হুথিদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক জ্যাক সুলিভান বুধবার (১৭ জানুয়ারি) এ ঘোষণা দিয়েছেন ।



দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কামরুল ইসলাম (রাজিব) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার কুরুমান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।



আজ চট্টগ্রামে-বরিশাল বিভাগে হতে পারে বৃষ্টি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় কাবু গোটা দেশ। গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি দেশের অনেক জেলায়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঝিরঝির বৃষ্টির মতো কুয়াশায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বেড়েছে শীতজনিত রোগ।



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: মেসে নিজ কক্ষ থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮ টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয় বলে বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল জানিয়েছেন।

ওই ছাত্রী হলো- বৃষ্টি সরকার (২২)। সে সাতক্ষীরার বাসিন্দা মধুসুদন সরকারের কন্যা। বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে সদর উপজেলার কর্নকাঠি গ্রামের এমএম টাওয়ারের ৬ষ্ট তলার মেসের বাসিন্দা ছিলো।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মশিউর রহমান জানান, মেসের ওই কক্ষে ছাত্রী একাই থাকতো। সহপাঠিরা জানালা দিয়ে তাকে ঝুলতে দেখতে পায়। খবর পেয়ে তারা গিয়ে উদ্ধার বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনার করেন।

বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে বাস চাঁপায় বৃদ্ধা নিহত

বরিশাল অফিস :: রাস্তা পারাপারের সময় বেপরোয়াগতির বাস চাঁপায় বেবি বেগম (৮০) নামের এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। বুধবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত বেবি তাঁরাকূপি গ্রামের করম আলী শাহ’র স্ত্রী।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম রসুল মোল্লা জানান, সেভেন স্টার পরিবহনের একটি বাস বৃদ্ধাকে চাঁপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সে (বেবি) মারা যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




বরিশালের পাগলিটা মা হবে, বাবার অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যাচ্ছে না

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদীতে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তান সম্ভাবা এক নারীকে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে সন্তান প্রসবের জন্য ওই নারীকে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে উপজেলার বাটাজোর-শৌলকর রাস্তায় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। এসময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খান জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষনিকভাবে ওই নারীর নিরাপদ সন্তান প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামান জানান, সন্তান প্রসবের জন্য মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ডেলিভারি ওয়ার্ডে নার্সদের পর্যবেক্ষনে রয়েছে।

 




উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে আধিপত্য ধরে রাখছে ইরান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে বুধবার সকালে গুরুতর অভিযোগ এনেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে দুই শিশু নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ সামনে আনার পর প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ পাকিস্তানের ভূখণ্ডে কেন হামলা চালাল ইরান? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগে থেকেই উত্তপ্ত।

এর মধ্য কী এমন ঘটল যে তেহরান প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালিয়ে বসল?

কয়েক দিন ধরে ইরাক ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, ‘ইরানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক ও সিরিয়ার পর একই কারণে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ইরানের এই হামলা চালাল।

যদিও ‘বিনা উসকানিতে আকাশসীমা লঙ্ঘনের’ ঘটনায় ক্ষোভ জানাতে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে পাকিস্তান সরকার।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের পেছনের কারণ জানতে হলে বুঝতে হবে ইরানের বিগত বছরের রাজনৈতিক কলাকৗশল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে ওপেন কানাডায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিষয়টি উঠে আসে।

কী করছে ইরান?

গেল বছরের শুরুতে সৌদি আরব-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তির মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করে তেহরান। এটি আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল। যেখানে বিবাদমান সরকারগুলো বছরের পর বছর নিজেদের মধ্যকার তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সাংঘর্ষিক সম্পর্ক দূরে সরিয়ে দিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ইরান এবং এর সহযোগীরা এই নতুন অবস্থা থেকে সবচেয়ে বেশি ফায়দা লুফে নিচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, অনেক আরব সরকার এখন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করতে চাইছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আরব সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নিতে অর্থপূর্ণ কোনো ছাড়ই দেয়নি তেহরান। কিন্তু তবুও যুদ্ধপ্রবণ এই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে তেহরানের সাথে সম্পর্ক গড়ার পক্ষে।

সামরিক শক্তি
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বা জিএফপির র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বে সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান বর্তমানে ১৪-তে।  প্রয়োজনে সেনাবাহিনীতে সার্ভিস দিতে পারে সেরকম জনসংখ্যা আছে ইরানের ৪ কোটি। ইরানের সেনাবাহিনীর অ্যাক্টিভ মেম্বার রয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার। ইরানের আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সেনার বিশাল বহর।

এয়ার পাওয়ারেও ইরানের ফাইটার এয়ারক্রাফট আছে ১৯৬টি অন্যদিকে হেলিকপ্টার রয়েছে ১২৬টি। ইরানের হাতে আছে ৪ হাজার ৭১টি ট্যাংক।  মোবাইল রকেট প্রজেক্টর আছে ইরানের ১ হাজার । নৌ-শক্তিতেও এগিয়ে ইরান। তেহরানের কাছে রয়েছে ১৯ থেকে ২৪টি সাবমেরিন। ইরানের আছে ৫টি ফ্রিগেটও। আর তেহরানের ১টি মাইন ওয়ারফেয়ারও আছে।

নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে ইরান। সেই সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, লেবানন এবং ইয়েমেনে তার প্রক্সি বাহিনীর নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার মাধ্যমে এই অঞ্চলে তার প্রভাব বলয়কে আরও গভীরতর করে যাচ্ছে। এসব সহযোগী ও মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো হরহামেশাই এই দেশগুলোকে অস্থিতিশীল রাখতে নেপথ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিষয়ক পশ্চিমা বিভিন্ন বিশ্লেষক জেনারেল কাশেম সোলাইমানির মৃত্যুর পর বলছিলেন, সোলাইমানি যুগের পরে ইরান আর সেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অনন্য দেশে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা তাদের বিশ্লেষণ ভুল প্রমাণ করছে।

পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে?
পরিস্থিতি যাই হোক, সৌদি আরবসহ বাহরাইন, জর্ডান এবং মিশর এই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বলয় স্বল্পমাত্রায় মেনে নিয়েছে। গত বছর (২০২৩ সালে) ইরান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সফলতা অর্জন করে। এদের একটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল বন্দী বিনিময়  এবং অন্যটি ইউক্রেন যুদ্ধের আড়ালে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গভীর করেছে ইরান।

সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানানো ব্রিকস জোটের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ পায় ইরান। এসব বিবেচনায় ২০২৩ সালকে ধরা হচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে তেহরানের কূটনৈতিক সফলতার বছর। তেহরানের এসব অর্জনগুলোকে বৈদেশিক নীতির সাফল্য হিসেবে ধরা হলেও এসব অর্জনই তার প্রতিবেশী এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতাকে পরোক্ষভাবে উসকে দিচ্ছে।

ইরানের ভবিষ্যত পদক্ষেপ কী হতে পারে সেগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করতে চাইলে প্রথমতই জানা থাকা উচিত দেশটির বৈদেশিক বা কূটনীতির ভিত যেসব মূল নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে শাসনগোষ্ঠীকে সুদৃঢ়ভাবে অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হবে।

বছরের পর বছর ধরে, তেহরানের শাসকদল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং হচ্ছে। সেখানে তারা মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তা ভিন্ন কৌশলে মোকাবিলা করে।

ইরানের এই কূটকৌশলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা যা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে থাকে। এই ভারসাম্য তত্ত্বকে কূটনীতির ভাষায় বলা হয় ব্যালেন্স অফ পাওয়ার। এই ব্যবস্থায় সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে এমন স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয় যে তার মূলভূখণ্ড আক্রান্ত হলে পাল্টা আক্রমণ হবে সর্বাত্মক যুদ্ধ যেখানে ব্যবহার হবে পারমাণবিক বোমা।  তেহরানের কূটকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারটি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে উত্সাহিত করা এবং স্থানীয় সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে লালন করা যারা সংকটকালে ইরানের স্বার্থে লড়বে।




