ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দ. আফ্রিকার করা মামলায় সমর্থন দিল বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।



শিশু আয়ানের মৃত্যু: ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

চন্দ্রদীপ নিউজ: খতনার জন্য অজ্ঞান করা শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় নিবন্ধন না থাকা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ান আহমেদের (৫+ বছর) মৃত্যুতে তার বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) নেতৃত্বে ১০ জানুয়ারি হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয়।

এছাড়া দপ্তরের অনলাইন ডাটাবেজ পর্যালোচনা এবং পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় যে, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিকট নিবন্ধন/লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কখনোই অনলাইন আবেদন করেনি।

প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকার আইনানুগ নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স ব্যতিরেকে চিকিৎসা সেবা নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালনা করে আসছে, যা সরকারের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে এ আদেশ জারি করা হলো।

এর আগে এ ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেছেন এক আইনজীবী।




বাউফলে মৃত্যুর ১২ বছর পর জীবিত দেখিয়ে আবেদন!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): যশোদা দেবনাথ নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন প্রায় ১২ বছর আগে। অথচ তাকে জীবিত দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছে। আবেদন যাছাই বাছাই না করেই কর্তৃপক্ষ তার নামে নেওয়া মিটারটি পরিবর্তন করে শান্তি রঞ্জন দেবনাথ নামের অন্য এক ব্যক্তির নামে দিয়েছেন। শান্তি রঞ্জন দেবনাথ মৃত যশোদা দেবনাথের বাসার ভাড়াটে।

অভিযোগ রয়েছে, যশোদার বাড়িটি দখলে নেওয়ার জন্যই অবৈধভাবে ভাড়াটে শান্তি রঞ্জন তার নামে ওই মিটার সংযোগ নিয়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের আওতাধীন বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী পরিপারের পক্ষ থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক এলাকায় যশোদা দেবনাথের পাকা টিনসেড ঘর রয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পূর্ব থেকে ওই ঘরে তাঁর নামে বিদ্যুতের মিটার (হিসাব নম্বর-২৪৫/১৪২০) ছিল। তিনি ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘর ভাড়া দিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাশের দশমিনা উপজেলার গোপালদি গ্রামে থাকেন। সেই সুযোগে শান্তি রঞ্জন দেবনাথ নামে তাঁর এক আত্মীয় মৃত যশোদা দেবনাথকে জীবিত দেখিয়ে তাঁর নামের মিটারটি হস্তান্তরের জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করেন এবং একই স্থানে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর শান্তি রঞ্জন দেবনাথের নামে একটি নতুন মিটারের (যার হিসেব নম্বর ২৪৫/১৪৪৫) সংযোগ দেন এবং ওই ঘরটি তিনি দখল করে নেন।

যশোদা দেবনাথের ছেলে কানাই চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগ করেছেন, পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। কোনো বকেয়া নাই। এরপরেও তাঁর মৃত বাবাকে প্রায় ১২ বছর পর জীবিত দেখিয়ে তাঁর (যশোদা) নামে আবেদন করে মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং একই স্থানে অন্য নামে নতুন মিটারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পুনঃসংযোগ দেওয়ার জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বরাবরে আবেদন করেন। এক বছর পর্যন্ত দেই, দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। নিরুপায় হয়ে তিনি পল্লী বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শান্তি রঞ্জন দেবনাথ বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে কে বা কারা আবেদন করেছেন তা তিনি জানেন না।’ তবে তিনি যে তাঁর নামে মিটার নিয়েছেন, তা তাঁর ঘরেই স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন।’




পথচারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সবজি বিক্রেতাকে হত্যা

বরিশাল অফিস :: পথচারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সবজি বিক্রেতাকে হত্যা ভোলায় পথচারী নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. আব্দুর রব (৫৫) নামের এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৪ জানুয়ারি) পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরনোয়াবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রব ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদুরচর গ্রামের মো. ফজলে রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় হত্যাকারী মো. সুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে চরনোয়াবাদ এলাকায় ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এসময় মো. সুজন ওই নারীর পথরোধ করে তাকে উত্ত্যক্ত করেন। এ সময় নারীর চিৎকারে সবজি বিক্রেতা আব্দুর রব ছুটে এসে প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন হাতের ক্র্যাচ দিয়ে সবজি বিক্রেতার মাথায় আঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা এসে আব্দুর রবকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলা মডেল থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) মো. ঈমাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জানান, খবর পেয়ে আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সুজন নামে একজনকে আটক করেছি।




বরিশালে শীতে কাঁপছে এতিমখানার শিশুরা

বরিশাল অফিস :: বরিশালে শীতে কাঁপছে মাদ্রাসার এতিম শিশুরা। বিশেষ করে কম্বল কিংবা গরম কাপড়ের অভাবে নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছগ্রামের মধ্য কালবার্ড সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। গায়ের কাপড় ও একটি পাতলা খাতা চলমান সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এই শীত সামলাতে পারে না শিশুরা।

অন্যদিকে একটি এতিমখানায় যে পরিমাণ এতিমসহ শিক্ষার্থী থাকে, সেই পরিমাণ কম্বল কেনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র উচ্চ পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৯টায় বরিশালে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সকালে ২ নটিক্যাল মাইল বেগে বাতাস বয়ে গেছে। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি বরিশালে। এতে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভ‚ত হয়েছে। এর আগে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি আরো বলেন শীতের এ তীব্রতা আরো ৪/৫ দিন থাকার সম্ভবনা রয়েছে তবে মাঝে মধ্যে এর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে তারপরে শীতের তীব্রতা থাকার পর এ অঞ্চলে বজ্র বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কনকনে এই শীতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির ভোগান্তি দেখা দিয়েছে মারাত্মকভাবে।

বিশেষ করে মাদ্রাসার এতিম শিশুরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর পলাশপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর সড়কের গুচ্ছগ্রামের মধ্য কালবার্ড সংলগ্ন রহমানিয়া কিরাতুল কুরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিমসহ শতাধিক শিশু আবাসিকে থেকে পড়ালেখা করছে।

সেখানে মাত্র ১০টি কম্বল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। মাদ্রাসা কতৃপক্ষ আরো বলেন, বর্তমানের মাদ্রাসার ছাত্র বেশি থাকায় তাদের তিন বেলা খাবার যোগার করতে খুব সমস্যা হয়ে দারিয়েছে। তার মধ্যে দেখা দিয়েছে শীতের তীব্রতা।

এখন এই শীতে ছোট ছোট এতিম শিশুদের নিয়ে কি করবো তা বুঝতে পারছিনা। কোন ব্যাক্তি যদি এই এতিম শিশুদের দিকে তাকিয়ে কিছু কম্বল অথবা শিশুদের পোষাক দিতেন তাহলে এই এতিম শিশুরা শীতের হাত থেকে একটু রক্ষা পেতেন। এই মাদ্রাসায় এতিমরা কম্বল ও গরম কাপড়ের কারণে প্রচন্ড শীতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য ও অর্থের সংকট রয়েছে। তাই বিত্তবান কিংবা প্রশাসন থেকে এতিম শিশুদের রক্ষায় গরম কাপড় নিয়ে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানিয়েছেন ওই মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। অন্য দিকে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইর কাজ শেষ হলেও এখনও বাকি রয়েছে ৪র্থ তলার নির্মাণসহ ভবনের বাকি কাজ।




বরিশালে জাল সনদে চাকরি: জামিন চাইতে গিয়ে কারাগারে গেলেন শিক্ষক

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়া উপেজেলায় জাল সনদে চাকরি করার মামলায় বরখাস্ত এক প্রধান শিক্ষকের জামিন আবেদন নাকচ করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন  আদালত।

রোববার দুপুরে বরিশালের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মহিবুল হাসান এ আদেশ দেন বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাসির খান জানান।

আসামি ৪৮ বছর বয়সী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বানারীপাড়া উপজেলার আউয়ার গ্রামের আছমত আলী খানের ছেলে এবং ওই এলাকার সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

নাসির খান চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, জাহাঙ্গীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। বিচাররক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বরাতে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হওয়ায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীরের সনদ পরীক্ষা করেন। এ সময় চাকরিতে যোগদানের সময় তার দাখিল করা বিএ, এমএ ও এমএড পরীক্ষায় উত্তীর্ন সনদ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে জাহাঙ্গীরের ঢাকার রয়েল ইউনিভার্সিটির এমএ এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড ও এমএড পরীক্ষার সনদ জাল বলে প্রমাণ পায় কমিটির সদস্যরা। এর প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর তারিকুল আদালতে মামলা করেন।

মামলার আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীর অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন বলে নাসির জানান।

 




