শীতে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: চলমান শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা সহ একের পর এক বৈরী আবহাওয়ায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি। বোরো বীজতলা, গোলআলু, গম ও শীতকালীন সবজি মারাত্মক সংকটের মুখে। চলমান শৈত্য প্রবাহ বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’, গোল আলুর জন্য ‘লেট ব্লাইট ডিজিজ’ এবং গমের জন্য ছত্রাকবাহী ‘ব্লাস্ট’ সংক্রমন সহ সবজি ফসলে ঘনকুয়াশা ও শীতের বিরুপ প্রভাবে গুনগত মান বিনষ্ট হচ্ছে। গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় হামুনের পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরুপ প্রভাব ফেলে।

পরপর দুই মাসের ওই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে থোর এবং আধাপাকা আমনের বিপুল জমি প্লাবিত হওয়ায় উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয় তেমনি শীতকালীন সবজি সহ অন্যান্য রবি ফসলের আবাদকে অনেকটা বিলম্বিত করে। এখন আবাদকৃত রবি ফসল নতুন দুর্যোগের কবলে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গম, গোল আলু ও পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হতো এবার তা মধ্য জানুয়ারী পেড়িয়েও অব্যাহত আছে অক্টোবর-নভেম্বরের অকাল বর্ষণের কারণে। ফলে ওই সব ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান ব্যাহত হওয়ারও সম্ভাবনা বাড়ছে।এর উপরে অগ্রহায়ণের বর্ষণ সব ফসলের জন্যই যথেষ্ট বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করে।

বর্ষায় বৃষ্টির আকালের পরে হেমন্তের অতি বর্ষণ ও অকাল বর্ষণের ধকল কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা শীতকালীন সবজি, বোরো, গোল আলু, গম ও পেঁয়াজ সহ অন্যান্য ফসল আবাদে লক্ষ্য অর্জনে মাঠে থাকলেও কুয়াশার সাথে শীতের দাপট সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। পৌষের শেষভাগ থেকে ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামার পরে মাঘের প্রথম দিন, ১৫ জানুয়ারী বরিশালে তাপমাত্রার পারদ দেশের সর্বনিম্ন, ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা ছিল স্বাভাবিকের ২.৯ ডিগ্রী নিচে। সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া পরিস্থিতিকে আরো বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ১৪ জানুয়ারী ১০.৫, ১৩ জানুয়ারী ১০.৭ ডিগ্রীতে নেমে যায়। প্রায় ৪৮ ঘন্টা পরে সোমবার সকালে বরিশালে সূর্যের দেখা মিললেও মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার আগে রোদে চোখে পড়েনি।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪ লাখ হেক্টরে আবাদের জন্য যে বীজতলা তৈরী হয়েছে, তা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে।অপরদিকে ১৫ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে যে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে সেখানেও থাবা বসিয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া সহ শৈত্য প্রবাহের কনকনে ঠান্ডায় ফুল কপি ও বাধা কপি সহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি গুণগত মানও বিনষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যে চলতি রবি মৌসুমে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গম আবাদ হয়েছে তাও ঝুঁকির মুখে ছত্রাকবাহী ‘ব্লাষ্ট’ রোগের শংকায়। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি সহ আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, তা ব্লাষ্ট সংক্রমনের উপযোগী বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

অপরদিকে চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে ৩ লাখ টন গোল আলু উৎপাদনের লক্ষে আবাদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশার সাথে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সেই ফসল ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগের সংক্রমন নিয়ে শংকিত কৃষকরা।

এমনকি অক্টোবর ও নভেম্বরে দু দফার অকাল ও প্রবল বর্ষণের কারণে পেঁয়াজের আবাদও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টরে ১১ লাখ ৮২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির রয়েছে। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৩৩ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছর দেশে উৎপাদিত ৩৪.১৬ লাখ টন পেঁয়াজের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলেই সাড়ে ১১ লাখ টনেরও বেশী উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষনিক নজর রাখছি। প্রতিটি এলাকার ব্লক সুপারভাইজারদের পরিস্থিতি বুঝে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লক সুপারভাইজারদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।  (মঙ্গলবার) গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের‌ নতুন প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।



রোজার আগে শুরু হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : ইসি




ভোলায় শখের কবুতরে মিটছে পরিবারের চাহিদা, হচ্ছে বাড়তি আয়

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় কবুতর। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর, সবখানের মানুষের কাছেই ব্যাপক জনপ্রিয় এই কবুতর। এসব কবুতরের রয়েছে বিভিন্ন জাত। তবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির কবুতরই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে কেউ শখ করে, আবার কেউ বানিজ্যিক ভাবেও পালেন কবুতর। এরকমই এক স্কুল শিক্ষক ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফারুক।

