বরগুনায় সন্ধ্যা নামতেই নদীতে ড্রেজারের দাপট, ঝুঁকিতে জনপদ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার বেতাগীতে বিষখালী নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষখালী নদীর তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদ উপজেলার পৌর শহর ও আশপাশের গ্রামের পর গ্রাম নদীতেই ভাঙছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শত শত পরিবার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কিছু রাখঢাক থাকলেও তবে সন্ধ্যা নামলেই ড্রেজার নামিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ উপজেলার বিষখালী নদীর মোহনায় ২০-২৫টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি সরেজমিনেও মিলেছে এ চিত্র। এসময় সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গা-ঢাকা দেয় বালু ব্যবসায়ীরা।

নদী তীরবর্তী একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চোখের সামনে মানুষের সহায়-সম্পত্তি বিষখালী নদীতে বিলীন হতে দেখেও বালু ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকছে না। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে এখানকার বাসিন্দারা।

বেতাগী উপজেলা সদরের উত্তর বেতাগী গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাড়ি-ঘর সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে শুধু ড্রেজার দিয়ে বালু কাটায়। নদীতে তেমন ঢেউ নেই, স্রোতও আগের তুলনায় কম; এরপরও নদী ভাঙছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু করলেও এভাবে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না। কারণ একমাত্র অবৈধভাবে ভাঙন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করাতেই নদী ভাঙছে।’

সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে রাতে আবু কালাম নামে একজনকে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফারুক আহমেদ এই অর্থদণ্ড দেন।

এর আগেও বালু ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে ৫০ হাজার এবং জাহাঙ্গীর ও রাহাত নামে আরও দুই ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ড্রেজার মালিক সুনীলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ (ইউএনও) বলেন, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিষখালী নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এ ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ ভাঙনকবলিত এ এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নদী থেকে যাতে কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিপণন করতে না পারে, সেজন্য আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরগুনায় দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে বিনষ্ট

বরিশাল অফিস :: বরগুনা পৌর এলাকায় সাতটি গোডাউন থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও দুটি বেহুন্দি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে জালগুলো জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সরকার।

এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বরগুনা পৌর এলাকায় বিভিন্ন জালের দোকান এবং সাতটি গোপন গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে দুজন অসাধু কারেন্ট জাল বিক্রেতাকে জাল মজুদ এবং বিক্রয়ের দায়ে আটক করা হয়।
সেসময় ৩২ বস্তা কারেন্ট জাল (১ লাখ ৬০ হাজার মিটার) ও দুটি বেহুন্দি জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

মুন্সি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুর রবকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া করা হয়। অপর বিক্রেতা মোহাম্মদ মামুনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান, মেরিন ফিশারিজ অফিসার মো. নাজমুস সাকিব, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র শীল, মৎস্য দপ্তরের সদস্যরা এবং পুলিশ সদস্যরা।




পরিবারের খাবার জোটাতে ময়লার স্তুপে ইদ্রিস আলী

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে ইদ্রিস আলীর (৫৫) পরিবার। তাদের চার জনের খাবার জোটাতে তাকে প্রতিদিন যেতে হয় ময়লা-আবর্জনার স্তুপে।

তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ময়লার স্তুপ থেকে প্লাস্টিকের বোতল, লোহাসহ নানা ধরণের বস্তু খুঁজে বেড়ান।
তারপর খুঁজে পাওয়া লোহার রড ও প্লাস্টিকের বোতলসহ অন্যান্য সামগ্রী ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেন। এ থেকে তার প্রতিদিনের আয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

ইদ্রিস আলীর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে। পৌরসভার বালিকা বিদ্যালয় ও বাজার রোডের সংযোগ সড়কে ফেলে রাখা প্রতিদিনের ময়লার স্তুপ থেকে চলছে তার পরিবার।

ইদ্রিস আলী আক্ষেপ করে বলেন, সরকার বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ভিজিএফ দিলেও আমার মতো হতভাগার ভাগ্যে কোনটাই জোটেনি। চেয়ারম্যান মেম্বারদের সঙ্গে যাদের সখ্যতা আছে তারাই বার বার চাল, ডাল, তেল ও টাকা পেয়ে থাকে।

ক্ষোভ নিয়ে তিনি আরো বলেন, আমি গরিব ময়লা ছানি, আমাকে চোখে দেখে না কেউ।

বাউফল পৌসভার পরিচ্ছন্নকর্মী সেলিম বলেন, প্রতিদিন পৌরসভার বিভিন্নস্থান থেকে আনা ময়লা থেকে ইদ্রিস ভাই খুঁজে পুরানো জিনিসপত্র নিয়ে থাকে। দেখেছি প্রতিদিন এভাবে কুড়াইয়া আনে। তার কোনো অসুখ-বিসুখ দেখিনি। আল্লাহর কী লিলা খেলা, বড়লোকেরা বাসি খাবার খায় না। লোকটা গরীব মানুষ, বড়লোকের ডাস্টবিনে ফেলে রাখা খাবার তুলে নিয়ে খায় অথচ তার কিছু হয় না।

এ বিষয়ে নাজিরপুর ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এসএম মহসিন বলেন, আমি মাত্র কয়েক মাস হলো নির্বাচিত হয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কলাপাড়ায় বরই চাষে মিজানের চমক

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই। ছোট গাছগুলো বরইয়ের ভারে নুইয়ে পড়েছে। আপেলের মতো দেখতে লাল টুকটুকে বড় বড় বরই শোভা পাচ্ছে গাছে। গাছগুলো রোপনের পর সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে উঠে মাত্র সাত মাসে দারুণ ফলন দিয়েছে। গাছে গাছে দুলছে লাল আভা ছড়ানো থোকায় থোকায় কুল। পাকতে শুরু করেছে সপ্তাহ তিনেক আগে থেকে। বিক্রিও শুরু হয়েছে। আকার ও স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে মিজানুর রহমানের বাগানের কুলের চাহিদাও অনেক। এখন ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বরইয়ের দৃষ্টিনন্দন এ বাগান গড়ে তুলেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিযাখালী ইউনিয়নের মধ্য টিয়াখালীর
গ্রামের মিজানুর রহমান। বরই চাষী মিজানুর রহমান মধ্য টিয়াখালীর গ্রামের সাবেক মেম্বার ফকরুদ্দিনের ছেলে।

শীতকালীন অন্যান্য ফলের তুলনায় বরই অনেক বেশি সুস্বাদু। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে ও ফলন ভালো হওয়ায় বরইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এক সময় দেশি টক জাতীয় বরইয়ে বাজার ভরা থাকলেও এখন কৃষি গবেষণার ফলে আমাদের দেশে অনেক ধরনের সুমিষ্ট ও সুস্বাদু বরই উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। অবশ্য বরইকে অনেকে কুল নামেও চেনে-জানে। দেশি টক জাতীয় বরইয়ের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক জাতের নারকেল বরই, আপেল কুল, বাউকুল ও থাইকুল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে বরইয়ের আবাদ হচ্ছে। বরই চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। বরই এমন একটি ফল- যা শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তবে টক বরইয়ের চাহিদাও রয়েছে এক শ্রেণির মানুষের কাছে। এ মুখরোচক ফলটি শীতকালে আমাদের দেশের প্রায় সব অঞ্চলে পাওয়া যায়। শখের বশেও অনেকে বাড়ির ছাদে বরইয়ের চাষ করছেন। সুস্বাদুর পাশাপাশি বরই পুষ্টিগুণে ভরা। বরইয়ে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামসহ নানা উপাদান- যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিজানুর রহমানের বাগানে কুল গাছে ভরা। লাল সাদা আর মেরুন রঙ্গেরবাহারি ফলে ভরে গেছে গাছগুলো। কর্মচারীরা ঝুড়ি ভর্তি করে বিক্রির জন্য গাছ থেকে ছিড়ছেন পাকা কুল। পাখির ছোবল থেকে কুল রক্ষার জন্য পুরো বাগান জুড়ে টানিয়ে দেয়া হয়েছে জাল। চলতি মৌসুমেরশুরু থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকেই বড়ই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এখন মিজানের বাগানে ৪২৫টি মতো বরই গাছ রয়েছে। মাত্র ৭ মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে বরই ধরেছে। স্বাদে সুমিষ্টি হওয়ার কারণে এক মন বরই চার হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ থেকে প্রথম বছরেই বিপুল টাকা আয় করার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে তাদের বাগান থেকে বারোমাসি থাই পেয়ারা আম ও বিক্রি করবেন। বর্তমানে তার বাগান ২০৫ শতাংশ জমি রয়েছে।

বরই চাষী মিজানুর রহমান জানান, কৃষি অফিস থেকে আমাকে অনেক সুপরামর্শ দিয়েছে। আগামি বছর আরো ভাল ফলন ফলাতে পারবো বলে আশা করি। সাত মাসের মাথায় গাছগুলো মাশআল্লাহ ভালো ফলন দিয়েছে। তবে এ বছর শেষের দিকে আবহাওয়া খারাপ থাকায় অনেক ফুল ঝড়ে পাড়েছে ও পাখির আক্রমনে অনেক বরই নষ্ট হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, মিজান একজন সফল চাষি। তাকে কৃষি অফিস সকল সহযোগীতা করে যাচ্ছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। তারা কুল চাষে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ দিয়ে আসছেন।




করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টে চলমান টিকাই কার্যকরী : স্বাস্থ্য ডিজি

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেশে চলমান ভ্যাকসিনই কার্যকরী বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি বলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুত ছড়ায়। তবে এনিয়ে এতো আশঙ্কার কিছু নেই।




সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের




চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পেয়েছে যেসব সিনেমা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ৯ দিনব্যাপী দ্বাবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৪ এর পর্দা নেমেছে গতকাল (২৮ জানুয়ারি)। ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উৎসবটির সমাপনী দিন শেষ হয়েছে সেরা সিনেমা নির্বাচন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে। এবারের উৎসবের স্লোগান ছিল ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’।

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদোগে আয়োজিত এ উৎসবে এশিয়ান প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, ট্রিবিউট, বাংলাদেশ প্যানারোমা, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন্স ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম সেশনে বাংলাদেশসহ ৭৪টি দেশের মোট ২৫২টি সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে।

উৎসব চলাকালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার, সমালোচক, সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তাসহ দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উৎসবে অংশ নিয়েছেন। কোন কোন বিভাগে কারা পেয়েছেন ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার-

শিশুতোষ সিনেমা বিভাগ- সেরা শিশুতোষ সিনেমা (বাদল রহমান পুরস্কার): বিপুল শর্মা পরিচালিত ‘প্রভাস’, ভারত। অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড: শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার (মুজিব: দ্য মেকিং অফ আ নেশন)’, বাংলাদেশ, ভারত। বিশেষ অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড: অভিজিৎ শ্রীদাস পরিচালিত ‘বিজয়ের পরে’, ভারত।

স্পিরিচুয়াল ফিল্ম বিভাগ-
সেরা ফিচার ফিল্ম: ওলেগআসাদুলিন পরিচালিত ‘দেয়ার অ্যান্ড ব্যাক’, রাশিয়া।
সেরা তথ্যচিত্র: হ্যানসেল লেভা ফানেগো পরিচালিত ‘কুনানফিন্ডা: দ্য ল্যান্ড অব ডেথ’ কিউবা।
স্পেশাল মেনশন অ্যাওয়ার্ড: গোলাম রাব্বানী পরিচালিত ‘সুরত’, বাংলাদেশ।
নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগ- সেরা ফিচার ফিল্ম: মানিজেহ হেকমত পরিচালিত ‘জাঙ্কস অ্যান্ড ডলস’, ইরান।
সেরা তথ্যচিত্র: ন্যান্সি সভেনডসেন পরিচালিত ‘পাসাং: ইন দ্য শ্যাডো অব এভারেস্ট’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সেরা পরিচালক: ‘হাউ টু গেট ইওর ম্যান প্রেগন্যান্ট’ সিনেমার জন্য জিওংমু এনওএইচ, দক্ষিণ কোরিয়া। স্পেশাল মেনশন: চৈতালী সমদ্দার পরিচালিত ‘মুক্তি’, বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্যানোরামা: পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগ ফিপরেস্কি পুরস্কারের বিজয়ী (পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিচার ফিল্ম): পান্থ প্রসাদ পরিচালিত ‘সাবিত্রী’।

বাংলাদেশ প্যানোরামা: ট্যালেন্ট বিভাগ
ফিপরেস্কি পুরস্কারের বিজয়ী (স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র): বৈশাখী সমদ্দার পরিচালিত ‘লায়লা’। প্রথম রানারআপ শর্ট ফিল্ম: শুভাশিস সিনহা পরিচালিত ‘ইনাফি’।
দ্বিতীয় রানারআপ শর্ট ফিল্ম: জিয়াউল হক রাজু পরিচালিত ‘অন্তহীন পথে’।

এশিয়ান চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চিত্রনাট্য: মুহিদ্দীন মুজাফফর পরিচালিত ‘ফরচুন’, তাজিকিস্তান। সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: অ্যাঞ্জেলোস র‌্যালিস পরিচালিত ‘ইন দ্য টাইম অফ ফ্লাডস’, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, গ্রিস।

সেরা অভিনেত্রী: বাদেমা। কিয়াও সিক্সু পরিচালিত ‘দ্য কর্ড অফ লাইফ’ সিনেমা, চীন। সেরা অভিনেতা: অঞ্জন দত্ত। অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ‘চলচ্চিত্র এখন’ সিনেমা, ভারত। সেরা পরিচালক: জগৎ মনুওয়ার্না। সিনেমা ‘রাহাস কিয়ানা কান্দু, শ্রীলঙ্কা।

সেরা সিনেমা: কিয়াও সিক্সু পরিচালিত ‘দ্য কর্ড অফ লাইফ’, চীন।
স্পেশাল জুরি মেনশন ফিল্ম: আসকার উজাবায়েভ পরিচালিত ‘বাকিত’, কাজাখস্তান। স্পেশাল জুরি মেনশন অভিনেত্রী: আফরিন খানম। অ্যাঞ্জেলোস র‌্যালিস পরিচালিত ‘মাইটিআফ্রিন’ সিনেমা, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, গ্রিস।

২২ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবার সবার কাছে আগ্রহের বিষয় ছিলেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। এবারই প্রথম তিনি এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। তিনি এশিয়ান চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরির দায়িত্ব পালন করেছেন।

 




শ্রীলঙ্কার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো আইসিসি

নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে লঙ্কান বোর্ডের কর্মকাণ্ডের সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করেছে আইসিসি। এখন অবস্থা সন্তোষজনক মনে হওয়ার কারণে এসএলসির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গেল বছরের ১০ নভেম্বরে বোর্ডের ওপর সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে এসএলসির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। সংস্থাটির আইনে বলা হয়েছে, ক্রিকেট বোর্ডের ওপর সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। ক্রিকেটের যাবতীয় কাজ, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনে বোর্ড স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

যদিও ২১ নভেম্বর এক বোর্ডসভা থেকে শ্রীলঙ্কাকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। একই সঙ্গে আইসিসির আসরগুলোতেও লঙ্কানদের খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দলকে খেলার অনুমতি দিলেও শ্রীলঙ্কায় এখনো আইসিসির আয়োজনে কোনো আসর হয়নি। চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে। কিন্তু জমজমাট এই আসরটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটি থেকে সরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানান্তর করেছে আইসিসি।

এর আগে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগে এসএলসির সব কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহে। এরপর অর্জুনা রানাতুঙ্গার নেতৃত্বে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটি ঘোষণা করেন তিনি।

এর একদিন পরই আদালতের রায়ে আবার ক্রিকেট বোর্ডের পদ ফিরে পান বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা। চলমান এসব উত্তেজনার মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইসিসি।




ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধ না করার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর গত দুদিনে ফিলিস্তিনে এ সংস্থায় অর্থায়ন স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড। কিন্তু জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশগুলোকে অর্থায়ন ও সাহায্য অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাতিসংঘের যে কোনো কর্মীকে ফৌজদারি বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিচার করতে সক্ষম এমন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে সেক্রেটারিয়েট প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর হয়ে কাজ করা হাজার হাজার কর্মীকে বিশ্বের অনেক বিপজ্জনক জায়গায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হয়। তাদের সবাইকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। সংকটে থাকা মানুষদের এখনো এই কর্মীদের প্রয়োজন।

ইউএনআরডব্লিউএ ইস্যুতে এই প্রথম মন্তব্য করলেন জাতিসংঘ প্রধান। বিবৃতিতে তিনি হামাসের হামলার সঙ্গে জড়িত ত্রাণ ও শরণার্থী সংস্থার কর্মীদের সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, এরই মধ্যে জড়িত ১২ জনের মধ্যে নয়জনের চাকরি চলে গেছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে ও বাকি দুজনকে শনাক্ত করে পরিচয় স্পষ্ট করা হয়েছে।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমি অর্থায়ন বন্ধ করা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারছি। অভিযোগ শুনে আমিও ভয় পেয়েছিলাম। তবে তহবিল স্থগিত করা দেশগুলোর সরকারকে কাছে আমি আবেদন করছি যে তারা যেন অন্তত ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেন।

এর আগে ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, গাজায় প্রায় ১০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি এই তহবিলের ওপর বেঁচে আছে। কয়েকজনের অপরাধের জন্য এরকম যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকট চলাকালে এমন একটি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। এক বিবৃতিতে তিনি অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা

 




প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত: স্বতন্ত্ররা স্বতন্ত্রই থাকবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বতন্ত্ররা স্বতন্ত্রই থাকবেন। তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারবেন। এই বিষয়টা আমাদের সংসদ নেতা, দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলেছেন।

রোববার (২৮জানুয়ারি) রাতে গণভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রতীকের মধ্যে কিছু সংঘাত, সহিংসতা, অন্তঃকলহ হয়েছে। এখনো বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব মেটাতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বতন্ত্র এমপিরা জানিয়েছেন, নিজেদের আওয়ামী লীগের ভিন্ন পরিচয় দিতে তাদের আবেগ এবং বিবেক আহত হয়। তাই নিজেদের মধ্যে বিবাদ ও অন্তঃকলহ মেটাতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের মনোনীত করবেন, তাদের প্রতি সমর্থন থাকবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের।