রাঙ্গাবালীর নিখোঁজ জেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে স্বজনরা জানতে চান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সুখ-দুঃখ আর হাঁসি-কান্নায় বছর ঘুরে এসেছে নতুন বছর। কিন্তু রয়ে গেছে ২০২৩ সালের দুঃখ গাঁথা একটি ঘটনা।
পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান এখনো মেলেনি। তাই নতুন বছরে আনন্দ নেই ওইসব পরিবারের।
বরং তাদের প্রশ্ন-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কী ঘটেছে? জানতে চান তারা।
জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন এই ২৫ জেলে। ঘটনার দেড় মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলেও রয়েছে। তারা হলেন-উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনী গ্রামের তামিম ও কামরুল। ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। পরিবারের সঙ্গেও হয়নি কোনো যোগাযোগ। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।
নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজা খুঁজি করেছি। এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই, তা-ও জানতে পারছি না।’ শুধু এই তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও একই।
তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন ও মোংলা গিয়েও অনেক খোঁজা খুঁজি করা হয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ ৮ জন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের ৮ জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জেলে।