তিনি লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার পাড়ার বাসিন্দা। এছাড়া উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক। ১০ বছর আগে শখের বশে কবুতর পালন শুরু করে এখন পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে করছেন বাড়তি আয়। শিক্ষক মো. ফারুকের সংসারে স্ত্রীসহ দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে।

স্কুল শিক্ষক মো. ফারুক বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে শখের বশে পালতে ৫ জোড়া কবুতর কিনে আনি। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কবুতরের সংখ্যা। বর্তমানে আমার ৮০ জোড়ার মতো কবুতর রয়েছে। এসব কবুতরের জন্য একটি ঘর তৈরি করেছি। সেখানেই থাকে কবুতরগুলো। এসব কবুতর ডিম পাড়ে, সেখান থেকে বাচ্চা ফোঁটে। ওইসব বাচ্চা দিয়ে নিজের পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। নিজেদের খাওয়ার পর যেসব বাচ্চা থাকে তা বিক্রি করি। বাজারে নেওয়া লাগে না এসব বাচ্চা। বাসা থেকে এসেই নিয়ে যান লোকজন। এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দিনে দুইবার কবুতরগুলোকে খাবার দেই। সকালে খাবার দিয়ে স্কুলে যাই এবং স্কুল থেকে ফিরে আবার খাবার দেই। প্রতিমাসে কবুতরের খাবারের জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এসব খরচ বাদে মাস শেষে কবুতর বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। প্রতি জোড়া কবুতর আড়াইশত টাকা করে বিক্রি করি। বাড়ি থেকে লোকজন এসে নেওয়ায় দাম একটু কম। বাজারে নিয়ে বিক্রি করলে হয়তো দাম আরেকটু বেশি পাওয়া যেতো। তবে বাড়ি থেকে বিক্রি করে যা আয় হয় তাতেই আমি সন্তুষ্ট। কারণ এই কবুতর পালন আমার কেবল শখ।

শিক্ষক মো. ফারুকের প্রতিবেশী ও মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল মান্নান লিটন জানান, তিনি নিজ বাড়ির আঙিনায় দীর্ঘ দিন পর্যন্ত দেশীয় জাতের কবুতর পালন করছেন। এই এলাকার সকলেই তার থেকে কবুতরের বাচ্চা কিনেন। মাঝে মধ্যে আমি নিজেও তার থেকে বাচ্চা কিনি।

তার আরেক প্রতিবেশী ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ তালুকদার বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি কবুতর পালন একটি দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে তিনি পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন। একইসঙ্গে কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করে বাড়তি উপার্জনও করতে পারছেন। সকলের উচিত কোনো জমি পরিত্যক্ত না রেখে যেকোনো কাজে ব্যবহার করা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল উদ্দিন জানান, উপজেলার সব ধরনের খামারিদের আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। একইসঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছি। যার ফলে খামারিরা উপকৃত হচ্ছেন, লাভবানও হচ্ছেন তারা।

 




পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ পটুয়াখালীতে ১৩৬ হেক্টর জমিতে শসা চাষ। পটুয়াখালী জেলায় বাড়ছে শসার চাষ। কৃষকেরা সারাবছরই শসা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় অনেক কৃষক শসা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে এলাকার কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার যেমন উন্নতি হচ্ছে; পাশপাশি জেলার বাইরেও পটুয়াখালীর উৎপাদিত শসা সরবরাহ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশে ১১ একর জমি ইজারা নিয়ে শসা চাষ করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর। বাড়ি ভোলা জেলার নীলকমল ইউনিয়নে হলেও এবার তিনি এ এলাকায় শসা চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে এবার ফলনও হয়েছে বেশ ভালো।

কৃষি উদ্যোক্তা সীরাজ মীর বলেন, ‘আমাদের এলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ ভালো না। তাই এই এলাকায় শসা আবাদ করছি। এখানে বিকেলে শসা তুলে তা রাতের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো যায়। বিশেষ করে ঢাকার বাজার ধরতেই বেশি চেষ্টা করি। এখানে নারী-পুরুষসহ অনেক কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায়। যে কারণে কৃষিকাজের পরিবেশ ভালো।’

