বাউফলে ভুয়া নামজারি: জমির প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী:  বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দিয়ে কয়েক লাখ টাকার জমি নামজারি করিয়ে কয়েকটি পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেও কোনো সুফল পায়নি ওই পরিবারগুলো। অনৈতিকভাবে চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া ওয়ারিশ এবং সহকারী কমিশনারের একগুয়েমির কারণেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামের ১২২ নম্বর জেএলের ১২১৯ খতিয়ানের ৬৬০৪, ৭৩৪৬ ও ৭৩৪৭ এবং ১২২০ খতিয়ানের ৬৬০১, ৬৬০৪, ৬৬০৮ এবং ৬৬২৪ নম্বর দাগের মোট ৫.৭৮ একর জমির পৈত্রিক মালিক যথাক্রমে গোকুল মন্ডল, সুধন্য মন্ডল, তপন মন্ডল এবং সুদেব মন্ডল। সিএস, আরএস এবং এসএ খতিয়ানেও তাদের রেকর্ড ঠিক রয়েছে। সহজ-সরল প্রকৃতির ওই পরিবারগুলো পূর্বপুরুষ থেকে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই বাড়িতে ওকরাইত হিসেবে বসবাস করা সুবল মিস্ত্রি গংরা গোপণে ওই বাড়ির মালিক দাবি করে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীর হোসাইনকে দালালদের মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে এবং অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়ে ২০২৩ সালের ১৬ মে বাউফলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজেদুর রহমানের মাধ্যমে নামজারি করিয়ে ২০২৭ নম্বর নতুন একটি খতিয়ান খোলেন। এরপর জমি দখল করতে গেলে ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের কথা জানাজানি হয়।

এরপর প্রকৃত মালিকরা নামজারি বাতিল চেয়ে সহকারী কমিশনার প্রতীক কুমার কুন্ডুর কাছে আবেদন করলে তিনি কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক বাচ্চুকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলে ওই কর্মকর্তা তদন্ত করে সুবল গংরা চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়েছেন এবং সেই সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতারণা করে নামজারি করে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট মিথ্যা ও প্রতারণা করে নামজারি করেছেন উল্লেখ থাকলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বের সহকারী কমিশনারের আদেশ বহাল রাখেন। এ ঘটনায় আবেদনকারীদের পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে যান।

একটি সূত্র জানায়, বাউফল পৌর শহরের বিএনপির এক প্রভাশালী নেতা কর্তৃক সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু প্রভাবিত হয়ে ওই রায় দিয়েছেন। এদিকে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত মিথ্যা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীরের কাছে লিখিত অনুরোধ করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না।

ভুক্তভোগী সুদেব মন্ডল গংরা জানান, আমরা নিজ ভূমিতে পরবাস হয়ে পড়েছি। আমরা ঠিকমতো খেতেও পারি না। চেয়ারম্যানের কাছে ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য বহুদিন ঘুরেছি। চেয়ারম্যানের দালালরা ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য কয়েক লাখ টাকা দাবি করছেন। চেয়ারম্যান ও ভূমি অফিস যোগসাজস করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীর জানান, আমাকে ভুল বুঝিয়ে সুবল গংরা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়েছে। আমি ওই ওয়ারিশ সার্টিফিকেট বাতিল করে দেব। প্রকৃত জমির মালিকদেরকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না কেন এমন প্রশ্ন করা হলে, দেখছি বলে জানান। ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য আমি কোনো টাকা-পয়সা চাইনি। কেউ দাবি করলে সেটার দায়দায়িত্ব আমার না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ড জানান, আবেদনকারীরা কোনো ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি। তাই পূর্বের আদেশ বহাল রেখেছি। আপনার অফিসেরই ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা প্রতারণা করে ভুয়া ওয়ারিশ সাটিফিকেট নিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
সেই প্রতিবেদনের আলোকে কি আপনি পূর্বের আদেশ বহাল রাখতে পারেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, বাউফলের সাধারণ মানুষ কিছু চেয়ারম্যানদের থেকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নেয়া থেকে শুরু করে ভূমি কর দেয়া, নামজারি করাসহ অন্য কাজে ভূমি অফিসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বাউফলের ভূমি অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন।




