চোখের জলে বিদায় নিল মান্তা শিশুদের ভাসমান স্কুল!

বরিশাল অফিস :: যেখানে স্কুল থেকে বিদায় নিতে হয় শিক্ষার্থীদের, সেখানে উল্টো স্কুলকেই দিতে হচ্ছে বিদায়। এমনই এক চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের স্লুইসের খালে জলেভাসা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য প্রথমবারের মত চালু হয়েছিল প্রাক-প্রাথমিক ‘ভাসমান বোট স্কুল’। বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত শুক্রবার সকাল ১১টায় একতলা লঞ্চ আকৃতির সেই স্কুলটি সংস্থার হেফাজতে বরগুনায় নিয়ে যাওয়া হয়। চোখের সামনে থেকে স্কুলটি নিয়ে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেনি মান্তা শিশুরা।

সেই স্কুলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে এসে অঝোরে কাঁদছিল শিশু শাহিদা, দ্বীন ইসলাম, রহমান, খুকুমণি, মর্জিনা, রাজিয়া, মিম, ছখিনা, সায়েম, শেফালী, আমেনাসহ স্কুলটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদেরই কয়েকজন অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘আমরা কলম ধরতে শিখেছি এই স্কুলে। আমাদের আর এই স্কুলে যাওয়া হবে না।’

আর অভিভাবকরা জানান, এখানে ডাঙা ও ভাসমান মিলিয়ে প্রায় ৩০০ শিশু রয়েছে। ভাসমান স্কুলের কারণে ধীরে ধীরে তারা স্কুলগামী হচ্ছিল। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় মান্তা শিশুদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুগের পর যুগ ধরে মান্তা সম্প্রদায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ১১০টি পরিবার নৌকায় করে নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের কাছে শিক্ষা ছিলো বিলাসিতা। কিন্তু তাদের শিশুদের জীবনে লাগে শিক্ষার ছোঁয়া, হৈ-হুল্লোড় করে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ। ২০১৯ সালের জুন মাসে বেসরকারি সংস্থা জাগোনারীর উদ্যোগে মুসলিম চ্যারিটির অর্থায়নে মান্তা শিশুদের জন্য চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ভাসমান বোট স্কুল স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে ছিল প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়ার সুযোগ। আর এই সুযোগ পেয়ে প্রাকের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক শিশু প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়েও লেখাপড়া করছে। এরফলে তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। দূর হতে থাকে ডাঙার মানুষের সঙ্গে বৈষম্য।

ভাসমান বোট স্কুলের শিক্ষক আইয়ুব খান বলেন, ‘নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ পেতে শুরু করে সরকারি সুবিধাও। ৫৯টি পরিবারকে দেওয়া হয় মুজিববর্ষের ঘর। ফলে ডাঙায় বসবাসের সুযোগ পান তারা। কিন্তু এখনও প্রায় অর্ধশত পরিবার নৌকায় বাস করছে। তাদের শিশুদের জন্য ভাসমান স্কুলটি ছিল কার্যকরী। কারণ, নদীর সঙ্গেই ওদের মিতালি। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় এখন শিক্ষা জীবন থেকে অনেক শিশু ঝরে পড়তে পারে।’

কর্তৃপক্ষ জানান, মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকেই এখন ডাঙায় উঠেছে। তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শিশুদের স্কুলগামী করার অভ্যাস করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে মান্তা শিশুদের হাতেখড়ির সেই স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী সংস্থা জাগোনারীর পরিচালক (যোগাযোগ) ডিউক ইবনে আমিন বলেন, ‘ভাসমান বোট স্কুল প্রকল্পের কার্যক্রম ওখানে শেষ। তবে নদী পাড়েই জাগোনারীর নির্মিত মসজিদ কাম কমিউনিটি সেন্টারের ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিশুদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চলবে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। খুব শিগগরই সেখানে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ ইসলাম বলেন, ‘মান্তা শিশুদের শিক্ষার জন্য ভাসমান স্কুলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছিল। ওইসব শিশুদের জন্য সরকারি স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। মান্তা সম্প্রদায়কে দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর সংলগ্ন এলাকায়ই স্কুলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে।




বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের বরিশাল জেলা কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার কমল কৃষ্ণ হালদারকে সভাপতি ও মো. ইমরান হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর সোমবার বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ বরিশালইন রেস্টুরেন্টে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি কমল কৃষ্ণ হালদারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মোশাররফ হোসেন মোল্লা, সহ-সভাপতি সুদেব চন্দ্র মন্ডল, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের পলাশ, পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি অনিমেষ হালদার, বর্তমনা সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রফিকুল আলম আজাদ, বরিশাল জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অসিত বরণ নাথ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সাবেক মো. মতিউল ইসলাম, ঢাকা সোহরওয়াদী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার কার্যকারী সদস্য মো. মাহাবুব আলম ও ঝালকাঠি জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জ্যোতিষ শিকদার প্রমুখ।

এ সময় কমল কৃষ্ণ হালদারকে পুনরায় সভাপতি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।




কুয়াকাটায় নির্মিত হবে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট

বরিশাল অফিস :: পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় ৫০০-১০০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। নিত্যনতুন এ পর্যটন শিল্পের ব্যবসায়ীদের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই। নেই দক্ষ কর্মীও। এসব কারণে ঘুরতে আসা পর্যটকরা তাদের সঠিক সেবাটা পাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে রয়েছে শুদ্ধ উচ্চারণের অভাবও রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিতে সরকারিভাবে ব্যবসায়ীদের ট্রেনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসাটা অতীব জরুরি।

চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক উত্তম দাস বলেন, ‘অন্যান্য পর্যটন এলাকার স্থানীয় লোকদের ব্যবহার এবং তাদের আতিথিয়তার চেয়ে কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আতিথিয়তার জ্ঞান খুবই কম। সরকারিভাবে তাদেরকে যদি ট্রেনিংয়ের আওতায় আনা যায়, তাহলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে। ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সেবার মান নিশ্চিত হবে বলে আমি আশা করি।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার  বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। আমরা যত সেবার মান বৃদ্ধি করতে পারব, পর্যটকরা তত সন্তুষ্ট হবেন। এতে পর্যটকদের আগমন আরো বৃদ্ধি পাবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ হওয়ার পরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু অদক্ষ, দুর্বল, জ্ঞানহীন ব্যবসায়ীদের যদি ট্রেনিংয়ের আওতায় না আনা হয় অদূর ভবিষ্যতে পর্যটকদের চাপ কমতে থাকবে। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল মোহাম্মদ গোলাম সাদেক বলেন, ‘ঢাকা -কুয়াকাটা চার -লেন সড়ক এবং রেল সংযোগ চালু হলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের চাপ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আগমনও বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং পর্যটকদের সেবার মান নিশ্চিতে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের বলেন,আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটন শিল্পে তরুণ শ্রম শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কমপক্ষে ৪ একর জমির উপরে এই ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হবে,আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, জমিটুকু  পেলেই খুব দ্রুতই নির্মান কাজ শুরু হবে।




সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের আচরণবিধি লঙ্ঘন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনি এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেওয়াসহ ভোটারদের ভোট দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।

কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেন ।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন পশ্চিম টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল শিকদার, পূর্ব টিয়াখালী মোল্লাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপন, উত্তর টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু শরীফ
এবং উত্তর টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল শরীফ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ৪ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

কলাপাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কলাপাড়া ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি শিক্ষকদের চাকরিবিধি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




পটুয়াখালীর দশমিনায় ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী সদর থেকে সড়ক পথে দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর লঞ্চঘাট থেকে তেতুলিয়া নদী দিয়ে প্রায় সোয়া ঘণ্টা ট্রলারে গেলে দেখা মেলে দুর্গম চরবোরহান এলাকাটির। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই চরে সহজে যাতায়াত করা যায় না। দিনে একটিমাত্র ট্রলার চলাচল করে, যা ওই এলাকার মানুষের ভরসা। সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই চরে দেশের অন্তত সাতটি জেলার ভূমিহীন ও নদী ভাঙনে বাড়িঘর হারানো মানুষের বসবাস।

এখানকার মানুষের প্রধান পেশা মাছ শিকার আর কৃষিকাজ। জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিম্নমানের। খেয়েদেয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছে তারা। চরবোরহানে বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটায় রাস্তাঘাটসহ ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়।

ওই সময় প্রতিদিনই নদীর তীব্র ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে এই মানুষগুলো। তবু একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই নিজেদের উজাড় করে দিতে মোটেই কার্পণ্য করে না চরবোরহানের মানুষ।

নিজের সংসারের খরচ মেটাতে চরবোরহানের শিশুরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাছ শিকার বা মাঠে কাজ করে। লেখাপড়া তাদের কাছে বিলাসিতার মতো।

বসুন্ধরা গ্রুপ এই শিশুদের কথা চিন্তা করে দক্ষিণ চরবোরহানে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। সেই স্কুলটি শুরু করতেই ঢাকা থেকে আসা বসুন্ধরা শুভসংঘ টিমসহ আমাদের চরবোরহানে আসা। স্কুলটির সামনে জড়ো হয়েছেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেছে।

চরবোরহানের বাসিন্দা রাশিদ রাঢ়ী (৭০) বলেন, ‘আমাগো পোলাপানের এহন (এখন) আর পানি-কাঁদা ভাইংগা স্কুলে যাওন লাগবে না। আমাগো ঘরের ধারে (কাছে) স্কুল দেখলেই মনটা ভইরা যায়। পোলাপানগুলা দেখলেও আনন্দ লাগে। এতক্ষণ পোলাপানগুলা স্কুলের সামনে দেইখ্যা মনটায় বড় আনন্দ লাগছে। মন চায় হারা দিন স্কুলের সামনে বইস্যা থাহি। যারা এই স্কুলডা কইরা দিছে, হেগো লাইগ্যা মন থেইক্যা অনেক দোয়া করি।’

নতুন বই পেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী পুতুল আনন্দে আত্মহারা।

পুতুল বলে, ‘আইজ রাইতেই আমি বইডা পড়মু। অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি আছে। বইডা দেইখ্যা আমার ভালো লাগছে।’

আরেক শিক্ষার্থী রোজিনা বলে, ‘আমাগোরে এমন নতুন বই কেউ আর দেয় নাই। আমরা বই-খাতা পাইলে স্কুলে যাইমু।’

শিক্ষার্থী রুকাইয়ার মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমরা লেহাপড়া জানি না। আমারো ইচ্ছা করে মাইয়াডারে লেহাপড়া শিখাই। এই সুযোগ করে দিছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আমি কামের ফাঁকে মাইয়াডারে স্কুলে পাডাইতে পারমু। স্কুল কামাই (বন্ধ) যাইবে না। মাইয়ার বাপেও এহন মাইয়াডারে পড়াইবে। এই স্কুলেই আমার মাইয়ারে পড়ামু।’

শিক্ষার্থী রুবিনার মা লাবনী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নাই। খাওন খরচই জোগাড় করতে কষ্ট হয়। মাইয়ারে পড়ামু কেমনে? এহন বাড়ির ধারে স্কুল হইছে। হেরা খাতা, কলম, জামাকাপড় দিবে। এহন আর চিন্তা করতে হইবে না। মাইয়াডারে পড়াইতে পারলে আমার আর কোনো কষ্টই কষ্ট মনে হইবে না।’

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী উজ্জ্বলের মা ময়না বেগম বলেন, ‘আমাগো গ্রাম দিয়া সরকারি স্কুল তিন কিলোমিটার। অত দূরে যাইয়া লেহাপড়া করতে পারে নাই। এহন প্রত্যেক দিন স্কুলে যাইবে। নতুন বছরে বই, খাতা, পেন্সিলসহ পাইবে নতুন জামা। আমাগো পোলাপাইনদের পড়ালেহার সব খরচই হেরা দিব। আল্লায় হেগো ভালা করব।’

সম্প্রতি বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবোরহানে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ চালু করা হয়েছে। শুরুতেই ৬৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু এই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেদিন উপস্থিত বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নতুন বই ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির ইয়াসির আরাফাত রাফি, শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, মো. আবীর খান, শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, আলমগীর, ফরিদ মিয়া, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মামুন, দশমিনা উপজেলা শাখার সাফায়েত হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।




শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন নির্বাচনে এমপি হচ্ছেন আসম ফিরোজ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বিনা লড়াইয়ে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে অষ্টম বারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ।

দ্বাদার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তার নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তারপরও তিনি বসে নেই। সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতির জন্য কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন চালাচ্ছেন প্রচার।
এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন আসম ফিরোজ। এবারের নির্বাচনে ফিরোজকে ঢেকাতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সবাই একগাট্টা হয়ে পড়েল। তারা দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হাসিব আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করান যদিও ১৬ ডিসেম্বর ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাজ দিয়ে ১৭ ডিসেম্বর তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। হাসিব আলমের এই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী ২ আসনে ভোটের মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন হয়ে পড়ে।

আসম ফিরোজের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. মহসিন হাওলাদার। তার বাড়ি বাউফল উপজেলা সদর হলেও বাউফলের প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারদের মাঝে নেই তেমন কোন প্রভাব। তিনি গত বাউফল পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে পরাজিত হয়েও আবার এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রয়েছেন চরম আস্থা সংকটে।

আর অপর প্রার্থীদের মধ্যে বিএনএফের প্রার্থী জোবায়ের  হোসেন (টেলিভিশন) তৃণমূল বিএনপির মাহাবুবুল আলম প্রতিদ্বন্দ্বী বাকি প্রার্থী এলাকার ভোটার তো দূরের কথা চেয়ারম্যান- মেম্বার বা চৌকিদাররাও ভালোভাবে চিনেন না।

চন্দ্রদীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলকাস মোল্লা বলেন, এসব প্রার্থীর চেনা জানা তো পরের ব্যাপার, এদের নামও আমি কখনো শুনিনি।




ঝগড়ার সময় যে কথাগুলো বলবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রেগে গেলে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন সব শব্দ ব্যবহার করি যেগুলো আসলে সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আবার ঝগড়ার সময় একটু রয়েসয়ে কথা বললেই সম্পর্কের সৌন্দর্য ধরে রাখা সহজ হয়। তাতে দু’জনের মধ্যে ঝগড়ার প্রভাব খুব একটা পড়ে না। সম্পর্ক থাকলে ঝগড়াও থাকবে। মতের অমিল হবেই। সেখান থেকে হতে পারে কথা কাটাকাটিও। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন একজন অপরজনের জন্য অসম্মানজনক কিছু না বলেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঝগড়ার সময় কোন কথাগুলো বলা থেকে বিরত থাকতে হবে-



করোনা ভাইরাসের ঠেকাতে কী প্রস্তুতি নেবেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  একটা চারা গাছকে যতই অন্ধকারে রাখা হোক না কেন, ফাঁকফোকর দিয়ে একটু সূর্যের আলো পেলে সে ওই দিকেই মুখ করে বাড়তে শুরু করে। ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই। যতই তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হোক না কেন, জিন মিউটেট করে নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা উপরূপে প্রকাশ পায়। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। সম্প্রতি চোখ রাঙাচ্ছে করোনা ভাইরাসের নতুন উপরূপ জেএন ১। চিন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, আমেরিকার পরে ভারতে প্রবেশ করেছে জেএন ১। কোভিডের এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট প্রসঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব দেশগুলোকে সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ভারতে কেরালা, রাজস্থান, গুজরাত, কনার্টকে জেএন ১-এ সংক্রামিত হয়েছেন অনেকে। যদিও ভারতের জনসংখ্যার অনুপাতে আক্রান্তের সংখ্যা নগণ্য, কিন্তু দু’বছর আগে কোভিড-১৯-এর পরিণতির কথা ভেবে সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। তবে ভয় পাওয়ার মধ্যে সমাধানের পথ নেই বরং পূর্ব অভিজ্ঞতা আগাম সচেতন হওয়ার, সজাগ হওয়ার শিক্ষা দেয়।

নতুন উপরূপের উপসর্গ

সর্দি-কাশি, জ্বর, গলা-ব্যথা, হাত-পা-গা-ব্যথা জেএন ১-এর উপসর্গ। ‘‘শীতকালে ঠান্ডা লেগে কমন কোল্ড বা ইনফ্লুয়েঞ্জারও এই এক উপসর্গ। তাই প্রথমেই ধরা পড়া মুশকিল রোগটা সাধারণ সর্দিকাশি না করোনা ভাইরাসের নতুন উপরূপ। এমন উপসর্গ দেখা দিলে প্রথম ৪৮ ঘণ্টা বা দু’দিন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বাড়ি থেকে না বেরিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, পর্যাপ্ত জল খান, প্রয়োজনে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। কমন কোল্ড হলে দিন দুয়েকের মধ্যে কমতে শুরু করবে। কিন্তু যদি দেখা যায় তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে জ্বর ক্রমশ বাড়ছে, গা-হাত-পায়ে খুব ব্যথা হচ্ছে, গলার ব্যথা কমছে না, তখন বুঝতে হবে সাধারণ সর্দিকাশি নয়। আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তিনি মনে করলে কোভিড টেস্ট করতে দিতে পারেন। তখন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে,’’ বললেনডা. অরুণাংশু তালুকদার।

প্রতিকারের চেয়েপ্রতিরোধ ভা

জেএন ১ কতটা ভয়ানক নাকি নেহাতই নিরীহ, তা এখনও পুরোপুরি জানা নেই বিজ্ঞানী বা চিকিৎসকদের। তাই প্রিভেনশন ইজ় বেটার দ্যান কিয়োর বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভাল এই নীতি নিতে হবে। শীতকাল উৎসবের মরসুম। গোটা দেশ জুড়ে চলছে নানা মেলা, অনুষ্ঠান। আমাদের রাজ্যও এই আনন্দ উৎসবে পিছিয়ে নেই। এই সময় বেড়াতে যান বহু মানুষ। পর্যটন স্থলগুলো পর্যটকের ভিড়ে গমগম করছে। যত বেশি জনসমাবেশ তত বেশি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা! জেএন ১-এর স্বরূপ এখনও অস্পষ্ট। তাই দুঃশ্চিন্তাও বাড়ছে। ‘‘চিন্তা ফেলে আবার সেই পুরনো নিয়মে ফিরে যেতে হবে। কোভিড ১৯-এর সময় যে সচেতনতা মেনে চলা হত তা শুরু করতে হবে। এই সময় যে কোনও সমাবেশ, মেলা বা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মাস্ক পরতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করতে হবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা দরকার। সম্ভব হলে বাইরে থেকে এসে পরা জামা-কাপড় ঘরের বাইরে রাখুন। বাইরের পোশাক পরে বা হাত না ধুয়ে বাচ্চাদের ও বয়স্কদের কাছে যাবেন না। নিয়মিত সাবান দিয়ে স্নান করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন। জ্বর, গলাব্যথা বা সর্দিকাশি হলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হন,’’ পরামর্শ দিলেন ডা. তালুকদার। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের বা যাঁদের অন্যান্য রোগ আছে এবং যাঁরা নিয়মিত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন, তাঁদের সজাগ থাকতে হবে।

এই ছোট-ছোট সচেতন পদক্ষেপ শুধু কোভিড নয় যে কোনও সংক্রামক রোগের জন্যও কার্যকর। এই মরসুমে ইনফ্লুয়েঞ্জাও বেশি হয়। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ইত্যাদি সচেতনতা ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকেও দূরে রাখবে।




বলতে চেয়েছিলাম এক, বলেছি অন্যরকম : মাহিয়া মাহি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। সম্প্রতি এক নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশে এই নায়িকা বলেন, ‘আমি আর সিনেমা করব না। নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে সেখানেই সময় দেব।’



আজকের দিনে টিভিতে খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইউরোপিয়ান ফুটবলে ব্যস্ত দিন আজ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি এবং চেলসি। আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচও। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিএল এর ফাইনাল আজ। আগামীকাল ভোরে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।