প্রেমের কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে ববির ছাত্রী বৃষ্টি: পুলিশ

বরিশাল অফিস :: বিগত ১১ বছর আগে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্রী সাওদাকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দেশব্যাপী ওই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর বিদায় নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন উপাঁচার্য।

অথচ এ ধরনের খুন খারাবি কিংবা অপমৃত্যুর ঘটনা আজও বন্ধ হয়নি। যে কারণে ঝড়ে গেছে একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাণ। পঙ্গু হয়েছে অনেকে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক যুগেও নির্মম এসব মৃত্যুরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমশ হতাশা বেড়েই চলেছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ববি শাখার আহ্বায়ক সিফাত আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বৃষ্টি সরকারের আত্মহত্যার ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, প্রাণের এই অপচয় সুহৃদণ্ডস্বজন এবং পরিবারের জন্য প্রচন্ড যন্ত্রণার। আমরা দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মনোচিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন তা আমলে নেয়নি।
তিনি বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে ববি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেসে ববি ছাত্রী বৃষ্টি সরকারের গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির প্রেমিক একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তন্ময় অসুস্থ হয়ে শেবাচিম হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে ছাত্রী বৃষ্টি সরকার। একইভাবে গত বছরের ১৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দবাজার এলাকার মোল্লা ছাত্রী নিবাস থেকে শাহরিন রিভানা নামের বোটানি বিভাগের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের সামনে এক ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ২০২০ সালের ১ আগস্ট সুপ্রিয়া দাস নামের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস সংলগ্ন সাওদা নামের এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে সহপাঠী রাসেল মাতুব্বর। পাশাপাশি গত দুই বছরে সহপাঠীদের হামলায় পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ববি ছাত্র মুকুল ও আয়াতুল্লাহ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ছয়বছর এ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করতে গিয়ে দেখেছি শিক্ষার্থীরা হত্যা কিংবা অপমৃত্যুর শিকার হলেও নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করেননি। যেকারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে দরকার কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের কঠোরতা। অথচ আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং মনিটরিং নেই। শিক্ষকরা হলে থাকেন না। প্রতি বিভাগে ছাত্র উপদেষ্টা থাকলেও তারা সচেতনতায় কিছুই করেন না।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাঁচার্য প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, অনাকাঙ্খিত এসব ঘটনায় কাউন্সেলিং সেক্টর গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনারোধে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে ছাত্র উপদেষ্টা এবং আবাসিক শিক্ষকদের ইতোমধ্যে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।




বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন : জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন আর অবহেলিত দেশ নয় বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশ ২ হাজার ৪১ সালের ভিতরে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।

নৌর্কা মার্কা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে বরিশাল নগরীর শহীদ মিনারে প্রঙ্গনে জনসাধারণের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন,আমরা বরিশালবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো যতদিন পদ্মা নদীর উপরে থাকবে সেতু থাকবে। আজ আমরা দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বরিশাল থেকে তিন ঘন্টায় ঢাকা যেতে পারছি। বরিশালের মানুষ কখনো ভাবি নাই যে বরিশালে পায়রা বন্দর হবে।এই পায়রা বন্দর বাংলাদেশের সাথে বিশ্ববাসীর সংযুক্ত করেছে। এখানে বিদেশি জাহাজ পায়রা বন্ধরে আসা শুরু করেছে। এই পায়রা বন্ধরের কারণে বরিশালে বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন বিদেশীরা এসে অফিস করবেন। বরিশালের বিভিন্ন যুবকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ছয় মাসের ভিতরেই ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস আসবে। আমরা আশা করতে পারি এই গ্যাসের কাজ সম্পূর্ণ হলে বরিশালের শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা চিন্তা করেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করেন।

বরিশাল একটি বিভাগীয় শহর হলেও পাশের জেলা পটুয়াখালী থেকে আমরা উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছনে রয়েছি। আমরা আর পিছিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। আমরা বরিশালকে একটি আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা বরিশাল সদরের গ্রাম গুলোকে শহরের রূপন্তিত করতে চাই।