দশমিনায় ‘মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিজিবি প্রধান লে. জেনারেল (অব.) আবুল হোসেন পরাজিত হয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে (দশমিনা) নৌকার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। এমন অভিযোগ তুলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আবুল কালাম লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এসএম শাহজাদা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়। এ বিজয়ে ঈর্ষান্বিত হয়ে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) আবুল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। গত ১০ই জানুয়ারি স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটনের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও হুমকি-ধমকির যে বর্ণনা দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এ ধরনের মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঈগলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, উল্টো ঈগলের কর্মী-সমর্থকরা পরাজিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকার সমর্থক নেতাকর্মীদের মারধর ও হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গৌতম রায় , উপদেষ্টামণ্ডলীর  সদস্য ফোরকান সিকদারসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন  জানান, একটা পরিস্থিতিতে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনটা উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তাই জানুয়ারির ৭ তারিখে নির্বাচন শেষে সকল দলাদলি ও বিভেদ শেষ হয়ে গেছে। এখন এটাকে জিইয়ে রেখে দলের মধ্যে কেউ সংঘাত হানাহানির অপচেষ্টা অব্যাহত রাখলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনার চর

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বাংলাদেশের অপার এক সৌন্দর্যের নাম সোনার চর। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা অপরূপ প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি।

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে এই চরের অবস্থান। ১০ হাজার একর আয়তনের চরটি দুর্গম হলেও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের কমতি নেই।

সুন্দরবন বা কুয়াকাটা নামের পেছনে যেমন একটি গল্প আছে, তেমনি সোনার চরের নামের পেছনেও কারণ আছে। চরটি সোনা দিয়ে তৈরি না হলেও সূর্যের প্রখর রোদ যখন বালুর ওপর পড়ে তখন সোনার মতোই মনে হয়। লোকের মুখে মুখে নামটি জনপ্রিয়তা পায়। ফলে একসময় এটি প্রশাসনিক নামে রূপ নেয়।

পটুয়াখালী প্রশাসনের ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, ২০০৪ সালে বঙ্গোপসাগরের কোল জুড়ে জেগে ওঠে চরটি। আয়তনের দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশাল সমুদ্র সৈকত। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার ২৬ হেক্টর আয়তনের এই বনভূমিকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর থেকেই বনায়ন শুরু করে বন কর্তৃপক্ষ।

ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে সোনারচর নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার। যেতে যেতে দেখতে পাবেন সাগরের অপরূপ দৃশ্য। ছোট-ছোট নৌকা চলছে বড়-বড় ঢেউয়ের তালে। বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরছে জেলে। সাগর থেকে আসা খালগুলোতে মাকড়শার মত অসংখ্য ঠেলা জাল দিয়ে মাছ ধরছে শিশুরা। সাগরে যখন জোয়ারের জল উথলে ওঠে তখন চাঁদের আলোয় অন্য এক সৌন্দর্যে রূপ নেয় সোনার চর।

দূর থেকে চরের ওপর বনের দৃশ্য অবাক করার মতো। একটু কাছাকাছি গেলে সহজেই চোখে পড়বে মেছো বাঘ, বুনো মোষ, হরিণ, শূকর, বানরসহ আরো সব বন্য প্রাণী। এছাড়া গাছে গাছে নানা ধরনের পাখিদের দেখা মেলে। যাদের কলকাকলিতে নিশ্চয়ই আপনি মুগ্ধ হবেন।

এসব দেখতে হলে খুব সকালেই বেরিয়ে পড়তে হবে নৌকা নিয়ে। সৈকতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যাবে সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য। এখানে রয়েছে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। তীরে আছড়ে পড়ছে ছোট-বড় ঢেউ।  ঝুরঝুরে বালি গলে পড়ছে নোনা জলে।

সৈকতে বিচরণ করছে লাল কাঁকড়া। কাঁকড়ার এ প্রজাতি সামুদ্রিক হলেও চরের বালুমাটিতে বাস করে। বালুর গভীরে নিজেদের তৈরি সুড়ঙ্গে দলবেঁধে চলাচল করে। জোয়ারের পানিতে সৈকত যখন ডুবে যায়, তখন এরা সুড়ঙ্গে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। এছাড়া চোখে পড়বে ডানা ঝাপটানো নাম না জানা পাখির দল। তাদের কিচির-মিচির শব্দে সন্ধ্যার পরিবেশটুকু উপভোগ করা যাবে নিজের মতো করে। এছাড়া দেখতে পাবেন সমুদ্রগামী হাজারো জেলের জীবন সংগ্রামের দৃশ্য। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সবুজ প্রকৃতির এমন নিরিবিলি জায়গা সহজে কোথাও পাওয়া যাবে না।