এবার এলাকায় ১১ একর জমিতে শসা আবাদে প্রায় ২৩-২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। যদি প্রতি কেজি শসা ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করা যায়, তবে অর্ধকোটি টাকার শসা বিক্রি করা সম্ভব। যদি শসার কেজি ১২ থেকে ১৩ টাকায় নেমে আসে, তবে চালান টাকা আসবে। ১০ টাকার নিচে দাম এলে লস হবে বলে জানান এ কৃষি উদ্যোক্তা।

শুধু সীরাজ মীর নন, এলাকার অনেকেই তার দেখাদেখি শসা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই আধুনিক কৃষিতে নিজেদের নিয়োজিত করছেন। এছাড়া বাণিজ্যিক ভাবে শসা চাষের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকেরা গার্হস্থ বাড়িতে শসা চাষ করলে সেটা মাচা পদ্বতিতে করে থাকেন। তবে সীরাজ মীর সরাসরি জমিতেই শসার লতা বিছিয়ে দিচ্ছেন। সেখান থেকেই শসা সংগ্রহ করছেন। এ কারণে কৃষকদের কাছে পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয় এবং লাভজনক।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় শীতকালীন তরমুজের পাশাপাশি কৃষক হাইব্রিড জাতের ডেইজি, ময়নামতি, সুপ্রিম প্লাস ও সুমাইয়া জাতের শসা চাষ করছেন। গত বছর জেলায় ৮ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হলেও চলতি বছর ১৬৩ হেক্টর জমিতে শসা চাষ করা হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় তা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।’

পটুয়াখালীর বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তবে কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করছেন। আগামী রমজান মাসকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই নতুন করে শসা চাষ করছেন।

 




ভোলায় বিদ্যালয় থেকে নৈশপ্রহরী মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ভোলায় স্কুল থেকে এক নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউ সি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. মিজানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ভোলা সদর থানার ওসি মনির হোসেন মিঞা সোনালীনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মিজানুর রহমান ২ নম্বর পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সি অলি উল্লাহ আহমেদের ছেলে এবং ৩ সন্তানের জনক। তিনি ইলিশা ইউ সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত ছিলেন।

ওসি জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও মিজানুর রহমান বিদ্যালয়ে গিয়ে তার শয়ন কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে স্কুলে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকরা দেখেন মিজান শয়নকক্ষে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। শয়নকক্ষটি ভিতর থেকে আটকানো ছিল।

মিজানের পরিবার পুলিশকে জানায়, সে কয়েকদিন যাবত অসুস্থ ছিলো। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ।




বরিশালে রোগীর দালাল সরকারী চিকিৎসকের সহকারী !

বরিশাল অফিস :: দালাল নির্ভর হয়ে পড়েছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় চিকিৎসক অফিস সময়ে নিজেদের সাথেই রাখছেন দালালদের। চিকিৎসকদের সাথে থাকা এসব ব্যক্তিরা দালাল নামে পরিচিত হলেও মূলত এরা হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেতনভুক্ত কর্মচারী।

রোগী দেখা মাত্রই এসব ডাক্তাররা ওই দালালদের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন চুক্তিবদ্ধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যেখান থেকে মোটা অংকের কমিশন পান ওই ডাক্তাররা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে গোটা হাসপাতালে দালাল ও ডাক্তারদের এই রমরমা বানিজ্য ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে নজর রেখেছিলো চন্দ্রদীপ নিউজ রিপোর্টার । সেখানে দালালদের সাথে ডাক্তারদের সম্পর্ক ও সখ্যতার বাস্তব প্রমান পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে,হাসপাতালের বহির্বিভাগে থাকা প্রায় প্রত্যেক চিকিৎসকের সাথেই থাকছেন এক একজন দালাল। তারা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাতে বোঝার উপায় নেই যে এরা হাসপাতালের কর্মচারী নাকি বাইরের লোক। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন এই তথ্যের সত্যতা। তবে পাশাপাশি এর কারণ হিসাবে কিছু যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছেন ।

এ বিষয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, অভিযোগ যে একদম ভিত্তিহীন তা বলব না। তবে এর পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে হাসপাতালে জনবল সংকট। বহির্বিভাগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী দেখতে হয় দায়িত্বরত সকল ডাক্তারদের। রোগীদের লাইন ঠিক করা ও সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তারদের রুমে রোগী প্রেরণ করার জন্য একজন কর্মচারী বা ডাক্তারের সহকারীর দরকার হয়।

তিনি বলেন,কিন্তু হাসপাতালে জনবল কম থাকায় আমরা প্রতিজন ডাক্তারের সাথে একজন করে সহকারী দিতে পারি না। এখন একজন ডাক্তারের পক্ষে তো রোগীর লাইন ঠিক করা সম্ভব না। এ কারনে নিরুপায় হয়ে ডাক্তাররা বাইরের লোকদের সাহায্য নিচ্ছে। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তারপরও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি সভায় আলোচনা করেছি। আশা করছি বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা: মারিয়া হাসান বলেন, প্রত্যেক ডাক্তারকে ডিউটি চলাকালীন সময়ে একজন করে সহকারী দিতে এরকম কোন বিধান নেই। অনেক সময় জনবল সংকট থাকলে রোগীর লাইন ঠিক করতে ডাক্তারকেও তদারকি করতে হয়। এই অযুহাতে বাহিরের কোন ডায়াগনস্টিকে লোক সহকারী হিসেবে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। কোন ডাক্তার এরকম করে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালের জেলী মিশিয়ে চিংড়ি বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে ব্যবসায়িকে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মানবদেহে ক্ষতিকারক জেলী মিশ্রীত গলদা চিংড়ি বিক্রির অপরাধে এক মৎস্য ব্যবসায়িকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডর রায় প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহম্মদ আলম জানান- মঙ্গলবার রাত ৭ দিকে উপজেলা সদর বাজারে মৎস্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে মানব দেহে ক্ষতিকারক নিষিদ্ধ জেলী মিশ্রিত ১০ কেজি গলদা চিংড়ি জব্দ করে।

এ সময় ভ্রাম্যান আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার উম্মে ইমামা বানিন জেলী মিশ্রিত গলদা চিংড়ি বিক্রির অপরাধে মৎস্য বিক্রেতা নগড়বাড়ি গ্রামের চান মিয়া ফকিরের ছেলে সোহেল ফকিরকে ৫ হাজার টাকা জারিমান, অনাদায়ে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন।

ওই আদালত জব্দকৃত জেলী মিশ্রীত গলদা চিংড়ি বিনস্টরও আদেশ দেন। রাতেই জেলী মিশ্রিত গলদা চিংড়ি কেরোসিন দিয়ে বিনস্ট করা হয় এবং জরিমানার টাকা দিয়ে মৎস্য বিক্রেতা বিক্রেতা সোহেল ফকির মুক্ত হয়।

 




বরিশালে দুস্থদ শীতার্তদের মধ্যে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র কম্বল বিতরণ

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অসহায়, দুস্থদ শীতার্তদের মধ্যে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র নিজস্ব তহবিলের এক হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর আগেও ২৬শ কম্বল বিতরণ করা হয়। মন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহŸায়ক,

বরিশাল-১ আসনের এমপি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র নিজস্ব তহবিলের এক হাজার পিচ কম্বল সোমবার বিকেলে ও রাতে দলের নেতা-কর্মী ও চেয়ারম্যাগন বিতরণ করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন জানান- অসহায়, দরিদ্র শীতার্তদের দুর্দশা লাঘবের জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবছরও মন্ত্রী আবুল আলহাজ্ব হাসানাত আবদুল্লাহ’র নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা বাটরা, আস্কর, ফেনাবাড়ি, কদমবাড়ি, রামেরবাজার, নাঘার, ঐচা গ্রামের দুঃস্থদের

মধ্যে এক হাজার পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে সকল ইউনিয়নে দুই হাজার ৬শ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়।

বাটরা গ্রামে ২শ কম্বল বিতরণে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার। রামের বাজারে ২শ কম্বল বিতরণে উপস্থিত ছিলেন গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল হোসেন টিটু, উপজেলা আওয়ামী লীগ এর দপ্তর সম্পাদক নিখিল সমদ্দার, ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সরদার, গৈলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক জগদীশ মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

 

 




বরিশালে ট্রাকের ধাক্কায় তিন বছরের শিশু নিহত, আহত মা

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুরের সানুহার বাসস্ট্যান্ডে ট্রাকের ধাক্কায় রাফি বেপারী নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। একই দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন নিহত শিশুর মা রুপা বেগম।

তারা উভয়ই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। হতাহতরা বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাইয়ুম বেপারীর স্ত্রী ও সন্তান। মঙ্গলবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাফর আহমেদ জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো।

আহত রুপা বেগমের স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, শিশু রাফি তার মা রুপা বেগমের সাথে গৌরনদীর বাটাজোর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সানুহার বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রমকালে তাদের অটোরিকশাটিকে পেছন থেকে বেপরোয়াগতির একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে রাফি ও তার মা অটোরিকশা থেকে ছিটকে রাস্তায় পরে গুরুত্বর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা শিশু রাফিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।