বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আকস্মিক পরিদর্শন করলেন বিএমপি কমিশনার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবা প্রদানের বাস্তবিক চিত্র ও সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য গত রাত ৮ টায় বিএমপি’র কোতোয়ালি মডেল থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আকস্মিক পরিদর্শন করেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির, বিপিএম-সেবা, পিপিএম ।

এ সময় তিনি থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের বিভিন্ন কার্যক্রম, কার্য পরিবেশ, থানার ডরমেটরি, হাজতখানা ও মালখানা সহ সামগ্রিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্রার সমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পর্যালোচনা করে এ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি মামলা তদন্ত, ওয়ারেন্ট তামিল, সিডিএমএস ব্যবস্থাপনা, মাদক উদ্ধার, চুরি, দস্যুতা, ইভটিজিং, জঙ্গীবাদ, সাইবার ক্রাইম, কিশোর অপরাধ, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু সহ থানার সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা সহ প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশানা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিদর্শন বইতে নোট করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ ফজলুল করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পুলিশ কমিশনার ) প্রণয় রায়, সহকারী পুলিশ কমিশনার কোতোয়ালি মডেল থানা ও ভিকটিভ সাপোর্ট সেন্টার সীমা খানম, অফিসার ইনচার্জ কোতোয়ালি মডেল থানা এটিএম আরিচুল হক সহ থানা ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অন্যান্য অফিসার-ফোর্স।

 




ঢাকাসহ ৬ বিভাগে বাড়তে পারে শীত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ফের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে। মঙ্গলবার সকালে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে।

এখন পর্যন্ত এটিই চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।

ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দেশের দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছয় বিভাগে তাপমাত্রা আরও কমে শীত বাড়তে পারে, একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগে তাপমাত্রা বেড়ে শীত কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে।




সমুদ্রের নিচে বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড়’ কবরস্থান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পানির নিচে সারি সারি কঙ্কাল, জাহাজ! না কোনো পাইরেট কাহিনী বা গুপ্তধন রহস্যের উপন্যাস নয়। বাস্তবেই এমন স্থান রয়েছে সমুদ্রের অতলে। চাক দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রের তলদেশের সেই গায়ে কাঁটা দেওয়া দৃশ্যের ছবি দেখলে চমকে উঠবেন।



বরিশাল-৫: নৌকার বিপক্ষে দাপুটে অবস্থানে ট্রাক

বরিশাল অফিস : দিন যত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, ততোই প্রচার-প্রচারণার সময় কমে আসছে। এ অবস্থায় কৌশলী প্রচারণা চালাচ্ছে বরিশালের ছয়টি আসনের ৩৫ জন প্রার্থী।

বিশেষ করে আলোচনায় উঠে আসা বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রচারণার মাঠে নৌকার বিপক্ষে ট্রাক অনেকটাই দাপুটে অবস্থান দেখিয়ে দিচ্ছে।

আলোচিত এ আসনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পরে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে ছিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ ফারুক।

এরপর জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় মাঠ অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রচারণার মাঠ দাবড়ে বেড়ানো দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত অপর স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনই যেন এখন অস্বস্তির কারণ নৌকার শিবিরে।
বরিশাল সদরের ভোটাররা বলছেন, যদি ভোট প্রয়োগে কোনো বাধা না আসে তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাকের সঙ্গে এ আসনে নৌকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। আর যদি সাদিক আব্দুল্লাহ প্রার্থিতা ফিরে পায় তাহলে ভোটের লড়াইটা ত্রিমুখী হতে পারে, সেই হিসেবেও ট্রাক ভালো অবস্থানেই থাকবে।

