সিটি মেয়রের নির্দেশে নগরীর নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টার অপসারণ শুরু

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার-ব্যানারসহ অন্যান্য প্রচারণাসামগ্রী অপসারণ শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।

৭ জানুয়ারী ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১০ জানুয়ারী থেকে নগরীতে এই কার্যক্রম শুরু করে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। যা এখনো চলমান আছে। পুরো ৩০ টি ওয়ার্ডের এই কার্যক্রম শেষ করতে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একাধিক টিম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে শহরের পরিবেশ রক্ষা করার জন্য বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। মেয়র বলেন, পাঁচ বছর পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় পোস্টার ব্যানার ব্যবহার করেছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করার জন্য। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ নগরবাসীকে অনুরোধ করছি- নির্বাচন শেষ, আর যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার লাগাবেন না। আমরা এই শহরকে নোংরা দেখতে চাই না। আমরা দূষণ চাই না।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব মাসুমা বেগম বলেন, মেয়র মহোদ্বয়ের নির্দেশে আমরা নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। দুদিন ধরে কাজ চলছে। যতক্ষন না নগরীর সকল পোষ্টার ব্যানার অপসারণ না হয় ততদিন কার্যক্রম চলবে।




ভোলায় দিন দিন কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা

 

বরিশাল অফিস :: ভোলায় গাঙ্গুইরার চরে দেশি গাঙচষা ও চখাচখির ঝাঁক। শীত এলেই প্রতিবছর দ্বীপ জেলা ভোলাসহ উপকূলের চরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হতে শুরু করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জেলার বিভিন্ন চরে অতিথি পাখিরা এসে জড় হতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক বিপন্ন পাখি।

বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভোলা। তবে এ বছর ভোলায় আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাবারক্ষেত্র ও প্রজননক্ষেত্র নষ্টের পাশাপাশি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এজন্য দায়ী বলে মনে করছেন পাখি পর্যবেক্ষক ও গবেষকরা। তাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৬.৫ শতাংশ কম পাখি উপকূলে এসেছে।

চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে ভোলায় জলপাখি গণনা করতে আসা সদস্যদের দলীয় প্রধান সায়েম ইউ চৌধুরী জানান, ১৯টি কাঁদাচরসহ ৪৪টি স্থান পর্যবেক্ষণ করে তারা এ বছর মোট ৬২ প্রজাতির ৩৪ হাজার ৩১২টি পাখি গণনা করেছেন ভোলায়, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬.৫ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ৬৫ প্রজাতির ৫৪ হাজার ১৮০টি পাখি গণনা করেছিলেন তারা।

তিনি আরও জানান, এ বছর উপকূলে আসা উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে একটি মহাবিপন্ন চামচ-ঠুঁটো বাটন এবং ছয়টি বিপন্ন বড় নট পাখির দেখা মিলেছে গাঙ্গুইরার চরে। টেগরার চরে একটি দুর্লভ বৈকাল হাঁসের দেখা পাওয়া গেছে। এছাড়া আন্ডার চরে একসাথে ৩ হাজার ২৮৬টি পাতি চখাচখি দেখা গেছে। পাশাপাশি দেখা মিলেছে ১ হাজার ২০০টি বিপন্ন প্রজাতির দেশি গাংচশা, মেটে-মাথা টিটি হাঁস ১ হাজার ১০টি এবং ৯০০টি ধূসর রাজহাঁসের।

বন্যপ্রাণী গবেষক ও পাখি পর্যবেক্ষক সামিউল মেহেসনিন জানান, শীত এলেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবির বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে জড় হয় ভোলার চরাঞ্চলে। আর প্রতিবছর এসব পাখির মাঝে এসে ভিড় করে পৃথিবির মহাবিপন্ন কিছু পাখি। বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য ভোলা অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাখি-পর্যবেক্ষক ও পর্বত আরোহী এম এ মুহিত ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ভোলায় পাখিশুমারি করে আসছেন। তিনি জানান, ভোলার চরগুলোতে ৪ ধরনের বিরল পাখির দেখা মেলে। এগুলো হলো মহাবিপন্ন, বিপন্ন, প্রায় বিপন্ন ও সংকটাপন্ন। যে দেশে যত বেশি পাখি আসে সে দেশের প্রকৃতি তত নির্ভেজাল। যেহেতু পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখিরা তাদের আসার জায়গা হিসেবে ভোলা এসব চরাঞ্চল বেছে নিয়েছে, সেহেতু দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য সরকারের উচিত এসব জায়গা সংরক্ষ করা। বিশেষ করে এসব চরে মানুষ যাতে অবাধে বিচরণ করতে না পারে।

তিনি বলেন, আইন করে পাখিদের রক্ষা করা যাবে না। এজন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। অনেকে জানেও না যে পাখি মারা অপরাধ। তাই আমরা পাখি রক্ষায় বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি।

 




নতুন মন্ত্রীদের মাঝে দপ্তর বন্টন, পররাষ্ট্রে হাছান মাহমুদ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: শপথ নেয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মাঝে দপ্তর বন্টন করা হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে মন্ত্রী পরিষদ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।




আইসিজের মামলা : ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে ইসরাইলের জন্য

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইসরাইল তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হেগের জাতিসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে। গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালানোর অত্যন্ত ভয়াবহ অভিযোগ দায়ের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আদালত যদি ইসরাইলের বিরুদ্ধে একেবারে মোলায়েম সুরেও অন্তর্বর্তী কোনো রায় দেয়, তবে তা দেশটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং বৈশ্বিক সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিণাম হবে ভয়াবহ।

এমনকি ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি রুলিং হামাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মোড় পর্যন্ত ঘুরিয়ে দিতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে; গাজার লোকজনকে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা মনে করে, এগুলো হলো গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের পরিকল্পিত গণহত্যার চেষ্টা।

দক্ষিণ আফ্রিকা তার প্রমাণের পক্ষে কেবল বোমাবর্ষণই নয়, ইসরাইলি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বক্তব্যও তুলে ধরেছে। এসব মন্তব্যে ইসরাইলি মন্ত্রীরা গাজার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, নির্মূল করা, নিশ্চিহ্ন করার কথা সদম্ভে বলেছিলেন। এগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।

চূড়ান্ত রায় দিতে কয়েক বছর লাগতে পারে। কিন্তু অন্তর্বর্তী রায়ে অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির কথা বলা হতে পারে। আর তাই ইসরাইলের পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

আইসিজের স্থায়ী বিচারপতির সংখ্যা ১৫। তবে মামলার দুই পক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরাইল একজন করে অস্থায়ী বিচারপতি পাঠাতে পারবে।

এই আদালতের বর্তমান সভাপতি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জুয়ান ডোনোহুই। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্লোভাকিয়া, জ্যামাইকা, জাপান, ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, মরক্কো, সোমালিয়া, লেবানন ও উগান্ডার।

কেন ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা

দ্য হেইগের আন্তর্জাতিক আদালত বা আইসিজে-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনবে এবং এরপরে ইসরাইলের গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করবে কি না তা সিদ্ধান্ত নেবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগের মুখপাত্র ক্লেসন মনিয়েল্লা বলেছেন, ‘গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে ১৯৪৮ সালের ‘গণহত্যা প্রতিরোধ ও শান্তি সংক্রান্ত কনভেশনের’-আওতায় যে কার্যক্রমগুলোকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে সেগুলোও গাজায় সংঘটিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইসরাইল উভয়েই এই কনভেনশানের স্বাক্ষরকারী। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইলকে গণহত্যার জন্য দায়ী প্রমাণ করতে পুরো মামলাটির কার্যক্রম কয়েক বছর চলতে পারে, তবে এই সপ্তাহের শুনানিটি হচ্ছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জরুরি একটি পদক্ষেপ।

ব্রিস্টলের ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অফ ইংল্যান্ডের দক্ষিণ আফ্রিকার আইনের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেছেন, ফিলিস্তিনি ইস্যুর প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী।

কেম্প বলেন, ‘এর একটি ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে; ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার শাসক দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সাথে ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক আছে। তাই ইসরাইলকে আইসিজে-র সামনে আনার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্ব দেয়ার ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে।’

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা এএনসি নিজেরাই একসময় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত মুক্তি আন্দোলন ছিল। এএনসি দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাই তারা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার মধ্যে নিজেদের প্রতিচিত্র দেখে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন সাবেক ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ম্যান্ডেলা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হবে না।

সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল, ভোয়া এবং অন্যান্য




বরিশালে ট্রলির চাপায় স্কুল ছাত্রী নিহত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় ইট বোঝাই ট্রলির চাপায় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সাকরাল মডেল বাজার সংলগ্ন এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ তিনি জানান,ইট ভর্তি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ডাবেরকুল বাজারের দিকে যাচ্ছিল সে সময় ওই গ্রামের সোহরাব হাওলাদারের মেয়ে চতলবাড়ি আব্দুল মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আক্তার (১৩) স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইট বোঝাই ট্রলিটি নুসরাত আক্তারকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তবে তাৎক্ষণিক চালক পালিয়ে যায়।

তিনি জানান,ট্রলি গাড়িটি আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হবে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘাতক ট্রলিতে অগ্নিসংযোগ করে পড়ে তা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।




শপথ নিলেন মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ, ৫ম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের ৩ ধারা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ শপথ নেন।

শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। ৩৭ সদস‌্য বিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।  প্রধানমন্ত্রীর পরে মন্ত্রী এবং সবশেষে প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ শপথ নেন। শপথ নেয়া মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের মধ‌্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৬টা ৫০ মিনিটে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। এ শপথ নেওয়ার মাধ্যমে টানা চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা। এবার সরকার গঠনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আসলো আওয়ামী লীগও

এর আগে ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপিবিহীন এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২২২টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে শপথ নিয়েছেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথ শেষে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর বঙ্গভবনে যান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি।




আন্তর্জাতিক আদালত : ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা, শুরু হয়েছে শুনানি

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এ আদালতে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরদিন শুক্রবার প্রতিক্রিয়া জানাবে ইসরায়েল।

ডিসেম্বরে মামলা করার পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দাবি উঠছে যুদ্ধবিরতির।

তাছাড়া বোমা হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে গাজার ঘরবাড়ি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

আদালতের কাছে এক আবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে। কারণ সেখানে একটি জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।




তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন, ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

বরিশাল অফিস :: তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন। বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তাদের ভর্তি করা হচ্ছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

শিশুদের চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষ সর্বাধিক চেষ্টা করে যাচ্ছে চন্দ্রদ্বীপ নিউজকে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬ শয্যার বিপরীতে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন ছিলো আড়াই শতাধিক শিশু। বর্হিবিভাগেও চিকিৎসা নিয়েছে ২ শতাধিক শিশু। তাদের বেশিরভাগই গ্রামের।

পিরোজপুরের আকলিমা বেগম জানান, গ্রামে প্রচুর ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডায় গত ৬ দিন আগে তার শিশু সন্তানের ডায়রিয়া হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় সুস্থ না হওয়ায় গত বুধবার তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন তারা।

উজিরপুরের রুবিনা বেগম জানান, শীতের কারণে তার শিশু সন্তান ডায়রিয়া, জ্বর ও বমিতে আক্রান্ত হয়।

উপায় না পেয়ে ২ দিন আগে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন তারা।
ভক্তভোগীরা শিশু ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও উন্নত করাসহ সকল ওষুধ সরকারিভাবে দেয়ার দাবি জানান।

ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী থাকার পরও শিশু ওয়ার্ডে সুষ্ঠু চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থান সংকটের কারণে শিশুদের মেঝেতে বিছানা দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার অধিক রোগী এবং স্বজন বেশি থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা যায় না।

পরিচ্ছন্ন কর্মীরা একদিকে পরিষ্কার করে, অন্যদিকে তারা নোংরা করে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠাণ্ঠাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় গরম কাপড়ে শিশুদের আবৃত রাখাসহ অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।




কাউখালীতে অবৈধ জাল অপসরণে বিশেষ কম্বিং

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল অপসারণে বিশেষ কম্বিং-২০২৪ উপলক্ষে এক প্রস্তুতি মূলক সভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, কাউখালী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মিলন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসান রকি, এসআই মশিউর রহমান, নৌ পুলিশ ইনচার্জ মোঃ ফারুক আহমেদ, সমাজসেবক আবদুল লতিফ খসরু, প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সাবেক সভাপতি তারিকুল ইসলাম পান্নু, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী নেতা দেবনাথ মালো প্রমুখ।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল মোল্লা বলেন, ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ই জানুয়ারি, ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি, ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি চার ধাপে মোট ৩০ দিন এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদ নদীতে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী বাধা জাল, কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চরগড়া সহ অবৈধ জালে বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।




বরিশালে খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মান

বরিশাল অফিস :: সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকার।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বাটাজোর-সরিকল প্রবাহমান খালের বাটাজোর বন্দর সংলগ্ন এলাকার খালের একটি অংশ দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে আসছেন প্রবাসী জাকির হোসেন ও করিম তালুকদার নামের দুই ব্যক্তি। সূত্রে আরও জানা গেছে, খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে খাল দখল না করতে ওই দুই দখলকারীকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খালের মধ্যেই স্থাপনা নির্মানের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, খালের মধ্য থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও দখল কাজ চালিয়ে গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।