অভিযানের পরও দুমকিতে চলছে নিবন্ধনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দুমকিতে বন্ধ হয়নি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ১০টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে মাত্র ৩টির হালনাগাদ লাইসেন্স পাওয়া গেলেও বাকি ৭টির পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দু-একজন এসব অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কাম প্রাইভেট হাসপাতাল ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তারা আর্থিক লেনদেনে ম্যানেজ হওয়ায় অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা যায়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য সেবার নামে সারা দেশে গড়ে ওঠা অবৈধ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপচিকিৎসা বন্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অভিযানের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত টিমের সাম্প্রতিক (১৮ জানুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শনে ১০টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে গ্রিন স্কয়ার হাসপাতাল, সুরক্ষা জেনারেল হাসপাতাল ও লেবুখালী ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স পাওয়া গেছে। বাকি ৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসহ নানা ত্রুটি ধরা পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৩ জন চিকিৎসকের নামে-বেনামে মালিকানাধীন লাইসেন্সবিহীন নিউ লাইফ ডিজিটাল মেডিকেল সার্ভিসেস ও সুরক্ষা মেডিকেল সার্ভিসেস পরিদর্শনকালে বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে একই প্রতিবেদনে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠান দুটির পরিবেশগত ছাড়পত্র, পরমাণু কমিশন ও ফায়ার সার্ভিস ছাড়পত্রের কলাম তিনটিতে ‘আছে’ ‘আছে’ আছে’ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান দুটোর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এমন দায়সারা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে তদন্ত টিম প্রধান ডা. আবিদ হাসান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসায় জড়িত আছেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, এগুলো আজগুবি খবর।

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থকে ২টা পর্যন্ত পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসানের টেলিফোন নম্বরে এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা যায়নি।




দশমিনায় ভাঙছে নদী, কমছে ফসলি জমি

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ফি বছর বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে নতুন বাড়িঘর আর বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে কমছে ফসলি জমি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি- বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও সচেতনতার অভাবে উপজেলার জন্মনিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না। এখনো দুর্গম ও চরাঞ্চল এলাকার বসতিদের ধর্মান্ধ ও কুসংস্কার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। ফলে প্রতি বছর লোকসংখ্যা বৃদ্ধিতে নির্মাণ হচ্ছে নতুন নতুন বাড়িঘর। অপর দিকে নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না থাকায় শত শত একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমি ।

সরেজমিন ঘুরে দশমিনা উপজেলার চর-বোরহান, চর-শাহজালাল ও চর হাদিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অস্বাভাবিক চিত্র পাওয়া গেছে। এসব চরে প্রায় ১১ হাজার লোকের বসতি। প্রতি পরিবারে গড় লোকসংখ্যা ছয়-সাতজন। বেশি সন্তান বেশি উপার্জনে বিশ্বাসী চরবাসী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতে নারাজ। আধা সচেতন মায়েরা উপজেলা সদরে এসে গোপনে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ইনজেকশন কিনে নেয়। তাও আবার স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ব্যবহার করতে হয় তাদের। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করায় স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকারও হতে হয়। চরবোরহানে এমনই একজন নির্যাতিত নারীর সন্ধান পাওয়া যায়।

স্থানীয় আলম ফকিরের স্ত্রী ফেরেজা বেগম (৩৪)। তার বিয়ে হয় ১৩ বছর বয়সে। বাল্যবিয়ে হলেও ফেরেজা এখন তিন মেয়ে ও এক ছেলের জননী। তার স্বামী আরো সন্তান নিতে চায়।

এ চরের বারেক গাজীর স্ত্রী শাহিনুরের ছয় সন্তান, হেলেনার পাঁচ সস্তান। এদের প্রত্যেকের স্বামী আরো সন্তান নিতে চায়। তাদের ধারণা বেশি সন্তান হলে লাঠিয়ালদের হাত থেকে ফসল রক্ষা হবে, পাশাপাশি আয় রোজগার বেশি হবে।

চরশাহজালালের পাঁচ সন্তানের জননী হেলেনা বলেন, ‘পোলা মাইয়া জে দ্যায় হেয়ই ন্যয়ুইন্না মালিক, বন্দা অয়ুইন্না ওসুদ পত্তরে খোদায় ব্যারাজি অয় ও গুনা অয়।’ চরহাদির মাজেদা বিবি ছয় সন্তানের জননী। তার ছেলে নাই একটিও। তাই তিনি ছেলে না হওয়া পর্যন্ত যত সন্তান নিতে হয় ততবার নিবেন।

পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জরিপে দশমিনা উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৮জন। বসতবাড়ির সংখ্যা ২৮হাজার ৪৯০টি ।

উপজেলা স্বাস্থ্য জরিপ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জরিপে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট লোকসংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৮ জন। বসতবাড়ির সংখ্যা ৪৭ হাজার ৯১১টি। ফলে আট বছরে উপজেলায় লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ হাজার ৯১০ জন। বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪২১টি।

উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর র্তীরবর্তী এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার বীজ বর্ধন খামার, বাঁশবাড়িয়ার ঢনঢনিয়া, হাজির হাট, আউলিয়াপুর, চরঘূূর্ণী, চরহাদি ও চর-বোরহানসহ মোট এক হাজার ৭৯৪ একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ বীজবর্ধন খামারের আওতায় ১ হাজার ৪৪ একর জমি থাকলেও এবার চাষাবাদ করা হয় ৩৫০ একর জমি। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ৬৯৪একর জমি।

দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, চরহাদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।
তিনি আরো বলেন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে চরে নোনা পানি ঢুকে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

চরবোরহান ইউপি চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার বলেন, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকায় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে নদী ও সাগরের নোনা পানি রোধে চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাফর আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলে নোনা পানি ঢুুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা নাজ নীরা বলেন, পটুয়াখালী জেলা সভা ও দশমিনায় সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে জিওব্যাগের মাধ্যেমে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। আর নদীর ভাঙন রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা – গলাচিপা) আসনের সংসদ সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। নদীর ভাঙন রোধসহ বেড়িবাঁধের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।




চন্দ্রদীপ নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর শিকল বন্দি সেই গৃহবধুকে সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

বরিশাল অফিস :: দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল চন্দ্রদীপ নিউজ সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দুই বছর যাবত শিকল বন্দি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সালতা গ্রামের চার সন্তানের জননী নাজমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারী) বিকেলে গৃহবধুর বাড়িতে গিয়ে শিকল বন্দি গৃহবধুর অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন ইউএনও।

এসময় গৃহবধুর পরিবারের সদস্যদের তিনি (ইউএনও) বলেন, সরকারি কিংবা যেকোন উপায়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নাজমাকে সুচিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য তিন বছর পূর্বে স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পরেন গৃহবধু নাজমা। অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় গত দুই বছর যাবত শিকল বন্দি হয়েই দিন কাটছে তার।




এক বাংলাদেশিকে নিয়ে আইসিসির বর্ষসেরা একাদশ 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেষ বছরটা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে সফল বছর বললে খুব একটা অত্যুক্তি হয় না। ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সমতা, পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয় করার মতো ঘটনা অর্জনের খাতকে ভারী করেছে। আর দেশের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই এসেছে প্রথম জয়।



গাজায় ভয়াবহ পাল্টা হামলা, একদিনে নিহত ২৪ ইসরায়েলি সেনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ইসরায়েল। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটিতে অভিযান চালানোর সময় পাল্টা হামলায় একদিনে ২৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।



বরিশালে কচ্ছপ বিক্রেতার কারাদণ্ড

 

বরিশাল অফিস ::  কচ্ছপ কেটে বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বিক্রেতাকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দন্ডপ্রাপ্তকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার।

ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিক করে জানান, কচ্ছপ কেটে মাংস বিক্রির খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় থানা পুলিশের সহায়তায় সাহেবেরহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে সুভাষ বাড়ৈ নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে থেকে ১৭টি জীবিত কচ্ছপ ও দেড় কেজি পরিমাণ কচ্ছপের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে।

