বরিশাল গণপূর্তে দুর্নীতির অভিযোগ, আলোচনায় নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম

বরিশাল অফিস
বরিশাল গণপূর্ত (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট—পিডব্লিউডি) কার্যালয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মে জড়িত।
সূত্র অনুযায়ী, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তঘর এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আলম ৩২তম বিসিএসের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেন। তিনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (খুয়েট)-এ শিক্ষাজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মজীবনে ঝালকাঠি ও পরে বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডার ব্যবস্থাপনা, ভুয়া বিল উত্তোলন ও প্রকল্প ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ দেখানোর অভিযোগ উঠে।
ঝালকাঠি ও বরিশাল পর্বে অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, ২০২২–২০২৪ সময়ে ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে এলটিএম টেন্ডারসহ সদর মডেল মসজিদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, এনএসআই ভবন ও পুলিশ মেস লাইনের ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সাধারণ ঠিকাদারদের একাংশ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগও দায়ের করেছিলেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে বরিশাল গণপূর্ত কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসার পরও একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি না থাকলেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
শেবাচিম ক্যান্সার ইউনিট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)-এর ক্যান্সার ইউনিট নির্মাণ প্রকল্পে দুই দফা ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণ পুরোপুরি শেষ না হলেও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক, মেডিকেল গ্যাস, ফায়ার ফাইটিং, সাবস্টেশন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প এলাকায় এসব সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনও প্রস্তুত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নভোথিয়েটার ও অন্যান্য প্রকল্প
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল নভোথিয়েটার প্রকল্প নিয়েও। ভবন নির্মাণ অর্ধেকের বেশি শেষ না হলেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, জেনারেটর, সাউন্ড সিস্টেম, এসি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এছাড়া দুর্গাসাগর ট্যুরিজম ফ্যাসিলিটিজ প্রকল্প, সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সংস্কার কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বদলি আদেশ ও বহাল থাকার অভিযোগ
সূত্র বলছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফয়সাল আলমকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারদের তদবিরে তিনি বরিশালেই বহাল থাকেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলেও জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