ভুয়া সার্টিফিকেটে ও ভোটার নিবন্ধন করে চাকরি, নারীর বিরুদ্ধে মামলা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মোসা. লাকী আক্তার নামের এক নারী নাম পরিবর্তন করে দুই বার ভোটার নিবন্ধন করেছেন। অন্যের সার্টিফিকেট দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে নিয়েছেন চাকরি।

ওই নারীর পৃথক নাম ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধনের প্রমাণ পেয়েছে নির্বাচন অফিস।

পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাউফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বাদি হয়ে ১১ জানুয়ারি বাউফল থানায় ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মোসা. লাকী আক্তার পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়ন পাকডাল গ্রামের মো. আলী আজম হাওলাদারে মেয়ে।

নির্বাচন অফিস ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মোসা. লাকী আক্তার ২০০৭ সালে প্রথম ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তাতে দেখা যায় পিতা মো. আলী আজম হাওলাদার, মাতা মোসা. শাহানারা বেগম, স্বামী মো. হাবিবুর রহমান। পেশায় গৃহিনী, শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। জন্ম তারিখ ০১/০২/১৯৮৭ ইং। গ্রাম পাকডাল, ইউনিয়ন কাছিপাড়া, উপজেলা বাউফল এবং জেলা পটুয়াখালী।

পরে সামিয়া নামের একজনের সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরি নেন লাকী আক্তার। ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট সব তথ্য গোপন করে সামিয়া নামে পুনরায় ভোটার নিবন্ধন করেন তিনি। এতে উল্লেখ করা হয়, তার পিতা আলী আহমেদ, মাতা মৃত হেলেনা বেগম, স্বামী মো. হবিবুর রহমান। পেশা গৃহিনী, শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক, জন্ম তারিখ ০১/০২/১৯৯৭ ইং। গ্রাম পাকডাল, ইউনিয়ন কাছিপাড়া, উপজেলা বাউফল এবং জেলা পটুয়াখালী।

বাউফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফিঙ্গার প্রিন্ট ক্রস গ্রুপ ম্যাচ যাচাইয়ে মোসা. লাকী আক্তার/ সামিয়া দ্বৈত ভোটার হিসেবে শনাক্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠান।
প্রতিবেদনে বিবাদী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারি বাউফল থানায় মামলা হয়েছে।

এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে লাকী আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বজনরা জানান, চাকরির জন্য মোসা. লাকী আক্তার বয়স কমিয়ে এবং নাম পরিবর্তন করে সামিয়া রেখেছেন। ওই নামে দ্বিতীয় বার ভোটার হন ২০১৭ সালে। সামিয়া বাউফল কাছিপাড়ার পাকডাল (২ ইউনিট) পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে চাকরি নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, লাকী পলাতক রয়েছে। কাছিপাড়া পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি এখানে সামিয়া নামে চাকরি করতেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের দিন থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপুস্থিত রয়েছেন।

বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন জানান, লাকী আক্তার কর্মস্থলে যোগদান করেন বলে তার স্বামী হবিবুর রহমান তাকে জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. জসিম উদ্দিন মুকুল বলেন, ঘটনা জানার পর তাকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কাজ চলছে।




আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হবে কুয়াকাটা – প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: সূর্যোদয় সূর্যাস্তের লীলাভূমি পটুয়াখালীর কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

শনিবার বিকেলে তার নিজ এলাকা পটুয়াখালী-৪ আসনের কলাপাড়ার কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট থেকে সৈকত পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিমানবন্দর তৈরির জন্য কথা বলা হচ্ছে। শিগগিরই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

উদ্বোধন শেষে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ ও পৌর মেয়রের আয়োজনে প্রতিমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাখাইন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তাকে সংবর্ধনা দিতে কুয়াকাটা ও এর আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন অনুষ্ঠানস্থলে।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল হাওলাদার, ও কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদারসহ উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।




কেঁচো সার বিক্রি করে স্বাবলম্বী পটুয়াখালীর মাকসুদা

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাকসুদা আক্তার (২৮) কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন করে এখন স্বাবলম্বী। এ সারকে ভার্মিকম্পোস্ট বলা হয়। ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে ক্রমেই চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। স্বল্প মূলধনের এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে চান মানুষের মাঝে। প্রতি মাসে এ সার বিক্রি তিনি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে মাকসুদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে একচালা টিনের ঘর। ওই ঘরেতে তিনি কেঁচো সার উৎপাদন করে থাকেন। ঘরের মেঝেতে নিজের হাতে বানানো ৫টি মাটির চারি (পাত্র) ও ৬ টি রিং স্লাব রয়েছে।

মাকসুদা আক্তার বলেন, ২০১৫ সালে তিনি কুয়াকাটায় এক উদ্যেক্তার ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন দেখে অনুপ্রাণিত হন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিতে বলি। ওই সময় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম কিছু কেঁচো সংগ্রহ করে দিলে অল্প পরিসরে ছোট একটা পাত্রে কেঁচো সার তৈরি করি।
তিনি কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রথমদিকে একটু কষ্ট হলেও এখন ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কোঁচো সার উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে থাকছে কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈর, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাকসবজির উচ্ছিষ্ট। আমার চারি (পাত্র) বেশ বড় আকারের। প্রতি চারিতে প্রায় ৬ মণ সার রাখা যায়। আমার এখানে কেঁচোর বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই বাহির থেকে আমার আর কেঁচো সংগ্রহ করতে হয় না।

তিনি আরো জানান, প্রথমে গোবর সংগ্রহ করে ১০ দিন যাবত পচাতে হবে। গোবরে যদি পানি থাকে তাহলে রোদে শুকাতে হবে। তারপর ওই গোবর ঠান্ডা করে চারিতে (পাত্র) রাখতে হবে। তারপরে কেঁচো দিতে হবে। তারপর কচুরি পাতা, পচা গোবর, খৈল, ডিমের খোসা, মাছের আইস ও শাক-সবজির উচ্ছিষ্ট মিশিয়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে । কেঁচো আবার ছায়া বা অন্ধকার জায়গা পছন্দ করে। এভাবে ১ মাসের মধ্যে তৈরি হয় ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার। আমার এখানে এখন ৩ লাখ টাকার কেঁচো সার রয়েছে। প্রতি কেজি সার ১৫ টাকা করে বিক্রি করি। ১ কেজি কেঁচো ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এ ছাড়াও কেঁচো ২ টাকা পিচ হিসেবে বিক্রি করি। আমার সংসার ভালোই চলতেছে। ভবিষ্যতে আমার খামারে আরো বেশি পরিমাণ কোঁচো সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আমি ব্লু গোল্ড প্রেজেক্টের আওতার আমি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কেঁচো সার তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।
কিভাবে কেঁচো সার করি তা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে আমার এ খামার মানুষ আসতেছে। এটা আমার কাছে ভালোই লাগে। আমি চাই নারীরা এগিয়ে আসুক। এ সার উৎপাদন করে আমার মত তারা স্বাবলম্বী হোক। সহজেই কম পুঁজিতে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। এখন বাজারে রাসায়নিক সারের মান খুবই খারাপ। আবার দামও বেশি। সেখানে ভার্মিকম্পোষ্ট পুরোপুরি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি সার। এ সারের দামও কম। তাই স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

স্বামী নুরুজ্জামান খান জানান, নারীরা যদি ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করতে পারে তা তো ভালোই। এ সারটি যে কোন নারী তার ঘরে বসে উৎপাদন করতে পারবে। আমি আমার স্ত্রীকে সার তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ। ক্রমেই মাটির প্রাণ হ্রাস পাচ্ছে তাই আমরা জৈব সার প্রয়োগের উপরে জোর দিচ্ছি। কেঁচো সারে ফলন ভালো হয় এটা প্রমাণিত। তাই আমরা চাষিদের সবজি খেতে ও ফলের বাগানে ভার্মিকম্পোস্ট সার প্রয়োগ করতে বলি। স্বল্প পরিসরে হলেও এখানে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। ভার্মিকম্পোস্টকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। পাশাপাশি এ জেলাকে ভার্মিকম্পেস্ট সম্পন্ন জেলা হিসেবে পরিণত করা। এ সারের যতই ব্যবহার বাড়বে ততই ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসবে।




চোরাই ব্যবসার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে জরিমানা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে চোরাই মালের ব্যবসা করার অপরাধে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার রাতে উপজেলার  কালিশুরী বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বজলুর রহমান সিকদার কালিশুরী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে ব্যাটারী, টিউবওয়েলের হেড, ব্রিজের অ্যাঙেল ও বীমসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল মজুদ করে ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে শনিবার রাতে কালিশুরী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. বশির গাজী।
এ সময় বজলুর রহমানের নিকট থেকে ১০টি পুরানো টিউবওয়েলের হেড উদ্ধার করা হয়। পরে বজলুর রহমান সিকদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বজলুর রহমান বলেন, আমি পুরানো মালামাল ক্রয় করে ব্যবসা করছি। কোনো চোরের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, বজুলর রহমান আর এসব মালামালের ব্যবসা করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন।




গ্রাহকের ২ কোটি টাকা নিয়ে সাব-পোস্ট মাস্টার লাপাত্তা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: ৭৫ জন গ্রাহকের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র ও মাসিক মুনাফায় সঞ্চয়পত্রের প্রায় দুই কোটি টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পোস্ট অফিসের আব্দুল ওহাব ফরিদ নামের সাব-পোস্ট মাস্টার ওই টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। এমন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক রয়েছেন তিনি।

পলাতক আব্দুল ওহাব ফরিদসহ অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একজন গ্রাহকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পোস্ট অফিসের সাব-পোস্ট মাস্টার আব্দুল ওহাব ফরিদ ৭৫ জন গ্রাহকের নিকট থেকে স্লিপের মাধ্যমে ২ কোটি টাকা গ্রহণ করে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। পারিবারিক সঞ্চয়পত্র, পেনশন সঞ্চয়পত্র ও মাসিক মুনাফায় সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ওই টাকা জমা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানকার সাব পোস্টমাস্টার ওহাব গ্রাহকদের তা আত্মসাৎ করেন। তিনি সঞ্চয়পত্রের টাকা জমা রাখার সময় কোনো রসিদ বা হিসাব বইয়ে টাকা জমা নেননি। কাগজের টোকেনে নিজের স্বাক্ষর ও সিলমোহর দিয়েই টাকা জমা রাখেন তিনি।




বরিশালের রেকর্ড ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুললেন কৃষকরা

বরিশাল অফিস :: তিন দফার প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে বরিশাল অঞ্চলের কৃষরা এবার প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় ভাল দাম পাচ্ছেন না। অথচ বাজারে চালের দাম গত বছরের এ সময়ের তুলনায় অন্তত ২০ ভাগ বেশী। কিন্তু একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাথে লড়াই করে এবারো বরিশাল অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন ঘরে তুলতে হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে সদ্য সমাপ্ত ‘খরিপ-২’ মৌসুমে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৩ হেক্টরে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষিযোদ্ধারা ৮ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন করেন।

যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত। কিন্তু এ বাড়তি জমিতে আমনের আবাদ হলেও বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক ঘূর্ণিঝড় বারবারই বিপর্যয় ডেকে আনে। তবে সব বাঁধা অতিক্রম করে সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে ২২ লাখ ৮ হাজার ৫৫০ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৩ হাজার টন অতিরিক্ত ২২ লাখ ৮১ হাজার ২১২ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা।

গত বছর বরিশালে প্রতিমণ আমন ধান ১ হাজার থেকে ১২শ টাকায় বিক্রী হয়েছে। গেলো বছর এসময়ে যে চালের কেজি ছিল ৪৫ টাকা, তা এখন ৫০ টাকার ওপরে। ভাল-মধ্যম মানের মিনিকেট চালের কেজি এখন ৬৫-৬৮ টাকা কেজি। বোরো মৌসুমেও ধানের দাম না বাড়লেও কৃষকের জমির ধান ফড়িয়াদের হাতে যাবার পরেই চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আমন মৌসুমেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। অথচ প্রতিবছরই ধানের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু বাড়ছেনা কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করা ধানের দাম। এ অঞ্চলে যারা ধান উৎপাদন করে তারা মরে, কিন্তু টাকা যায় মহাজন ফড়িয়া আর মিল মালিকদের ঘরে।

অপরদিকে এখনো বরিশাল অঞ্চলে আমনে হাইব্রীড জাতের ধানের অবাদ খুবই সীমিত। সদ্য সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে এ অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার হেক্টরের মধ্যে হাইব্রীড জাতের ধান ছিল ২৫ হাজার হেক্টরেরও কম। এমনকি এ অঞ্চলে এখনো ৩ লক্ষাধিক হেক্টরে সনাতন স্থানীয় জাতের আমনের আবাদ হচ্ছে। যার হেক্টরপ্রতি গড় ফলন মাত্র ১.৭৩ টনের মত। এমনকি হাইব্রীড জাতের উৎপাদনও ৪ টনের নিচে । অথচ ‘ব্রি’ উদ্ভাবিত আমাদের জলবায়ু উপযোগী হাইব্রীড জাতের বীজ সহ আবাদ প্রযুক্তি অনুসরণ করলে এ অঞ্চলেও হেক্টর প্রতি উৎপাদন অনায়াসেই সাড়ে ৪ টনেরও বেশী হতে পারে বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে এ অঞ্চলে যে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ হেক্টরে উচ্চ ফলনশীল-উফশী জাতের আমন আবাদ হয়েছে, তার গড় উৎপাদনও ২.৮৯ টন হলেও ভালমানের বীজ ও উন্নত প্রযুক্তি অনুসরণ করে তা খুব সহজেই সোয়া ৩টনে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন মহলটি।

বরিশাল অঞ্চলে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের আবাদ ও উৎপাদনে এখনো পুরোটাই প্রকৃতি নির্ভর। ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। তার পরেও এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা অনেকটা লড়াই করেই ফসল ঘরে তুলছেন। গত ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’এর মাঝারী বর্ষণে আমনের কোন ক্ষতি না হলেও ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে বরিশাল উপকূলে আছড়ে পড়ায় আমনের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। ওই ঝড়ের প্রভাবে মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশালে ২শ মিলি বৃষ্টি হয়েছিল। এর ২২ দিনের মাথায় ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরেক ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ বরিশাল উপকূল থেকে সাড়ে ১২শ কিলোমিটার দূরে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানলেও এর প্রভাবে টানা ৫ দিনের মেঘলা আবহাওয়ার সাথে অগ্রহায়ণের হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত আমনের আগের ক্ষতিকে আরো তড়ান্বিত করে বলে মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা জানিয়েছেন।

তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই এবার বরিশাল অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চল।




টিভিতে দেখুন আজকের খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: টিভিতে দেখুন আজকের খেলা:

টেনিস

অস্ট্রেলিয়া ওপেন
সরাসরি, সকাল ৭টা ও দুপুর ২-৩০ মিনিট
টেন ৫

ফুটবল

এফএ কাপ, লিভারপুল-নরউইচ সিটি
সরাসরি, রাত ৮-৩০ মিনিট
টেন ১

নিউপোর্ট-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
সরাসরি, রাত ১০-৩০ মিনিট
টেন ১

ক্রিকেট

ভারত-ইংল্যান্ড, প্রথম টেস্ট, চতুর্থ দিন
সরাসরি, সকাল ১০টা
টি স্পোর্টস

ফুটবল

এশিয়ান কাপ, অস্ট্রেলিয়া-ইন্দোনেশিয়া
সরাসরি, বিকেল ৫-৩০ মিনিট
টি স্পোর্টস

তাজিকিস্তান-আমিরাত
সরাসরি, রাত ১০টা
টি স্পোর্টস




দশমিনায় গরীবের সরকারি চালে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলারের ভাগ!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় গ্রামীণ নারীদের চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তদের দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডব্লিউবি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন আটকে দিয়েছেন।

বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব ফেজবুক পেজে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নামের তালিকা ধরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসচ্ছলদের পরিবর্তে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলার, সাংবাদিক এবং স্বচ্ছল পরিবারসহ প্রভাবশালীদের নাম ভিডব্লিউবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি ১ জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ। এ বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিজিডি কার্যক্রমের নাম পরিবর্তন করে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) করেছে। দশমিনা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৮৭২টি ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ৩ হাজার ৮৭২টি নাম যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেন। পরে তা অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর কোনো ব্যক্তি সুবিধা নিলে ও সচ্ছল কোনো পরিবার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। কিন্তু দশমিনায় বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। ওই তালিকায় উকিল, সাংবাদিক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং চালের ডিলারসহ প্রভাবশালী ও অধিকাংশ ধনী পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অসচ্ছল এবং দুঃস্থ নারীরা।

ভিডব্লিউবি তালিকায় অনিয়ম থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটকে দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হলে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকার বলেন, ‘কেউ মারা গেলে বা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তখন আমরা কী করবো। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তাই আমার ভাই এবং নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। এ তালিকায় এদের নাম আসলো কীভাবে, তা আমার বোধগম্য নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘পরিপত্র মেনে যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে আমি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বলেছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করেছি বিভিন্ন উঠান বৈঠকে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরও অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বঞ্চিতদের নেওয়া ও অযোগ্যদের বাদ দিতে। যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




টেক্সট লিখলেই ভিডিও তৈরি করে দেবে গুগল

লুমিয়ার হলো একটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন মডেল, যাতে আপনি যে ধরনের ভিডিও চাইছেন, তেমন টেক্সট লিখতে হবে। তারপরে তা থেকে ভিডিও তৈরি হয়ে যাবে। এতে আপনি যে কোনো বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। বিনোদনের ভিডিও থেকে শুরু করে একটি গল্প সবই লেখার মধ্যে দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারবেন। এছাড়াও এর মাধ্যমে আপনি ছবি থেকেও মোশন ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

মূলত লুমিয়ার একটি স্পেস-টাইম ইউ-নেট আর্কিটেকচারের সাহায্যে কাজ করে। এই আর্কিটেকচারে, মডেলটি ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম তৈরি করে। তার জন্য মডেলটিতে শুধু টেক্সট-এর প্রয়োজন হয়। তাহলেই সেই টেক্সট থেকে ভিডিও তৈরি হয়ে যায়।

যদিও লুমিয়ার নিয়ে এখনো অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এতে এখনো অনেক ফিচার যোগ হওয়া বাকি আছে। কারণ এখনো এই মডেল ডেভেলপমেন্টে রয়েছে। তবে আশা করা হচ্ছে, পরবর্তীতে কোম্পানিটি এতে আরও অনেক ফিচার নিয়ে আসবে। তবে চাইলে গুগল এআই প্ল্যাটফর্মে এটি অ্যাক্সেস করতে এবং ব্যবহার করতে পারেন। জেনে নিন কীভাবে কাজটি করবেন-

>> প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পর, আপনাকে লুমিয়ার ট্যাবে যেতে হবে। তারপরে আপনি একটি নতুন ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। তার জন্য ক্রিয়েট অপশনে ক্লিক করতে হবে।

>> একটি নতুন ভিডিও তৈরি করতে, আপনাকে প্রথমে বিষয় বেছে নিতে হবে।

>> এরপরে আপনাকে ভিডিওটির জন্য সঠিক পাঠ্য বা টেক্সট লিখতে হবে। টেক্সটটিতে ভিডিওর গল্প, নির্দেশাবলী বা বিনোদন যা কিছু লিখতে পারবেন। আপনি ঠিক যে ধরনের ভিডিও বানাতে চাইছেন, তেমনই টেক্সট লিখতে হবে।

>> ভিডিওটির জন্য পাঠ্য লেখার পর ক্রিয়েট বোতামে ক্লিক করতে পারেন। মডেলটি কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার জন্য ভিডিও তৈরি করবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস