববার  দুপুরে গৃহবধু সুমি বেগমের দেবর হামিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত একবছর পূর্বে উদ্দীপন নামের এনজিও’র উজিরপুর শাখা থেকে এক লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন সুমি বেগম। অভাবের কারণে ঋণের ৩২ হাজার টাকার কিস্তি দিতে না পাড়ায় গত সাত মাসপূর্বে সুমি বেগমের নামে বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করে উদ্দীপনের উজিরপুর শাখার ম্যানেজার হাসান মল্লিক।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ মীমাংসা করে ঋণের ৩২ হাজার টাকা এবং মামলা উত্তোলনের জন্য আরো আট হাজার টাকা এনজিও’র ম্যানেজার হাসান মল্লিক ও কর্মী মনির হোসেনের কাছে দেয়া হয়। অভিযোগ করে তিনি বলেন, এনজিও’র পাওনাকৃত টাকা এবং মামলা উত্তোলনের টাকা দেওয়ার পরেও হয়রানির জন্য মামলা উত্তোলন করেনি এনজিও’র ম্যানেজার হাসান এবং কর্মী মনির।

পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালত থেকে সুমি বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ শনিবার দুপুরে নিজবাড়ি থেকে সুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করে রোববার  সকালে আদালতে সোর্পদ করেন। ওইদিন দুপুরে আদালত থেকে তিনি (সুমি) জামিনে বেরিয়েই অসুস্থ হয়ে পরেছেন। কিস্তির টাকা পরিশোধের পরেও মামলা উত্তোলন না করায় ওই দুই এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি পরিবার।

এ ব্যাপারে এনজিও উদ্দীপনের মাঠ কর্মী মনির হোসেন বলেন, সমূদয় টাকা পরিশোধের পরেও মামলা উত্তোলনের জন্য আট টাকা ম্যানেজারের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কেন মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি তা ম্যানেজারই ভালো বলতে পারবেন।

ম্যানেজার হাসান মল্লিক বলেন, মামলা প্রত্যাহারের কাগজপত্র প্রস্তুত করা হলেও তা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। এতে আমাদের কোন দায়িত্ব অবহেলা নেই। তারপরেও ভূক্তভোগি সুমি বেগমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সুরাহা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




গণসংযোগ করে পিতার পক্ষে নৌকায় ভোট চাইছে আশিক আবদুল্লাহ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তার পক্ষে ভোট চাইলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ছাঁট ছেলে ও বঙ্গবন্ধুর নাতী সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আগৈলঝাড়া সদর, রতœপুর, বাগধা, বশাইল এলাকার বিভিন্ন স্থানে দিনভর গণসংযোগ, পিতার জন্য নৌকায় ভোট প্রার্থণা ও প্রচারণা চালিয়েছে।

নির্বাচনি প্রচনার শুরু থেকে রোববার  পর্যন্ত আগৈলঝাড়ার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার পাড়া মহল্লায় দিন রাত শিতকে উপেক্ষা করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন তিনি।

গণসংযোগ করে নৌকা মার্কায় বাবার জন্য ভোট প্রার্থনা করেছেন পুত্র সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ। গণসংযোগকালে তার সাথে ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুনীল কুমার বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো.লিটন সেরনিয়াবাত, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রিয়াজ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান সেরনিয়াবাত আজাদ, সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, ফয়জুল সেরনিয়াবাত,ছাত্রলীগ সভাপতি মিন্টু সেরনিয়াবাত, সাধারণ সম্পাদক জাকির পাইকসহ প্রমুখ নেতা-কর্মীরা।




সুগন্ধার ভয়াবহ লঞ্চ ট্রাজেডির দুই বছর আজও মানুষ পোড়া গন্ধ ভাসে দখিনের বাতাসে

* নদীর তীরে লাশের মিছিল *৩০ লাশের গণকবরে আজও অজ্ঞাত ৯ কবর

*মেয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় মা * অক্ষত পবিত্র কুরআন * চারটি নৌ অগ্নিকাণ্ডে ৬৫ জনের প্রাণহানি

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: ২০২১ সাল ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে প্রায় ৫০০ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দ্যেশে ‘এমভি অভিযান-১০’ যাত্রা শুরু করে। ঘড়ির কাটায় তখন রাত ৩ টা লঞ্চটি কেবল কীর্তনখোলা নদী পাড়ি দিয়ে সুগন্ধা নদীর পোনাবালীয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় পৌঁছেছে। যাত্রীরা তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যাত্রীবোঝাই চলমান লঞ্চটি আকস্মিকভাবে ইঞ্জিনরুমের ত্রুটি থেকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর লঞ্চটি সামনের দিকে যতই এগোচ্ছিল আগুনের লেলিহান শিখা ততই বাড়ছিল। শীতের এই শেষ রাতে মাঝ নদীতে বাতাসের গতিও কম ছিল না।

ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ছিল গভীর নিদ্রায়। আগুনের কারণে যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় আহাজারি, আর্তনাদ। এ সময় একযোগে সকল যাত্রীর মাঝে প্রাণ বাঁচানোর প্রাণান্তকর প্রয়াস শুরু হয়ে যায়। অনন্যোপায় হয়ে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। যারা ঝাঁপ দিতে পারেনি বা সাহস করেনি তাদের অধিকাংশই আগুনে দগ্ধ হয়েছে। লঞ্চটি শেষ পর্যন্ত পুড়ে রীতিমতো কঙ্কালসার হয়েছে। যারা অনিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে ঝাঁপ দেয় তাদের কেউ কেউ সাঁতরিয়ে ক‚লে উঠতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে।

সেদিন দেশের ইতিহাসে ঘটে নতুন ভয়াবহ এক নৌ ট্রাজেডি। ঢাকা থেকে বরগুনা পর্যন্ত সুগন্ধা নৌরুটে লঞ্চ যাত্রার ইতিহাসে বিরল ও মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা। সুগন্ধা নদীর তীরে সারিবদ্ধ লাশ আর লাশ। আর লাশের পাশে আহাজারি ও স্বজনহারাদের আর্তনাদ। বাতাস হয়ে উঠছে ভারি, যে মেঘ আজও কাটেনি। সুগন্ধার আকাশে আজও ভাসে কান্নার শব্দ।অগ্নিকাণ্ডে  ৪৯ জন নিহত হয়। নিখোঁজ হয়ে যায় অনেকে। নিহতদের মধ্যে আজও ৯ জনের মৃতদেহ শনাক্ত হয়নি। যাদের শনাক্ত হয়েছে তাদের স্বজনরাও পায়নি তেমন কোনো সহায়তা। ফলে পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে মানবেতর দিন কাটছে স্বজনদের।

ঘটনার পর অকুস্থল পরিদর্শন করেছেন নৌপ্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনা নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যগণ। প্রধানমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক নির্দেশে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের লাশ দ্ররুত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ করা হয়।

৩০ লাশের গণকবরে আজও ‘অজ্ঞাত’ ৯ কবর :- লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৯ জন নিহত হয়। সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৩০ জনের লাশ জানাজা শেষে বরগুনা পোটকাখালী এলাকায় গণকবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ট্রাজেডির দ্ইু বছর পূর্ণ হলেও আজও ৯ জনের মৃতদেহ শনাক্ত হয়নি। বরগুনা জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নিহতদের ১৯ জনের মৃতদেহ ওইদিনই হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে এবং শনাক্ত না হওয়া অজ্ঞাত ৩০ মৃতদেহ দাফন করানহয়েছিল গণকবরে। পরে স্বজনদের মধ্যে ৪৮ জনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অজ্ঞাত ১৪ জনের মৃতদেহের পরিচয় মিললেও এখনো পরিচয় মেলেনি ৯ মৃতদেহের। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তালিকায় এখনো নিখোঁজের সংখ্যান৩০ এবং ৭ মৃতদেহের হদিস আজও মেলেনি।

মেয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় মা :- অভিযান-১০ লঞ্চে ঢাকা থেকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা আসছিলো ফজিলা আক্তার পপি (৩০)। এখনো পপির পথ চেয়ে বসে আছেন তার মা আমেনা বেগম। অনেক খোঁজাখুজির পরেও পপির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফজিলা আক্তার পপি পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের আফজাল হোসেনের মেয়ে। পপির মা আমেনা বেগম জানান, ‘পপি ঢাকার সাভার এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে ঢাকায় ভালো কোন স্কুলে লেখাপড়া করাবেন সেই স্বপ্ন নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে বাবার বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকেও কথা বলেছেন তার মেয়ের সাথে। তিনি আরো বলেন, সন্তানহারা মা কিভাবে থাকে। সন্তানের অভাব কেউ পরণ করতে পারে না। খুব কষ্টে দিন পার করছি। পপি লঞ্চে ওঠার সময় ফোন দিয়া বলছিলো- মা ছুটি কম, রুটি পিঠা খাইতে মন চায়। যা খাওয়াবা জলদি খাওয়াবা। সকালে শুনি যে লঞ্চে আমার মেয়ে ছিল সেই লঞ্চেই আগুন লেগে পুড়ে গেছে। আর আমার মেয়ে আসলো না। রুটি পিঠাও খাওয়াতে পারলাম না। আমি এখন নিশ্চিত আমার মেয়ে আর নেই।’

স্বজনদের জন্য অপেক্ষা লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনায় প্রশাসনের তালিকায় :- নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ৩০। তবে, সাত মৃতদেহের কোনো হদিস নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,নিখোঁজ রয়েছেন বরগুনা সদরের পরীরখাল এলাকার রাজিয়া সুলতানা ও আট বছরের শিশু নুসরাত। বছর পার হলেও এখনও মা ও বোনের মৃতদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌসী। নিখোঁজ রাজিয়া

সুলতানার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, আমার মা ও ছোট বোন অভিযান-১০ লঞ্চে ছিলো। মা- বোনদের মৃতদেহ পাওয়ারও সম্ভাবনা নেই।

মানুষ পুড়ে ছাই হয়েছে পুড়েনি পবিত্র কুরআন লঞ্চে ভয়াবহ :-:

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় সব পুড়ে গেলেও একটি কুরআন শরীফ অক্ষত পাওয়া গেছে। এমন অলৌকিক ঘটনা দেখে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঐ কুরআন শরিফটি উদ্ধার করে। এ অলৌকিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচিত হয়েছে। অনেকে ছবিটিকে ফেসবুক পেজে শেয়ার এবং ছবি তুলে সংরক্ষণ করেছেন অনেকে।

চারটি নৌ অগ্নিকাণ্ডের ৬৫ জনের প্রাণহানি :- গত এক দশকে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে ঝালকাঠি ও বরগুনা নৌ-রুটে নৌ-যান ডুবির ঘটনা কমে আসলেও বেড়েছে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ১৯ মাসে কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীতে যাত্রী এবং তেলবাহী নৌ-যানে চারটি বড়ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৬৫ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্রমতে, ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী-৩ নামে একটি তেলের ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্যাঙ্কারটির ১৩ স্টাফের মধ্যে আটজন দগ্ধ হন। ঘটনার তিনদিনে মৃত্যু হয় ছয়জনের। এ ঘটনার ৩৯ দিন পর ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী যাত্রীবাহি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এর সূত্রপাতও ঘটে ইঞ্জিনরুম থেকে। ওই দূর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে ৪৯ জনের। পাশাপাশি আহত ও দগ্ধ হন প্রায় শত যাত্রী। এ ঘটনার ঠিক ১৬ মাস পর চলতি বছরের ১১ মে বিকেলে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে থাকা এমটি এবাদী-১ নামে একটি তেলের ট্যাঙ্কারের ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনার ঠিক ৫০ দিন পর গত ১ জুলাই দুপুরে সুগন্ধা নদীতে নোঙর করে রাখা সাগর নন্দিনী-২ ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও পরে আগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এর দুইদিন পর উদ্ধার অভিযান শেষ করার এক ঘন্টার মধ্যে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় একই জাহাজে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আর উভয়ঘটনা মিলিয়ে মোট চারজনের মৃত্যু ও ১৯ জন গুরুত্বর আহত হন। এর আগে ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর তেলবোঝাই সাগর নন্দিনী-২ ভোলার মেঘনা নদীতে অপর একটি নৌযানের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল।

ঝালকাঠিতে আজও হয়নি নৌ ফায়ার স্টেশন :- লঞ্চে আগুন লাগার খবর পেয়ে ওই সময় ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান খেয়ার ট্রলারে করে। নদীবেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ এ জেলায় নৌপথের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নৌ ফায়ার স্টেশন না থাকায় অভিযান-১০ লঞ্চে দ্রæত উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে এবং আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। নৌ ফায়ার স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি আরও কমে আসত বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

গভীর রাতে মাঝ নদীতে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন লাগলে বরিশাল থেকে নৌ ফায়ার স্টেশন ইউনিট ও ডুবুরি দল এসে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এতে করে অনেক সময় পেরিয়ে যায়। ফলে বাড়তে থাকে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি। ১৯৬৩ সালে ঝালকাঠিতে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় শ্রেণির এই ফায়ার স্টেশনটিকে ছয় বছর আগে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানো হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এই জেলার নৌপথে অগ্নিদূর্ঘটনায় দ্ররুত্ব নির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।

কবে হবেন নৌ-যাত্রা নিরাপদ? :- নদীমাতৃক এ দেশে অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা,যাতায়াত, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবই চলছে নদীকে ঘিরে। নদী দিয়েছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ উপাধি। মানুষের যাতায়াতের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম নৌপথ। তুলনামূলকভাবে খরচ কম এবং আরামদায়ক হওয়ায় অনেক মানুষই যাতায়াতের জন্য নৌপথকে বেছে নেন। এতকিছু সত্তে¡ও আমাদের দেশের নৌপথ কতটুকু নিরাপদ? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে একদমই ভাবতে হয় না। কিছুদিন পরপরই ছোট-বড় দুর্ঘটনাই বলে দেয় উত্তর। একটা শোকের মাতম না কাটতেই আবার দুর্ঘটনা হানা দেয়। নৌপথে নিরাপত্তার এমন বেহাল দশা চলবে কতকাল? আর কত প্রাণ হারালে সংশ্লিষ্টদের জ্ঞান ফিরবে? সর্বদা এমন প্রশ্ন জেগে উঠে যাত্রীদের হৃদয়ে। নৌপথে সংঘটিত প্রতিটি দুর্ঘটনার পরে তদন্ত কমিটি হয়। নিয়ম অনুযায়ী কিছু তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনও জমা দেয়। তদন্তে উঠে আসে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা-অদক্ষ চালক, ত্রæটিযুক্ত ও লাইসেন্সবিহীন নৌযান, বন্দর তত্ত্বাবধায়ক ও নৌযান মালিকের দায়িত্বহীনতা এবং পর্যাপ্ত সেফটি ইকুইপমেন্টের অভাব ইত্যাদি। নৌদুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, এজন্য অভিযোগের সঙ্গে তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশও করে। কিন্তু এরপর এসব তদন্ত প্রতিবেদন এবং সুপারিশ কোনোটিই আলোর মুখ দেখে না।




বড়দিন উপলক্ষে এশিয়ার দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ গির্জায় গির্জায় ব্যাপক প্রস্তুতি

বরিশাল অফিস : : এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ গির্জা বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনের গির্জা। অনেকের কাছেই তা লাল গির্জা নামে

পরিচিত। রোববার থেকেই এই গির্জা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই দেখা গেল চারদিকে সাজ সাজ রব। গির্জার ভেতরে চলছে শেষ সময়ের সাজসজ্জার কাজ। ফুল আর বাহারি বেলুনের সাজ আর নানান রঙের টিস্যু কাপড়ের নকশা করা লাইটের ঝালোর। সাজানো হচ্ছে ক্রিসমাস ট্রি। ভেতরে-বাইরে সর্বত্র আলোকসজ্জা। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। সেই উৎসবের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। (২৫ ডিসেম্বর) সোমবার সারা দেশে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করবে দিনটি। শুধু অক্সফোর্ড মিশন গির্জা নয়, শুভ বড়দিন উপলক্ষে ঝলমল করছে বৃহত্তর বরিশালের শতাধিক গির্জা। খ্রিস্টান অধ্যুসিত পল্লীগুলোয় এখন সাজ সাজ রব। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি করা হচ্ছে গোশালা। রঙ বেরঙের কাগজ দিয়ে সাজানো হচ্ছে গির্জাগুলো। রোববার রাতে প্রার্থণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড়দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বড়দিন পালন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বরিশালে খ্রিস্ট ধর্মের আগমন :- মিশনারিদের হাত ধরে ১৮৩০ সালে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্ট ধর্মের আগমন ঘটেছিল। এ সময় বড় ভ‚মিকা ছিল বাকেরগঞ্জের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মি. গ্যারেটের। সে সময় বেশির ভাগ খ্রিস্টান ছিলেন ব্যাপটিস্ট চার্চের অনুসারী। অল্পসংখ্যক ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ড ও রোমান ক্যাথলিক। শ্রীরামপুর মিশনের চেষ্টায় গৌরনদীর অনেক নিম্নবর্ণের হিন্দু খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। তবে মুসলমান মধ্যে খ্রিস্টান মিশনারিরা কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ১৯০১ সালে সে সময়ের বাকেরগঞ্জে খ্রিস্টান ছিল ৫ হাজার ৫৯১মজন। এরপর ১৯৪১ সালে তা ৯ হাজার ৩৫৭, ১৯৫১ সালে ১১ হাজার ২৪৫ ও ১৯৬১ সালে ১১ হাজার ৭৭৬ জন হয়।

নদীর সূত্রে বরিশালের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ঢাকা ও কলকাতার। ১৮৯৮ সালে প্রকাশিত খোসালচন্দ্র রায় তার বাকেরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—‘বাকেরগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট মি. গেরেট সাহেবের সময়ে ১৮৩০
খ্রিস্টাব্দে প্রথমে এদেশে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার আরম্ভ হয়। ম্যাজিস্ট্রেট গ্যারেটের পরবর্তী সময়ে বিচারক হয়েছিলেন। তিনি ব্যাপটিস্ট ছিলেন। তার নাজির মি. পারি সক্রিয় ধর্মপ্রচারক ছিলেন। পরে তিনি যশোরে মিশনারি হিসেবে কাজ করেন। তার স্থলে বরিশালে এসেছিলেন মি. স্মিথ এবং তারপর মি. সিলভেস্টার বারেইরো। সিলভেস্টার এসেছিলেন চট্টগ্রাম থেকে এবং বরিশালে কিছুদিনে স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ব্যাপটিস্ট মিশনের কাজ করেছেন অনেক দিন, কিন্তু নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তখন তিনি চার্চ অব ইংল্যান্ডে যোগ দেন। এরা ব্যাপটিস্ট মিশনের প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন। বিশপ অব কলকাতা এদের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাপটিস্টদের মতে, এরা ছিলেন বিভিন্ন চার্চ থেকে বহিষ্কৃত মানুষ। বাকেরগঞ্জে খ্রিস্টান জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সে সময় বেশ ভ‚মিকা রেখেছিলেন মি. পেজ। তিনি ছিলেন ব্যাপটিস্ট মিশনারি। বেশ কয়েক বছর তিনি বাকেরগঞ্জে অবস্থান করেন এবং অনেককে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত করেন। এরপর মি. সেলও তার ভ‚মিকার জন্য স্থানীয় খ্রিস্টান সমাজে প্রশংসিত হয়েছেন।

ঐতিহাসিক লাল গির্জা :- দেশের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন অক্সফোর্ড মিশন চার্চ বা লাল গির্জা। অক্সফোর্ড মিশন চার্চের নকশা নিয়ে ফাদার স্ট্রং ও মাদার এডিথের পরিকল্পনা বহু আগের। দু’জনের পরিকল্পনা ও ভাবনার বাস্তব রূপ দেন ইংল্যান্ড স্থপতি ফিলিপ থিকনেস। তবে লাল ইটের তৈরি বলে স্থানীয় মানুষের কাছে ‘লাল গির্জা’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গির্জা এটি। শুধু বাংলাদেশই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গির্জা হল এটি। যার চারিদিকে রয়েছে সবুজের সমারোহ। শতবর্ষী এ গির্জার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখনও মানুষের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্র। মূলত উনবিংশ শতকের শেষের দিকে অক্সফোর্ড মিশনারি সংস্থার উদ্যোগে বরিশালে তৈরি হয় এপিফ্যানি চার্চ। পরবর্তীকালে যেটা পরিচিতি পায় অক্সফোর্ড মিশন চার্চ হিসেবে। ১৯০৭ সালে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয় এই গির্জার। অনেক যত্ন নিয়ে নকশা করেছিলেন ফাদার স্ট্রং এবং সিস্টার এডিথ। প্রাঙ্গণ ছেড়ে গির্জার ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যাবে সেই যত্ন।