ইতিমধ্যে বরিশাল শহরের জন্য ৫শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ২ এক বছরের মধ্যে উন্নয়ন দৃশ্যমান দেখতে পারবেন। বর্তমান অবহেলিত বরিশালের ছবি তুলে আপনাদের ফোরে রেখে দেন। উন্নয়নের ফলে ২ বছর পড়ে আপনার এমন বরিশাল দেখতে পারবেন না। বরিশাল হবে একটি আধুনিক শহর।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখছেন সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আর এই সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সকলকে একাবদ্ধতা হয় মিলে মিশে কাজ করতে হবে। আমরা সকলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী কেউ যদি মনে করে আমরা নেতা হয়ে গেছি আপনারা ভুল করছেন তা কেউ হয়নি। নেতা হলো একজন বঙ্গবন্ধুর পরে সেটা দ্বিতীয় নেতা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরে আর কোন নেতা নাই।

আমরা সকলেই কর্মী। কেউ যদি নিজেকে নেতা না মনে করে। আমরা কেউ সিংহ পুরুষ না আমরা কেউ দক্ষিণাঞ্চলের নেতা না সবাইনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। এই দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সকলকে একসাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। বিএনপি জামাত যদি কখনো কিছু করে সেই আগুন লাগানো তাদের যে কর্মকাণ্ড আমাদের সকলকে একসাথে প্রতিহত করতে হবে।

এ সম তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্য সরকার তো এভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ওমহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, স্থানীয় ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




কাউখালীতে গাজাসহ মাদক বিক্রেতা আটক

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের কাউখালীতে গাজাসহ এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার রাতে কাউখালী-স্বরূপকাঠী সীমানাবর্তী উত্তর হোগলা বেতকা গ্রামের ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে কাউখালী থানার এস.আই আশিকুল ইসলাম ও এ.এস.আই জামান এর নেতৃতে অভিযান চালিয়ে নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখার গ্রামের মৃত: সামছুল হক শেখ এর ছেলে আসাদ শেখ (২২)কে গাজা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখা অবস্থায় পুলিশ হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আজ শনিবার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউখালী উপজেলায় মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো ট্রলারেন্স, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে




রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. রশিদ হাওলাদারের দাফন

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলী অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. রশিদ (৭৩) মারা গেছেন।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১১ টার দিকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আ. রশিদ হাওলাদার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান। তিনি উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের তুলাতলি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। জানাজা শেষে তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুমপা’র উপস্থিতিতে থানার ওসি শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

এ সময় বড়বগী ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর মিয়া, উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




২০২৩ সালে রেকর্ডসংখ্যক মানবিক বিপর্যয় দেখেছে বিশ্ব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে যত মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে— তত সংখ্যক বিপর্যয় বা দুর্যোগ গত এক দশকের মধ্যে ঘটেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সদ্য বিদায় নেওয়া বছরটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্তত ২৯টি দেশ প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন দুর্যোগের কারণে ৪৩ বার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।



অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চল

বরিশাল অফিস :: অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল। নানা প্রজাতির রং-বেরং’র পাখিদের কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত চরের নিঝুম প্রান্তর। বিশেষ করে ডুবোচরগুলোতে দেখা যায় দল বেঁধে পাখিদের খুনসুটি।

কাদার মধ্যে খাবার সংগ্রহ, ডুব সাঁতার কিংবা পাখিদের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য যে কারো মন ভোলায়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা দল বেঁধে মেতে উঠে জলকেলিতে। সুদূর সাইবেরিয়াসহ দূর দূরান্ত থেকে আসা এসব অতিথি পাখি বছরের নভেম্বরের প্রথম দিকে আসতে শুরু করে এবং মার্চ পর্যন্ত অবস্থান নেয়।

এদিকে পাখি শিকারকে নিরুৎসাহিত করার জন্য স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা। একইসাথে পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে টহল ডিটটি। ফলে অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণে প্রকৃতিকে করেছে আরো প্রাণবন্ত। যে সব চর জোয়ারে ডুবে যায় ও ভাটার সময় জেগে উঠে এমন চরগুলোতে পাখিরা বেশি আসছে। কারণ কাঁদা-মাটিতে পাখিদের খাবার উপাদান থাকে।

সাধারণত এসব চরে জুলফি পানচিল, গাঙ্গচিল, সোনাজিরিয়া, উত্তরীয় লেঞ্জাহাঁস, কালোলেজ জৌরালি, ইউরেশিও গুলিন্দা, ধূসর মাথা টিটি, সিথি হাঁস, খুন্তে হাস, খয়রা চখাচোখি, ছোট পাকৌরী, ছোট বগা, বড় বগা, পিয়ঙ হঁাঁস, ধূসর বগা, পাতি হাঁস, কালো মাথা গাঙচিল, ছোট ধলাজিরিয়া, ছোট নর্থ জিরিয়া, গো বগা, মেটে রাজ হাঁস, পাতি বাটান, চেগা, পাতি চেগাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।

বিশিষ্ট পাখি পর্যবেক্ষক এম এ মুহিত জানান, আমাদের উপকূলীয় এলাকার অতিথি পাখিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোলা। এখানে অনেক নির্জন চর রয়েছে, যাতে পাখিদের নিজস্বতা রক্ষা পায়। এ সময়ে সারাবিশে^ বিপন্ন এমন অনেক পাখি এ চরাঞ্চলে দেখা যায়। যেমন চামুচ ঠুটো বাটন, ইন্ডিয়ান স্কিমার, নার্ন সেভেলারসহ অনেক পাখি। প্রকৃতি ভালো রয়েছে বলেই পাখিরা আসছে। তাই পাখিরা যাতে বিরক্ত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
জেলার সর্ব দক্ষিণের ঢালচর, মনপুরা চর, কলাতলীর চর, চর কুকরি মুকরি, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, চর পাতিলা, ডেগরারচরসহ মেঘনা-তেঁতুলিয়ার উপকূলবর্তী মাঝের চর, চর চটকিমারা, মদনপুরা সহ বিভিন্ন চরে পাখিদের আনাগোনা বাড়ছে। শীতের সকালে গায়ে কুয়াশা মেখে পাখিরা উড়ছে আপন মনে। চারদিকে সাগর-নদী, চর আর সবুজ গহীন বনের দু’পাশে পাখিদের কিচির-মিচির মাতিয়ে রাখে সকাল-বিকেল। কান পাতলেই শোনা যায় পাখির ডাক।

চর কুকরী-মুকরীর চর-পাতিলায় দেশি-বিদেশি পাখি দেখার জন্য বন বিভাগের রয়েছে পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এখান থেকেই চরের অতিথি পাখি সহজেই দেখা যায়। চর পাতিলায় পাখি দেখতে আসা লিয়াকত হোসেন ও সুমন রহমান বলেন, ব্যস্ত ও শব্দের শহরের বাইরে এটা একটি ভিন্ন জগৎ। বিশেষ করে শীতের সময়ে এখানকার প্রধান আকর্ষণ অতিথি পাখি। তাই পাখি দেখছেন ও সুযোগ পেলে পাখির ছবি তুলছেন। অপর পর্যটক কবির হোসেন বলেন, শীতের সময় সুস্ক মৌসুম হওয়াতে ডুবো চরগুলো জেগে থাকে। সেই সাথে চলে চরে অতিথি পাখিদের আনাগোনা। যা অপরুপ মায়ায় মন ভরে দেয়।
চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসেম মহাজন বলেন, এবছর মৌসুমের শুরু থেকেই এখানে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। এ পাখি দেখার জন্য অনেক পর্যটক ভিড় করছেন কুকরিতে। চর কুকরি-মুকরির পাখি সংরক্ষণ ও বিচরণ নির্বিঘœ করতে লিফলেটসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোলার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, প্রতিবছরের মতন এবারো আমাদের চরগুলোতে বিপুল পরিমাণ অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এসব পাখিদের অবাস্থল যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের বন কর্মীসহ সবাই সচেষ্ট রয়েছে। তবে আশার কথা হলো মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। তারা পখি শিকার থেকে নিজেদের বিরত রাখছে।

তিনি আরো বলেন, অতিথি পাখিরা না আসলে আমাদের প্রকৃতির সমস্যা হবে, এটা এখন মানুষ বুঝতে পারছে। এছাড়া পখি শিকার বন্ধ করতে লিফলেট বিতরণসহ অনান্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রতিটি রেঞ্জ থেকে আমাদের টহল জোরদার করা হয়েছে।

 




৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, শীতের সঙ্গে ফের বাড়তে পারে কুয়াশা

শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। তাপমাত্রা ১০ বা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে রাজশাহী (৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), দিনাজপুর (৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও নওগাঁ (বদলগাছীতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত কিছুদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে দেশে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা পাওয়া যায় নি। তবে গত দু’দিন ধরে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল থেকেই কেটে যায় ঘন কুয়াশা। শুক্রবারের মতো শনিবার সকাল থেকেও ঢাকার আকাশে ঝলমলে রোদ। কিন্তু আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন কাল থেকেই ফের বাড়তে পারে ঘন কুয়াশা।

গত দুদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টিও ছিল। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ফের বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।

নওগাঁ, দিনাজপুর ও মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

আগামী রবি ও সোমবার কুয়াশা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রোববার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।




চলছে বাণিজ্যমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

শনিবার (২০ জানুয়ারি) মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যমেলা উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে অনেকটা তড়িঘড়ি করে চলছে স্টল নির্মাণের কাজ। অনেক স্টল পুরোপুরি গোছানো হলেও কিছু স্টলে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

স্টলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, আগামীকাল মেলার উদ্বোধন তাই আজকের মধ্যেই স্টলের কাজ শেষ করতে চান তারা। এবারের বাণিজ্যমেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১ এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট বরাদ্দকৃত প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের সংখ্যা ৩০০টি

হোম টেক্সটাইলের দায়িত্বে থাকা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কাজ অনেকটাই শেষ। আজকের মধ্যেই আমাদের কাজ শেষ হবে আশা করছি। স্টলের কাজও মোটামুটি শেষ। এখন পণ্য সাজানো বাকি।’

জেরিন ফ্যাশনের রাহাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের স্টল প্রস্তুত। যতুটুকু কাজ বাকি সেগুলো আজকের মধ্যেই গুছিয়ে নেবো। আশা করি সুন্দর স্টলের মাধ্যমে আগত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারব।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে।

জানা গেছে, দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর, ফার্নিচার ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ মেলা হতো শেরেবাংলা নগরে। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলার আয়োজন করা হয় পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে। এবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।




বরিশালে শহীদ আসাদ দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: বরিশালে ৬৯ এর গণ অভুত্থানের নায়ক শহীদ আসাদের ৫৫তম দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষে আসাদের অস্থায়ী প্রতিকৃর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও আলোচনা সভা,আবৃত্তি ও গণসংগীত পরিবেশন করেছে শহীদ আসাদ পরিষদ বরিশাল জেলা শাখা।

শনিবার (২০) জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হলে সম্মুখে কর্মসূচি পালিত হয়।

আসাদ পরিষদের সভাপতি ডাঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শামিল শাহরুখ তমালের সঞ্চলনায় এসময় শহীদ আসাদকে স্মরন করে বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক জ্যোতির্ন্ময় চক্রবর্তী রতন, অধ্যাপক আমিনুর রহমান খোকন,অধ্যাপক মহসিন-উল-ইসলাম হাবুল,একে আজাদ,মনিষা চক্রবর্তী,আরিফুর রহমান মিরাজ,সুজয় শুভ,বিজন সিকদার, মিন্টু দে, কিশোর চন্দ্র বালা সহ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতৃবৃন্দ ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়াকার্সপার্টি নেতা মোজাম্মেল হক ফিরোজ,অধ্যক্ষ আঃ মোতালেব সহ বিভিন্ন সংগঠন নেতৃবৃন্দ। আসাদ দিবস স্মরনসভা অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও গণসংগীত পরিবেশন করে শালিণ্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক
সংগঠন,বরিশাল।

এর পূর্বে শহীদ আসাদের প্রতিকৃতিতে আসাদ পরিষদ,বাসদ, গণ সংহতি আন্দোলন,ছাত্র ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।




বাউফলে ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফলে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সেলিমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করছে বাউফল থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবার শিশুসন্তানটি তার নানির বাড়িতে থাকত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়কের বালুর মাঠে অন্যান্য শিশুর সঙ্গে খেলছিল। দুপুর ১২টার দিকে সেলিম শিশুটির হাত ধরে টেনে পাশের ঝোপের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। তখন শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত সেলিম পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত সেলিম ২ সন্তানের বাবা।

ধর্ষণের শিকার শিশুর নানি খালেদা বলেন, সেলিম আমার নাতনির ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। আমি সেলিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।