পিরোজপুরে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবনে স্থবিরতা

বরিশাল অফিস :: ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা অনেক কম থাকায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। দুপুর ১২ টায়ও দেখা মিলছে না সূর্যের আলো।

শহরের রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনেক কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কমে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনকি যানবাহনেও যাত্রীদের তেমন কোন আনাগোনা ছিলো না। বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তবে আজ দু’দিন পর্যন্ত তেমন কোন কুয়াশা না থাকলেও শীতের তীব্রতা ছিলো বেশি। জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীত জনিত রোগীর সংখ্যা। পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল একশত শয্যার হলেও সেখানে রোগী ভর্তি আছে প্রায় দুইশত।




পটুয়াখালীতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে চালের দাম

বরিশাল অফিস ::  পটুয়াখালীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে উপজেলা শহরের খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৭ টাকা, পাইজাম ৫৩ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৭০ টাকা ও ২৮-বালাম ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তারা দাবি করেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা না, চালের দাম বাড়িয়েছেন মিলাররা।

পটুয়াখালী নিউমার্কেট এলাকায় চাল কিনতে আসা মাসুদ মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে মিনিকেট চাল কিনেছি ৬৫ টাকা কেজি দরে। এই সপ্তাহে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা কেজিতে কিনতে হয়েছে। এ যেন মগের মুল্লুক হয়ে গেছে।

কলাপাড়ার মাছ বাজার এলাকায় চাল কিনতে আসা মোসলেম মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে মোটা চাল কিনেছি ৫২ টাকা কেজি। আজ কিনলাম ৫৭ টাকায়। সরকারের প্রতি আবেদন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে যেন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

খুচরা চাল বিক্রেতা মিলন মিয়া বলেন, আমরা তো দাম বাড়ানোর কেউ না। বেশি দামে কিনতে হয়েছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। মূলত মিলাররা মজুদ করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বেশি দামে চাল বিক্রি করছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বাজার মনিটরিং শুরু করেছি। যদি কেউ বেশি দামে চাল বিক্রি করে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

 




পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত রাঙ্গাবালী উপজেলা। প্রকৃতি যেন সাজিয়ে রেখেছে এর উপকূল। সাগর, নদী, বালুচর, পাখপাখালি ও বন্যপ্রাণী একসাথে দেখতে পাওয়া যায় এখানে। সব মিলে উপভোগ করার মতো একটি স্থান রাঙ্গাবালী।

পর্যটকরা মনে করেন, সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগে এই স্থানটি হতে পারে পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলামের পাঠানো তথ্যে, নয়া দিগন্ত পত্রিকায় থাকছে আজকের বিশেষ দর্শনীয় স্থান ও রাঙ্গাবালীর কিছু তথ্য।

রাঙ্গাবালীর অবস্থান : পটুয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূল উত্তরে চালিতাবুনিয়া নদী, আগুনমুখা নদী ও চর বিশ্বাস, পশ্চিমে রামনাবাদ চ্যানেল ও কলাপাড়া উপজেলা এবং পূর্বে চরফ্যাসন উপজেলার চর কুকরী-মুকরী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

উপজেলার নামকরণ : রাঙ্গাবালী উপজেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। তবে কথিত আছে যে, সাগরবক্ষে নতুন বালুচর সৃষ্টি হয়। এই বালুচরের বালু ছিল লাল। এই ‘লাল’ শব্দটি আঞ্চলিক ভাষায় রাঙ্গা নামে পরিচিত। এ থেকে রাঙ্গাবালী নামের উৎপত্তি। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৮৪ সালে কতিপয় রাখাইন জনগোষ্ঠী আরাকান রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। তখন থেকে এ অঞ্চলে জনবসতি শুরু হয়। উপজেলার উৎপত্তি : ২০১১ সালের ৭ জুন ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রিফর্ম- নিকারের ১০৫তম সভায় রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রশাসনিক অনুমোদন হয়। ওই বছরের ১৩ জুন রাঙ্গাবালীকে উপজেলা ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

সোনারচর দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত : পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে সোনারচর। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের মোহনায় বঙ্গোপসাগরে সোনারচর দ্বীপটির অবস্থান। সোনারচর পূর্ব-পশ্চিমে চার কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে আড়াই কিলোমিটার। মোট আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার। গোটা দ্বীপটি যেন সাজানো-গোছানো এক বনভূমি। রয়েছে কেওড়া, সুন্দরী, গড়ান, হেঁতাল, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। নিভৃত সোনারচরে শুধু নানান ধরনের বৃক্ষের সমাহারই নয়, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণীও। হরিণ, শিয়াল, মহিষ, বন্য শুয়োর, বানর এ বনের বাসিন্দা। সেই সাথে রয়েছে চার কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত। নগরের কর্মচাঞ্চল্য থেকে বহুদূরে এই সৈকতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য এখনো অনেকের কাছে অজানা। একই স্থানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়, যা বিশ্বে বিরল। এ অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বন মৌচাষিদের মধু আহরণের অভয়ারণ্য।

চর হেয়ার দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত : সোনারচর সংলগ্ন মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে চর হেয়ার সমুদ্র সৈকত ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রায় চার দশমিক ছয় বর্গকিলোমিটারের দ্বীপের তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ সমুদ্র সৈকত একেবারেই দক্ষিণের বঙ্গোপসাগরমুখী। ছোট বড় অসংখ্য লাল কাঁকড়ার অভয়ারণ্যের এই দ্বীপের অন্যতম বিশেষ দিক হলো একই স্থানে দাঁড়িয়ে সুর্যাস্ত ও সুর্যোদয় দেখা যায়।

জাহাজমারা সমুদ্র সৈকত : উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে জাহাজমারা সৈকত। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবুজ বন। জাহাজমারা সৈকতে সারি সারি ঝাউবন আর পাখ-পাখালির কলরবে মুখরিত পরিবেশ। চিকচিকে বালুতে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি আর সাদা ঝিনুকের সমারোহ। দেখা মিলবে পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, খেকশিয়ালসহ নানা ধরনের পাখ-পাখালি আর বন্যপ্রাণী।

চর তুফানিয়া : জাহাজ মারা সমুদ্র সৈকতের সামান্য দক্ষিণেই রয়েছে চর তুফানিয়া দ্বীপ। চার দিকে নদী ও সাগর আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ বনাঞ্চলে সৃষ্ট এই দ্বীপ। প্রায় চার কিলোমিটার সমুদ্রতট ঘিরে রয়েছে বিশাল ঝাউবাগান। সেখানেও প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত। দেখা মিলবে পাতি তিসাবাজ, সাদা কলার্ড, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, সাদা বক, খেকশিয়ালসহ নানা ধরনের পাখপাখালি আর বন্যপ্রাণী। সাগর ও নদীর তীরে অবস্থিত সহজ সরল মানুষের বসবাস। যারা বেশ অতিথিপরায়ন। রাঙ্গাবালী সদরে স্বল্প খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থা : ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালী আসার জন্য দোতলা লঞ্চ আছে। যা প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। আর আছে সরাসরি গাড়ি, যা গলাচিপার হরিদেবপুর পর্যন্ত আসে। তারপরে লঞ্চে করে রাঙ্গাবালী আসতে হবে অথবা আসা যাবে মোটরসাইকেলেও। সরাসরি গাড়িতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সড়ক পথ না থাকায় রাঙ্গাবালী উপজেলা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে নৌপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে।