ইলন মাস্ককে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন বার্নার্ড আর্নল্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমা খুইয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। ফোর্বসের বিলিওনিয়ার তালিকায় ইলনকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন ফরাসি ব্যবসায়ী ও এলভিএমএইচের সিইও বার্নার্ড আর্নল্ট।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) ফোর্বসের দ্য রিয়েল টাইম বিলিওনিয়ার লিস্টে দেখা গেছে, ২০৮ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। আর ২০৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ২০ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইলন মাস্ক।

এছাড়া তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস। তার সম্পদের পরিমাণ ১৮১ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৮ হাজার ১৩০ কোটি ডলার। ১৪২ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ২২০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। আর ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। তার সম্পদের পরিমাণ ১৩৯ দশ ১ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ৯১০ কোটি ডলার।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার যেখানে এলভিএমএইচ’র শেয়ার দর ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার দরে পতন হয়েছে ১৩ শতাংশ। আর্নল্টের সম্পত্তি এক দিনেই বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ১৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খুইয়েছেন মাস্ক। তাতেই ইলন মাস্ককে পিছনে ফেলেছেন আর্নল্ট।

এলভিএমএইচের সিইও আর্নল্ট গত চার দশক ধরে বিলাসবহুল ব্রান্ডের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। তার সংস্থার অধীনে রয়েছে লুই ভুতোঁ, ডিওর, সেফোরা ট্যাগ, ডোম পেরিনন, ফেন্ডি, টিফিন অ্যান্ড কোং, মার্ক জেকব, ফেন্ডি ও সেলিনের মতো ব্রান্ড। গত এপ্রিলেই এলভিএমএইচ প্রথম ইউরোপিয়ান কোম্পানি হয়ে উঠেছিল, যার মার্কেট ভ্যালু বা ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলার পার করেছে।

এদিকে, বিশ্বের শীর্ষ দশ ধনীর নয়জনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অবশ্য, ১১তম স্থানে রয়েছেন ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। একই সঙ্গে ১১০ বিলিয়ন বা ১১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তকমা ধরে রেখেছেন তিনি। ভারতের আরেক ধনকুবের গৌতম আদানি রয়েছেন ১৬ তম স্থানে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৯ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৭ হাজর ৯২০ কোটি ডলার।

ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার লিস্টে শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি হলেন-

১. বার্নার্ড আর্নল্ট ও তার পরিবার, মোট সম্পদের পরিমাণ ২০৮ বিলিয়ন

২. ইলন মাস্ক, মোট সম্পদের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার

৩. জেফ বেজোস, মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার

৪. ল্যারি এলিসন, মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার

৫. মার্ক জুকারবার্গ, মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার

৬. ওয়ারেন বাফেট, মোট সম্পদের পরিমাণ ১২৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার

৭. ল্যারি পেজ, মোট সম্পদের পরিমাণ ১২৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার

৮. বিল গেটস, মোট সম্পদের পরিমাণ ১২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার

৯. সের্গেই ব্রিন, মোট সম্পদের পরিমাণ ১২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার

১০. স্টিভ বলমার, মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন

সূত্র: দ্য রিয়েল টাইম বিলিওনিয়ার, ফোর্বস




শিক্ষক নিয়োগে ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু, শিগগির পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ ই-রেজিস্ট্রেশন চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করবে সংস্থাটি এবং তথ্য যাচাই শেষে শিগগির পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) এনটিআরসিএর সদস্য (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি) শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে পঞ্চম নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এনটিআরসিএর প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্যপদের তথ্য চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) অনলাইনে সংগ্রহ করা হবে। অনলাইনে চাহিদা দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে ই-রেজিস্ট্রেশন (অনলাইন নিবন্ধন) কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান পূর্বেই ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে, তাদের অবশ্যই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রোফাইল হালনাগাদ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অনলাইন প্লাটফর্মে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন কিংবা প্রোফাইল হালনাগাদ না করলে অনলাইনে নিয়োগযোগ্য শিক্ষকের শূন্যপদের চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) দেওয়া সম্ভব হবে না।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যে ই-রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ই-রেজিস্টেশন ফর্মের এডিট অপশনে ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল হালনাগাদ করতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য অপরিবর্তিত থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে লগইন করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। নতুবা ই-রেজিস্ট্রেশন নবায়ন বা হালনাগাদ হবে না। এজন্য ২৯ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশন করা এবং আগে ই-রেজিস্ট্রেশন করা প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

এতে আরও বলা হয়, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের নিজস্ব প্রোফাইলও হালনাগাদ করতে হবে। ই-রেজিস্ট্রেশন প্লাটফর্মে লগইন করার জন্য তাদেরকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড টেলিটক থেকে এমএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

ই-রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্মে লগইন করে তথ্য প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে ই-রেজিস্ট্রেশন নামক সেবাবক্সে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চতুর্থ ধাপে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায় ৬৮ হাজার পদ শূন্য। এমপিওপ্রাপ্য এসব এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩২ হাজার পদে প্রার্থী নির্বাচন করা সম্ভব হয়। যেখান থেকে মাত্র ২৭ হাজার নতুন শিক্ষককে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষাংশে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। যাদের কেউ যোগ দিয়েছেন, কেউ কেউ দেননি।

নতুন শিক্ষকরা সবাই যোগদান করলেও ৪১ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্যই থাকছে। এসবের সঙ্গে যোগ হবে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অবসরজনিত কারণে শূন্য হওয়া শিক্ষক পদ। এ হিসাবে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ এখন শূন্য।




অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না, হাইকোর্টে নীতিমালা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না জানিয়ে নতুন নীতিমালা করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকসহ সবাইকে এ নীতিমালা মানতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে নীতিমালা করে ছয় মাস আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে।

জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা এ প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নোটিশে তাদের তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মাতৃগর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষের ছেলে সন্তানই আশা করেন। কারণ তারা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক, তারা আয় করে, বেশি শক্তিশালী। এমন কি অনেক নারীও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে। এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্ক্ষিত না হলে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মা যদি হতাশায় ভোগেন, তবে বাচ্চার মস্তিষ্ক গঠন /বিকাশ সঠিকভাবে হয় না। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে গর্ভে থাকা শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর কল্যাণের জন্য বা অনাগত সন্তানের সুস্থতা জানতে তারা যেকোনো পরীক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু শুধু পেটে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা রিপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাতৃগর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা সম্পর্কে এর আগেই আইনে নিষেধ করা হয়। তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার থেকে এটি তাদের নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলো।




মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলায় আগে পঙ্কজের, এখন শাম্মী সমর্থকরা আক্রান্ত

বরিশাল অফিস ::আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে হানাহানির কারণে আলোচিত বরিশালের দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা। সেখানকার সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের পক্ষ-বিপক্ষ ঘিরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ২০১৬ সালে সংঘাতের সূচনা। এর জেরে পঙ্কজ দলীয় পদ হারান এবং মনোনয়নবঞ্চিত হন। এবার স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত থামছে না দুই উপজেলায়। মেঘনাতীরে মাছঘাটের দখল-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। ঘাট দখলে থাকলে অবৈধভাবে আয় হয় কোটি কোটি টাকা।

ভোটে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণার পর (পরে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল) পঙ্কজ সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর এবং দখল করে বিরোধীরা। ভোটের পর একই অভিযোগ উঠেছে পঙ্কজ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সবশেষ রোববার হিজলার গৌরবদী ইউনিয়নে সংঘর্ষ হয়।

রোববার রাতে হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দাবাজারে পঙ্কজবিরোধী গ্রুপের মিরাজ সরদার ও ইউসুফ মিয়াকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ। ভাঙচুর করা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মাঝির দোকান। হামলাকারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ফখরুল বেপারি, জসিম সিকদার, কাশেম হাওলাদার, চান শরিফ পঙ্কজ এমপির অনুসারী বলে জানা গেছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল বেপারি, হোসেন মাঝি, হানিফ হাওলাদার ও রুবেল মাঝিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সপ্তাহে একই ইউনিয়নের খালিসপুর, ওরাকুল ও গঙ্গাচরণে তিনটি মাছঘাটের পাশে নতুন ঘাট স্থাপন করেছেন পঙ্কজ সমর্থক হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হাওলাদার ও ফখরুল বেপারি। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ধুলখোলা ইউনিয়নের মাইট্টালায় হামলা করে একটি মাছঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নেতৃত্ব দেন আমির সরদার। আহত হন অন্তত পাঁচজন।

পঙ্কজবিরোধী হিসেবে পরিচিত হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বেপারি বলেন, ১১ জানুয়ারি থেকে নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করছে এমপির লোকজন। মাছঘাট দখলের ঘটনায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ নেয়নি।

পঙ্কজ সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বেপারি বলেন, কারও মাছঘাট দখল হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে পাঁচটি নতুন ঘাট করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পঙ্কজবিরোধী আরেক নেতা হিজলার গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, তিনি বর্তমানে এলাকায় নেই, তবে ঘটনাগুলো জানেন। গত শনিবার হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে হামলায় আহত হন চারজন। আহত ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ওপর পঙ্কজ সমর্থক সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মাতুব্বরের অনুসারীরা হামলা করেছে।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, তিনি হামলার কথা শুনেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা দীপু সিকদার (পঙ্কজবিরোধী) ঝামেলা করেছেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এমপিকে গালাগাল করা হয়। তিনি দাবি করেন, গোটা উপজেলায় কোনো মাছঘাট দখলের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া ২৫ জানুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকায় বাসায় ঢুকে সৌরভ দাস নামে পঙ্কজবিরোধী কর্মীকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়।

সোমবার মেহেন্দীগঞ্জে মতবিনিময় সভা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় রোববার পর্যন্ত হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে ১৫টি মামলা হয়েছে। বরিশালের অপর আট উপজেলা মিলিয়েও এত মামলা হয়নি। দুই উপজেলায় কিছু মানুষ খুব হিংস্র। তারা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে সহিংসতা ছড়ায়। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এমপি পঙ্কজ নাথ বলেন, গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন মেঘনাতীরে ২৪টি মাছঘাট স্থাপন করে মেঘনা নিয়ন্ত্রণ করছেন। জাটকা নিধন করে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও চরের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এসব কাজে বাধা দিলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা চালান। যা ঘটেছে সব নাটক।

মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলার চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী ইলিশের অভয়াশ্রম। তীরে গড়ে ওঠা মাছঘাটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। চরে আছে নানামুখী বাণিজ্য। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাছঘাট ও চরের বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হন। এভাবে অর্থের জোরে হন জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। পঙ্কজবিরোধী অংশটি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।




বরিশালের নির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি

৯ উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া

বরিশাল অফিস :: বরিশালের ৯ উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। উপজেলার তিন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা, কে প্রার্থী হচ্ছেন, কার জনসমর্থন কতটুকু। আলোচনায় ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীক না দেয়ার বিষয়টি। বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেবে কিনা, তা নিয়ে চলছে বিশ্লেষন।

নির্বাচন কমিশন ঈদের পর ভোট করার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত বরিশাল জেলা নির্বাচন অফিসে কোন নির্দেশনাও আসেনি।

তারপরেও চলছে নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের চলছে কর্মকান্ড। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাই বেশি। এছাড়াও শরীক দলের কয়েকজন নেতাও নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছে।

বরিশাল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সী বলেন, নির্বাচন করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখনো তফসিল ঘোষনা করা হয়নি। তবে নির্বাচন করার সকল প্রস্তুতি রয়েছে। নির্দেশনা পেলে কাজ শুরু করা হবে।

বরিশাল জেলার ১০ উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় প্রথম দফার ভোট হবে না। নয়টি উপজেলা হলো-সদর, বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, হিজলা, উজিরপুর, বানারীপাড়া ও বাকেরগঞ্জ। বরিশালের ৯ উপজেলায় ৪০ আওয়ামী লীগের নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর বাইরে ৯ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র উজিরপুর উপজেলায় জাসদ’র (আম্বিয়া) এক প্রার্থী নিজের প্রার্থীতা জানান দিয়েছেন। তিনি হলে-সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজ। এছাড়া স্বতন্ত্র বা অন্য কোন দলের নেতা প্রার্থীতা জানান দেয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। কোন নেতাও যাবে না। এটাই আমাদের সিদ্বান্ত।




বরগুনায় অবৈধ ৪৫টি বেহুন্দি জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট

বরিশাল অফিস :: বরগুনায় অবৈধ ৪৫টি বেহুন্দি জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট বরগুনায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ বেহুন্দি জাল ও চিংড়ি জাল জব্দ করে পুড়িয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বরগুনা সদরের এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী ও ছোনবুনিয়া সংলগ্ন পায়রা নদী ও মোহনায় অবৈধ জাল নির্মূলে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার ব্যাটালিয়নের সার্বিক সহযোগিতায় ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সকাল‌ ১১টা পর্যন্ত বরগুনা সদরের এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী ও ছোনবুনিয়া সংলগ্ন পায়রা নদী ও মোহনায় অবৈধ জাল নির্মূলে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ ৪৫টি রাক্ষুসে বেহুন্দি জাল এবং তিনটি অবৈধ চিংড়ি জাল এবং আনুমানিক ২০ মণ অবৈধ ফিক্সড ইঞ্জিনে ব্যবহৃত দড়ি ও কাছি আটক করা হয়। যার মোট আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

অভিযানে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব এবং জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মশিউর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানসহ, বরগুনা সদর থানার পুলিশ ফোর্স এবং বরগুনার জেলা আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মশিউর রহমান, বরগুনার নির্দেশে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ বেহুন্দী জাল, চিংড়ি জালসহ দড়ি কাছি পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।




বরিশাল সাইবার সিকিউরিটি এবং নিরাপদ ইন্টারনেট বিষয়ক এপ “সাইবার উন্মেষ” এর উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: বরিশালের প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে সাইবার সিকিউরিটি এবং নিরাপদ ইন্টারনেট বিষয়ক এপ “সাইবার উন্মেষ” এর উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই,বরিশাল ইউনিসেফের প্রতিনিধি, সহকারী কমিশনার বৃন্দ, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিক বৃন্দসহ বিভিন্ন অতিথিরা।

শুরুতে অতিথিরা সাইবার সিকিউরিটি এবং নিরাপদ ইন্টারনেট বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন পরে বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম “সাইবার উন্মেষ” এপ এর শুভ উদ্বোধন করেন।




ভোলার মেঘনায় ট্রলারডুবি, ৮ দিন পর লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ভোলার মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনার ৮ দিন পর রাজ্জাক সরদারের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তবে তার ছেলে পারভেজ সরদার এখনো নিখোঁজ।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেঘনা নদীর তুলাতলি পয়েন্ট থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

ভোলা নৌ পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিদ্যুৎ কুমার ঘোষ জানান, ভোলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার মেঘনা নদীর তীরে কচুরিপানার মধ্যে একটি লাশ ভাসতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে স্থানীয়রা ফোন দিয়ে জানায়। পরে নৌ পুলিশ খবর পেয়ে তুলাতুলি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করলে ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ রাজ্জাক সরদারের স্বজনরা গিয়ে শনাক্ত করে।

প্রসঙ্গত, মনপুরা থেকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া মালবাহী ট্রলারটি ইলিশার জোরখাল পয়েন্টে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ভাঙারি মালামালসহ ৭ জন শ্রমিক ছিলেন।

ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় ৫ জন শ্রমিক সাঁতরে জেলে ট্রলারের সহায়তায় উপরে উঠে আসতে পারলেও আব্দুল রাজ্জাক ও তার ছেলে পারভেজ সরদার ইঞ্জিনরুমে থাকায় তারা বেরোতে পারেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।




অস্থিতিশীলতায় আক্রান্ত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি

বরিশাল অফিস :: গত ৭ জানুয়ারি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেনের অফিসে হামলা করে প্রতিপক্ষরা। রাজীব সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গত ৫ পাঁচ বছরে শহরজুড়ে রাজীবের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। সদর রোডে শপিংমল টপ টেনে হামলা, লুটপাটে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতার পট পরিবর্তনে সেই রাজীবের অফিসে এবার হামলার অভিযোগ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রাজিব আহসান খান বলেন, ‘আমার মিছিলে অনেক লোকজন হয়। হয়তো রাজনৈতিকভাবে আমার এতো জনপ্রিয়তা তারা নিতে পারেনি। তাই আমার অফিসে হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।’

৮ জানুয়ারি। মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের পোর্টরোড অফিসে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ খান হাবিব ও তার সমর্থকরা। টুটুল সাবেক মেয়র সাদিকের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। বরিশালের সবচে বড় মাছের মোকাম পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দখল, পাল্টা দখলের দামামায় থমথমে অবস্থা সেখানে।

বরিশাল মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর সিকদার বলেন, ‘খান হাবিব ও তার সমর্থকরা পোর্টরোডে কিছুটা হট্টগল করেছে। পরে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। জানি না কখন কি হয়।’

১০ জানুয়ারি মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে ভিপি আনোয়ারকে বেদম পেটানোর অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান অপু ও আজিমসহ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সরস্বতী স্কুল, ল কলেজ, বিকাশ মাল্টিপারপাসের অর্থলোপাটসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত আনোয়ার সবশেষ সাবেক মেয়র সাদিকের ছায়ায় ছিলেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ওপর হামলাটা রাজনৈতিক কারণে হয়েছে। মামলা হয়েছে। আইন অপরাধীদের বিচার করবে। সরস্বতী স্কুল, ল কলেজ, বিকাশ মাল্টিপারপাসের অর্থলোপাটের যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে এসব ভিত্তিহীন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রক্তাক্ত হলেও স্থানীয় নেতাদের দাবি, রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা করছে।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ভুলের দায়ভার দল নিবে না। তবে যেসব ঘটনা বরিশালে ঘটেছে তা দুঃখজনক। অনেক ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এসব ঘটনা। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আনিস উদ্দিন আহমেদ সহিদ বলেন, ‘অধিকাংশ ঘটনাই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বরিশাল সদর-৫ আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জাহিদ ফারুক শামীম। তার সঙ্গে একজোটে নতুন মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। তবে সিটি মেয়রের চেয়ার হারালেও দলের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আছেন সাদিক আব্দুল্লাহ।




দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে কাল

চন্দ্রদীপ অন লাইন : একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ সোমবার (২৯ জানুয়ারি)। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা। এদিন বিকাল ৩টায় বসবে সংসদের প্রথম অধিবেশন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো রকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের মতো এবারও স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার পদে শামসুল হক টুকুকে মনোনীত করেছে দলটি। সংসদে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবারও ভোটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুই বিজয়ী হবেন।

প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত করা হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। এরপর ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। প্রথম অধিবেশনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। এরইমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর উপনেতা মতিয়া চৌধুরী। বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ও উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ২২৩ জন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ৬২ জন, জাতীয় পার্টির ১১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও কল্যাণ পার্টির একজন সংসদ সদস্য আছেন।