৭০ বছরে লক্ষাধিক গাছ লাগানোর দাবি গলাচিপার সিরাজুলের

 

 মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি জানা আছে তার। এটি একটি ব্যতিক্রম বিরল ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যদি সে চায়, তাহলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছের চারা, বীজ, সার, কিটনাশকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’

শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন এবং পরে তা পরিচর্যাও করেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বআটখালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। গ্রামে অনেকেই তাকে গাছ পাগল নামে ডাকেন। ৭০ বছর ধরে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল।

সিরাজুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮০ বছর বয়সী সিরাজুল ১৯৮৬ সালে কামিল পাস করে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন। এর আগেই ১০ থেকে ১১ বছর বয়সে গাছ লাগানোর প্রতি তার ঝোঁক ছিল এবং সেই থেকে গাছ লাগাতে থাকেন। ইতোমধ্যে লক্ষাধিক গাছ লাগিয়েছেন বলে দাবি করেন সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে ফলজ হিসেবে নারকেল, সুপারি, পেয়ারা, জাম্বুরা, গাবগাছ ছাড়াও তালগাছ, মেহগনি, চাম্বল, সুন্দরী গাছও লাগিয়েছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম জানান, শুধু নিজের বাড়িতেই নয় অন্যের বাড়িতে, সড়কের পাশে, মূলত খালি জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগিয়ে আসেন। পরে তা পরিচর্যাও করেন তিনি। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশেপাশের অন্তত ১০ গ্রামজুড়ে আছে তার লাগানো নানান প্রজাতির গাছ।

গাছ লাগানোর ভাবনা কীভাবে এলো জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে অনেক কারণেই গাছ লাগানোর ভাবনা আসে। যেমন হাদিস শরীফে আছে গাছ লাগানো সুন্নত, ছদকায়ে জারিয়া। সড়কের পাশে গাছ লাগিয়েছি পথিকের ছায়া দেয়ার জন্য। এ ছাড়াও সরকারের নির্দেশনা রয়েছে পতিত জায়গা রাখা যাবে না। এসব বিষয় চিন্তা করেই বেশি করে গাছ লাগাতে শুরু করেছি। মূলত গাছ লাগানো সুন্নত, গাছে অক্সিজেন দেয় এমন ধারণা থেকেই গাছ লাগানোর প্রথম ভাবনা।’
বর্তমানে নানা অসুখে ভুগছেন সিরাজুল ইসলাম। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা না করাতে পারাসহ আছে অনেক আক্ষেপ। আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি সিরাজুলের শেষ ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার।

সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, অর্থের প্রয়োজনে তিনি গাছ বিক্রিও করেন, তবে যাদের জায়গায় গাছ লাগিয়েছিলেন তাকেও বিক্রির অর্ধেক ভাগ দিচ্ছেন তিনি। বাকি টাকা দিয়ে বাড়িতে চারা উৎপাদনে ব্যয় করছেন। এক সময় বাজার থেকে চারা কিনে রোপণ করলেও এখন অর্থের অভাবে তা পারছেন না সিরাজুল। সম্পত্তি বলতে রয়েছে, তার ৬০ শতাংশ জমি। এতে তার তিন মাসের সংসার চলে। বাকি নয় মাস মেয়েদের সাহায্যে চলতে হয় তাকে। গাছের চারা কিনতে না পারায় এখন বাড়িতেই চারা উৎপাদন করছেন তিনি।
স্থানীয়রা সিরাজুলের গাছ লাগানোকে সমর্থন করছেন। তার দেখাদেখি সমাজের আরও মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বৃক্ষরোপণে।

বাড়ির পাশে সিরাজুলের ভাইয়ের ছেলে দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘আমার বৃদ্ধ চাচার এই গাছ লাগানো নেশায় পরিণত হয়েছে। সারাদিন গাছ লাগানোয় ব্যস্ত থাকবে, আবার রাত হলে কলস ভর্তি পানি নিয়ে গাছের গোড়ায় ঢালবে। অন্যের বাড়িতে গাছ লাগানোর পর দিনরাত গাছের পরিচর্যা করার সময় অনেকে বিরক্ত হলেও চাচার হাসিতে সবাই চুপ হয়ে যায়। অনেকে তো চাচাকে গাছ পাগল বলে ডাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের লাইন টানার সময় চাচার কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। গাছগুলো রক্ষা করতে না পেরে তখন আমার চাচা কেঁদেছিলেন। আমার চাচা এখন নানা অসুখে ভুগছেন। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না।’

একই গ্রামের মুদি দোকানদার মনির হোসেন বলেন, ‘গাছ লাগানো যেন তার নেশা আর পেশায় পরিণত হয়েছে। আমাদেরও ভাল লাগছে তার গাছ লাগানোর অবস্থা দেখে। আগে যেহানে খালি জায়গা ছিল এহন হেইআনে ওনার লাগানো গাছ অনেক বড় অইছে।’

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘আমি মুগ্ধ হয়েছি সিরাজুল ইসলামের গাছ লাগানোর দৃশ্য দেখে। আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটির চেহারাই পাল্টিয়ে দিয়েছেন তিনি, শুধু গাছ লাগিয়ে। এখন সবুজে সমারোহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘বন বিভাগ থেকে সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদে গাছের কিছু চারা বরাদ্দ দেয়া হয় সেখান থেকে কিছু চারা আমরা সিরাজুল ইসলামকে দেয়ার ব্যবস্থা করব। যাতে তার একটু সুবিধা হয়।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর বিষয়টি জানা আছে তার। এটি একটি ব্যতিক্রম বিরল ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। যদি সে চায়, তাহলে তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছের চারা, বীজ, সার, কিটনাশকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে।’




পটুয়াখালীতে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের লড়াই, পৌরসভা নির্বাচন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: এখনো রেশ রয়ে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। তার মধ্যে ২৪ জানুয়ারি বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই ঘোষণার পরপরই পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদপ্রত্যাশীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হলেও পৌরসভায় তা হবে। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এদিকে আন্দোলনে থাকা বিএনপি কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অনড়।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান ও সাবেক মেয়র ছাড়া আরও দুজন মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের জানান দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। ২০১৯ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সেই সময় দল থেকে বহিষ্কার করলেও নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে তিনি মেয়র হন। তফসিল ঘোষণার পরপরই দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হওয়ার লক্ষ্যে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত ৫ বছরে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি। বাংলাদেশের কোনো পৌরসভায় এত কাজ হয়নি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছোঁয়া মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি।
আশা করি, আগামী ৯ মার্চ আমাকে সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন।’

মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। ২০১১ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নামলেও শেষ পর্যায়ে কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান।

শফিকুল বলেন, ‘বর্তমান পৌরসভার উন্নয়নের অধিকাংশই আমার সময়ে রেখে যাওয়া কাজ। বর্তমান মেয়র আসার পরে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কোনো সত্যতা পায়নি। আগের ভুল শুধরে কাজ করতে চাই। এবং মানুষ আমাকে চাইছে।’

ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মো. এনায়েত হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, এবার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হলে এবং ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে মহিউদ্দিন আবারও মেয়র হবেন। তবে ক্ষমতাসীন দল যদি কাউকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে তাঁকে ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারে। তখন শফিকুল বাড়তি সুবিধা পাবেন। তবে দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন না দিলে অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কাউকে সমর্থন জানানোর নির্দেশনা পাইনি। যদি কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয় তাহলে জানাব।’

ভোটের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, ‘আমরা এখনো এক দফা আন্দোলনে আছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’




বরিশালে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমান আদালত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কলসকাঠী ইউনিয়নের পূর্ব বাগদিয়া গ্রামে সকাল ১১ টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রিকতা।

অবৈধ ইটভাটা বিরোধী অভিযানে পূর্ব বাগদিয়া গ্রামের পান্ডব নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটাবএ ওয়ান ব্রীকস, বঙ্গ ব্রিকস ও মৃধা ব্রীকস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সঙ্গে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাচাঁ ইট পানি দিয়ে নষ্ট করে দেয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ তিন ইটভাটাকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।




জাহিদ হাসানের অসুস্থতা নিয়ে যা জানালেন স্ত্রী মৌ




২০০ বছরের ঐতিহ্য ভাসমান বেডে সবজি চাষে অনন্য বরিশাল

বরিশাল অফিস :: ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভর করছে। যে জলাভূমিতে ময়লা কচুরিপানা কিংবা পরিত্যক্ত ছিলো সেই জমিকে ব্যবহারযোগ্য করতে এবং কৃষির বিপ্লব ঘটাতে ভাসমান বেডে সবজি চাষ অনন্য উদাহরণ। আর বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে দক্ষিণাঞ্চলের যেসব জলাভূমি আছে তার মাঝে চাষাবাদে কৃষকদের হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছে।

বরিশাল রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে গেলে তার সচিত্র দেখতে পাবেন পুকুরে। পানিতে সারি সারি বেডে ভাসছে নানা জাতের সবজি ও মসলার বেড। দক্ষিণাঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে বছরের পর বছর এই ভাসমান বেডে চাষ পদ্ধতিকে আরও আধুনিক রূপ দিয়ে তা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রটি। সাথে অন্যান্যদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এরই মাঝে এই আধুনিক প্রযুক্তিগত কৃষকের মাঝে বেশ সারা ফেলেছে। তাই দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষকরা। টমেটো, পাতা কপি, ফুল কপি, লাউ, করল্লা ও মিষ্টি আলু থেকে শুরু করে মসলা জাতীয় কাঁচামরিচ, পিয়াজ, রসুন আদাসব কিছুই চাষ হচ্ছে ভাসমান বেডে। সহজেই বছরে ১২ মাস চাষ করা যায় এই বেডে। বেড তৈরি থেকে শুরু করে গাছের চারা রোপণ করার উপায় বলছেন এই কৃষক।

 

কৃষক মো. আল আমিন বলেন, প্লাস্টিকের ৬ ইঞ্চির পাইপের দুই মাথা বেঁধে তার সাথে বাঁশের চেড়া বেঁধে নেট দিয়ে কচুরিপানা রেখে বেড তৈরি করেন। এই বেড দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়। মাটিতে যত ধরনের সবজি চাষ করা যায় তা এই ভাসমান বেডে চাষ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বলেন, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় আমরা ভাসমান কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ভাসমান কৃষির মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫ ভাগের এক ভাগই জলজ যায়গা। সেই জলজ যায়গাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি মসলা ও সবজি উৎপাদনে আমরা এগিয়ে যাবো। দক্ষিণাঞ্চলের ২০০ বছরের ঐতিহ্য ভাসমান বেডে সবজি চাষকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে এই প্রকল্প পরিচালক।

প্রযুক্তিগুলো সফল হওয়ায় কৃষকের মাঝে বেশ সারা ফেলেছে বলে জানিয়েছে বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. বিমল চন্দ্র কুন্ডু। তিনি বলেন, ২০০ বছরের ঐতিহ্য। আগে এভাবে চারা উৎপাদন করা হতো। সেটিকে আমরা উন্নত করে এখন সবজির চাষ করছি। এভাবে মিষ্টি কুমড়া, শসা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি ব্যাপক ভাবে উৎপাদন করা যায়। এর মাধ্যমে আমরা যেমন মাছ পাচ্ছি পাশাপাশি শাকসবজিও পাচ্ছি।

উল্লেখ্য, দেশের ২০ হাজার হেক্টর জলা ভূমিতে কোন আবাদ হয়না। ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ জনপ্রিয় করনে এরই মধ্যে ১৮শ হেক্টর জলাভূমি ভাসমান বেডের চাষের আওতায় এসেছে। এছাড়া জলমগ্ন ও অর্ধ জলমগ্ন ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগামীতে ২০ হাজার হেক্টর জলমগ্ন জমিতে চাষাবাদ করার আশা ব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগ।




বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে কুয়াশা




নতুন চুক্তির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করল হামাস




পুরোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করবেন কিভাবে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুক। যেখানে প্রতি মুহূর্তে কয়েকশ কোটি মানুষ লগইন করছেন। তবে অনেকেই আছেন হয়তো শুরুতে ফেক আইডি ব্যবহার করতেন কিংবা পুরোনো আইডিটি এখন ব্যবহার করতে চাইছেন না। তারা চাইলে পুরোনো বা ফেক অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি ডিলিট করে দিতে পারেন।

সহজেই পুরোনো অ্যাকাউন্টটিকে বন্ধ করে ফেলতে পারবেন। আর তারপরে যখনি কেউ আপনার নাম খুঁজবে, তাকে আর সেই অ্যাকাউন্টটি দেখাবে না ফেসবুক। জেনে নিন কীভাবে করবেন কাজটি-

>> আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি লগইন করুন।

>> উপরের ডানদিকে কোণায় আপনার প্রোফাইল ফটোতে ক্লিক করুন।

>> “সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি” অপশনটি সিলেক্ট করুন।

>> এবার “সেটিংসে”-এ ক্লিক করুন।

>> “ইওর ফেসবুক ইনফরমেশন” অপশনটিতে ক্লিক করুন।

>> এবার “ডিঅ্যাক্টিভেশন অ্যান্ড ডিলিটেশন” অপশনটি দেখতে পারেন, তাতে ক্লিক করুন।

>> “ডিলিট ইওর অ্যাকাউন্ট”-এ ক্লিক করুন।

>> আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড আবার লিখতে হবে।

>> লেখা হয়ে গেলে, আবার “ডিলিট ইওর অ্যাকাউন্ট”-এ ক্লিক করুন।

ফেসবুক আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার জন্য ১৪ দিন সময় দেবে। এরমধ্যে আপনি যদি চান, তাহলে অ্যাকাউন্টটিকে আবার পুনরুদ্ধার করতে পারেন। ১৪ দিন পরে, আপনার অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা হবে। তখন আপনি চাইলেও আর সেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাবেন না।

এমনকি আপনি যখনই আপনার অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেবেন, তার সব ছবি ভিডিও মুছে যাবে। তাই তা আগে থেকে সেভ করে রাখতে পারেন।

সূত্র: ফেসবুক হেল্প সেন্টার




সোশ্যাল মিডিয়া ভুল ব্যবহারের হতে পারে বিচ্ছেদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বর্তমানে সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। আসলে কর্মব্যস্ত এই জীবনে একটু আধটু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেই মানুষ সামাজিক হতে চান। এ কথা ঠিক যে, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আবার অনেক পুরোনো স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। তবে এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বহু সম্পর্কের মধ্যেই কিন্তু ফাটল দেখা দেয়।

বৈবাহিক সম্পর্ক, পারিবারিক জীবন, লাভ লাইফ, বন্ধু-বান্ধব, সব সম্পর্কেই বাড়ছে দূরত্ব। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ।

আর সেই সন্দেহ থেকেই শুরু হয় বাদ-বিবাদ। এমনকি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের জন্য সম্পর্কে বিচ্ছেদও ঘটে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি ভুল করলে সম্পর্কে কলহ সৃষ্টি হতে পারে। জেনে নিন কী কী-

সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার

অবসর পেলেই সঙ্গীকে ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোযোগ দেন অনেকেই। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান সোশ্যাল মিডিয়ায়। আপনার এই অভ্যাস সঙ্গীর ভালো না লাগাই স্বাভাবিক।

সঙ্গী পাশে থাকার সময়ও যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন বা সঙ্গী যদি সব সময় আপনাকে অনলাইনে অ্যাকটিভ দেখেন তাহলে বিবাদ হতেই পারে। এজন্য সঙ্গী পাশে থাকলে তাকে সময় দিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে অভ্যাস ত্যাগ করুন।

সঙ্গীর পোস্টে লাইক ও কমেন্ট না করা

বন্ধু-বান্ধব থেকে আত্মীয়-স্বজন সবার পোস্টেই হয়তো আপনি লাইক ও কমেন্ট করেন, তবে ভালোবাসার মানুষের কোনো পোস্ট দেখলেই হয়তো তা এড়িয়ে যান।

এই ভুল করবেন না আর। সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু পোস্ট করলে তাতেও লাইক-কমেন্ট করুন। তবেই আপনাদের মধ্যে বাড়বে ঘনিষ্ঠতা। সম্পর্ক হবে দৃঢ়। আর অন্যান্যরাও আপনাদের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন।

সঙ্গীর সঙ্গে ছবি পোস্ট না করা

সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে তোলা ছবি শেয়ার করুন। সুন্দর ক্যাপশন দিন। তবেই তো খুশি হবে আপনার ভালোবাসার মানুষ।

সঙ্গীর পোস্ট দেখে হিংসা করা

সোশ্যাল মিডিয়ায় সঙ্গীর করা পোস্টে লাইক বা কোনো কমেন্ট দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বা অশান্তি ডেকে আনবেন না। এই বিষয়টিকে খুব সহজভাবে দেখুন।

মুখোমুখি কথা না বলা

ফোনে কথা বলা বা অনলাইন কমিউনিকেশনে অনেক সময় মনের ভাব ঠিকমতো প্রকাশ করা যায় না, ফলে ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়ে।

সেখান থেকেই বিতর্কের জন্ম হয়। তাই সঙ্গীর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলুন। এতে আপনারা একে অপরের আবেগ, অনুভূতি বুঝতে সক্ষম হবেন।

গোপনীয়তা বজায় না রাখা

সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে উৎসাহিত করে। তবে অনেকে না বুঝেই নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় বা অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ফেলেন।

যা একেবারেই করা উচিত নয়। গোপন বিষয় সব সময় নিজেদের মধ্যে রাখা উচিত। গোপনীয়তার অভাবেই একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে।

সূত্র: বোল্ডস্কাই

 




বরিশালে ৩৩ জন শিক্ষার্থী পেল শিক্ষাবৃত্তি

বরিশাল অফিস ::বরিশালে বিপ্লবী দেবেন ঘোষের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৩৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ৪টায় বিপ্লবী দেবেন ঘোষ স্মৃতি রক্ষা কমিটির আয়োজনে বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষাবৃত্তি ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

দেবেন ঘোষ ছিলেন, অগ্নি যুগের বিপ্লবী, রাজনীতিবিদ ও সমাজ কর্মী। বিপ্লবী দেবেন ঘোষ আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

বাংলাদেশের মুক্তিআন্দোলন, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন প্রত্যেকে আন্দোলন সংগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং জেলও খেটেছেনে তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার ঘোষ পুতুল আলোচনা সভায় বলেন, আমাদের নিজেদের জন্যই এই মহাপ্রাণকে আমাদের প্রয়োজন।

তার কর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে বিভিন্নভাবে তুলে ধরতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দাশগুপ্ত আশীষ কুমার, সাংবাদিক অরুপ তালুকদার, সাহিত্যিক তপংকর চক্রর্বতী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ললিত দাস, বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী, সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ, পূলক চ্যাটার্জী, নজরুল বিশ্বাস প্রমুখ।