ওইদিন রাতেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ী সুভাষ বাড়ৈককে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীবিত কচ্ছপ উন্মুক্ত জলাধারে মুক্ত করা হয়েছে এবং মাংসগুলোতে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাঁপা দেওয়া হয়।

আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মন্ডল বলেন, দন্ডিত বিক্রেতা সুভাষ বাড়ৈ উজিরপুর উপজেলার ভাউধর গ্রামের মৃত সুধীর বাড়ৈর ছেলে। তাকে মঙ্গলবার সকালে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।




নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি : জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচনের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যা বলেছেন সেটিও অপরিবর্তিত রয়েছে।



পটুয়াখালীতে তরমুজ চাষে অজানা রোগ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বেশ কিছু দিন ধরে খেতের বেশ কিছু গাছ নিস্তেজ হয়ে মরে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ বাঁচানো যাচ্ছে না। মাসুম সিকদার চলতি মৌসুমে তিন হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। বীজ, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ বাবদ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। তাঁর খেতে ২০ হাজারের মতো তরমুজের চারা রোপণ করা হয়েছে। গাঢ় সবুজ লতায় মোড়ানো কোনো কোনো গাছে ফল এসেছে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে খেতের বেশ কিছু গাছ নিস্তেজ হয়ে মরে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও গাছ বাঁচানো যাচ্ছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মাসুম সিকদার।

মাসুম সিকদারের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। তিনি ইউনিয়নের কাউখালী চরে তরমুজের চাষ করেছেন।
মাসুম সিকদার বলেন, তাঁর প্রতি হেক্টর খেত থেকে অন্তত ৩৫ মেট্রিক টন তরমুজের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার বাজারমূল্য হবে কমপক্ষে এক কোটি টাকা। কিন্তু যেভাবে গাছ মরে যাচ্ছে, তাতে উল্টো লোকসানের শঙ্কায় আছেন তিনি। বিষয়টি তিনি কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার আরেক তরমুজচাষি মনির হাওলাদার কাউখালী চরে সাত হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। তাঁর খেতে ৩০ হাজারের মতো তরমুজের চারা রোপণ করা হয়েছে। তাঁর খেতেও বেশ কিছু গাছ নিস্তেজ হয়ে মরে যাচ্ছে। কী রোগে গাছ নিস্তেজ হয়ে মরে যাচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন এই চাষি। বিষয়টি তিনি কৃষি বিভাগকে জানিয়েছেন। খেতের গাছ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা না নিতে পারলে তাঁর মতো কৃষকেরা লোকসানে পড়বেন বলে জানান মনির হাওলাদার।

দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী।

সরেজমিনে রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী ও চরইমারশন চরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। তবে খেতের ফাঁকে ফাঁকে ফল ধরা তরমুজগাছ নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে। চাষিরা কেউ ওষুধ ছিটাচ্ছেন। আবার কেউ মরা গাছ উপড়ে ফেলে দিচ্ছেন।

ইউনুস সিকদার নামের এক তরমুজচাষি বলেন, মরা গাছ থেকে পাশের আরেকটি গাছ রোগে আক্রান্ত হবে—এই ভয়ে আক্রান্ত গাছ খেত থেকে উঠিয়ে ফেলে দিচ্ছেন।

চরইমারশন এলাকার আহোসেন নামে এক চাষি বলেন, ‘তরমুজগাছের শিকড় এবং পাতা শুকিয়ে মরছে। কারণ যে কী বুঝি না। পানি দিচ্ছি, ওষুধ ছিটাই, কোনোটাতেই কোনো কাজ হয় না। ফল ধরেছে, এমন গাছও মরে যাচ্ছে। ধার আইন্যা তরমুজ দিছি। গাছ মইরা গেলে তো আমরা মাঠে মরব।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চাষিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে উপজেলার কাউখালী ও চরইমারশন—এই দুটি চরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। এই দুটি চরে মোট এক হাজার হেক্টর খেতের মধ্যে আনুমানিক ১০০ হেক্টর খেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। সঠিক কারণ নির্ণয় করতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

গত বছর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮ হাজার ২৬২ হেক্টর খেতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন তরমুজ। যা বিক্রি করে কৃষকদের আয় হয় কমপক্ষে ৫৭৮ কোটি টাকা। এলাকার উপযুক্ত মাটি, উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় এই উপজেলার কৃষকেরা তরমুজ চাষে বেশি ঝুঁকছেন।




দুমকিতে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দুমকিতে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি রাসেল হাওলাদারকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটুয়াখালী ক্যাম্পের র‌্যাব-৮ সদস্যরা পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

মামলার ১ নম্বর আসামি মোক্তার আলী মৃধা (৪০) দেড়মাস পূর্বে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে উপজেলার একটি বাড়িতে মানসিক প্রতিবন্ধী নারী (৩০) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের শিকার নারীর মা কহিনূর বেগম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা গা-ঢাকা দেয়।




কোভিডের থেকেও ২০ গুণ ভয়ঙ্কর  ‘ডিজিজ় এক্স’ 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভবিষ্যতের অতিমারি নিয়ে সতর্ক করেন টেড্রস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মে মাসের মধ্যে সকল দেশ সহমত হয়ে এই ‘আসন্ন’ অতিমারি মোকাবিলার জন্য একটি চুক্তিতে সই করতে পারবে।

আবারও হানা দিতে পারে নতুন অতিমারি। যার নাম ‘ডিজিজ় এক্স’। কোভিডের থেকে ২০ গুণ ভয়ঙ্কর হতে পারে সেই রোগ। হুঁশিয়ারি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। বিশ্বের সব দেশকে প্রস্তত থাকতে বলা হয়েছে। শনিবার হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস এই অতিমারি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সকল দেশকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি চুক্তি সই করার আর্জি জানিয়েছেন।
এই ‘ডিজিজ় এক্স’ কী? এটা আসলে কোনও নির্দিষ্ট রোগ নয়। বরং সম্ভাব্য এক ভাইরসারে নাম, যা কোভিড-১৯-এরই মতো। এটা একটা নতুন ভাইরাস বা নতুন ব্যাকটিরিয়া বা নতুন ফাঙ্গাসও হতে পারে। এর চিকিৎসা নিয়ে এখনও কোনও ধারণা নেই বিজ্ঞানীদের। ২০২২ সালের নভেম্বরে এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট দিয়েছিল হু। সেখানেই এই নতুন অতিমারি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। জানিয়েছিল, পৃথিবী জুড়ে দাপিয়ে বেড়াতে পারে এই নতুন মহামারি।

ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভবিষ্যতের অতিমারি নিয়ে সতর্ক করেন টেড্রস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মে মাসের মধ্যে সকল দেশ সহমত হয়ে এই আসন্ন অতিমারি মোকাবিলার জন্য একটি চুক্তিতে সই করতে পারবে। টেডরোস বলেন, ‘‘অনেক কিছুই ঘটতে পারে, যে বিষয়ে মানুষ কিছুই জানে না। এ রকমই কিছু রোগও আসবে বলে আমাদের আগে থেকেই ভেবে রাখতে হবে।’’ এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, ‘‘কোভিড অতিমারির সময় অনেককে হারিয়েছিলাম। কারণ তাঁদের রাখার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তাঁদের বাঁচানো যেত, কিন্তু (হাসপাতালে) জায়গা ছিল না। যথেষ্ট অক্সিজেন ছিল না। প্রয়োজন পড়লে ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধির করতে হবে।’’

টেড্রস জানিয়েছেন, পরবর্তী কালে অতিমারি আসতে পারে ভেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিমধ্যে ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিমারির জন্য তহবিলও তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অনেক ধনী দেশ প্রচুর টিকা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। গরিব দেশের মানুষ পায়নি। সেই বৈষম্য যাতে না হয়, যাতে স্থানীয় স্তরে টিকা আরও বেশি করে তৈরি করে বিলি করা যায়, সে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকায় এমআরএনএ হাবও তৈরি করা হয়েছে।