নগরের খান সড়কের বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখে বলে গেছেন, নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুককে সৎ ও ভালো লোক। এ নিয়ে ভোটারদেরও হয়তো সন্দেহ নেই, কারণ গত ৫ বছরে তার তেমন কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। আবার ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন কেমন লোক সেটাও সবাই জানেন। করোনার সময় ব্যক্তি উদ্যোগে বরিশালবাসীর পাশে থাকার পাশাপাশি তিনি বিনে পয়সায় হাজার হাজার লোকের চোখের চিকিৎসা করিয়ে যাচ্ছেন। অসহায় নারীসহ পরিবারের পাশেও তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন বটবৃক্ষের মতো। এ অবস্থায় বরিশালবাসীও তাকে ভালো জানেন। যেক্ষেত্রে উভয়কেই আলাদা আলাদা কারণে পছন্দ করেন ভোটাররা। এখন ভোটার উপস্থিতি ও অবাধে ভোট প্রয়োগ করতে পারলে দুজনের লড়াই শেষে ফলাফল বলে দিবে জয়ের হাঁসি কে হাসবে।

তবে সাদিক আব্দুল্লাহ মাঠে থাকলে হিসেব ত্রিমুখী অর্থাৎ ভিন্ন হতো বলে দাবি করে সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার বাসিন্দা রাসেল হোসেন বলেন, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কর্মীবান্ধব হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের যে সমর্থন তার রয়েছে, নিঃসন্দেহে তা মাঠে থাকা অন্য কোনো প্রার্থীর নেই। আবার গত সংসদ নির্বাচনে গোটা বরিশালবাসী দেখেছে সাদিক আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুকের বিজয়ে দৃশ্য। আর এবার সেই সাদিক আব্দুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার পাশে নেই।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাদিক আব্দুল্লাহ ফিরে এলেও নৌকার অস্বস্তি, আবার না ফিরে এলেও যে তা কাটবে এমন নয়। কারণ সাদিক বিহীন মাঠে ট্রাকও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। প্রচারণার মাঠে ইতোমধ্যে রিপন ও তার কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের বিভেদে এ কাজটি কঠিন হয়ে যাচ্ছে নৌকার জন্য। তার ওপর ট্রাকের প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া ও কর্মীদের হুমকি ধামকি দেওয়ায় ট্রাকের আলোচনা তৃণমূলে আরও বেড়েছে।

ভোটাররা ভোট দিতে পারলে ট্রাকের সালাহউদ্দিন রিপনও কম ভোট পাবেন না জানিয়ে এই কর্মজীবী বলেন, অবাধ ভোট হলে এখন ট্রাকই নৌকার যত শঙ্কা।

এদিকে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপনও সুষ্ঠু ভোট হলে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাবেন জানিয়ে বলেন, বাধা-বিপত্তির পরও এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমি যাইনি। সব জায়গাতে মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তাতে জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী। তবে প্রশাসন যেভাবে সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস দিচ্ছে সেটি ৭ তারিখ ভোটের দিন পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে।

আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় সাধারণ মানুষ ভোট দেবে বলে আশাবাদী জাহিদ ফারুক।




বরিশাল ৪ আসনে শতভাগ আশাবাদী লাঙ্গলের মিজান

বরিশাল অফিস :: মিজান অনেক ভালো পোলা, অনেক নম্রতা ভদ্রতা ও আদব কায়দা সম্পুর্ন পোলা সে, তারে ভোট দিয়া এবার জিতামু, সে আমাগো এলাকার জন্য কাম করবো। এভাবেই বলছিলেন, ষাটোর্ধ আলকাছ বেপারী। নির্বাচন আসলে যেনো এক উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয় নির্বাচনী এলাকায়। এর ব্যতিক্রম হয় নি বরিশাল ০৪ আসনে।

বরিশাল ০৪ আসনে সর্বমোট তিনজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন, জাতীয় পার্টি থেকে মোঃ মিজানুর রহমান মনোনয়ন পেয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় বেশ শক্তপোক্ত ভাবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করে আসছে। গেলো বছরে ১৮ ডিসেম্বর থেকে প্রচারণার কাজে মেহেন্দিগঞ্জ – হিজলা – কাজিরহাট এর সকল ইউনিয়নে সর্বসাধারণের দোরগোড়ায় লাঙ্গলের বার্তা পৌছে দিয়েছেন, এবং তার কর্মী সমর্থকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রচার প্রচারণার কাজে লেগে থাকেন।

সাধারণ জনগণের সাথে আলাপকালে তারা এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় পার্টির মিজান ভাই অনেক ভালো লোক, তিনি আমাদের এলাকায় আসেন, খোজ খবর নেন, সবার ভালো মন্দ শোনেন  এবার আমরা সবাই তাকেই ভোট দিয়ে জেতাবো।

লাঙ্গল প্রতীকের মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বরিশাল ০৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে এসেছি, এই এলাকার মানুষের সাথে মিলেমিশে কাজ করার জন্য একতাবদ্ধ, এই নদী বেষ্টিত অঞ্চলের মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই, এখানকার মানুষ অনেক অবহেলিত, নিষ্পেষিত, আমি এদের পাশে থেকে দেখিয়ে দিতে চাই, মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে ও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।

 নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য কতো ভাগ আশাবাদী, এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি শতভাগ আশাবাদী, কারন সাধারণ জনগণ আমার পাশে আছে।




আপিল বিভাগেও প্রার্থিতা ফিরে পেলেন না আ.লীগের শাম্মী আহম্মেদ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাম্মী আহম্মেদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি চেয়ে করা লিভ টু আপিল আবেদন তৃতীয় বারের মতো খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শাম্মীর পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

গত ২৬ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফেরত পেতে ও প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে তৃতীয় বারের মতো শাম্মী আহমেদের লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আদালত এ আদেশ দেন।

সেদিন আদালতে শাম্মী আহম্মেদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, মোতাহার হোসেন সাজুসহ ১২ জনের মতো সিনিয়র আইনজীবী। আইনজীবীরা আদালতে বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া শাম্মী আহম্মেদের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গ্রহণ করেছে। সবদিক বিবেচনা করে অন্তত আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত শাম্মী আহম্মেদকে নির্বাচনের মাঠে থাকার সুযোগ দিন। তখন চেম্বার বিচারপতি বলেন, আমার আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আপনারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এসব বিষয়ে তো আমি একা সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। আগামী ২ জানুয়ারি আপিল বিভাগের সব বিচারপতি মিলে শুনব।

এর আগে সকালে প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে আবারও চেম্বার আদালতে আবেদন করেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ।

গত ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা ফিরে পেতে বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদের আবেদনে সাড়া না দিয়ে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আগামী ২ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে শাম্মীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ।

এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাম্মী আহমেদ। আবেদনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়েছেন তিনি।

গত ১৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তা করার ক্ষেত্রে তার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে আদেশ দেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন শাম্মী আহমেদ।

এর আগে ১৫ ডিসেম্বর দ্বৈত নাগরিকত্বে অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হয় শাম্মী আহমেদের। আর একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহালই থাকল। আপিল আবেদন শুনানি করে এমন রায় দেন কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন (ইসি)। পরে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেন শাম্মী আহমেদ।

এর আগে শাম্মী আহমেদ এবং একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ-সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন ইসিতে। শাম্মী আহমেদ অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজের।




সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিলই থাকবে : আপিল বিভাগ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ২০ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে ফের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন। আবেদনে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চাওয়া হয়।

আগেরদিন ১৯ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

এর আগে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।

তার আগে ১৮ ডিসেম্বর সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের সাইফু র রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

গত ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই রায় দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন।

দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল জাহিদ ফারুক।




ইমরানের খানের মনোনয়ন বাতিল , ভোটার তালিকায় নামই নেই !

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মনোনয়ন বাতিল নিয়ে তাঁর দলের মহাসচিব ওমর আয়ুব খান বলেন, ‘‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে পিটিআইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস না থাকায় এই ধরনের অসাধু পদ্ধতি অবলম্বন করছেন ক্ষমতাসীনেরা।’’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করে বিতর্কে জড়াল সে দেশের নির্বাচন কমিশন। পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান লাহোরের এনএ–১২২ এবং মিয়াঁওয়ালির এনএ–৮৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পাক নির্বাচনের কমিশনের দাবি, ইমরানের নাম ভোটার তালিকাতেই নেই! তাই তাঁর মনোনয়ন বৈধ নয়।

ইমরানের মনোনয়ন বাতিলকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলেছে তাঁর দল পিটিআই। দলের মহাসচিব ওমর আয়ুব খান বলেন, ‘‘সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে পিটিআইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস না থাকায় এই ধরনের অসাধু পদ্ধতি অবলম্বন করছেন ক্ষমতাসীনেরা। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।’’ ঘটনার জেরে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন পিটিআই কর্মী-সমর্থকেরা।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি’ এবং প্রাদেশিক আইনসভাগুলির নির্বাচন। ইমরান জেলে থাকলেও তাঁর দল পিটিআই ভোটে অংশ নেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নভেম্বরে। ওএসএ মামলার কারণে ইমরান মুক্তি না পাওয়ায় নির্বাচনী প্রতীক ‘ব্যাট’ বজায় রাখতে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক নির্বাচন সেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন পরিচালনকারী শীর্ষ সংস্থা ‘ইলেকশন কমিশন অব পাকিস্তান’ (ইসিপি)। সেই নির্দেশ মেনে চলতি মাসের গোড়ায় পিটিআই-এর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইমরান ঘনিষ্ঠ নেতা গোহর আলি খান।

তোশাখানা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজায় ইসলামাবাদ হাই কোর্ট স্থগিতাদেশ দিলেও তার পর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ (ওএসএ)-এ মামলায় জেলবন্দি ছিলেন তিনি। গত ২২ ডিসেম্বর পাক সুপ্রিম কোর্ট ওএসএ মামলায় ইমরানের জামিন মঞ্জুর করার পরে দু’টি আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে এপ্রিলে দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একাংশের বিদ্রোহের জেরে প্রধানমন্ত্রিত্বের ‘ইনিংসের’ মাঝপথে ‘রান আউট’ হওয়ার সময় ইমরান জানিয়েছিলেন, তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের সামনে মাথা নত করবেন না। আবার প্রত্যাবর্তন করবেন স্বমহিমায়। কিন্তু কমিশনের সিদ্ধান্তে অনিশ্চিত হয়ে গেল বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন পাক ক্রিকেট অধিনায়কের ‘প্রত্যাবর্তন’।




পটুয়াখালী-৪ আসনের ১টিতে নৌকা-ঈগল লড়াই : দুটিতে নৌকা অন্যটিতে লাঙ্গল এগিয়ে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার ৪টি আসনের মধ্যে তিনটিতেই ভালো অবস্থায় রয়েছে নৌকা। পটুয়াখালী-১ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে।

পটুয়াখালী-২ আসনে সাতবারের সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী আ স ম ফিরোজের জয় নিশ্চিত।

পটুয়াখালী-৩ আসনে নৌকার বিপরীতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না ঈগল।

তবে পটুয়াখালীর-৪ আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান সাংসদ মুহিবুর রহমান মুহিব ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদারের দিকে সবার নজর। এখানে নৌকার সঙ্গে ঈগলের লড়াই হলেও শেষ হাসির সম্ভাবনা রয়েছে নৌকারই।

পটুয়াখালী-১ : পটুয়াখালী সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকী নিয়ে জাতীয় সংসদের এই আসনটি গঠিত হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার কোনো প্রার্থী নেই; ছেড়ে দেয়া হয়েছে সমঝোতার প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে এই আসনে রুহুল আমিন হাওলাদার যে বিজয়ী হবেন তা বলাই যেতে পারে। রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে যারা লড়ছেন- তাদের মধ্যে রয়েছেন জাসদের (মশাল) কে এম আনোয়ারুজ্জামান মিয়া, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (ছড়ি) মহিউদ্দিন মামুন, তরিকত ফেডারেশনের (ফুলের মালা) মো. খলিল, এনপিপির (আম) নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের (ডাব) নাসির উদ্দিন তালুকদার।

বিগত সময়ের একাধিকবারের এমপি রুহুল আমিন হাওলাদারের বিপক্ষে এরা সবাই অনভিজ্ঞ ও নতুন প্রার্থী। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সমর্থনে তিনি সবার চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুতে এই আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে আফজাল হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে আফজাল হোসেন বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হন।

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে প্রথমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মহাজোটের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আফজাল হোসেন বাদ পড়ে যান। মহাজোটের একক প্রার্থী হন এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। আওয়ামী লীগের অর্ধেকের বেশি নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই রুহুল আমিন হাওলাদারের পক্ষে এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। অন্য যেসব প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন তাদের কারোরই রুহুল আমিন হাওলাদারের শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে ওঠার সক্ষমতা নেই।

পটুয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৩ হাজার ২৫৭ জন।

পটুয়াখালী-২ : শুধু বাউফল উপজেলাটি নিয়ে জাতীয় সংসদের এই নির্বাচনী আসন। এখানে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ। তিনি গত দশটি নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এর মধ্যে সাতবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এই আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ এ আসনটি ধরে রেখেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে আ স ম ফিরোজের। জাতীয় সংসদের হুইপ, চিফ হুইপসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সংসদ সদস্য।
তিনি ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পটুয়াখালী-২ আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় তার নিজস্ব বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে।
তার প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে তৃণমূল বিএনপির (সোনালি আঁশ) মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (টেলিভিশন) জোবায়ের হোসেন ও জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মহসীন হাওলাদার প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

পটুয়াখালীর অন্য আসনে ভোট নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা থাকলেও পটুয়াখালী-২ আসনে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো কোনো প্রার্থী নেই। আ স ম ফিরোজ এ আসনে নিশ্চিন্তে জয়লাভ করবেন বলেই জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা।

পটুয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন।

পটুয়াখালী-৩ : গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নিয়ে জাতীয় সংসদের এই আসনে নৌকার বিপরীতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না ঈগল। ১৯৯১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত এই আসনটি দখলে রেখেছে। কিন্তু তারপরও এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। দলীয় কোন্দল এতটাই চরমে যে, এই আসনে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের ২১ জন নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাও ছিলেন। শাহজাদা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তবে তার সহজ জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রভাবশালী একসময়ের সরকারি কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

এলাকাবাসী জানান, গলাচিপা দশমিনা এলাকার মানুষের অপরিচিত আবুল হোসেনের ঈগল প্রতীক নিয়ে দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার মতো নৌকায় ছোবল মারার মতো অবস্থা নেই।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাবেক নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার ভাগ্নে। ১৯৯১ সালের পর থেকে পটুয়াখালী-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। একসময় আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন আওয়ামী লীগ ও নৌকার হাল ধরে রেখেছিলেন। তারপরও ২০০৮ সালে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ওই সময় অপেক্ষাকৃত তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা রনিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন মঞ্চে রনি আওয়ামী লীগ বিরোধী কথা বলতে থাকেন। এছাড়া দখলবাজি, চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন। তার এসব আচরণে গণমাধ্যমকর্মীরা সোচ্চার হলে তিনি তাদের ওপর চড়াও হন। গণমাধ্যমকর্মীরা মারধরের শিকার হয়। দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। এরপর ২০১৪ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগ আবারো মনোনয়ন দেয় আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার ভাগ্নে এস এম শাহজাদাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিগত পাঁচ বছরে শাহজাদা এলাকায় তার একটি নিজস্ব বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর তেমন কোনো অভিযোগও নেই। তাই এবারো শাহজাদাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বর্তমান সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা আবারো নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
নৌকার বিপরীতে শাহজাদার অন্য প্রতিদ্ব›দ্বীরা হলেন- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (টেলিভিশন) এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, এনপিপির (আম) ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) নজরুল ইসলাম ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (একতারা) নূরে আলম এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন।

গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, বর্তমান আবারো মনোনয়ন পাওয়া শাহজাদার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন শক্তিশালী প্রার্থী। তবে নৌকাকে পরাজিত করার মতো শক্তি তার নেই। এলাকার মানুষের কাছেও তিনি অপরিচিত। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তার পক্ষে নেমেছেন। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আবুল হোসেন কিছু মানুষের জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। তার কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। তাই বলে নৌকার নিশ্চিত জয়ের পথে বড় বাধা হতে পারবে না।

এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল হোসেন একসময় সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, বিজিবি মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু পটুয়াখালীতে নির্বাচনী এলাকায় তার যাতায়াত ছিল না। ফলে এলাকার মানুষের কাছে তার পরিচিতি নেই। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ আবুল হোসেনের পক্ষে নেমেছেন। দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের পক্ষে নেমেছেন। কিন্তু তাদের ওপর ভোটারদের আস্থা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, গলাচিপার যুদ্ধাপরাধী ও সাজাপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আত্মীয়স্বজন ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেনের পক্ষে কাজ করছে।

অপরদিকে ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা সন্তোষ বাবুসহ একটি বড় অংশ বর্তমান সংসদ সদস্য শাহজাদার পক্ষে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে এলাকায় তার নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তুলেছেন শাহজাদা। এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। এই আসনের ভোটে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনও নৌকার বিপরীতে ঈগলকে ভোট দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে আছে। বিএনপি-জামাতের লোকজন নৌকার প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৭ জন। এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ২১ জন।

পটুয়াখালী-৪ : কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত এই আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান। তার প্রতিদ্ব›িদ্বতা সঙ্গে মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচন ঘিরে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের মধ্যে কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর আসনটি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এখানেও দলীয় কোন্দল রয়েছে। এই আসনে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশ নৌকার পক্ষে এবং অপর একটি অংশ ঈগল প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার ও বর্তমান সাংসদ মুহিবুর রহমান মুহিবের মধ্যে প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে ঈগলকে হটিয়ে সহজে নৌকার জয় হবে এটা অকপটে বলা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে টানা তিনবার এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন পান কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান তালুকদার। তবে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় ধুলাসার জালাল উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুহিবুর রহমান মুহিবকে। আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে তার ওপরই আস্থা রেখেছে।

রাঙ্গাবালীর বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ জানান, এই আসনটি পটুয়াখালী জেলার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্রবন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শেরেবাংলা নৌঘাঁটিসহ মেগা প্রকল্পে ভরপুর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী সংসদীয় এলাকাটি। রাঙ্গাবালী উপজেলার চর হেয়ার, চর মন্তাজ, সোনার চরসহ বিভিন্ন চর এলাকায় পর্যটকদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। দু-এক বছরের মধ্যে এই এলাকাগুলো পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসছেন। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেনের মহাসড়ক হয়ে গেলে এলাকার গুরুত্ব আরো বাড়বে। বর্তমান সংসদ মুহিবুর রহমান মুহিব বিগত পাঁচ বছর এলাকার উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো তাকে এই অঞ্চলের নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন।

কলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম দাস বলেন, পটুয়াখালী-৪ আসনটি সব সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এখানে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগে ভালো পদ-পদবি না পাওয়া কিছু নেতা নৌকার বিরুদ্ধে ঈগলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষ নৌকার বাইরে যাবে না, তারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকাতেই ভোট দেবে। বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিব ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই। এই আসনে তিনি অনেক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। শেষ পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করবেন।
এ আসনে অন্য প্রতিদ্ব›দ্বীরা হলেন- স্বতন্ত্র ট্রাক প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, জাতীয় পার্টি মনোনীত আব্দুল মান্নান হাওলাদার, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত জাহাঙ্গীর হোসাইন ও জাসদের বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

পটুয়াখালী-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৪ জন।

এই এলাকার ৪টি আসনের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে মনিটরিং করছে জেলা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন আগামী ৭ জানুয়ারি গলাচিপা-রাঙ্গাবালী আসনের দিকে সবচেয়ে বেশি নজরদারি চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্টরা।




বিমানে উঠলে যে কারণে ফোনকে ফ্লাইট মোডে রাখতে বলা হয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিমান ভ্রমণের সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপকে ‘ফ্লাইট মোড’-এ রাখতে বলা হয়। তবে এই ফ্লাইট মোড কেন ব্যবহার করতে হয় তা অনেকেরই অজানা। কিন্তু এর কার্যকারিতা আসলে কী তা অনেকেই জানেন না। জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।