শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিজয় হতে পারে আ সম ফিরোজ

বরিশাল অফিস :: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  লড়াইয়ের নাঠে পটুয়াখালী -২ আসন থেকে অষ্টম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক চীফ হুইপ আ সম ফিরোজ।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তার নির্বাচিত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারপরও তিনি বসে নেই। সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতির জন্য কর্মী – সমর্থকদের নিয়ে বিরামহীন চালাচ্ছেন প্রচার – প্রচারণা।

১৪ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী দুই নির্বাচনী এলাকা। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক চীফ হুইপ আসম ফিরোজ । এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য  ১৩ জন দলীয় নেতা ও ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সবাইকে পিছনে ফেলে  আওয়ামী লীগের মনোনয়ন  বাগিয়ে নিয়েছেন এই আসনের বর্তমান এমপি আসম ফিরোজ ।
এই নির্বাচনী আসনে ফিরোজকে ঢেকাতে আওয়ামী লীগের  মনোনয়ন বঞ্চিত সবাই একগাট্টা হয়ে  দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হাসিব আলম নামের এক ব্যবসয়ীকে  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করালেও তাদের মধো সমঝোতা  না হওয়ায়  ১৬ ডিসেম্বর  ফেইস লবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ল দিয়ে পরেরদিন ১৭ ডিসেম্বর  তিনি তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার কর নেন।
হাসিব আলমের  এই প্রার্থীতা প্রত্যাহারের মধ্যদিয়ে  পটুয়াখালী ২ আসনে ভোটের মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিহীন হয়ে পড়ে। বরাবরের ন্যায় এবারও বিরোধীদের ঘেরা জাল ফসকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হন আসম ফিরোজ।
 এই আসনের ৭বারের এমপি দক্ষিণাঞ্চলের  ঝানু পলিটিশিয়ান  খ্যাত  আসম ফিরোজ  এর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী  জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকের মোঃ মহসিন হাওলাদার। তার বাড়ি বাউফল উপজেলা সদর হলেও  বাউফলের প্রত্যন্ত এলাকার ভোটার দের মাঝে  নেই তেমন কোন প্রভাব। তিনি গত বাউফল পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে পরাজিত হয়েও আবার এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রয়েছেন চরম অর্থ সংকটে। তাকে নিয়ে  আলোচনা – সমালোচনারও কমতি নেই  এখন বাউফলে। তাই আসম ফিরোজ এমপির  মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর না থাকায় ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার মতো অবস্থা।
এবং অপর প্রার্থীদের মধ্যে  বিএনএফ এর  প্রার্থী  জোবায়ের  হোসেন( টেলিভিশন, ) তৃণমূল বিএনপির  মাহাবুবুল আলম ( সোনালী আশ) কে এই নির্বাচনী এলাকার ভোটারতো দূরের কথা  এলাকার চেয়ারম্যান – মেম্বার বা চৌকিদাররাও ভাল ভাবে চিনেন না- জানেন না।
বিভিন্ন চর চন্দ্রদীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলকাস মোল্লা বলেন, ভাই এসব প্রার্থীদের চেনা জানা তো পরের ব্যাপার, এদের নামও  আমি কখনো শুনিনি ।
অন্যদিকে আসম ফিরোজ  ১৯৭৯ সালে  আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে  হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে  ন্যাপের তৎকালীন  সাধারণ সম্পাদক  সৈয়দ  আশরাফ এর সাথে প্রতিদ্বদ্ন্বীতা করে  প্রথম  জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।  এরপর ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রিস্কা প্রতীক নিয়ে  দ্বীতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ২৯৯৬ সালেও তিনি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের নিকট  সামান্য ভোটে পরাজিত হলেও  ২০০৮,২০১৪ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তিন বার সাংসদ  সদস্য নির্বাচিত হন। ১৪সালের নির্বাচনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।  পটুয়াখালী- ২ আসন থেকে মোট ৭ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন  আসম ফিরোজ।
প্রায় টানা ৩৫ বছর এই আসনের এমপি থাকার কারনে  এলাকায় উন্নয়নের ভীত যেমন মজবুত  করেছেন তেমনি কর্মীদের সাথও তার রয়েছে  বিশোষ সখ্যতা। মজবুত করেছেন নিজস্ব বলয়।
২০০৮ সালে এমপি নির্নাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পালন করলেও ১৪ সালের নির্বাচনের পর তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় সংসদের  চীফ হুইপ এর দায়িত্ব।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটের মাঠে তার  শক্ত কোন প্রতিদ্বদ্ন্বী না থাকায় অষ্টমবারের মতো সংসারের সদস্য নির্বাচিত হওয়া শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।   পটুয়াখালীর অন্যান্য আসন গুলোতে হাঁড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের দিনক্ষন ঘনিয়ে আসলেও পটুয়াখালী ২ আসনের নির্বাচনী আমেজ একটু ভিন্ন ও  নিরোত্তাপ। তবে সভা- সমাবেশে  ভোটারদের উপস্থিতি  আর উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।  এই নির্বাচনে আসম ফিরোজের সংসদ সদস্য পদের যেন নবায়ন মাত্র। নির্বাচনের মাঠে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও দিনরাত  সমনতালে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।
সাতবার এমপি থাকাকালীন সময়ে  একসময়ের অবহেলিত বাউফলকে সাজিয়েছেন নিজের মত করে। এসব উন্নয়নের  ফিরিস্তি তুলে ধরে নানা  প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মী সমার্থকদের নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের  দ্বারে দ্বারে।  সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার উপস্থিত নিশ্চিত  করতে  সভা, সমাবেশ, মিছিল  মিটিং করে  যাচ্ছেন অব্যাহতভাবে।  ভোটের মাঠে শক্ত  কোন প্রতিদ্বদ্ন্বী  প্রার্থী না থাকলেও সন্তোষজনক ভোটার  উপস্থিতিকে কোন চ্যালেঞ্জ হিসেবে  মানতে নারাজ আসম ফিরোজ এমপি।  উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অবয়াহত রাখতে,  সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে  দলমত নির্বিশেষে মানুষেরা শেখ হাসিনাকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন বলে জানান সাংসদ আসম ফিরোজ।
পটুয়াখালী দুই আসনে  এবারের  নির্বাচনে  মোট ২লাখ  ৯৩ হাজার ৩২৪জন ভোটার  তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে  পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯হাজর ৭৬৮জন আর মহিলা ভোটার  ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের  ১ জন।



সারাদেশে জাপার প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে: জিএম কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জিএম কাদের বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর শহরের সেনপাড়ায় স্কাইভিউ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, শুক্রবার সিলেটে জাপার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করে লোকদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ থাকতে পারবে না। নির্বাচন করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সারাদেশে ঘটছে।

রংপুরে এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, রংপুর ভালো আছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশা করি।

জিএম কাদের বলেন, রংপুরবাসী বঞ্চনার শিকার থেকে রক্ষা পেতে জাতীয় পার্টিকে বিজয়ী করবেন বলেও আশা করছি।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তিনি ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি-জামায়াতের ওপর আল্লাহ নারাজ : তথ্যমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: থ্যমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৭ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে গিয়ে ফিলিস্তিনে বর্বর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমি সরকারের তথ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিদিন এর বিরুদ্ধে কথা বলেছি। বিএনপি-জামায়াতের ওপর আল্লাহ নারাজ হয়ে গেছেন। কারণ তারা ফিলিস্তিনের এই হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেনি। তাদের নেতা তারেক রহমান কথা বলতে নিষেধ করেছে।



চোখের জলে স্কুলকে বিদায় দিলো মান্তা শিশুরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : জলে জন্ম, জলে মৃত্যু এবং জলের সাথেই জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটানো এক সম্প্রদায়ের নাম ছিল মান্তা।

জলের মানুষ হবার কারণে স্থলভাগের সাথে ছিল অনেক পার্থক্য। দেয়া হতো না যথাযথ সম্মান। লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত ছিল ছেলেমেয়েরা। এমন সম্প্রদায়ের বসবাস পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস খালে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের জলেভাসা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য প্রথমবারের মত চালু হয়েছিল প্রাক – প্রাথমিক ভাসমান বোট স্কুল ‘ শিশু বাগান’।
শিক্ষকদের পরম মমতায় এই স্কুল যেন ছিল শিশুদের বেড়ে উঠার ঠিকানা। হাসি আনন্দ এবং খেলার ছলে শেখানো হতো শিক্ষার্থীদের। বইয়ের পাশাপাশি শেখানো হতো ডিজিটাল মাধ্যমেও। এই স্কুল ছিল মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষা অর্জনের একমাত্র ভরসা। দিনের বেলায় বাবা মায়েরা যখন মাছ শিকারে নদীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন ছেলেমেয়েরা শিখছে শিশু বাগানে। দেয়া হতো দুপুরের খাবার। তবে সেই ভাসমান স্কুল ভেসে ভেসেই চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে। আর বিদায় বেলায় অঝোরে কাঁদছে শিক্ষার্থীরা।

এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এলে সমবেদনা জানান অনেকেই‌। সেখানে দেখা যায় কাদাপানিতে নেমে হাত নাড়িয়ে চোখের জলে শিশুরা বিদায় দিচ্ছি হাজারো স্মৃতি বিজড়িত স্কুলকে।

বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সংস্থার হেফাজতে বরগুনায় নিয়ে যাওয়া হয় ভাসমান স্কুলটিকে। চোখের সামনে থেকে স্কুলটি নিয়ে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেনি শিশুরা। তাই স্কুলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে এসে অঝোরে কাঁদছিল শিশু রাজিয়া, মিম, ছখিনা, সায়েম, শাহিদা, দ্বীন ইসলাম, রহমান, খুকুমণি, শেফালী, মর্জিনা, আমেনাসহ স্কুলটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ।

তাদেরই কয়েকজন অশ্রুসিক্ত চোখে বলে, ‘আমরা লেখাপড়া করতে পারছি এই স্কুলের কারনে, আমাদের সেই স্কুলে আর যাইতে পারমু না।’

আর অভিভাবকরা জানান, নদী ও ডাঙায় মিলিয়ে ৩০০ শিশু রয়েছে। ভাসমান স্কুলের কারণে ধীরে ধীরে তারা স্কুলগামী হচ্ছিল। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় মান্তা শিশুদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুগের পর যুগ ধরে মান্তা সম্প্রদায় ছিল শিক্ষার আলো বঞ্চিত। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ১১০টি পরিবার নৌকায় করে নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছিল। যাদের কাছে শিক্ষা ছিল শুধুই মাত্র বিলাসিতা। কিন্তু তাদের শিশুদের জীবনে লাগে শিক্ষার ছোঁয়া, হৈ-হুল্লোর করে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ।

২০১৯ সালের জুন মাসে বেসরকারি সংস্থা জাগোনারীর উদ্যোগে মুসলিম চ্যারিটির অর্থায়নে মান্তা শিশুদের জন্য চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ভাসমান বোট স্কুল স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে ছিল প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়ার সুযোগ। আর এই সুযোগ পেয়ে প্রাকের শিক্ষা লাভ করে অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। এরফলেই তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোয়া লাগতে শুরু করে। দূর হতে থাকে ডাঙার মানুষের সঙ্গে বৈষম্যও।

ভাসমান বোট স্কুলের শিক্ষক আইয়ুব খান বলেন, ‘ডাঙার মানুষের সঙ্গে আগে মান্তা সম্প্রদায়ের বৈষম্য ছিল। যার কারণে মান্তা শিশুরা ডাঙার স্কুলে পড়ালেখা করতে যেত না। কিন্তু ভাসমান স্কুল চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোয়া লাগে। বাবা-মা নদীতে মাছ ধরতে গেলেও বই-খাতা নিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানো হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা বি ত এসব মানুষ পেতে শুরু করে সরকারি সুবিধাও। ৫৯ পরিবারকে দেওয়া হয় মুজিববর্ষের ঘর। ফলে ডাঙায় বসবাসের সুযোগ পান তারা। কিন্তু এখনও প্রায় অর্ধশত নৌকায়ই বাস করছে। তাদের শিশুদের জন্য ভাসমান স্কুলটি ছিল কার্যকারী। কারণ, নদীর সঙ্গেই ওদের মিতালি। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় এখন শিক্ষা জীবন থেকে অনেক শিশু ঝরে পড়তে পারে।’

কর্তৃপক্ষ জানান, মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকেই এখন ডাঙায় উঠেছে। তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শিশুদের স্কুলগামী করার অভ্যাস করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে মান্তা শিশুদের হাতেখড়ির সেই স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী সংস্থা জাগোনারীর পরিচালক (যোগাযোগ) ডিউক ইবনে আমিন বলেন, ‘ভাসমান বোট স্কুল প্রকল্পের কার্যক্রম ওখানে শেষ। তবে নদী পাড়েই জাগোনারীর নির্মিত মসজিদ কাম কমিউনিটি সেন্টারের ভবনের দ্বিতীয়তলায় শিশুদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চলবে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। খুব শিগগরই সেখানে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ ইসলাম বলেন, ‘মান্তা শিশুদের শিক্ষার জন্য ভাসমান স্কুলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছিল। ওইসব শিশুদের জন্য সরকারি স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। মান্তা সম্প্রদায়কে দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর সংলগ্ন এলাকায়ই স্কুলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’




গাজায় ১৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজার একটি ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংস করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানকার এক সাংবাদিক সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ওমারি মসজিদে হামলা চালিয়ে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওমারি মসজিদ ফিলিস্তিনের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ। এটি প্রায় ১৪০০ বছরের প্রাচীন একটি মসজিদ। কিন্তু হাজার বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক মসজিদটিও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থেকে রেহায় পায়নি।

এদিকে শুক্রবার উত্তর গাজায় কুয়েত হাসপাতালের কাছে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ২০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাফাহ আবু ইউসুফ আল নাজ্জার হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-হামস উপহাস ও গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ৩২০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫৫ হাজার ৬০৩ জন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন ১১৩৯ জন ইসরায়েলি।

আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী মিশর গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা পেশ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ফের মধ্যপ্রাচ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার এই আগমনকে সামনে রেখে প্রস্তাব দিয়েছে মিশর।

এর আগে লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু জায়গায় রকেট ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। যদিও এসব রকেট ও ড্রোন ভূ-পাতিত করা হয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলের।




মালয়েশিয়ায় ২৫২ বাংলাদেশি আটক

এ সময় এক হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি নাগরিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তার মধ্যে দেশটিতে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ৫২৮ জন পুরুষ, ৩৮ জন নারী ও এক শিশুকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া ৫৬৭ জনের মধ্যে ২৫২ জন বাংলাদেশি, নেপালের ১৬৩ জন, মিয়ানমারের ৭৫ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৭২ জন, ফিলিপাইনের চারজন এবং ভারতের একজন নাগরিক রয়েছেন।

আটকদের দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী তদন্তের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে আরও অধিকতর তদন্তের কথা জানিয়ে পরিচালক বলেন, পুলিশ স্থানীয় জনগণের দেওয়া অভিযোগ এবং নানা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়ার কারণে বাড়ির মালিকদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।




১ জানুয়ারি বিশ্বের জনসংখ্যা ছাড়াবে ৮০০ কোটি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বিশ্বের মোট জনসংখ্যা পৌঁছাবে ৮০১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৯ জনে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তর ইউএস সেনসাস ব্যুরো শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।



লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি আরও ২ দিন বাড়াল বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে গত ৫ দিন টানা গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। চলমান এ কর্মসূচি আরও ২ দিন পালন করবে দলটি।



বাংলাদেশে কেউ ভূমিহীন থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ ভূমিহীন থাকবে না। বাবার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। তার মুখে এগুলো শুনে শুনে বড় হয়েছি।  শনিবার দুপুরে কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।



ঝালকাঠিতে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমুর প্রচারণা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি-২ আসনে নৌকার হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু আজ শনিবার বেলা ১২টায় শহরের বারোচলা এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। পরে তিনি শহরের কালিবাড়ি, চৌমাথা, কুমারপট্টি, কাপড়িয়াপট্টি ও উদ্বোধন স্কুল এলাকায় গণসংযোগ করেন।

এসময় তিনি পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকদের হাতে নৌকা প্রতীকের লিফলেট তুলে দেন।
এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুমাইয়া হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য লস্কর আসিফুর রহমান দিপু ও জাতীয় শ্রমিক লীগ ঝালকাঠি জেলা আহবায়ক মো. ছবির হোসেনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী প্রচারণায় অংশ নেন।