মোট ৪০টি খিলানের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বিশাল গির্জা। মূল প্রার্থনা কক্ষটির উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট! লাল ইট দিয়ে পুরো স্থাপত্যটি তৈরি হলেও, ভেতরের ছাদটি কাঠের তৈরি। মার্বেলের প্রশস্ত মেঝের ওই পাড়ে রয়েছে বড় একটি ক্রশ। বেথেলহেম থেকে নাকি এটি আনা হয়েছিল। গির্জাটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এর স্থাপত্যশৈলী বিনষ্ট না হয়। রয়েছে চার্চের বিখ্যাত সেই ঘণ্টা। যা দিনে নিয়মিত সাত বার চার্চেই বেজে ওঠে। যা এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঘণ্টা।

কথিত আছে, কবি জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে তার প্রথম প্রেমিকা মুনিয়ার দেখা মেলে এই গির্জায়। মুনিয়ার মা এই গির্জায় সেবিকার কাজ করতেন। শুধু কি তাই? বরিশালের এই পুরোনো গির্জাটির সঙ্গে জীবনানন্দের সম্পর্কও ছিল নিবিড়। ছাত্রাবস্থায় অক্সফোর্ড মিশনের ছাত্রাবাসে থাকতেন তিনি। ফলে এখানকার ফাদার ও মাদারদের সঙ্গেও ছিল তার ঘনিষ্ঠতা। এই গির্জাটি জীবনানন্দের বাড়ি থেকে সামান্য দূরেই অবস্থিত। গির্জাটি নির্মাণের ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর হলেও আজও এর সৌন্দর্যের কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও ব্যতিক্রমধর্মী গির্জা এটি। মূল গির্জার পাশে রয়েছে বেল টাওয়ার। বেল টাওয়ারটি গির্জার আকর্ষণীয় অংশ। দিনে সাতবার ঠিক প্রার্থনার ৫ মিনিট আগে ঘণ্টাধ্বনি বাজানো হয় এবং এত বড় ঘণ্টা এশিয়ার অন্য কোনো দেশে নেই।




পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি জাফর, সম্পাদক জাকারিয়া

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ২০২৪ সালের এক বছর মেয়াদি কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. জাফর খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে জাকারিয়া হৃদয় নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিরতিহীনভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও সদস্য পদে মো. মশিউর রহমান বাবলু, কাজী শামসুর রহমান ইকবাল, মো. জাকির হোসেন, আফরিন জাহান নিনা, স্বপন ব্যানার্জী, চিন্ময় কর্মকার নির্বাচিত হন।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ডা. সঞ্জীব দাশের নির্দেশক্রমে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বদরুল আমিন খান।




মৃত্যুর পর ইউটিউবে স্বপ্ন পূরণ হলো ফিলিস্তিনি শিশুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শিশু আউনি এলদৌস মারা যাওয়ার পর তার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গত বছরের আগস্টে ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিল গাজার বাসিন্দা এই শিশু। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হাসতে হাসতে একটি স্বপ্নের কথা জানায় ভিডিওতে। ইউটিউবে তার গেমিং চ্যানেল নিয়ে ছিল সেই স্বপ্ন।



নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কর‌তে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দল বাংলাদেশে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্য‌বেক্ষণ কর‌তে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) পাঁচ সদস্যের এক‌টি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ অবস্থান করছেন। তারা ছয় থেকে আট সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থান করবে।



বড়দিনে মানতে হবে ডিএমপির ১৩ নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বড়দিন উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ উৎসব ঘিরে প্রত্যেক গীর্জায় স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশি টহল বৃদ্ধিসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।