এটি যেহেতু রিজার্ভ বন, তাই আপনি এখানে বাইরের লোক। বণ্যপ্রাণীদের বিরক্ত করলে তারাও হিংস্র হয়ে উঠবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর আবহাওয়ার পরিবর্তন সমুদ্রকে আরও ভয়াল করে তুলতে পারে। তাই এখানে গেলে শীতের সময় সবচেয়ে ভালো। এর পাশাপাশি অবশ্যই আবহাওয়ার তথ্য জেনে যেতে হবে। ক্যাম্পিং-এর বিকল্প ব্যবস্থাও ভেবে রাখতে হবে। সমুদ্র তীরে বিপদ সংকেত আছে কিনা খেয়াল রাখুন। খেয়াল না করলে কক্সবাজারের মতো আপনাকে সতর্ক করতে এখানে কেউ ছুটে আসবে না। এমনকি বিপদে পড়লে উদ্ধার বাহিনী আসতেও অনেক সময় লাগবে।

পর্যটন শিল্পে এখন প্যাকেজ ট্যুরের বিষয়টি বেশ পরিচিত। পারিবারিকভাবে তো বটেই, সবাই মিলে একসঙ্গে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াবার মজাও কিন্তু কম নয়। ঢাকা থেকে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই এই জেলার আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এসে ঘুরে চলে যান। কিন্তু সোনার চর, রূপার চর, চর মৌডুবী, জাহাজমারা, তুফানিয়া, চর ফরিদ, শিপচরসহ সমুদ্রফুঁড়ে জেগে ওঠা সবুজ বনাঞ্চলের সন্ধান জানেন না অনেকেই।

দ্বীপগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করলে দেশের পর্যটন শিল্পে যোগ হবে নতুন মাত্রা। তাই বনাঞ্চলকে পর্যটনমুখী করতে আগে দরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এর সাথে নির্মাণ করা জরুরি হোটেল-মোটেল। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে কিংবা সড়কপথে পটুয়াখালী যাবেন। সেখান থেকে গলাচিপা উপজেলা সদর হয়ে সড়কপথে দক্ষিণে পানপট্টি লঞ্চঘাট। লঞ্চঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে আগুনমুখা মোহনা পেরিয়ে দক্ষিণে যেতে হবে। ডিগ্রি নদীর বুক চিরে একটু বাঁয়ে গেলেই বুড়া গৌরাঙ্গ নদী। সামনে গিয়ে বাঁক ঘুরতেই দাঁড়ছিড়া নদী। এরপরই সোনার চরের অপরূপ দৃশ্যের দেখা মেলবে।

গলাচিপা লঞ্চঘাট থেকে স্পিড বোটে সোনারে চর যেতে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগবে। অন্যদিকে সদরঘাট থেকে রাঙাবালীর লঞ্চে চরকাজল নামার পর ছোট লঞ্চে চরমন্তাজ গিয়ে ট্রলারে সোনার চর যাওয়া যাবে। আবার কুয়াকাটা থেকেও সোনার চরে যাওয়া যায়। যেতে হবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। কুয়াকাটা থেকে স্পিড বোট রিজার্ভ করে সোনার চর যাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যেতে পারেন কিন্তু সময় লাগবে ঘণ্টাতিনেক।

রাত কাটানোর জন্য এখনও সোনার চরে নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা হয়ে ওঠেনি। তবে প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে তিন কক্ষের একটি বাংলো। ইচ্ছে করলে রাতে সেখানে থাকতে পারেন। এছাড়া রয়েছে বন বিভাগের ক্যাম্প। সেখানে কিছুটা কষ্ট হলেও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা আছে। থাকতে চাইলে চলে যেতে পারেন চরমোন্তাজ। সেখানে বন বিভাগ, স্যাপ বাংলাদেশ ও মহিলা উন্নয়ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাত যাপনে জন্য বাংলো রয়েছে। আরও ভালোভাবে থাকতে চাইলে গলাচিপা ও জেলা শহর পটুয়াখালীতে রাত কাটানোর জন্য আধুনিক মানের হোটেল রয়েছে।




আইসল্যান্ডে আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইউরোপের দেশ আইসল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আগ্নেয়গিরিতে বিস্ফোরণ হয়েছে। এরপর সেই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের পর রেকজানেস উপদ্বীপে পঞ্চম অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা এটি।




সৈন্য প্রত্যাহারে ভারতকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের আল্টিমেটাম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপক টানাপোড়েনের মাঝে এবার ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে নয়াদিল্লিকে আল্টিমেটাম দিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। দ্বীপ দেশটি থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে নয়াদিল্লিকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছেন তিনি। মোহাম্মদ মুইজ্জু বলেছেন, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সৈন্যদের মালদ্বীপ ছেড়ে চলে যেতে হবে। রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।