এই শীতে স্টাইল করুন ৪ ধরনের শাল পরে

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:   শীত ফ্যাশনে ট্র্যাডিশনাল ছোঁয়া রাখতে বর্তমানে অনেকেই শাল পরেন। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ থেকে শুরু করে গাউন কিংবা ওয়েস্টার্ন সবকিছুর সঙ্গেই দারুণ মানিয়ে যায় শাল। তবে শালটি আপনি কীভাবে ক্যারি করছেন তা জানতে হবে আগে।

আপনিও যদি শাল লাভার হন, তাহলে এই শীতে ৪ ধরনের শাল দিয়ে স্টাইল করতে পারেন। জেনে নিন শাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনগুলো বেছে নেবেন-

রঙিন উলের শাল

এ ধরনের শাল দেখতে বেশ সুন্দর হয়। সব রকম পোশাকের সঙ্গে স্টাইলও করা যায়। আপনি কুর্তির সঙ্গেও যেমন এই শাল পরতে পারেন, তেমনই জিন্স ও টপের সঙ্গেও স্টাইল করতে পারেন।

এমনকি এই শালকে টপের উপর দিয়ে পরে কোমরে বেল্ট লাগিয়ে নিলেই স্টাইলিশ লুক ক্রিয়েট করে ফেলতে পারবেন।

অ্যাম্ব্রোয়েডারি সিল্কের চাদর

বর্তমানে অ্যাম্ব্রোয়েডারি কারুকার্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অধিকাংশ ফ্যাশনিস্তা। তাই আপনিও যদি ট্রেন্ডে থাকতে চান, তাহলে অ্যাম্ব্রোয়েডারি সিল্কের চাদর কালেকশনে রাখতে ভুলবেন না।

ফ্লোরাল অ্যাম্ব্রোয়েডারি বা অ্যাবস্ট্রাক্ট মোটিফের এমব্রয়ডারি ওয়ার্ক করা চাদর আপনাকেও যে বেশ মানাবে।

বোহেমিয়াল ফ্রিঞ্জড শাল

ইজি লুকের জন্য এমন শাল আপনার সংগ্রহে রাখতেই হবে। ট্র্য়াডিশনাল কুর্তি বা কামিজের সঙ্গে এমন শাল পরাই যায়, আবার জিন্স-টপের সঙ্গেও মানানসই।

স্টেটমেন্ট ভেলভেট শাল

এ ধরনের শালে ওয়েস্টার্ন ট্র্যাডিশনের ছোঁয়া থাকে। তাই তো এমন শাল পশ্চিমী পোশাকের সঙ্গে ক্যারি করতে পারবেন অনায়াসেই।

এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন ভেলভেট শাল, যা আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হবে। এমনকি আপনার সৌন্দর্যকেও বাড়াবে বহুগুণে।




২ বছরের শিশুর এভারেস্টের বেস ক্যাম্প জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। তবে তার জন্য দরকার হয় দীর্ঘ অনুশীলন, সময় এবং চেষ্টা। তবে এবার ২ বছরের এক শিশু এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এজন্য বিশ্বরেকর্ডের তকমাও জুটেছে তার নামের পাশে।

২ বছরের শিশুটি ব্রিটেনের বাসিন্দা। নাম কার্টার ডালাস। গত ২৫ অক্টোবর বাবা রস এবং মা জেডের সঙ্গে পায়ে হেঁটে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে হাজির হয়েছিল সে। মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে অনেক সুস্থ-সবল মানুষকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কারণ বেস ক্যাম্পটি সমতল থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত। শুধু অক্সিজেন কম নয়, সব সময় এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রি থাকে। সেখানেই কার্টার পৌঁছে গেছে।

কার্টারের বাবা জানিয়েছেন, কার্টার তার মা-বাবার থেকে অনেক বেশি সুস্থ ও সবল ছিল। সমতল থেকে বেস ক্যাম্পে যাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চতা তাদের সমস্যায় ফেললেও, সহজে সেখানে পৌঁছেছিল তাদের ২ বছরের শিশুসন্তান। সুস্থভাবে বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে কার্টার। সবেচেয়ে কম বয়সে এভারেস্টেক বেস ক্যাম্পে যাওয়ার নজির গড়ল সে।

রস এবং তার স্ত্রী কার্টারকে নিয়ে ২০২৩ সালের অগস্ট মাসে বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। প্রথমে ভারতে গিয়েছিলেন ওই দম্পতি। এরপর শ্রীলঙ্কা এবং মলদ্বীপ গিয়েছিলেন। ফের ভারতে ফিরে নেপালে গিয়েছিলেন।

কার্টারের আগে এই রেকর্ডটি ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের বাসিন্দা জারার। ২০২৩ সালে চার বছর বয়সী শিশুটি বাবা এবং সাত বছরের বড় ভাইকে নিয়ে হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে গিয়েছিল। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও সেই সময় এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে কোনো সমস্যা হয়নি জারার। শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল তার।

এছাড়া সবচেয়ে কম বয়সে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে আরোহণের রেকর্ড ছিল ভারতের প্রিশা লোকেশ নিকাজুর। ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার বাসিন্দা প্রিশা ২০২৩ সালে মাত্র পাঁচ বছর বছর বয়সে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পা রেখেছিল। কম বয়সে বেস ক্যাম্পে পাড়ি দেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে বাংলা শান্তিপুরের বাসিন্দা মেঘমার। বাবা-মার সঙ্গে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে অনায়াসে পৌঁছেছিল বেস ক্যাম্পে।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট




যুুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ফিলিস্তিনির স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তাদের রাজনৈতিক প্রধান জানিয়েছেন, গাজায় আগ্রাসন বন্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারকে গুরুত্ব দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পশ্চিম তীরের একটি হাসপাতালে ডাক্তারের ছদ্মবেশে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

তাছাড়া গাজায় নিহতে সংখ্যা বেড়ে ২৬ হাজার ৭৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৬৫ হাজার ৬৩৬ জন।

গাজায় অব্যাহত বোমা হামলা ও স্থল অভিযানের মধ্যেই পশ্চিম তীরে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। চলছে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবরের পর পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে মোট ৬ হাজার ৩৯০ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে দখলদার বাহিনী।

ফিলিস্তিনের প্রিজনার সোসাইট জানিয়েছে, গ্রেফতারদের মধ্যে সাবেক বন্দিও রয়েছে। জেনিন, রামাল্লা, হেবরন, নাবলুস, তুলকারম এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে এই অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।




এ সংসদ নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না: জিএম কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সংসদ সদস্যের সংখ্যার বিচারে বর্তমান সংসদে ভারসাম্য রক্ষা হয়নি- এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।

তিনি বলেন, ‘আসন সংখ্যার বিচারে এবার সংসদে ৭৫ শতাংশই সরকার দলের। স্বতন্ত্র ২১ শতাংশ। তারাও প্রায় সরকারদলীয়। ৩ থেকে ৪ শতাংশ শুধু বিরোধীদলীয় সদস্য। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ সংসদ কখনো নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না।’

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথমদিনে স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের ১৯৯৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্পিকারের দায়িত্ব প্রশ্নে জি এম কাদের বলেন, ‘তারা দলীয় আনুগত্যে স্পিকার হলেও বাহ্যিকভাবে চেষ্টা করতেন নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করার। আমি আপনার কাছে প্রত্যাশা করছি আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন।’

স্পিকারের ডান দিকে সরকার দলের আসন এবং বাম পাশে বিরোধী দলের আসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দুপক্ষই সামান হবে। একটা হলো সরকারি দল, আরেকটা হলো বিপক্ষ। তারা সংখ্যায়ও কাছাকাছি থাকবে। তাহলে তাদের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হবে, নিজেদের মতামতকে প্রধান্য দিয়ে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়াঝাটি হবে। সংসদে জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। এটাই ছিল সংসদ তৈরি করার উদ্দেশ্য।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘জাতীয় সংসদ দলমত সবার মিলনস্থল। সেখানে সরকারি দল এক পক্ষ, সরকারের বিপরীত দল আরেক পক্ষ। নির্বাচন পরবর্তী আসন সংখ্যায় ৭৫ শতাংশই সরকার দলের। ২১ শতাংশ স্বতন্ত্র। তারাও প্রায় সরকার দলীয়। ৩ থেকে ৪ শতাংশ শুধু বিরোধী দলীয় সদস্য। এখানে আসন বণ্টনে ভারসাম্যের.. যতই সিমিট্রিক্যাল হলেও আসন বণ্টন সিমিট্রিক্যালের অভাব হয়েছে। তাই এটাকে সম্পূর্ণভাবে সুন্দর বলা যাবে না।’

লাল ও সবুজের জাতীয় পতাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু লাল নয়, শুধু সবুজ নয়। যদি সরকারি দলকে লাল বলি তাহলে এ সংসদ সম্পূর্ণ লালময়। সবুজটা শুধু ছিটেফোঁটা। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। বর্তমান সংসদ জাতিকে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে তা আশঙ্কার বিষয়। ভালোভাবে বললে বলতে হবে বিতর্কের বিষয়। দুই অংশের কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে- অর্থ্যাৎ সরকার ও বিরোধীদের সংসদ কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে- যতটা কমবে ততুটুক সংসদ কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।’

জিএম কাদের বলেন, ‘এ আশঙ্কা অবাস্তব নয়, যদি বলি এ সংসদ কখনো নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না। সরকার বিরোধীরা যতবেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বা করবেন, ততটুকু হবে।’

এসময় সংসদকে কার্যকর ভূমিকায় পরিচালিত করতে কিছু দাবি তুলে ধরেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদের মতামতকে সংসদে তোলার সুযোগ দেবেন। সংসদের ভারসাম্যের ত্রুটি কমানোর প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখবো।’ তাই স্পিকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।




পিরোজপুরে ভ্যান চালক হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদন্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুরে এক ভ্যানচালককে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলাম মোল্লাকে (২৫) মৃত্যুদন্ড এবং সঞ্জয় চন্দ্র দেবনাথ (৪৮) ও পল্টু কুমার দাস (২৭) নামে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা অতিরিক্ত দায়েরা জজ আদালতের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় দেন। নিহত ভ্যানচালকের নাম মিজানুর শেখ মানিক (২৫)। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের ছোট বুইচাকাঠী গ্রামের মো. আবুল শেখের ছেলে।

আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাইদুল উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুইচাকাঠী গ্রামের আকরাম মোল্লার ছেলে। এছাড়া যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত সঞ্জয় দেবনাথ জেলার কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মনরঞ্জন দেবনাথের ও পল্টু একই গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দাসের ছেলে। আদালত এ সময় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত সাইদুলকে ৫০ হাজার টাকা এবং অন্য দুজনের  প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড ঘোষণা করেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাজিপুরের ছোট আমতলার আকরাম মোল্লার ছেলে সাইদুল ইসলাম তার শ্বশুরবাড়ি কাউখালী যাওয়ার কথা বলে ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক মিজানুর শেখ মানিককে ভাড়া করে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাকে হত্যা করে তার ভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করে আসামিরা টাকা ভাগ করে নেন।
নিহতের মা মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, তার ছেলের খোঁজ না পাওয়ায় তিনি নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তার পরেরদিন তার ছেলের মরদেহ জেলার কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া ইউনিয়নে একটি পানের বরজে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশকে জানান, ওই এলাকার চৌকিদার জাকির হোসেন।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) দীপক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।



দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ঘটনাবহুল প্রথম দিন

অনলাইন ডেস্ক : বিদায়ী সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচন করা হয়। স্পিকার পদে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চিফ হুইপ নূর–ই–আলম চৌধুরী এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন স্পিকারের আসনে থাকা শামসুল হক টুকু।

এরপর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় সংসদ ভবনের ৭ তলায় রাষ্ট্রপতির কক্ষে স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আবারও অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডা. দীপু মনি এবং বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের।

পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের নির্বাচন হয়। বিদায়ী সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক এবারও এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবি তাজুল ইসলাম ডেপুটি স্পিকার পদে শামসুল হকের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের মকবুল হোসেন ওই প্রস্তাব সমর্থন করেন। অন্য কোনো মনোনীত প্রার্থী না থাকায় স্পিকার কণ্ঠভোটে টুকুকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

এরপরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য ৫ সদস্যদের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করা হয়। তাঁরা হলেন—এবি তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, আ ফ ম রুহুল হক, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, উম্মে কুলসুম। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নামের অগ্রবর্তিতা অনুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা সংসদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন।

এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি পেশ করেন। শোক প্রস্তাবে কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য ড. মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

পরে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর ভাষণের পর সংসদের অধিবেশন আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। দেশের বিশিষ্টজন ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সংসদে উপস্থিত হয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।




সিলেটকে হারিয়ে বরিশালের দ্বিতীয় জয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দশম আসরে হারের বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বেরিয়ে আসতে পারছে না গতবারের রানার্স আপরা। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল। যা আগের নয় আসরে কখনও এমন হয়নি বাংলাদেশের এই সফলতম অধিনায়কের সঙ্গে। পঞ্চম ম্যাচে বরিশালের কাছে ৪৯ রানে হেরেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) টস জিতে বরিশালকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটকে ১৮৭ রানের লক্ষ্য দেয় তামিম-রিয়াদরা। জবাব দিতে নেমে ১৫ বলে হাতে থাকতেই ১৩৭ রানে অলআউট হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স। এতে ৪৯ রানের বড় জয় পায় বরিশাল।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেনি সিলেটের ওপেনার নাজমুল হাসান শান্ত। ৭ বলে ৯ রান করে মিরাজে বলে কট আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসেও সুবিধা করতে পারেননি মাশরাফী। ৩ বলে ২ রান করে আউট হন এই টাইগার পেসার।

২৩ বলে ২৫ রান করে বিদায় নেন আরেক ওপেনার শামসুর রহমান শুভ। তবে বেনি হাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন জাকির হাসান। দুজনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যেতে থাকে সিলেট। কিন্তু ফিফটি পূরণের জন্য চার রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন জাকির। ৩৪ বলে ৪৬ রান করে ইমারনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি।

পরের ওভারে মিরাজকে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন বেনি হাওয়েল। ১৯ বলে ২৪ রান করে এই ডান হাতি ব্যাটার আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সিলেট। ৪ বলে ২ রান করে আউট হন আরিফুল হকও।

আকিভ জাভেদকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৪ বলে ১ রান করে আউট হন রাইয়ান বার্ল। ২ বলে ১ রান করে রান আউট হন নাইম হাসান। শেষ দিকে ৪ বলে ১২ রা করে রেজাউর রহমান রাজা এবং রিচার্ড এনগারাভা শূন্য রানের আউট হলে ১৫ বলে হাতে থাকতেই ১৩৭ রানের অলআউট হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স।

ফরচুন বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ ইমরান। মেহেদী হাসান মিরাজ ও খালেদ আহমেদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়াও আকিভ জাভেদ নেন এক উইকেট।




পৌরসভা নির্বাচন: পটুয়াখালীতে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের লড়াই

বরিশাল অফিস :: এখনো রেশ রয়ে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। তার মধ্যে ২৪ জানুয়ারি বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই ঘোষণার পরপরই পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদপ্রত্যাশীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হলেও পৌরসভায় তা হবে। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এদিকে আন্দোলনে থাকা বিএনপি কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অনড়।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান ও সাবেক মেয়র ছাড়া আরও দুজন মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জানান দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। ২০১৯ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সেই সময় দল থেকে বহিষ্কার করলেও নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে তিনি মেয়র হন। তফসিল ঘোষণার পরপরই দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হওয়ার লক্ষ্যে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত ৫ বছরে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি। বাংলাদেশের কোনো পৌরসভায় এত কাজ হয়নি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছোঁয়া মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। আশা করি, আগামী ৯ মার্চ আমাকে সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন।’

মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। ২০১১ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নামলেও শেষ পর্যায়ে কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান।

শফিকুল বলেন, ‘বর্তমান পৌরসভার উন্নয়নের অধিকাংশই আমার সময়ে রেখে যাওয়া কাজ। বর্তমান মেয়র আসার পরে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কোনো সত্যতা পায়নি। আগের ভুল শুধরে কাজ করতে চাই। এবং মানুষ আমাকে চাইছে।’

ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মো. এনায়েত হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, এবার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হলে এবং ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে মহিউদ্দিন আবারও মেয়র হবেন। তবে ক্ষমতাসীন দল যদি কাউকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে তাঁকে ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারে। তখন শফিকুল বাড়তি সুবিধা পাবেন। তবে দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন না দিলে অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কাউকে সমর্থন জানানোর নির্দেশনা পাইনি। যদি কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয় তাহলে জানাব।’

ভোটের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, ‘আমরা এখনো এক দফা আন্দোলনে আছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’




পটুয়াখালীতে এনজিওর নামে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাউফলে ঋণ দেওয়ার নামে প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পিইউএস) নামের একটি এনজিও। চলতি মাসের ১৯ জানুয়ারি পৌর শহরে একটি ভাড়া বাসায় কার্যক্রম শুরু করার সাত দিনের মাথায় লাপাত্তা হয়ে যায় কথিত এই এনজিও সংস্থার কর্মীরা।

বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে গ্রাহকরা ঋণের টাকা নিতে ওই অফিসের সামনে এসে জড়ো হচ্ছেন, যদিও অফিসটি তালাবদ্ধ।

ভুক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি পৌর শহরের টি অ্যান্ড টি সড়কে আবুল হোসেন হাজীর ভবনে অফিস ভাড়া নেয় পল্লী উন্নয়ন সংস্থা নামের এনজিও। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ওই ভবনে এনজিওর অফিস চালু করা হয়। মাঠপর্যায়ে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় এক নারী মাঠকর্মীও নিয়োগ দেয় তারা। পরে সহজ কিস্তি ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেয় কয়েক লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ঋণ বিতরণ করার সময় দেয় এনজিও সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই দিন ঋণ নিতে এসে অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পান গ্রাহকরা। এরপর থেকে অফিস তালাবদ্ধ রয়েছে। লাপাত্তা হয়ে গেছেন এক নারীসহ ওই দুই ব্যক্তি।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সরেজমিনে পৌর শহরের টি অ্যান্ড টি সড়কে আবুল হোসেন হাজীর ভবনে গিয়ে দেখা যায় ভবনের দ্বিতীয় তলায় পল্লী উন্নয়ন সংস্থা নামে সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। তালাবদ্ধ অফিস কক্ষের সামনে একাধিক ভুক্তভোগী দাঁড়িয়ে আছেন।

কোটি টাকা নিয়ে ডাচ-বাংলার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্যোক্তা উধাও
মো. আকাশ হাওলাদার নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি চায়ের দোকান করি। দোকানের সামনে এনজিও অফিস। তারা আমার দোকানে এসে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি ব্যবসার জন্য এক লাখ টাকার ঋণ নিতে চাই। ঋণ পেতে তারা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নেন। গত বৃহস্পতিবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন থেকেই দেখি অফিসে তালা।

রুজিনা নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, স্বামীর জন্য রিকশা কিনতে ৪০ হাজার টাকা লোন নিতে চার হাজার টাকা জমা দিয়েছি। রোববার লোন দেওয়ার কথা। কিন্তু এসে দেখি অফিস বন্ধ। তাদের ফোনও বন্ধ। আমার মতো প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই এনজিওর কর্মীরা।

এনজিও অফিসের ভবনের মালিক আবুল হোসেন হাজীর সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি আমার বাসায় এনজিও অফিস ভাড়া নিতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মো. শাহিন নামের এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। চার হাজার টাকায় ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়। ওই দিনই তারা বাসায় উঠেন। পহেলা ফেব্রুয়ারি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে চুক্তিপত্র করার কথা ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস আসার আগেই নিখোঁজ হয়ে যান ওই শাহিন।

মাঠ থেকে গ্রাহক সংগ্রহ করার জন্য মাসিক বেতনে পৌর শহরের দাশপাড়া গ্রামের বাবুল হাওলাদারের মেয়ে মোসা. রুবিনা বেগমকে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয় কথিত পল্লী উন্নয়ন সংস্থাটি। এ ছাড়া কয়েকজন দালালও গ্রাহক সংগ্রহে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন।

টাকা হারিয়ে তালাবদ্ধ ব্যাংকের গেটে কাঁদছেন গ্রাহকরা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনজিও প্রধান শাহিন ও তার সহযোগী হিসেবে পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা পরিচয় দেওয়া পারভীন গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেন। দাশপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া, পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ড, দাশপাড়ার কাঁঠালবাড়িয়া, কালাইয়া ও বড় ডালিমাসহ ৬ স্থানে অস্থায়ী কেন্দ্র বানিয়ে প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করেন তারা। সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ঋণ নিতে দুই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাঠকর্মী মোসা. রুবিনা বেগম বলেন, আমাকে ১২ হাজার টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দেন। আমি আমার এলাকার কিছু মানুষের কাছে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব দিই। সদস্য ফরমের জন্য ১০০ টাকা করে নিয়েছি। আর ঋণ নেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন এনজিও প্রধান শাহিন ও তার সহযোগী পারভীন।

শাহিন ও পারভীনের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীতে তারুণ্যের মেলায় একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের অংশ গ্রহনে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী তারুণ্যের মেলা। আমিও জিততে চাই” ক্যাম্পেইনের আওতায় পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে “তারুণ্যের মেলা” আয়োজন করে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)।

” ইউএসএআইডির অর্থায়নে এসপিএল প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ মেলায় সহযোগিতা করে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল। তরুণদের নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরে তাদেরকে নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতে এই প্রয়াস।

মেলায় রয়েছে বক্তৃতা ভিডিও প্রতিযোগিতা, মঞ্চ অভিনয়, কুইজ প্রতিযোগিতা, সেলফি বুথ, সেলফি ভিডিও ৩৬০ ডিগ্রি, সেরা ফেসবুক পোস্ট ও সেরা প্রোফাইল ফটো বিজয়ীদের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক ইত্যাদি।

মেলায় বক্তব্য রাখেন, এমএএফ পটুয়াখালীর সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ-এর সাধারন সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান; এমএএফ পটুয়াখালীর সাধারন সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মজিবুর রহমান টোটন; এমএএফ পটুয়াখালীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ বাবু; ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর ডেপুটি ডিরেক্টর দিপু হাফিজুর রহমান সহ অন্যান্য। আয়োজনের উপস্থাপনায় ছিলেন এমএএফ পটুয়াখালীর যুগ্ম সম্পাদক এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ-এর সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স।

ভিপি আব্দুল মান্নান বলেন,“ডিআইকে অনেক ধন্যবাদ। তরুণদের নিয়ে যে কার্যক্রম, তা আগামী দিনেও নিলে, তরুণ সমাজ ভালো পথে চলবে। তরুণদের বলছি, আপনারা আজকের সব কার্যক্রমে অংশ নেবেন যাতে এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।”

মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হলেও, এমএএফ অরাজনৈতিক সংগঠন। আমরা পটুয়াখালীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। আমরা ইতিমধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত নিয়ে অ্যাডভোকেসির কাজ শুরু করেছি। এছাড়া, সিভিল সার্জন অফিসের সামনের পুকুরটা এমএএফ এর সংশ্লিষ্টতায় পরিষ্কার করা হয়েছে। জনদূর্ভোগ রোধে জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে আমরা কাজ করে চলেছি।”

সালাউদ্দিন আহমেদ বাবু বলেন, “তরুণদের মাঝে রাজনৈতিক দল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে এ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে।”

পটুয়াখালী জেলার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নাগরিক সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে এডভোকেসি করার লক্ষ্যে গঠিত হয় এমএএফ। এমএএফ পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করে চলেছে।